চাঁদে বা মহাকাশে কীভাবে অন্তর্বাস কাচেন মহাকাশচারীরা? অবাক করবে যে তথ্য

Space Laundry: চাঁদে বা তার বাইরে স্পেসস্যুটের অভ্যন্তরীণ পোশাকগুলি নিয়মিতভাবে ধোয়া নাও সম্ভব হতে পারে

inscript
৩ মিনিট
চাঁদে বা মহাকাশে কীভাবে অন্তর্বাস কাচেন মহাকাশচারীরা? অবাক করবে যে তথ্য

জামাকাপড় কাচা। শুনলেই রোদ ঝলমলে দিনও বিষণ্ণ হয়ে যায়, মেঘলা দিন হয়ে ওঠে কেয়ামতের শেষ পর্যায়। এই একটি কাজ খুব ভালোবেসে যে কেউ করেন, তার বিশেষ প্রমাণ নেই। সারা সপ্তাহ যদি ব্যস্ত তাহলে ছুটির দিনের বড় বেলাই চলে যায় জামা কাচতে। শুধু তো কাচা না, তাকে মেলো রে, শুকোও রে, ইস্ত্রি করে গুছিয়ে রাখো রে! পোশাক কেনার সময়, বা তা পরে তাক লাগানোর সময় মেজাজ যতটা ফুরফুরে থাকে, পোশাক পরিষ্কারের বেলা সেই মেজাজই একেবারে সপ্তমে ওঠে। নানাবিধ ডিটারজেন্ট এবং ওয়াশিং মেশিন মানুষের কায়িক শ্রম অনেক লাঘব করেছে একথা সত্য, তবে সেই বিরক্তি রয়ে গিয়েছে একই। সে না হয় আপনি পৃথিবীতেই থাকেন, জামা কাচার জলও আছে, সাবানও চাইলেই পাবেন, মেশিন না থাক বাথরুমেই বালতিতে ভরে কেচে নেবেন, বারান্দায়, উঠোনে, রাস্তায় শুকিয়েও নেবেন। ধরুন মহাকাশে গেলেন, সেখানে ওই মহাকাশযানের ভেতর যখন ভাসছেন, তখন কাচবেন কীভাবে? মাসের পর মাস যতই ঘাম না হোক, একই জামা পরে থাকা যায় নাকি! নিদেনপক্ষে অন্তর্বাস তো বদলাতে হবেই! ৩৮৪,৪০০ কিলোমিটার দূরে বসে, ওয়াশিং মেশিন, এমনকী জল ছাড়া কীভাবে জামা কাপড় কাচেন মহাকাশচারীরা?

মহাকাশচারীরা ২০২৫ সালের মধ্যেই সম্ভবত আর্টেমিস মিশনে চাঁদে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাই বিজ্ঞানীরা এখন মহাকাশচারীদের চাঁদের পৃষ্ঠের কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকার যেমন প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, তাদের নতুন স্পেসসুটগুলিকেও পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করার জন্য সেরা কাপড়ের সন্ধানও করছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চাঁদে কি আদৌ কোনও দিন পা দিয়েছিলেন নীল আর্মস্ট্রং?

Moon landing conspiracy theories: হলিউডের কোনও এক স্টুডিওতেই নাকি শ্যুট করা হয়েছিল সেই গোটা 'সিনেমা'! কতটা সত্যি, আর কতটা মিথ্যে লুকিয়ে রয়েছে মানব সভ্যতার প্রথম চন্দ্রাভিযানের পিছনে?

মহাকাশে কী কী অবস্থার মধ্যে পড়তে হতে পারে? চরম তাপমাত্রা, স্থান বিকিরণ এবং ধূলিকণার সংস্পর্শ। এই ধূলিকণা এক বড় সমস্যা। অ্যাপোলো স্পেসসুটগুলি এই ধূলিকণাতে ঢেকে গিয়েছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। আর্টেমিস দল ভবিষ্যতে চাঁদের পৃষ্ঠে প্রায় ২,৫০০ ঘণ্টা কাটাবে বলে আশা করা হচ্ছে৷ সমুদ্রে স্নান করে পোশাকে বালি ঢুকলে কেমন লাগে টের তো পেয়েছেন নিশ্চয়ই, এবার ভাবুন ওই অতক্ষণ যদি বালির ঘর্ষণের মধ্যে থাকতে হয়, অবস্থাটা কী দাঁড়াবে। আরেকটি সমস্যা হচ্ছে, স্পেসসুটের মধ্যে জীবাণুর বৃদ্ধি। যেহেতু স্পেসস্যুটগুলি সকলে ভাগাভাগি করে পরেন তাই জীবাণুদের রোধ করার চেষ্টাও ভাবাচ্ছে।

রোজ পৃথিবীতে অন্তর্বাস পরিষ্কার করার বিষয়টা তেমন খটোমটো না। ডিটারজেন্ট, ওয়াশিং মেশিন এবং ড্রায়ার থাকলে তো কোনও ব্যাপারই না। কিন্তু চাঁদে বা তার বাইরে স্পেসস্যুটের অভ্যন্তরীণ পোশাকগুলি নিয়মিতভাবে ধোয়া নাও সম্ভব হতে পারে, বলছেন ইওরোপিয় স্পেস এজেন্সির (ESA) উপকরণ এবং প্রক্রিয়া প্রকৌশলী মালগোরজাটা হলিন্সকা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চাইলেও মৃত্যু হয় না কখনও, পৃথিবী হোক বা মহাকাশ, সর্বত্র কার্যত অমর এই আণুবীক্ষণিক জীব

Tardigrades Indestructible : তার ওপর এই নিয়ম খাটে না। মৃত্যু এই প্রাণীটিকে ছুঁতে পারে না; কার্যত অমর এই ছোট্ট জীবটি।

স্পেসসুটগুলি বিভিন্ন মহাকাশচারীর মধ্যে ভাগ করে পরা হয় এবং দীর্ঘ সময় ব্যবহারের কারণে বিবিধ অণুজীবের বৃদ্ধির অনুকূল অবস্থার সৃষ্টি হয় তাতে। অণুজীবের বৃদ্ধি এড়াতে বিকল্প সমাধান খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা। ESA এই নতুন স্পেসসুটগুলির জন্য উপযুক্ত অভিনব উপকরণ নিয়ে কাজ করছে যা অ্যাপোলোর যুগে ছিল না। অস্ট্রিয়ার বায়োসিডাল অ্যাডভান্সড কোটিং টেকনোলজি ফর রিডিউসিং মাইক্রোবিয়াল অ্যাক্টিভিটি (BACTeRMA) স্যুটগুলির ভিতরের আস্তরণের মধ্যে, মূলত মহাকাশচারীদের অন্তর্বাসের মধ্যে জীবাণুর বৃদ্ধিকে ঠেকানোর উপায় খুঁজছে৷

এর জন্য খানিক কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার পথেই এগোচ্ছেন বিজ্ঞানীরা, এতে তাঁদের আস্থা 'সেকেন্ডারি মেটাবোলাইটস'-এর উপর। এগুলি জীবাণু দ্বারা উত্পাদিত যৌগ যাতে অ্যান্টিবায়োটিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং বিভিন্ন পরিবেশগত অবস্থার বিরুদ্ধে জীবাণুকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। রুপো এবং তামার মতো সুপরিচিত অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নষ্ট হতে পারে এবং মহাকাশচারীদের ত্বকের পক্ষে আরামদায়ক নাও হতে পারে।

বিজ্ঞানীদের দলটি এই সেকেন্ডারি মেটাবোলাইটগুলি থেকে বিভিন্ন উপকরণ তৈরি করেছে। এই ব্যাকটেরিয়া মেটাবোলাইটগুলির সঙ্গে পোশাকের প্রক্রিয়াকরণ কৌশল নিয়ে পরীক্ষা চলছে। এই অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল টেক্সটাইলগুলি যদি সফল হয় স্পেসসুটের জন্য তো বটেই, আরও নানা কিছুর ক্ষেত্রেই তা নতুন পথের জন্ম দেবে। PExTex এবং BACTeRMA-এর ফলাফলগুলি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল চিকিত্সার ক্ষেত্রে এবং স্মার্ট টেক্সটাইল প্রযুক্তির নতুন এক ধাপ বলা যেতে পারে৷ স্পেস আন্ডারওয়্যারের ক্ষেত্রে এই স্মার্ট টেক্সটাইল প্রযুক্তির মহাকাশেও আরামদায়ক অনুভূতি নিয়ে আসবে মহাকাশচারীদের জন্য৷

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?

৩ অগাস্ট থেকে বদলে যাচ্ছে শেয়ার বাজারের নিয়ম!

Stock Market India: নতুন ব্যবস্থার অধীনে শেয়ার বাজার বন্ধের সময়কে তিনটি আলাদা অংশে ভাগ করা হয়েছে। তবে নন-এফএন্ডও (Non-F&O) স্টকগুলির ক্ষেত্রে আগের মতোই বিকেল ৩:৩০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিন্তু এফএন্ডও স্টকগুলির ক্যাশ মার্কেটে প্রতিদিন একটানা লেনদেন চলবে বিকেল ৩:১৫ মিনিট পর্যন্ত।

আইআইটি-র দুই প্রাক্তনীর বৈদ্যুতিক কৃষিযন্ত্রে একরপ্রতি খরচ মাত্র ৪০ টাকা

Electric Power Tiller: বাজারে যেসব ট্র্যাক্টর পাওয়া যায়, তা হয় বিশাল বড় জমির উপযোগী, না হয় কেনা ও চালানো দুটোই খুব ব্যয়বহুল। ভারতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কৃষকের জমিই ছোট ও খণ্ড-বিখণ্ড, যেখানে বড় যন্ত্র ঢোকানোই সম্ভব নয়। আবার চিন থেকে আমদানি করা ছোট ছোট সস্তা মেশিনগুলিতে যন্ত্রাংশ ও সার্ভিসিংয়ের চূড়ান্ত সমস্যা তৈরি হয়। তাই বিদেশ থেকে আমদানির কথা না ভেবে, আইআইটি বোম্বের দুই প্রাক্তনী ঐশ্বর্য রামকৃষ্ণন ও কেদার গোখলে সিদ্ধান্ত নেন খাঁটি দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতের মাটির উপযোগী সমাধান তৈরি করার।

মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও উষ্ণ থাকে সোনাম ওয়াংচুকের বাড়ি

Sonam Wangchuk House: সোনম ওয়াংচুক মানেই পাহাড়ঘেরা লাদাখের ছবি, বরফে ঢাকা জীবন আর নতুন এক ভাবনার আলো। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং উদ্ভাবক। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যেন রূপকথার সেই মানুষটি, যিনি পাহাড়ের রুক্ষ জীবনের কঠিন সমস্যাগুলিকে বিজ্ঞানের সহজ ছোঁয়ায় অত্যন্ত সহজ করে তুলেছেন।

মহাকাশে মিলল চিনির সন্ধান, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?

natural sugar in space: ছায়াপথের কেন্দ্রের একটি আণবিক মেঘে প্রথমবারের মতো প্রকৃত মনোস্যাকারাইড ‘এরিথ্রুলোজ’-এর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার জানাচ্ছে, নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির আগেই মহাকাশে জটিল জৈব অণু তৈরি হতে পারে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে।

কর্মদক্ষতা মাপল এআই, চাকরি হারালেন কর্মীরা? মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

Meta mass layoffs: কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেবে? মেটার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ, এআই-নির্ভর মূল্যায়নের কারণে মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীরা অন্যায্যভাবে চাকরি হারিয়েছেন।