জাতীয় মহাকাশ দিবস: নভোচারীরা মহাকাশযানে ভেসে বেড়ান কীভাবে?

National Space Day: আপাতদৃষ্টিতে দেখে মনে হতে পারে কোনো মাধ্যাকর্ষণ নেই, আদতে তাঁরা মহাকর্ষের মধ্যেই থাকেন, কেবল এটি অনুভব করেন না।

Shamim Haque Mondal
৩ মিনিট
জাতীয় মহাকাশ দিবস: নভোচারীরা মহাকাশযানে ভেসে বেড়ান কীভাবে?

আজ জাতীয় মহাকাশ দিবস। চন্দ্র জয়ের স্মারক হিসেবে গতবছর থেকে পালন করে আসছি আমরা। দেশের মানবসম্পদের উন্নতি বা অর্থনৈতিক শ্রীবৃদ্ধি যাই হোক না কেন, মহাকাশ দখলে যে আমরা অনেক এগিয়ে গেছি তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। গত কয়েক বছরে একের পর এক সফল অভিযান চালিয়েছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা, ইসরো। নাসার সঙ্গে হাত মিলিয়ে সার্বক্ষণিক ভূ-পাহারার জন্য মহাশূন্যে আমরা নাইসার পাঠিয়েছি সম্প্রতি। দিন কয়েক আগে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন ঘুরে এসেছে শুভাংশু শুক্লা। রাকেশ শর্মার পর প্রথম কোনো ভারতীয় মহাশূন্য জয় করে ফিরল।

মহাকাশচারীদের কথা আমাদের মনে এলেই সবার প্রথমে মনে পড়ে মহাকাশে ভেসে বেড়ানোর দৃশ্য। ছোটবেলায় ভাবতাম যদি এভাবে ভেসে বেড়ানো যেত, তাহলে মন্দ হত না। সাধারণত আমরা অনেকেই মনে করি মহাকাশের কোনো মাধ্যাকর্ষণ নেই, তাই মহাকাশচারীরা খেয়াল খুশি মতো ভেসে বেড়াতে পারেন। বিভিন্ন কল্পবিজ্ঞান ধর্মী সিনেমায় যেমন দেখায় আর কি। বাস্তবে তা কিন্তু সত্যি নয়। মহাকর্ষের মান কম হলেও মহাকাশে তা একেবারেই শূন্য নয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সৌরজগতে ঢুকে এসেছে অচেনা ধূমকেতু, 'অ্যাটলাস' সম্পর্কে কী বলছেন বিজ্ঞানীরা?

ATLAS COMET : ৩আই/অ্যাটলাস যখন আবার অন্ধকারে মিলিয়ে যাবে, তখন তার যাত্রাপথ আমাদের মনে করিয়ে যাবে, আমরা একা নই। আকাশগঙ্গার কোনো এক কোণে এখন হয়তো অন্য তারারা জন্ম নিচ্ছে।

মাধ্যাকর্ষণের ধারণা নিউটনেরও অনেক আগের। এই মহাবিশ্বের যে কোনো দুটো বস্তু সর্বদা একে অপরকে আকর্ষণ করে। নিউটনই প্রথম হিসাব কষে প্রমাণ করেন যে সেই আকর্ষণ বল বস্তু দুটির ভরের সমানুপাতিক ও তাঁদের মধ্যেকার দূরত্বের ব‍্যাস্তানুপাতিক। সোজাকথায় তাদের ভর যত বাড়বে, টান তত বেশি হবে। আবার দূরত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই টানের মান কমতে থাকে। এই মাধ্যাকর্ষণের জন্য পৃথিবী-সহ সমস্ত গ্রহ তাকে কেন্দ্র করে আজীবন ঘুরপাক খাচ্ছে। দুরত্ব বাড়তে বাড়তে কয়েক লক্ষ আলোকবর্ষ হলেও মহাকর্ষের টান একেবারে শূন্য হয়ে যায় না। এককথায় মহাবিশ্বের সর্বত্রই মাধ্যাকর্ষণ বিদ্যমান।

তাহলে আমরা যে দেখি মহাকাশচারীরা মহাশূন্যে ভাসছে? আসলে মহাকাশযান ও তার ভেতরে থাকা মহাকাশচারীরা একইসঙ্গে যেমন পৃথিবীর দিকে পড়তে থাকে, তেমনই আবার ঘন্টায় প্রায় ১৮,০০০ কিলোমিটার বেগে পাশেও সরে যায়। এই দুই গতির ভারসাম্যে মহাকাশচারী সমেত মহাকাশযানটি পৃথিবীতে নেমে না এসে পৃথিবীকে ঘিরে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে ঘুরতে থাকে। সেই সময় মহাকাশচারীরা কোনো ওজন অনুভব করে না। বিজ্ঞানের পরিভাষায় এই ঘটনাকে বলে ফ্রি ফল বা বিনা বাধায় পতন। উদাহরণস্বরূপ, যখন আমরা লিফটে করে নীচে নামি, তখন আমাদের শরীর ওজনহীন বলে মনে হয়। তাই মহাকাশচারীদেরও দেখে মনে হয় তাঁরা ওজনহীন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আলোকে জমিয়ে ফেলা সম্ভব! বিজ্ঞান গবেষণায় যে ধরনের পরিবর্তন অনিবার্য

Scientists freeze light: সাংবাদিক সম্মেলনে এই আবিস্কারের ঘোষণা করার সময় ইতালীয় গবেষকরা এই অদ্ভুত ঘটনাটিকে 'কোয়ান্টাম থিয়েটারের' সঙ্গে তুলনা করেছেন।

স্পেস ক্রাফ্টের মধ্যে মহাকাশচারীদের ভেসে বেড়াতে দেখা যায়, স্পেস ক্রাফ্টের বাইরেও কি তাঁরা ভাসতে পারবে? এককথায়, না। একটা সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা এই কথার সত্যতা যাচাই করতে পারি।

ধরা যাক, তীব্র গতিতে ছুটে চলা এক গাড়িতে করে জাতীয় সড়ক ধরে আরাম করে বন্ধুরা মিলে কলকাতা থেকে খড়্গপুর যাচ্ছি। সে সময় চলন্ত গাড়ির দরজা খুলে যদি বাইরে আসার চেষ্টা করি, তাহলে আমাদের কি অবস্থা হবে? মহাকাশযানের ক্ষেত্রে তা আরও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হবে। কারণ, সেটি পৃথিবী থেকে ৪০০ কিলোমিটার উপরে যে জায়গা জুড়ে ঘুরতে থাকে, সেখানে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান ৮.৭ মি/ সেকেন্ড^২ (পৃথিবী পৃষ্ঠের প্রায় ৯০%)। এই জায়গা থেকে পৃথিবীর দিকে কোনো বস্তুকে ছুড়ে দিলে বা এমনি ফেলে দিলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তর থেকে নামতে নামতে যখন ট্রপোস্ফিয়ারে প্রবেশ করে তখন বায়ুর ঘর্ষণ এবং দহনের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে বস্তুটি জ্বলে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

বাস্তবে পৃথিবী থেকে মহাশূন্যে এমন দূরত্বে পৌঁছানো সম্ভবই নয়, যেখানে মহাকর্ষের কোনো প্রভাব থাকবে না। আমাদের পৃথিবীর মহাকর্ষ টান সেখানে অনুভূত না হলেও অন‍্যন‍্য মহাজাগতিক বস্তুর (উপগ্রহ, গ্রহ বা অন‍্য নক্ষত্রের) টান সেখানে থাকবেই। সুতারং, আপাতদৃষ্টিতে দেখে মনে হতে পারে যে কোনো মাধ্যাকর্ষণ নেই, আদতে তাঁরা মহাকর্ষের মধ্যেই থাকেন, কেবল এটি অনুভব করেন না। এই কারণেই পদার্থবিজ্ঞানীরা 'শূন্য মাধ্যাকর্ষণ'-এর পরিবর্তে 'মাইক্রোগ্রাভিটি' বলেন। যার অর্থ- অল্প হলেও মাধ্যাকর্ষণ থাকে।

প্রকৃতিতে যে চারধরণের বল (মহাকর্ষ বল, তড়িৎচুম্বকীয় বল, সবল নিউক্লিয় বল এবং দুর্বল নিউক্লিয় বল) দেখতে পাওয়া যায়, তাদের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল বল এই মহাকর্ষ, তাই বলে হেলা ফেলা ভাবা একদম উচিৎ নয়। এই মাধ্যাকর্ষণ আছে বলেই চাঁদ, তারা, পৃথিবী এবং আমরা আছি, না হলে সবকিছু ভেঙে পড়ত , আমরাও থাকতাম না। মহাকর্ষের উপস্থিতি আমাদেরকে ওজনদার করে তোলে, সে কথা ভুলে গেলে চলবে না।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।