বলিউডের মন্দারমণি! কেন সব তারকাই মলদ্বীপ ঘুরতে যান?

India-Maldives row : ছুটির সেরা গন্তব্য হয়ে ওঠার পিছনে অন্যতম আরেকটি কারণ হচ্ছে এখানে ওয়ান আইল্যান্ড-ওয়ান রিসর্ট ব্যবস্থা রয়েছে।

inscript
৩ মিনিট
বলিউডের মন্দারমণি! কেন সব তারকাই মলদ্বীপ ঘুরতে যান?

ছাপোষা মানুষের 'দি-পু-দা' ভরসা। যারা পকেটে ছাপোষা কিন্তু মনে কিঞ্চিৎ বোহেমিয়ান তাঁদের দৌড় বড়জোর উত্তরবঙ্গের অফবিট ডেস্টিনেশন বা উইকেন্ডে মন্দারমণির ঝাঁ চকচকে রিসর্ট। কিন্তু মুম্বই স্বপ্ননগরীর তারকাদের কি কোনই 'দি-পু-দা' নেই? আলবাত আছে। হাতে অল্পখানি সময় থাকলেই তারা যেখানে যান তা আসলে এখন বড়লোকদের মন্দারমণি বলা যায়। সম্প্রতি সেই অভিজাত মন্দারমণি অর্থাৎ মলদ্বীপ নিয়ে হইচই। হইচই লাক্ষাদ্বীপ নিয়েও। বলিউডের এমন কোনও 'তারকা' নেই যারা মলদ্বীপে ছুটি কাটাতে যাননি। বড় তারকা, মেজ তারকা, উঠতি তারকা- মলদ্বীপে গিয়ে নীল জল সমুদ্র ছুঁয়ে আসেননি এমন কেউই নেই। কত ঘনঘন যে তারা মলদ্বীপ যান তা তাঁদের ইন্সটাগ্রাম প্রোফাইল দেখলেই বোঝা যায়। কিন্তু এত জায়গা থাকতে বলিউড সেলেবদের পছন্দ মলদ্বীপ কেন?

করোনাকালীন লকডাউন পর্বে সকলেই বাড়িতে আটকেছিলেন। সরকার লকডাউন তুলে নিতেই হুড়মুড়িয়ে তারকাদের ছুটতে দেখা যায় মলদ্বীপে। কেন সবাই সেই সময় মলদ্বীপকেই বেছে নিয়েছেন অবসর কাটানোর সেরা জায়গা? এর নেপথ্যে ছিল এয়ার বাবল ব্যবস্থা। মলদ্বীপের সঙ্গে ভারতের এয়ার বাবলের ব্যবস্থাপনা হচ্ছে দু'টি দেশের মধ্যে একটি এমন বন্দোবস্ত যাতে দুই দেশের মধ্যে দুই দিকেই যাতায়াতের যাত্রী বিমান পাওয়া যায়। করোনভাইরাস মহামারীর কারণে বন্ধ হয়ে যায় সেই ব্যবস্থা। ভারত এবং মলদ্বীপ অন্যান্য বেশ কয়েকটি দেশের মতো একটি এয়ার বাবল ব্যবস্থা শুরু করে যার একটি অংশ হিসাবে এই দেশগুলির স্থানীয়রা কর্মসংস্থান, পর্যটন, জরুরি চিকিৎসার জন্য এই দেশগুলিতে যাতায়াত করতে পারে৷ এই দেশগুলির সরকারের জারি করা নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে পর্যটকদের।

View this post on Instagram

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ফ্যাশনের 'অ আ ক খ'! যেমন ছিল ভারতের সবচেয়ে ফ্যাশনেবল রানিদের ওয়াড্রব

Most Fashionable Indian Princesses and Maharanis in History: একবার বিরাট পান্নাযুক্ত একটি সোনার আংটি উঁচু থেকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন রাজকুমারী। এমন মহামূল্যবান অলঙ্কার ছুড়ে ফেলে দিতে দেখে চমকে গিয়েছিলেন সকলেই! তারপর?

তাহলে ভারত ও মলদ্বীপের মধ্যে এখন কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব কীসের? ভারত, মলদ্বীপের হাইকমিশনার ইব্রাহিম সাহেবকে তলব করেছে, মালেতে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত মলদ্বীপের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। মলদ্বীপের পর্যটন ব্যবসাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার লক্ষ্যে লাক্ষাদ্বীপের প্রচার দেখার পরই মলদ্বীপের কয়েকজন রাজনীতিবিদ ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বিরূপ কিছু মন্তব্যও করেছেন। আসলে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লাক্ষাদ্বীপ ভ্রমণে যান। সেখানকার ছবি ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত। মলদ্বীপের রাজনৈতিক নেতাদের একাংশ মোদিকে 'ক্লাউন', ‘ইজরায়েলের পুতুল' বলে অপমান করতে থাকেন। অথচ ভারতীয় তারকাদের পছন্দের ঠিকানা মলদ্বীপ!

View this post on Instagram

মলদ্বীপকে সেরা ট্রাভেল ডেস্টিনেশন হিসেবে বেছে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো সেখানকার আবহাওয়া। নভেম্বর থেকে এপ্রিল মলদ্বীপ ঘোরার উপযুক্ত সময়। এই সময় গড় তাপমাত্রা থাকে ২৯°সেলসিয়াস থেকে ৩১°সেলসিয়াসের মধ্যে। এই সময়ে বৃষ্টিপাত কম হয় এবং জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে আর্দ্রতাও খুবই কম থাকে। সাদা-বালির সৈকত এবং জলজ অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য তাই স্বর্গ মলদ্বীপ। আরব সাগরের এই দ্বীপপুঞ্জে মাত্র ২০০ টি জনবসতি আছে। এর মধ্যে মাত্র ৫০টির মতো দ্বীপেই কেবল পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। মলদ্বীপে সব দ্বীপ দেখতে একই রকম এমন ভাবাটাও ভুল, প্রতিটি দ্বীপের নিজস্ব আকর্ষণ এবং বিশেষত্ব রয়েছে। বেশিরভাগ পর্যটক মাফুশি দ্বীপ পছন্দ করেন। সেখানে প্রায় ৩০টি গেস্ট হাউস রয়েছে।

View this post on Instagram

ভারতীয় পাসপোর্ট রয়েছে এমন মানুষদের জন্য ছুটির সেরা গন্তব্য হয়ে ওঠার পিছনে অন্যতম আরেকটি কারণ হচ্ছে এখানে ওয়ান আইল্যান্ড-ওয়ান রিসর্ট ব্যবস্থা রয়েছে। মলদ্বীপ হচ্ছে মূলত একটি দ্বীপপুঞ্জ যেখানে ১,১৯০ টিরও বেশি প্রবাল দ্বীপ রয়েছে। বাকি সমস্ত কোলাহল, সীমানা থেকে দূরে সমুদ্রের বুকে এক দ্বীপপুঞ্জ। এখানকার রিসর্ট এবং অন্যান্য পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলি পর্যটন মন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনে চলে, যার ফলে নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যবিধির মান বজায় থাকে। দ্বীপগুলিতে 'ওয়ান আইল্যান্ড-ওয়ান রিসর্ট' ব্যবস্থা মেনে চলা হয় অর্থাৎ মালদ্বীপে ভ্রমণকারীরা যে রিসর্টে আছেন সেই রিসর্টেই কেবল থাকবেন। ওই দ্বীপে কেবল সেই রিসর্টে তিনিই থাকবেন। যার ফলে মলদ্বীপ অন্যান্য স্থানের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ। ভারতীয় পাসপোর্ট আছে যাদের তারা মলদ্বীপে আসার পরে ৩০ দিনের ফ্রি ভিসা পান।

ফলে এমন নিরাপত্তা আর এলাহি বন্দোবস্ত পেতে ক্যাটরিনা কাইফ, দিশা পাটানি, টাইগার শ্রফ, বর্তমানে, সোনাক্ষী সিনহা, সোফি চৌধুরী থেকে শুরু করে তারা সুতারিয়া, আদার জৈন, এলি আভরাম, বরুণ ধাওয়ান, তাপসী পান্নু, রাকুল প্রীত সিং, অঙ্গদ বেদী, নেহা ধুপিয়া কে নেই মলদ্বীপ প্রেমীর তালিকায়। এবার লাক্ষাদ্বীপ বনাম মলদ্বীপ দ্বন্দ্বে ভারতীয় তারকারা কি মোদির পাশেই আছেন? মলদ্বীপ কি আর মুম্বইবাসী তারকাদের মন্দারমণি রইবে না? উত্তর সময়ের পকেটেই।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।