বিজেপিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল! কেন এই দাবি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের?

BJP Most Important Party : সামনের বছরই লোকসভা নির্বাচন। তৃতীয়বারের জন্য সিংহাসনে বসবেন নরেন্দ্র মোদি, নাকি উঠে আসবে কোনও বিকল্প শক্তি?

inscript
৩ মিনিট
বিজেপিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল! কেন এই দাবি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের?

এই মুহূর্তে ভারত একটা বড় ভোটের মরসুমের ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে। মাত্র কয়েকদিন আগেই ত্রিপুরা সহ উত্তরপূর্বের রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হয়ে গেল। তার আগে গুজরাত আর হিমাচল প্রদেশের ‘মেগা শো’ দেখে নিয়েছে গোটা দেশ। আপাতত প্রতিটা দলই ২০২৪ সালের জন্য নিজেদের তৈরি করে নিচ্ছে। সামনের বছরই লোকসভা নির্বাচন। তৃতীয়বারের জন্য সিংহাসনে বসবেন নরেন্দ্র মোদি, নাকি উঠে আসবে কোনও বিকল্প শক্তি? তারও আগে পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ভোট রয়েছে। সব মিলিয়ে এমনিতেই ভারতের রাজ্য রাজনীতির হাওয়া প্রবল গরম।

এতসবের মধ্যেই সামনে উঠে এসেছে বিখ্যাত গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি বিশেষ প্রতিবেদন। ওয়াল্টার রাসেল মিডের লেখা সেই প্রতিবেদনটি নিশ্চয়ই ভারতের রাজনৈতিক দলগুলির চোখে পড়েছে এতক্ষণে। কারণ, ওয়াল্টারের বিশেষ এই কলামের বিষয়ই ছিল বিজেপি। সেখানে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিকে এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল বলে উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে, আমেরিকার দিক থেকে দেখতে গেলে গেরুয়া শিবির যথেষ্ট গুরুত্ব রাখে, এমনটাই তাঁর মতামত। আপাতত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিজেপিকে নিয়ে এহেন প্রতিবেদন সমর্থকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

কিন্তু হঠাৎ বিজেপিকে কেন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল বলে অভিহিত করলেন ওয়াল্টার মিড? গোটা ব্যাপারটাকেই তিনি ব্যাখ্যা করেছেন সামাজিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে ঠিক কী লেখা হয়েছে, এক এক করে বিস্তারে আসা যাক। সেইসঙ্গে যুক্তিগুলিও একবার ঝালিয়ে নেওয়া যাক।

ওয়াল্টার মিড পরিস্কারভাবে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আমেরিকার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ হল বিজেপি দলটিকে বোঝা এবং তাদের রাজনীতিকে বিশ্লেষণ করে দেখা। কেন? প্রথমত সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ। এই মুহূর্তে ভারতের জনসংখ্যার দিকে তাকালে দেখা যাবে, অধিকাংশই তরুণ যুবক যুবতী। ভারতের সিংহভাগ জনগণের গড় বয়স ৪০-র নীচে। আর এটাই ভারতকে আলাদা করে রেখেছে অন্যান্য দেশের থেকে। মেধাবী, কর্মঠ এবং প্রতিভাবান একটা প্রজন্ম এই দেশের বুকে বসে আছে। যা ভারতের অর্থনীতি ও সমাজের ক্ষেত্রে একটা বড় অবদান রাখবে। শুধু ভারত কেন, বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষেত্রেও এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে ভারত। জাপানের মতোই প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে এই দেশের নাম উঠে আসছে। স্বাভাবিকভাবেই সেটা আমেরিকার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

সেইসঙ্গে রয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপট। এই মুহূর্তে এশিয়ার বুকে মাথা তুলে দাঁড়াতে চাইছে চিন। আমেরিকার সঙ্গে তার সংঘাত নতুন কিছু নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় চিনের কার্যকলাপ বেশ সন্দেহজনক ঠেকেছে আমেরিকার কাছে। যার মধ্যে রয়েছে গুপ্তচর বেলুন। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। আমেরিকার ওয়াশিংটনের পাশাপাশি অন্যান্য বেশকিছু জায়গায় রহস্যময় সাদা বেলুন দেখা যায়। পরে তদন্ত করে জানা যায়, এটি চিনের স্পাই বেলুন বা গুপ্তচর বেলুন। পাশাপাশি আমেরিকার তথ্যপ্রযুক্তি ও কর্পোরেট সেক্টরে একের পর এক কর্মী ছাঁটাই অব্যাহত। অর্থনীতির অবস্থাও ভালো নয়। ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছে চিন। ওয়াল্টার মিডের দাবি, এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা সহ গোটা বিশ্বের উচিত ভারতকে গুরুত্ব দেওয়া। ভারতের এই বিশাল সংখ্যক যুবশক্তি ও অর্থনীতিকে কাজে লাগানো। তাই তাঁর মতে, আমেরিকারও উচিত ভারতের সঙ্গে সবরকমভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ ভাব রাখা।

আর ওয়াল্টারের মতে, এই কাজটি করার জন্য অবশ্যই ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থাকে বুঝতে হবে। সেইসঙ্গে বিজেপিকে গুরুত্ব দিতে হবে। ওয়াল্টার স্বীকার করেছেন, গেরুয়া শক্তির বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতা ও সংখ্যালঘুদের ওপর আঘাত হানার অভিযোগ রয়েছে। হিন্দুরাষ্ট্র কায়েম করার স্বপ্ন নিয়ে বিজেপি আর আরএসএস এগোচ্ছে, সেটাও অস্বীকার করার নয়। তাদের কাজকর্মও অনেকটা সেই ইঙ্গিতই দেখাচ্ছে। কিন্তু ওয়াল্টারের মতে, এটা সত্যি হলেও, মুদ্রার একটি পিঠ। অপর দিকে উত্তরপ্রদেশের মুসলিমদের একটা অংশ এই বিজেপিকেই ভোট দিয়েছে। উত্তর-পূর্বের খ্রিস্টানরাও গেরুয়া শিবিরকে ভোট দিয়েছে। মোরবি ব্রিজ দুর্ঘটনার পরও গুজরাতে কার্যত রেকর্ড গড়ে জিতেছে বিজেপি।

সেইসঙ্গে ওয়াল্টারের দাবি, আগামী ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনেও যে বিজেপি জিতবে, এটা অনেক মহলই ধরে নিয়েছে। এখনই কোনও শক্তিশালী বিরোধী উঠে আসেনি। তাই ২০২৪-এও নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা বেশি। এমন অবস্থায় বিশ্বের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক দিক দিয়ে দেখলে বিজেপিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ওয়াল্টার। আমেরিকাকে যদি চিনকে থামাতে হয়, তাহলে বিজেপিকে বুঝতে হবে। ভারতের সংস্কৃতি, রাজনীতিকে বুঝতে হবে।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের জয়, ট্রাম্পের ক্ষমতায় কতটা লাগাম পড়বে?

US midterms 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দুর্গে বড় ধস নামিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, শুল্কনীতি এবং যুদ্ধ সংক্রান্ত অসন্তোষের জেরে ট্রাম্পের নীতি প্রত্যাখ্যান করল ভোটাররা। বদলের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হবে?

মিডটার্ম নির্বাচনে কে কত টাকা ঢাললেন?

US midterm elections 2026: আমেরিকার নির্বাচনে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড ব্যয়। ইলন মাস্ক ও জর্জ সোরোসের মতো ধনকুবেরদের অনুদান, সুপার প্যাক ও ডার্ক মানি কীভাবে আমেরিকার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে?

মানুষ টাকা পেয়ে গেলে ভুলে যাবে, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ সম্পর্কে বললেন বিজেপি বিধায়ক সজল

Sajal Ghosh interview: ‘ভয় ছাড়া ভক্তি আসে না’— আইন-শৃঙ্খলা, দুর্গাপূজা বিতর্ক এবং তৃণমূলের দলবদল নিয়ে নিজের মতামত জানালেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ।

ভারতের রাজনীতি কতটা বদলে দিয়েছেন মোদী?

25 years of Narendra Modi: ২৫ বছরে মোদী কতটা বদলে দিয়েছেন ভারতের রাজনীতি? উন্নয়ন, নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রচারের ধরন থেকে শুরু করে গণতন্ত্র, ধর্মীয় মেরুকরণ এবং জাতীয় পরিচয়ের ধারণা—কীভাবে বদলেছে দেশের রাজনৈতিক চালচিত্র?

ব্রাজিল থেকে আমেরিকা যে কারণে দক্ষিণপন্থীদের শাস্তি দিচ্ছে শান্তিকামী মানুষ

The Alt - right Tide Turns: বিশ্বজুড়ে দক্ষিণপন্থী জনতুষ্টিবাদের ভিত্তি কেঁপে উঠেছে। হাঙ্গেরিতে ১৬ বছরের অরবান-শাসনের অবসান, সার্বিয়ায় ছাত্র আন্দোলনের নির্বাচনী বিজয়, ব্রাজিলে প্রথম রাউন্ডে পিছিয়ে থেকেও লুলার জয়, আমেরিকায় মিডটার্মে ডেমোক্র্যাটদের সংসদের দুই কক্ষ দখল, সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে অতি-দক্ষিণপন্থী জোয়ারে ভাটার সুর। তবে ফ্রান্স, পোল্যান্ড, ইতালিতে দক্ষিণপন্থা এখনও টিকে আছে। সেগুলির বিরুদ্ধেও চলছে জেনজিদের, শ্রমজীবী অভিবাসী মানুষদের বিক্ষোভ।

ডানাছাঁটা ট্রাম্প-নেতানিয়াহু, বিশ্ব রাজনীতি কোন দিকে যাবে?

Trump midterm defeat: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির পরাজয় এবং ইজরায়েলের নির্বাচনে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো—দুটি ঘটনাই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পরাজয়ের পর ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কী হবে? আমেরিকা-ইজরায়েল সম্পর্কের সমীকরণ কি বদলাবে? আর বিশ্ব রাজনীতিতে তার প্রভাবই বা কতটা পড়বে?

ট্রাম্পের হারের ৫ কারণ: কেন মুখ ফিরিয়ে নিলেন মার্কিন ভোটাররা?

US Midterm Elections: আমেরিকার মিডটার্ম নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেল ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি থেকে শুরু করে ট্রাম্পের নীতি—রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পাঁচটি মূল কারণ কী কী?

পিস বন্ড কী, কেন দিতে হয়? নেহা বোরার আপত্তিতে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ঔপনিবেশিক আমলের আইন

Peace Bond: শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করলেই কি দিতে হবে পিস বন্ড? AISA-র জাতীয় সভাপতি নেহা বোরার আপত্তিতে নতুন করে বিতর্কে ঔপনিবেশিক আমলের প্রতিরোধমূলক আইন। ব্রিটিশ আমল থেকে স্বাধীন ভারত, CrPC থেকে BNSS—কীভাবে বদলেছে এই আইনি ব্যবস্থা? কেন কাউকে ১০ হাজার টাকার মুচলেকা দিতে বলা হয়? কী বলছে আইন?