ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ! কোন পক্ষের কতটা লাভ, ক্ষতির খতিয়ান কত?

Iran-Israel war: মনে রাখতে হবে, এই যুদ্ধে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ইজরায়েলের পক্ষে নীরব সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ ও হুথি গোষ্ঠী ইরানের পক্ষ নিয়েছে। এই ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার আবহ জারি রাখবে।

inscript
৩ মিনিট
ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ! কোন পক্ষের কতটা লাভ, ক্ষতির খতিয়ান কত?

গত ১২ দিন গোটা বিশ্বের নজর ছিল মধ্যপ্রাচ্যে। ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলা তীব্র সংঘাত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলির ঘুম উড়িয়ে দিয়েছিল। এক নাগাড়ে বিমান হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ আর পারমাণবিক কেন্দ্র ধ্বংসের খবরের পর অবশেষে গত ২৪ জুন যুদ্ধবিরতির কথা জানান দিয়েছে দুই পক্ষ। আর এই প্রেক্ষিতেই প্রশ্ন উঠছে, এই যুদ্ধ সত্যিই শেষ হলো? যুদ্ধশেষে ইরান ইজরায়েল, কে কোথায় দাঁড়িয়ে?

গত ১৩ জুন ইজরায়েল ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালায়। দাবি করে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা বিশ্বের জন্য হুমকি। ইরানও পাল্টা হামলা চালায়, তেল আভিভ ও হাইফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ক্রমে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও। ইরানের ফোর্ডো, ইসফাহান ও নাতাঞ্জের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলিতে হামলা করে মার্কিন সেনা। ২৪ জুন জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় অবশেষে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়, যদিও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত একথা বলার সময় এখনও আসেনি।

নেতানিয়াহু বলছেন, “আমরা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নষ্ট করেছি।” অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, “আমাদের প্রতিরোধ অটুট আছে, যা নষ্ট হয়েছে তা এবং আমরা আবার গড়ে তুলব।” ফলে স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা আপাতত বিশ বাঁও জলে বলেই ধরে নেওয়া যেতে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইজরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্রের তথ্য ফাঁস করায় ১৮ বছর জেল! কে এই ব্যক্তি?

Mordechai Vanunu: ইজরায়েলি গুপ্তচর বাহিনী মোসাদ তাঁকে রোম থেকে অপহরণ করে। তাঁকে অজ্ঞান অবস্থায় নৌকা করে ইজরায়েলে পাচার করা হয়েছিল। এরপর জেল বন্দি করা হয় তাঁকে।

ইজরায়েল এই যুদ্ধে তাদের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করেছে। অন্যদিকে আমেরিকার সমর্থন যে তাদের দিকেই, তাও বিশ্বের সামনে তুলে ধরা গিয়েছে। নেতানিয়াহু ব্রিগেডের হামলায় ইরানের বেশ কয়েকটি পারমাণবিক কেন্দ্র অন্তত আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ কথা স্বীকার করে নিয়েছে তেহরান। ফলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাজ শ্লথ হবেই।

আবার তেল আভিভ ও হাইফায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইজরায়েলের সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে ভালোই। ইজরায়েলের জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এই পরিস্থিতি নেতানিয়াহু প্রশাসনের উপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

ইরানের ক্ষেত্রে পারমাণবিক কেন্দ্র ধ্বংস হওয়া বড় ধাক্কা হলেও যুদ্ধবিরতিকেও তারা নৈতিক ভাবে জয় হিসেবে দেখবে। কারণ তারা ইজরায়েলের মাটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা দেখিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যে সাহসের পরিচয় আর কেউই দিতে পারেনি। ইরানের নেতৃত্ব দেশের জনগণের কাছে বিজয় হিসেবে তুলে ধরছে এই ঘটনা। এর রেশ থাকবে। তবে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধের ক্ষতি তাদের অনেকটা পিছিয়ে দিয়েছে এ কথা খোমেনি প্রশাসন ঢেকেচেপে রাখতে পারবে না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাহ ১২! ১২ দিনের যুদ্ধে ট্রাম্পের ১২টি পোস্ট

US-Iran Relations: ট্রাম্পের এই পোস্টগুলো যুদ্ধের সময় বিশ্বের মনোযোগ কাড়তে সফল হয়েছে। এই ১২টি পোস্টের মাধ্যমে ট্রাম্প শুধু যুদ্ধের ধারাবিবরণীই দেননি, নিজেকে বিশ্বনেতা হিসেবে তুলে ধরার মরিয়া চেষ্টা করেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধে নেতানিয়াহুর অক্ষে যোগ দিয়েছিলেন। ১২ দিনে তিনি অন্তত ১২টি পোস্ট করেছেন ট্রুথ সোশ্যালে। লিখেছেন, “আমরা ইরানের পারমাণবিক স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছি।” তবে এই হামলায় মার্কিন যোগ ঘরে বাইরে ট্রাম্পকে চাপে ফেলেছে। দেশেই প্রশ্ন উঠেছে তাঁর অতিতৎপরতার কার্যকারণ নিয়ে। অন্য দিকে মধ্যপ্রাচ্যে বিষয়ে অন্য স্বার্থগোষ্ঠী, বিশেষত চিন ও রাশিয়া ভবিষ্যতে মার্কিন বিরোধিতায় কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, তা নিয়ে দোলাচল সৃষ্টি হয়েছে।

মনে রাখতে হবে, এই যুদ্ধে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ইজরায়েলের পক্ষে নীরব সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ ও হুথি গোষ্ঠী ইরানের পক্ষ নিয়েছে। এই ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার আবহ জারি রাখবে।

এ যাত্রায় জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও, বিশ্লেষকরা মনে করছেন এই সিদ্ধান্ত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা জারি রাখবে, আর ইজরায়েল তা রোধে আবার হামলার পরিকল্পনা করতে পারে।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদরা মনে করছেন, এই সংঘাত জারি থাকলে তেলের দাম বাড়বেই। বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থায়ী প্রভাব পড়বে।, গোটা বিশ্বের ভূ-রাজনীতিকে প্রভাবিত করছে। এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নাগরিক জীবন। বিপন্ন হয়েছে জীবন জীবিকা। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, জানতে চায় আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।