১ কোটি মানুষকে তাড়াতে চান ট্রাম্প! পুশব্যাকই বিশ্ব জুড়ে ট্রেন্ড?

US amid Trump's anti-immigrant campaign: সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, সাড়ে পাঁচ কোটি ভিসা যাচাই করা হবে। ওয়াকিবহাল মহল আশঙ্কা করছে, এই প্রক্রিয়ায় ভিসা বাতিল হওয়ারও সম্ভবনা রয়েছে আমেরিকার অনেক অভিবাসীরই।

inscript
৩ মিনিট
১ কোটি মানুষকে তাড়াতে চান ট্রাম্প! পুশব্যাকই বিশ্ব জুড়ে ট্রেন্ড?

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি নিয়ে আবারও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকেই অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন তিনি। ক্ষমতায় আসার পর কথা মতো অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়িত করতে একের পর এক সিদ্ধান্তও নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের মাস ডিপোর্টেশন প্ল্যান কী? এখনও অবধি কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন?

সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, সাড়ে পাঁচ কোটি ভিসা যাচাই করা হবে। ওয়াকিবহাল মহল আশঙ্কা করছে, এই প্রক্রিয়ায় ভিসা বাতিল হওয়ারও সম্ভবনা রয়েছে আমেরিকার অনেক অভিবাসীরই। বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার পর যদি কেউ কোনো অপরাধমূলক কাজ করেন থাকেন, তাঁদের চিহ্নিত করবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিসা বাতিলও করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দেশজুড়ে বাঙালি খেদাও অভিযান! কী বলছে বাংলার বুদ্ধিজীবী মহল?

Bengali Migrant Workers: এর আগেও ১৯৬০-১৯৭০-এর দশকে আসামে 'বঙ্গাল খেদা আন্দোলন' দেখেছেন, তিনি তখন সদ্য যুবক। তাঁর অভিজ্ঞতায়, সে এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি, বাংলা ভাষা শুনলেই মারা হত।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আপাতত বিদেশি ট্রাকচালকদের জন্য কোনো কর্মভিসা দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, বিদেশি চালকদের ফলে স্থানীয় চালকদের কাজের সুযোগ কমছে।

এপি-র এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, ভিসা থাকা সবার উপরই সব সময় নজর রাখা হচ্ছে। যদি দেখা যায়, কেউ ভিসার নিয়ম ভেঙেছে বা ভিসার যোগ্য নন, তাহলে তাঁর ভিসা বাতিল করা হবে। এমনকি দেশ থেকে নির্বাসিতও করা হতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর যে সব বিষয় খতিয়ে দেখছে তার মধ্যে আছে— ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, কেউ জননিরাপত্তার মতো বিষয়ে হুমকি কিনা, কেউ কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বা সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কিনা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ট্রাম্পের পরিবারই 'অনুপ্রবেশকারী'! কেন অভিবাসীদের নিয়ে কড়া আমেরিকা?

Donald Trump Migration: কাজের দাবিতে পথে নামা কর্মহীন মানুষদের বোঝানো হয়, বেআইনি অভিবাসীরা তোমাদের কাজ ছিনিয়ে নিচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্তা জানান, ‘‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার জন্য ভিসা দেওয়া হয় ঠিকই। কিন্তু তা বলে ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পরেও যাঁরা দেশটিতে থেকে যান, তাঁদের শনাক্ত করার জন্য এই যাচাইকরণের কাজ খুবই জরুরি।’’

উল্লেখ্য, ৪ বছরের ব্যবধানেই দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় এসেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোটে জয়ের পরেই সে দেশের অভিবাসন ঠেকাতে একের পর এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। ক্ষমতায় এসেই বলেছিলেন, ‘‘যে সব বিদেশি নাগরিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসবেন, তাঁরা যে আমেরিকার নাগরিক, সংস্কৃতি, সরকার, প্রতিষ্ঠান কিংবা আদর্শের প্রতি শত্রুতাপূর্ণ মনোভাব পোষণ করেন না, তা নিশ্চিত করতে হবে।’’ ২০ জানুয়ারি আদেশ জারি করেছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে চাওয়া বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে নিয়মকানুন যেন আরও কঠিন করা হয়। চলতি বছরের জুন মাসে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছিল, বাইরের দেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসা সকলের সমাজ মাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলিও খতিয়ে দেখা হবে। এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পড়ুয়াদের উপরও কড়া বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। প্রথমে বিপজ্জনক অপরাধীদের শনাক্ত করার কথা বলা হলেও এখন দেখা যাচ্ছে, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হচ্ছে।

নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, এভাবে চলতে থাকলে ২০২৫ সালে প্রায় চার লক্ষ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া হবে। দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগও জানিয়েছিল, ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যেই ২০ হাজারেরও বেশি অনথিভুক্ত তথা অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলি। এনবিসি নিউসের তথ্য অনুযায়ী, ১ কোটি মানুষকে তাড়ানোর পরিকল্পনা ট্রাম্পের।

‌সারা বিশ্ৱ জুড়েই অভিবাসন নীতি জোড় দিচ্ছে দক্ষিণপন্থী নেতারা। দেখা যাচ্ছে তাঁরা এই নীতিতে ভর করে রাজনৈতিক ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছেন। ট্রাম্প মোদি-র মতো নেতারা এখানেই মিলে যান। সারা ভারত জুড়ে যেমন চলেছে বাঙালি ক্ষেদাও নীতি। এনআরসি এনে বলা হয়েছিল মুসলিম তাড়ানো হবে। এখন বাংলার বাইরের রাজ্যেগুলিতে দেখা যাচ্ছে বাংলাভাষী মুসলিমদের বাংলাদেশি তকমা দিয়ে আক্রমণ চালানো হচ্ছে। এ ভাবেই কি দেশে দেশে অভিবাসন নীতি প্রণয়ণ করে, আমরা ওরা-র রাজনীতি করে এক পক্ষকে ভয় দেখানো হবে আর আরেক পক্ষকে তুষ্ট করা হবে। মানুষ খেদানোর স্লোগান তুলেই কি টিকে থাকবে বড় বড় নেতারা? অভিবাসন নীতিই কি ক্ষমতাসীনদের মূল হাতিয়ার? সেই প্রশ্ন উঠছেই।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘মহাকাব্য যদি কোথাও জন্মে থাকে, তবে তা ফুটপাতে’—কৃষ্ণপ্রিয় দাশগুপ্তের সঙ্গে 'আড্ডা'য় অত্রি ভট্টাচার্য

The Other Kolkata of krishnapriya Dasgupta: কলকাতার সেই অচেনা ফুটপাতের মানুষরা কীভাবে বেঁচে থাকেন? সাংবাদিকতার দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় আজকালের প্রাক্তন সাংবাদিক কৃষ্ণপ্রিয় দাশগুপ্ত কী দেখেছেন? আর আজকের সংবাদমাধ্যম কেন বদলে গেল তাঁদের দেখার চোখে? তাঁর স্মৃতি, সাংবাদিকতা ও আজকের বদলে যাওয়া শহর নিয়েই তাঁর সঙ্গে আলাপচারিতায় অত্রি ভট্টাচার্য।

১৯৭১ থেকে ২০১১: কলকাতার ফুটপাথে থাকা মানুষদের রোজনামচা কেমন ছিল?

Kolkata pavement dwellers survey: ১৯৭১ থেকে ২০১১—এই চার দশকে কলকাতার ফুটপাথবাসীর সংখ্যা ৫০ হাজার থেকে বেড়ে প্রায় ৭০ হাজারে পৌঁছেছে। ফুটপাথবাসীদের নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা নেই। কেউ থাকেন উড়ালপুলের নীচে, কেউ রেললাইনের পাশে, আবার কেউ পরিত্যক্ত পাইপের ভিতরে। শহরের অসংগঠিত অর্থনীতিতে ফুটপাথবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের জীবনযাপন, কাজ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি নিয়ে অতীতে বেশ কিছু গবেষণা ও সমীক্ষাও হয়েছে।

শুধু আমেরিকা বা আফ্রিকাতেই নয়, বাংলাতেও ছিল দাসপ্রথা

International Day for the Remembrance of the Slave Trade and its Abolition: ২৩ আগস্ট আন্তর্জাতিক দাসব্যবসা স্মরণ দিবস। হাইতির দাসবিদ্রোহের পাশাপাশি স্মরণ করতে হবে, বাংলার মাটি থেকে লক্ষাধিক মানুষকে বলপূর্বক নির্বাসিত করার ইতিহাস। চট্টগ্রাম, হুগলি, সুন্দরবন হয়ে আরব, আফ্রিকা, মরিশাসে পৌঁছেছেন বাংলার দাসেরা। শুধু ইতিহাসে নয়, আজও বাঙালির আন্তর্জাতিকতা চর্চায় দাসেদের উল্লেখ প্রাসঙ্গিক।

ঘাড়ধাক্কা খেয়ে ওপারে, বাংলাদেশে যেভাবে বেঁচে আছেন সাইদা ফকির

Saida Fakir Deportation: বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগের পর কী ভাবে দিন কাটছে সাইদা ফকিরের? বাংলাদেশের কোথায় আছেন? কারা আশ্রয় দিল তাঁকে?

সোনালি সুইটির পর এবার সাইদা, 'ঘাড়ধাক্কা'র তালিকায় নতুন নাম যে প্রশ্ন তুলছে

Saida Fakir Case: সাইদা ফকিরকে বাংলাদেশি সন্দেহে সীমান্ত পার করে দেওয়ার অভিযোগ নতুন করে নাগরিকত্ব যাচাই ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সোনালি খাতুন ও সুইটি বিবির ঘটনারই যেন পুনরাবৃত্তি। কাউকে দেশছাড়া করার আগে যথাযথ তদন্ত ও সাংবিধানিক সুরক্ষা কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, সেই বিতর্ক ফের উঠে এসেছে।

ফিরে দেখা: সোনালি-সুইটিদের নরক যাত্রা

Sonali Khatun, Sweety Bibi: দু'দশক দিল্লিতে থাকার পরও কেন সোনালি খাতুন ও সুইটি বিবিদের ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে সীমান্ত পেরিয়ে পাঠানো হলো? নাগরিকত্বের নথি থাকা সত্ত্বেও কেন জেল, পুশব্যাক ও অপমানের শিকার হতে হলো তাঁদের? সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ কি প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও মানবাধিকার প্রশ্নকে আরও সামনে এনে দিল?

উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যে নবম, তবু ফল প্রকাশের দিন হোটেলে কাজে ব্যস্ত সাগর

Sagar Mondal: উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যে নবম। মোট ৪৮৮ নম্বর। কিন্তু ফল প্রকাশের দিন বাড়িতে নয়, গুজরাটের আমেদাবাদের একটি হোটেলে কাজে ব্যস্ত ছিল পূর্ব বর্ধমানের সাগর মণ্ডল। পরিযায়ী শ্রমিকের ছেলে সাগরের স্বপ্ন আইএএস হওয়ার।