কলকাতা থেকে অদূরেই তৈরি হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মন্দির! যে তথ্য জানতেই হবে ভক্তদের

আগামী বছরেই পুণ্যার্থীদের জন্য খুলে যাবে এই মন্দিরের দ্বার।

Piya Saha
৩ মিনিট
কলকাতা থেকে অদূরেই তৈরি হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মন্দির! যে তথ্য জানতেই হবে ভক্তদের

এটা যেন স্বপ্ন দেখা এবং স্বপ্নপূরণের গল্প। মাঝে কেটে গেছে সাড়ে চার দশকেরও বেশি সময়। স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে নানা বাধা এসেছে পথে, কিন্তু অবিচল লক্ষ্যেই অবশেষে আশাপূরণ। অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে বহু পুণ্যার্থীরও। আগামী বছরেই পশ্চিমবঙ্গের মায়াপুরে খুলে যেতে চলেছে বিশ্বের সবেচেয়ে বড় মন্দির। কলকাতা থেকে ১৩০ কিলোমিটার দূরে নদিয়া জেলার মায়াপুরই ইসকনের প্রধান কেন্দ্র। সেখানেই দীর্ঘ সময় ধরে তৈরি হচ্ছিল বৈদিক প্ল্যানেটোরিয়ামটি, যা ২০২৩ সালের জুলাই বা অগাস্ট নাগাদ খুলে যাবে সকলের জন্য।

মন্দির স্থাপনের স্বপ্ন ও পরিকল্পনা

১৯৭৬ সালে ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীপ্রভুপাদ প্রথম স্বপ্ন দেখেছিলেন, একটি বৈদিক প্ল্যানেটোরিয়াম তৈরি করার। তাঁর মনে হয়েছিল ইসকন মন্দিরের পাশে একটি ভবন থাকা প্রয়োজন, যেখানে বৈদিক জ্ঞান-বিজ্ঞান নিয়ে চর্চা হবে। পাশাপাশি বিশ্বের সৃষ্টি কীভাবে হলো, সেই তথ্যও সকলের কাছে তুলে ধরা হবে। বৈদিক জ্ঞান-বিজ্ঞান নিয়ে সামগ্রিক সচেতনতা গড়ে তুলতেই এমন ভবন তৈরির স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। ওয়াশিংটনে থাকাকালীন তিনি অম্বরীশ প্রভুর কাছে মন্দির তৈরির জন্য অর্থ সাহায্য চান। শ্রীপ্রভুপাদের সেই স্বপ্নই পূরণ করলেন অ্যালফ্রেড ফোর্ড তথা অম্বরীশ দাস। বিখ্যাত ফোর্ড মোটর কোম্পানির মালিকানা আগামী দিনে তাঁর হাতেই আসতে চলেছে । জানা গেছে, এই মন্দির তৈরির প্রধান উদ্যোক্তা তিনি। ১৯৭৫ সালে তিনি ইসকনে যোগ দেন। তাঁর নতুন নাম হয় অম্বরীশ দাস। এই মন্দির তৈরির জন্য তিনিই ৩০ মিলিয়ন ডলার অর্থ সাহায্য করছেন বলেই জানা যাচ্ছে। যতদূর জানা যায় , নৈহাটির বাঙালি মেয়ে শর্মিলা ভট্টাচার্য অ্যালফ্রেড ফোর্ডের স্ত্রীও ইসকনেরই ভক্ত।

২০১০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে এই ভবন তৈরির কাজ শুরু হয়। প্রথমে ঠিক হয় ২০১৬ সালের মধ্যেই সম্পূর্ণ হবে মন্দির নির্মাণের কাজ। কিন্তু নানা কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হয়নি কাজ। এরপর ২০১৯ সাল থেকে করোনার হানায় স্থগিত হয়ে যায় মন্দির নির্মাণের কাজ। তবে অতিমারী খানিক কাটতেই ফের পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে বাকি কাজ। এখনও পর্যন্ত যা পরিস্থিতি, তাতে আগামী বছরে শেষ হয়ে যাবে কাজ এবং তারপরই পুণ্যার্থীদের জন্য খুলে যাবে এই মন্দিরের দ্বার।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কলকাতার দুর্গাপুজোয় বিশেষ আকর্ষণ অষ্টধাতুর প্রতিমা! দৈর্ঘ্য থেকে ওজন, সবেতেই চমক

অষ্টধাতুর তৈরি 'হেভিওয়েট' প্রতিমা এবারের শারদীয়া কলকাতার বিশেষ আকর্ষণ।

ইসকন মন্দিরের অজানা কথা

• মায়াপুর ইসকনে গড়ে ওঠা নতুন এই বৈদিক প্ল্যানেটোরিয়ামটি আকার ও আয়তনে পিছনে ফেলে দেবে বহু ধর্মীয় স্থান বা সৌধকে। আধুনিক ভারতে গড়ে ওঠা এই মন্দির তাজমহল বা ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পল ক্যাথিড্রালের থেকেও বড়। এটিই বিশ্বের সবথেকে বড় হিন্দু মন্দির। ৪০০ একর জমির ওপর তৈরি আঙ্কোর ভাটের মন্দিরকেও হার মানাবে এই নির্মাণ।

• বিশালকার এই মন্দিরটি ৭০০ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে। এর উচ্চতা প্রায় ১১৩ মিটার এবং মন্দিরের মেঝে ২.৫ একরজুড়ে।

• মন্দিরের তিনটি গম্বুজ রয়েছে, যার মধ্যে একটি বড় এবং বাকি দু'টি ছোট।

• ৪০০ কোটির বেশি অর্থ খরচ করে নির্মাণ করা এই মন্দিরের প্রতিটি তলায় একসঙ্গে দশ হাজার মানুষ শ্রীকৃষ্ণর কাছে প্রার্থনা করতে পারবেন। ফুটবল মাঠের চেয়েও বড় মন্দিরের প্রতিটি তলা।

• ভিয়েতনাম দেশ থেকে আনা নীল বলিভিয়ান পাথর দিয়ে তৈরি করা মন্দিরের গম্বুজগুলি। মন্দিরের গম্বুজ থেকে ২০ মিটার দীর্ঘ বৈদিক ঝাড়বাতি লাগানো হয়েছে।

• প্ল্যানেটোরিয়ামের ভেতরে রয়েছে সৌরজগৎ ও তার গ্রহের ব্যাপারে বর্ণিত এক বিশালকার ঘূর্ণায়মান মডেল যা ভগবৎ পুরাণমতে তৈরি। একই সঙ্গে থাকবে মানুষের কাছে দৃশ্যমান পৃথিবীর সঙ্গে কীভাবে সৌরজগতের গতি জড়িত, তার ব্যাখ্যা। একবারে নীচ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ফ্লোরে যাওয়ার জন্য থাকবে চলমান সিঁড়ি।

• বৈদিক এই প্ল্যানেটোরিয়াম, চন্দ্রোদয়া মন্দিরের ভেতরে দু'টি সুদর্শন চক্র নির্মাণ করা হয়েছে, যা ২৪ ক্যারাটের সোনা দিয়ে তৈরি। বড় চক্রের ওজন ১.৫ টন এবং ছোটটির ওজন ৫ কুইন্টাল। রাশিয়া থেকে কারিগরের হাতে তৈরি এই চক্র তৈরি করতে খরচ হয়েছে ১৫ কোটি টাকা। ২০১৯ সালে এগুলিকে স্থাপন করা হয়।

• মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটাল ভবনের নকশা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি হয়েছে নবনির্মিত চন্দ্রোদয়া ভবনের নকশা।

• দেশ-বিদেশের ভক্তরা যেন মন্দির উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে সহজেই যোগ দিতে পারেন, তাই ইতিমধ্যেই রাজ্যের পর্যটন বিভাগর সঙ্গে কথা বলেছেন ইসকন কর্তৃপক্ষ।

লিখেছেন
Piya Saha
Piya Saha
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।