ইরফানের উত্তরসূরি! সেনার পরীক্ষায় বারেবারে ব্যর্থ, অভিনয়ে জিতেছেন জয়দীপ আহলাওয়াত

Jaideep Ahlawat: কম্বাইন্ড ডিফেন্স সার্ভিসেসে বারেবারেই ব্যর্থ হয়ে জয়দীপ প্রচণ্ড রেগেছিলেন নিজের উপর। সেই সময়ই থিয়েটারে নিজেকে নতুন করে খুঁজে পান তিনি।

inscript
৩ মিনিট
ইরফানের উত্তরসূরি! সেনার পরীক্ষায় বারেবারে ব্যর্থ, অভিনয়ে জিতেছেন জয়দীপ আহলাওয়াত

শাহিদ খানকে মনে আছে? কোলিয়ারিতে কাজ করা পেটানো চেহারার শ্রমিক। সিনেমার পর্দায় কালো মুখ, রক্তে ভেসে যাওয়া ঠোঁট, দাঁত আর তীক্ষ্ণ চোখ মনে করিয়ে দেয় শাহিদ খানের চরিত্রকে। সর্দার খানের বাবা, ফয়জল খানের দাদা। "বাপ কা, দাদা কা, ভাই কা, সবকা বদলা" নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ফয়জল বুড়িয়ে যাওয়া মা নাগমাকে। নাগমা হয়েছিলেন অভিনেত্রী রিচা চাড্ডা। অঙ্কের মাস্টার নরেন ভ্যাসকে মনে আছে? প্রতিবেশী মা-মেয়েকে বাঁচিয়ে ঠান্ডা মাথায় লাশ লোপাট করতে পেরেছিলেন যে শিক্ষক! সর্দার খান, নরেন ভ্যাসকে মনে না পড়লে পাতাললোকের ইন্সপেক্টর হাতিরাম চৌধুরীকে নিশ্চয়ই মনে আছে? সিজন ২-এ যে চরিত্রটির দিক থেকে চোখ ফেরাতে পারেননি ভক্তরা! সমস্ত চরিত্রের অভিনেত জয়দীপ আহলাওয়াত। যত বয়স বেড়েছে, কাজ বেড়েছে ততই সূক্ষ্ম হয়েছে তাঁর অভিনয়। চোখ, শরীর, আঙুল, অমসৃণ গাল সবই অভিনেতার কথা শুনে চলে। ওটিটি-র সৌজন্যে যে অনাবিষ্কৃত তারকাদের আমরা পেয়েছি, জয়দীপ তাঁদেরই একজন।

সিনেমা, সিরিজে এই মুহূর্তে অনেকেই জয়দীপকে তুলনা করছেন প্রয়াত আরেক অসামান্য অভিনেতা ইরফান খানের সঙ্গে। জয়দীপ আহলাওয়াতের বলিউডে প্রবেশের নেপথ্যের গল্প নিয়ে অবশ্য খুব কমই চর্চা হয়েছে। সামাজিক সাফল্যের মধ্যবিত্ত মাপকাঠিতে কিন্তু অনেকের মতোই জয়দীপও একজন 'ব্যর্থ' মানুষ। নানা সাক্ষাত্কারে জয়দীপ জানিয়েছিলেন, সার্ভিস সিলেকশন বোর্ডের পরীক্ষা দিয়ে সেনাবাহিনীতে কাজ করবেন ভেবেছিলেন অভিনেতা। তবে একাধিক চেষ্টার পরেও উত্তীর্ণ হননি, ব্যর্থ হয়ে তিনি হতাশ হয়ে পড়েন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দিনে ২৫০ টাকার কাজ থেকে অস্কার! অবাক করবে লাপাতা লেডিজ-এর মঞ্জু মাইয়ের কাহিনি

Chhaya Kadam Laapataa Ladies Oscars: ২০১৮ সালে, শ্রীরাম রাঘবনের সিনেমা অন্ধাধুনে অভিনয় করেন ছায়া। ২০২২ সালে ঝুন্ড সিনেমায় অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী রঞ্জনার চরিত্রে অভিনয় করেন।

হরিয়ানার রোহতকে বড় হয়ে উঠেছেন জয়দীপ। সিনেমা জগতের বাইরের মানুষ। ইংরাজিতে স্নাতকোত্তর পাশ করে পুণের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন তিনি। তাঁর ব্যাচমেটদের অনেকেই- রাজকুমার রাও, বিজয় ভার্মা আজ তাঁরই মতো বিশেষ নজর কাড়ছেন অভিনয়ে। জয়দীপ বারেবারেই নিজের প্রয়াত বাবার অদম্য সমর্থনের কথা স্বীকার করেছেন। অন্য সব কাজে ব্যর্থ হওয়ার পরে অভিনয় নিয়ে এগিয়ে যেতে সাহস দিয়েছিলেন বাবাই। বলেছিলেন, "এখানেও ফেল করলে চাষবাস করবি।" জয়দীপের অভিনয় জীবন শুরু হয়েছিল পঞ্জাবে নাটক এবং মঞ্চাভিনয় দিয়েই। পরে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়াতে (এফটিআইআই) যোগ দেন, মুম্বইয়ে চলে যান।

শুরুর দিকে সবার যাত্রাই কঠিন থাকে। তবে জয়দীপ আহলাওয়াতের দৃঢ় সংকল্প তাঁকে ক্রমেই সাফল্যের দিকে নিয়ে যায়। গ্যাংস অফ ওয়াসেপুর (২০১২), কমান্ডো (২০১৩), রাজি (২০১৮), পাতাল লোক (২০২০) এবং জানে জান (২০২৩) সিনেমা ও সিরিজে তাঁর অভিনয় দক্ষতা দেখে হাঁ হয়ে যেতে হয়। জয়দীপ বরাবরই অন্তর্মুখী মানুষ। বরাবরই রাগ ছিল বেশি। নিজেই স্বীকার করেছেন, “অভিনয় আমার মধ্যে দু'টি জিনিস পরিবর্তন করেছে। আমি এখনও অল্পে মেজাজ হারাই কিন্তু আমি অনেক শান্ত হয়েছি এবং আমি আর জাজমেন্টাল নই।"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মাত্র ১০ হাজারের বিনিময়ে এক দিনের রোল! যে ভাবে 'বনরাকস' হয়ে উঠেছিলেন দুর্গেশ কুমার

Banrakas in Panchayat: কিন্তু মজার বিষয় প্রথমে কিন্তু পঞ্চায়েত সিরিজে ভূষণের চরিত্রটি অফারই করা হয়নি দুর্গেশ কুমারকে। বরং ওই গল্পের এক ফটোগ্রাফারের চরিত্রের প্রস্তাব পেয়েছিলেন দুর্গেশ।

কম্বাইন্ড ডিফেন্স সার্ভিসেসে বারেবারেই ব্যর্থ হয়ে জয়দীপ প্রচণ্ড রেগেছিলেন নিজের উপর। সেই সময়ই থিয়েটারে নিজেকে নতুন করে খুঁজে পান তিনি। বাবা-মা কৃষক হওয়ার পাশাপাশি স্কুল শিক্ষকও ছিলেন। তাই, ছেলের মধ্যে সাহিত্যের প্রতি ভালো লাগা গড়ে তুলতে পেরেছিলেন। সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ জয়দীপকে থিয়েটারের সূক্ষ্ম গলিঘুঁজি আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করেছিল। নাট্য পরিচালক সুনীল চিতকারার পরামর্শেই, এফটিআইআই-তে যান জয়দীপ।

প্রিয়দর্শনের দু'টি চলচ্চিত্র দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন জয়দীপ- অ্যাকশন থ্রিলার আক্রোশ (২০১০) এবং কমেডি খাট্টা মিঠা (২০১০)। এছাড়াও রণবীর কাপুর-অভিনীত রকস্টার (২০১১), এবং বেদব্রত পাইনের চিটাগং (২০১২) সিনেমাতেও ছোট ভূমিকায় অভিনয় করেন জয়দীপ।

তারপর ২০১২ সালেই অনুরাগ কাশ্যপের কাল্ট সিনেমা গ্যাংস অফ ওয়াসেপুরে শাহিদ খানের ভূমিকায় জয়দীপ আহলাওয়াতের অভিনয় চলচ্চিত্র সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন তো করেই, তাঁর জীবনের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়। অবিনাশ অরুণ ধাওয়ারে এবং প্রসিত রায়ের ক্রাইম থ্রিলার ওয়েব সিরিজ পাতাল লোক (২০২০)-এ হাতিরাম চৌধুরীর ভূমিকায় অভিনয় করে জয়দীপ আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। সেনাবাহিনীর পরীক্ষায় ব্যর্থ না হলে, অভিনয়ে এমন সহজ সুন্দর রত্নকে পেতই না দেশ। যে রত্ন অমন তাগড়াই চেহারা নিয়েও কুঁকড়ে থাকা পুলিশ সাজতে পারেন, নির্লিপ্ত মাস্টারমশাই সাজতে পারেন, ডাকাবুকো শ্রমিক সাজতে পারেন। আসলে সাজেন না, নিজের ভেতর থেকে খুঁড়ে আনেন সেই সব সূক্ষ্ম চেতনাগুলি, যা সম্ভবত সামাজিক 'ব্যর্থতাই' তাঁকে উপহার দিয়ে গেছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।