চাকদহ থেকে মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক, ঝুলন গোস্বামী অনুপ্রেরণার অন্য নাম

Sourish Das
৫ মিনিট
চাকদহ থেকে মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক, ঝুলন গোস্বামী অনুপ্রেরণার অন্য নাম

১৯৯৭ মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফাইনাল, ইডেন গার্ডেনে মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া। বেলিন্ডা ক্লার্কের ব্যাটের উপর ভর করে সেদিন নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে পরাস্ত করে বিশ্বকাপ গড়ে তুলেছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু, সেদিনের সেই ফাইনালেই ক্রিকেটের হবার স্বপ্ন বুকে নিয়ে বাউন্ডারির বাইরে দাঁড়িয়েছিল এক তরুণী। ১৯৯৭ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের ওই বল গার্ল মেয়েটিই আজ পরিচিত চাকদা এক্সপ্রেস নামে। তার বিষাক্ত পেসের আঘাতে ছত্রখান হয়ে যায় বিপক্ষের রক্ষণ। তার পারফরম্যান্সকে কুর্ণিশ জানাতে বাধ্য হয় তাবড় তাবড় পুরুষ ক্রিকেটাররাও। তিনি হলেন ভারতীয় মহিলা দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ঝুলন গোস্বামী।

শুধুমাত্র একজন ভাল বোলার কিংবা একজন ভালো অলরাউন্ডার নয়, একজন দুর্দান্ত ক্রীড়াবিদ হিসেবেও তার জনপ্রিয়তা রয়েছে সারা বিশ্বে। ভারতের মহিলা ক্রিকেটের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন একজন পথপ্রদর্শক। উদীয়মান মহিলা ক্রিকেটারদের জন্য তিনি একজন অনুপ্রেরণা। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দীর্ঘ বহু বছর ধরে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটকে একটা অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছেন ঝুলন গোস্বামী। স্মৃতি মান্ধানা, হারলিন দেওলের মত ক্রিকেটাররাও তৈরি হয়েছেন তাঁর হাতেই।

ঝুলন ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এমন একটা সময়ে, যখন ক্রিকেট খুব একটা লাভজনক ছিল না। তেমন কোনো বিজ্ঞাপন কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া পোষ্টের বালাই ছিল না সেই সময়। কোন ডোমেস্টিক লিগেও পাওয়া যেত না যথেষ্ট পরিমাণ টাকা। উপরন্তু, লিঙ্গ বৈষম্য তো ছিলই। কিন্তু, কোন কিছুই ঝুলনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। প্রশিক্ষণের অভাব হোক কিংবা বৈষম্য, সবকিছুকে অতিক্রম করেই আজ বিশ্ব ক্রিকেটে একজন অন্যতম তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন ঝুলন গোস্বামী। তবে, তার এই সাফল্যের শিখরে ওঠার জার্নিতে রয়েছে একাধিক ওঠা পড়া। নানা ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে হেঁটে আজ তিনি এই জায়গায় পৌঁছেছেন। তাঁর জীবনের এই গল্পের কাছে বলিউডের সিনেমাও কিছুটা ফিকে।

নদিয়া জেলার চাকদা শহরে জন্ম ঝুলন গোস্বামীর। মফস্বলের সাধারণ একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম হলেও ছোট থেকেই তার শখ ছিল ফুটবল এবং ক্রিকেট খেলার। ছোটবেলায়, বন্ধু এবং ভাই বন্ধুদের সঙ্গে টেনিস বলের ক্রিকেট খেলেই কেটেছে তার শৈশবটা। কিন্তু, ১৯৯৭ সালের অস্ট্রেলিয়া বনাম নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপ ফাইনালের ঐ ম্যাচটা যেন জীবন ঘুরিয়ে দিল। তৎকালীন অজি মহিলা দলের অধিনায়ক বেলিন্ডা ক্লার্কের পারফরম্যান্সে তিনি এতটাই উদ্বুদ্ধ হলেন যে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, ক্রিকেটার হতেই হবে। তারপরেই শুরু হলো, তাঁর ক্রিকেটার হওয়ার জার্নি। সপ্তাহে তিন দিন করে ভোর সাড়ে চারটের সময় উঠে চাকদা থেকে কলকাতার ট্রেন ধরতেন ঝুলন। তারপর শিয়ালদা স্টেশনে নেমে, সেখান থেকে দক্ষিণ কলকাতায় বিবেকানন্দ পার্কে অনুশীলন করতে যেতেন তিনি। সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত চলত অনুশীলন। ফের একই সময় যাত্রা করে বাড়ি গিয়ে স্কুল। এভাবেই চলছিল বেশ কয়েক বছর।

কিন্তু স্কুলের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছিল এই ক্রিকেটের কারণে। পরিবারের তরফ থেকেও পড়াশোনার জন্য চাপ দেওয়া শুরু হলো। কিন্তু সেই সময়ে ঝুলনকে সাহায্য করতে তার বাড়িতে হাজির হলেন তার প্রশিক্ষক স্বপন সাধু। তারপর থেকে তাকে আর কখনো পিছনে ফিরে তাকাতে হল না। কলকাতায় ট্রেনিং শেষ করার পরেই পশ্চিমবঙ্গের মহিলা ক্রিকেট দলে খেলার ডাক পেলেন ঝুলন। এই ছোট বয়সেই তার মধ্যে একজন বড় ক্রিকেটারকে লক্ষ্য করে নিয়েছিলেন তাঁর প্রশিক্ষক। সাধারণ প্রাক্টিস সেশন শেষ হয়ে গেলে, ঝুলন আরো ৫ থেকে ৬ ওভার অতিরিক্ত বল করতেন, আরো ভালো করার তাগিদেই।

১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা গতিতে বল করে প্রথম ম্যাচেই সকলকে চমকে দিয়েছিলেন ঝুলন। আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগটাও তিনি পেয়েছিলেন খুব কম বয়সেই। মাত্র ১৯ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চেন্নাইয়ে অভিষেক হয় ঝুলনের। ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে খুব একটা ভালো পারফরমেন্স না করলেও, পরবর্তীতে নিজেকে আরো ভালোভাবে তৈরি করেন ঝুলন। তবে তার ক্রিকেট জীবনের সবথেকে সেরা সময়টা শুরু হয় ২০০৫ থেকে। এই বছরেই বিশ্বকাপে যায় ভারতীয় মহিলা দল। ২০০৬-০৭ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাদের হোম গ্রাউন্ডে প্রথম টেস্ট জয় ভারতীয় মহিলা দলের। আর সেখানেই নিজের একটা আলাদা পরিচয় তৈরি করে ফেলেন ঝুলন। ২০০৭ সালে নির্বাচিত হন আইসিসি বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে। সেই বছর ভারতের সমস্ত পুরুষ ক্রিকেটারদেরও পিছনে ফেলে দিয়েছিলেন চাকদা এক্সপ্রেস।

২০০৮ সালে তার কাঁধে আসে অধিনায়কত্বের গুরুদায়িত্ব। ২০১১ পর্যন্ত ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। ২০১৭ বিশ্বকাপ ফাইনালে যাওয়া ভারতীয় দলে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল ঝুলন গোস্বামীকে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দল খারাপ ফলাফল করলেও তিনি তার বোলিং এর মাধ্যমে সকলের মন জয় করেছিলেন। একটা সময় তিনি ছিলেন বিশ্বের সর্ব শ্রেষ্ঠ মহিলা বোলার। ২০১৮ সালে এক দিবসীয় ক্রিকেটে ২০০ উইকেট এর অধিকারী প্রথম মহিলা ক্রিকেটার হয়েছিলেন ঝুলন।

একটা সময় তিনি যখন তার সমবয়সী ছেলেদের সঙ্গে টেনিস বল ক্রিকেট খেলতেন সেই সময় তাঁকে সবাই তাঁর গতির জন্য উপহাস করত। সেই গতিকেই কাজে লাগিয়ে আজ তিনি হয়ে উঠেছেন কিংবদন্তি। ২০০০ এর সময়টায় মহিলাদের জন্য কোন খেলাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করা কার্যত অভাবনীয় ছিল। কিন্তু সেই সময় নিজের প্রতিভার উপর সাহস রেখে ক্রিকেটকে আপন করে নিয়েছিলেন ঝুলন।

খেলার ময়দানে লিঙ্গ বৈষম্যকে একেবারে ভেঙে দিয়েছিলেন তিনি এবং তার মত কিছু মহিলা ক্রীড়াবিদ। ঝুলন যখন খেলা শুরু করেন সেই সময় ভারতীয় মহিলা দলের আলাদা করে কোন জার্সি হতো না। তখন মনে করা হতো, ভারতীয় মহিলা দল কিছুই করতে পারবেনা, যা করতে পারবে সেটা হল শুধুমাত্র পুরুষ দল। এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছিলেন ঝুলন। ২০০৬ সালে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বিশ্বের সব থেকে দ্রুততম মহিলা পেসার। ২০০৭ সালে যেই বছর তিনি আইসিসি বর্ষসেরা ক্রিকেটার হয়েছিলেন, সেই বছর ভারতীয় পুরুষ দলের কোনো সদস্য আইসিসির একটা পুরষ্কারও জিততে পারেনি।

অধিনায়ক হিসেবেও তার কৃতিত্ব আকর্ষণীয়। তার অভিনয় করতে ভারতীয় ক্রিকেট দল ২৫টি এক দিবসীয় ম্যাচের মধ্যে ১২ টিতে জয় লাভ করতে পেরেছিল। স্মল টাউন থেকে উঠে এসে তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে শাসন করেছেন ক্রিকেট বিশ্বকে। আজকেও ৩৯ বছর বয়সে ভারতের উঠতি মহিলা ক্রিকেটারদের জন্য ঝুলন গোস্বামী একজন অনুপ্রেরণা। ২০০ উইকেট এর চূড়ায় পৌঁছলেও অহং তাঁকে গ্রাস করেনি। বরং তিনি এই কৃতিত্বটা উৎসর্গ করেছেন তাঁর সতীর্থদের উদ্দেশ্যে।

ফ্রেন্ডস ক্লাব, নবারুণ সমিতিতে ক্রিকেট জীবন শুরু করে একে একে বেঙ্গল উমেন্স, ইস্ট জোন উমেনস, এবং ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের প্রতিনিধিত্ব করে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন ঝুলন। জীবন যুদ্ধে হেরে গিয়ে যেখানে অনেক মানুষ হতাশ হয়ে পড়েন, সেখানে কিছু মানুষ এমনও থাকেন যারা নিজেদের অদম্য সাহস এবং লড়াকু মানসিকতা নিয়ে ফিরে এসে জীবনের সমস্ত প্রতিকূলতাকে কাটিয়ে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছন। তাঁদের সাফল্যের কাহিনি অনুপ্রাণিত করে এরকমই লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষকে, যারা প্রতিনিয়ত ভাগ্যের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়ে চলেছেন। ঝুলন গোস্বামীর জীবন নতুন করে লড়াই করার, শূন্য থেকে শুরু করার সাহস দেয়।

লিখেছেন
Sourish Das
Sourish Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নারী টেস্টে এত অনীহা কেন, লর্ডসের ইতিহাসও বদলাবে না সেই ছবি?

Women’s Test Cricket: লর্ডসে ভারতের নারী ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয় নারী টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বদলানোর সুযোগ এনে দিয়েছে? এত সাফল্য ও জনপ্রিয়তার পরও কেন এই ফরম্যাটে নিয়মিত ম্যাচ নেই?

শিব-পরশুরামের যুদ্ধবিদ্যা কালারিপায়াট্টু থেকেই জন্ম কুংফুর!

Kalaripayattu Indian Martial Art: ভারতীয় পৌরাণিক ঐতিহ্যে কালারিপায়াট্টুকে স্রেফ যুদ্ধের কৌশল হিসেবে দেখা হয়নি, বরং এটিকে মানব শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রাণশক্তিকে জাগিয়ে তোলার এক মহান সাধনা বলে মনে করা হয়।

দু'হাজার বছর পুরনো ‘আত্য পাত্যা’: এই খেলাই শিখিয়েছিল যুদ্ধের কৌশল!

Atya Patya Traditional Indian Game: আনুমানিক ১০০ থেকে ৩০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত প্রাচীন তামিল সাঙ্গম সাহিত্য ‘নাটতৃণৈ’-তে এই খেলার প্রথম লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়। অতএব, এই খেলার বয়স প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি। সেখানে বলা আছে, প্রাচীন চোল রাজবংশের সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগে নিজেদের ক্ষিপ্রতা, দ্রুত দৌড়ানোর ক্ষমতা আর শরীরকে এক নিমেষে বাঁকানোর চপলতা বাড়াতে এই খেলায় মেতে উঠত।

১৬ বছর পর ফের ভারতের পথে ললিত মোদী

Lalit Modi return to India: দীর্ঘ সময় পর দিল্লির আপিল ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আর্থিক অনিয়মের বড় অভিযোগ ও জরিমানা বাতিল করে দেওয়ার পরেই এই আলোচনার সূত্রপাত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ললিত মোদী নিজেই স্পষ্ট করেছেন, সমস্ত বড়সড় আইনি জটিলতা কাটার পর ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭-এর শুরুতেই ফের তিনি ভারতে পা রাখতে চলেছেন।

গোলের আড়ালে ঘৃণার খেলা: ২০২৬ বিশ্বকাপে ট্রাম্প, ফিফা আর ফুটবলের পরাজয়

Trump FIFA World Cup: এই বিশ্বকাপ শুধুই একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; মাঠের লড়াই ছাপিয়ে তা হয়ে উঠেছে ভূ-রাজনীতি, বর্ণবিদ্বেষ এবং বাণিজ্যিক আধিপত্যের এক জটিল ময়দান।

একটা রাজপুত্তুর যার মুকুট হারিয়ে গিয়েছে

Lionel Messi Retirement: তিনটে ফাইনালের বোঝা। একে একে ছেড়ে যায় সহযোদ্ধারা। রক্তাক্ত মাসচেরানো চলে যান, কুন আগুয়েরোর অসুখ... তবু লিও পড়ে থাকে, আমরা পড়ে থাকি আর কিছুদিন। বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে প্রয়োজন ছিল একজন স্ক্যালোনির, তিনি সেটুকু সেতু নির্মাণের দায়িত্ব নিলেন। আমরা অপেক্ষা করলাম লুসাইলে। আমরা তো কবেই হেরে গিয়েছিলাম, সৌদি আরব শুধু চিনিয়ে দিয়েছিল আশপাশটা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: যেভাবে ১৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় পরিণত হল ফুটবল

FIFA Revenue 2026: 'কুইন্টেট প্রাইভেট ব্যাংক'-এর সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের অনুঘটক হওয়ার চেয়ে বিশ্বকাপ আসলে একটি শক্তিশালী স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক উদ্দীপক হিসেবেই বেশি কাজ করে। ফিফা, সম্প্রচারকারী সংস্থা, স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড এবং আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) ক্ষেত্রগুলি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করলেও, কোম্পানির শেয়ারের দামে সেই ইতিবাচক প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে রাখা বেশ কঠিন।

যখন ইউরোপে নারীরা গৃহবন্দি, তখন অসমে মেয়েরা খেলছিলেন ধোপখেল

Dhop Khel Assam: আহোম রাজাদের রাজপ্রাসাদ থেকে বিহুর মেঠো মাঠ—অসমের মাটিতে একসময় গমগম করত ধোপখেলের আওয়াজ। ফুটবল, কাবাডি আর দূরন্ত নিশানার এই অদ্ভুত রোমাঞ্চকর খেলাটি শুধু পুরুষদের বীরত্ব প্রমাণের লড়াই ছিল না; যখন ইউরোপে নারীদের জীবন ছিল চার দেওয়ালে বন্দি, তখন অসমে মেয়েরাও মাঠে নেমে মেতে উঠতেন ধোপখেলে।