গা ছমছমে কবরখানায় বসে মৃতের সঙ্গে চা পান, রেস্তোরাঁ এমনও হয়! জানলে শিউরে উঠবেনই

Lucky Restaurant : মোট ২৬ টি কবর রয়েছে এখানে, তাও একেবারে অতিথিদের টেবিলের পাশেই

Kankana Mukherjee
৩ মিনিট
গা ছমছমে কবরখানায় বসে মৃতের সঙ্গে চা পান, রেস্তোরাঁ এমনও হয়! জানলে শিউরে উঠবেনই

ধরুন একটা রেস্তোঁরার টেবিলে মুখোমুখি বসে রয়েছেন, উল্টোদিকের রয়েছেন সঙ্গীরা। সবেমাত্র বেয়ারাটি এসে রেখে গিয়েছে কফির কাপ। ধোঁয়া উঠছে তাতে। আপনিও তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করবার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হঠাৎ এক্কেবারে পাশেই হাজির স্বয়ং ভূত বাবাজি। তিনিও যোগ দেবেন সান্ধ্য আড্ডায়। বিরক্ত করবেন না নিশ্চিত, তবে থাকবেন সঙ্গেই। এবার ভাবুন, কয়েক চুমুক কফির সঙ্গে ভূতের সঙ্গ! কি? ভয়, অবাক লাগছে দুই-ই লাগছে তাই তো? কিন্তু অবাক লাগলেও এ ঘটনা সত্যি। আর এই ভূতটিও সিনেমার ভূত নয়, এক্কেবারে আসলি ভূত!

খোদ ভারতেই রয়েছে এমন ভৌতিক এক রেস্তোঁরা। নাম ‘লাকি’। আমেদাবাদের এই রেস্তোরাঁর অন্দরে পা রাখলেই মিলবে গা ছমছমে অভিজ্ঞতা। একটা-আধটা নয়, মোট ২৬ টি কবর রয়েছে এখানে। তাও একেবারে অতিথিদের টেবিলের পাশেই।

সময়টা আজকের নয়। স্বাধীনতার পর পরই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বেশ কিছু বেদখল প্লট উন্নয়নের জন্য শহরের সাথে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরকম সময় এই প্রাচীন কবরস্থানটির খোঁজ মেলে। এবং কেনার লোকও জুটে যায়। কেএইচ মোহাম্মদ এবং কৃষ্ণান কুট্টি নায়ার নামের দুই ব্যক্তি কিনে নেন আজকের লাকি রেস্তোঁরা সংলগ্ন কবরস্থানটি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গোরস্থানে অজানা এক 'মা'-এর কবর ঘিরে আজও দানা বেঁধে রয়েছে রহস্য

কবরখানার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা এই ব্যাপারে কিছু বলতে পারেন না। পুরনো নথি ঘেঁটেও এই মহিলার ব্যাপারে কিছু জানা যায় না। তবে লোকমুখে শোনা যায় যে, এটাই এখানকার একমাত্র বেনামী কবর নয়।

ব্যবসায়ী বুদ্ধি বেশ ভালোই ছিল দুজনের। জায়গাটি ছমছমে হলেও, শহরের একেবারে কেন্দ্রস্থলে। তাই এখানে মানুষের যাতায়াতও বেশ বেশি। এটাকেই ব্যবহার করলেন তাঁরা। কবরস্থানের বাইরেই ফেঁদে ফেললেন একখানা ছোটোখাটো দোকান। একটা ছোট চায়ের স্টল। চা, কিছু বিস্কুট, কেক এসব নিয়েই পথ চলা শুরু হল দোকানটির। সেসময়ে এ দোকানে পাওয়া যেত এক ধরনের ক্রিম রোল, যার স্থানীয় নাম ছিল ‘মাস্কা বান’। স্বাদেও ছিল খাসা। লোকের মুখে মুখে ফিরতে লাগল এই মাস্কা বানের কথা। খুব কম দিনের মধ্যেই দোকানের মশলা চায়ের স্বাদও ছড়িয়ে পড়ল দিকে দিকে। ব্যবসাও ফুলে ফেঁপে উঠল।

মশলা চায়ে আবার কোকো পাউডার! এটাই ছিল এ দোকানের আসল টুইস্ট! কেবল সাধারণ মানুষ নয় এ দোকানের মশলা চা আর মাস্কা বানের স্বাদে মজেছিল তারকারাও। শোনা যায়, প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী এম.এফ.হুসেন প্রায়ই আসতেন এ দোকানে। তারপর চা সহযোগে মাস্কা বান খেতে খেতে হারিয়ে যেতেন শিল্পের জগতে। সে নজির আজও রয়েছে রেস্তোরাঁর দেওয়ালে। এখনও লাকি রেস্তোরাঁয় গেলে দেখতে পাওয়া যাবে তাঁর অসাধারণ পেইন্টিংটি।

এরপর পথ আরও খানিকটা প্রশস্ত করার ভাবনা আসে তাদের মাথায়। ঠিক করেন রেস্তোঁরা খুলবেন।যদিও মালিক কৃষ্ণান কুট্টি সিদ্ধান্ত নেন কবর সরানো যাবে না। সেগুলিকে যথাস্থানে রেখেই যা করার করতে হবে। তিনি হয়তো ভবিষ্যত দেখতে পেয়েছিলেন। বুঝতে পেরেছিলেন এই কবরের সঙ্গে খানাপিনার রহস্যই আসল ব্যবসা এনে দেবে। হলও তাই। কবরগুলিকে সুসজ্জিত রেলিং দিয়ে ঘিরে তার পাশেই সাজানো হল অতিথিদের টেবিল চেয়ার। অর্থাৎ ভূত-বর্তমান একেবারে পাশাপাশি।

প্রথমদিকে এ নিয়ে মানুষের মধ্যে বেশ কিছু দোলাচল কাজ করলেও যখন এ কথা প্রকাশ্যে এল যে, উনিশ শতকের কিছু সাধু সন্ন্যাসীর কবরই রয়েছে এখানে তখন নিমেষেই কেটে যায় রেস্তোঁরার বন্ধা দশা। ভিড় বাড়তে থাকে অতিথিদের। আমেদাবাদের এই "লাকি রেস্তোরাঁ"টিই বিশ্বের প্রথম ক্যাফে যেটি রয়েছে কবরস্থানের মধ্যেই।

এখনও নিয়মিত সকালে পরিষ্কার করা হয় কবরগুলি। টাটকা ফুল দিয়ে সাজানো হয় চারদিক। আর তাতেই বোধ হয় তুষ্ট থাকেন ভূতেরা। কোনও বিরক্ত করে না অতিথিদের। ওরা থাকে আপন খেয়ালে। হয়তো কবরে বসেই আড্ডার স্বাদ নেয়। তাই ভূতুড়ে জায়গা বলেও মনে হয় না রেস্তোরাঁটিকে। অথচ অতীত তো সকলেই জানে। তাই নস্টালজিয়া থেকেই যায়। ভূতেদের সঙ্গে খানিক আড্ডা দেওয়ার অছিলায় পা বাড়ান অনেকেই। সঙ্গে বাড়তি পাওনা সুস্বাদু স্বাদের খাবার তো আছেই। আর চটজলদি পরিবেশনেও এদের জুড়ি মেলা ভার!

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।