সংকেতে গড়া জাদু-মুহূর্ত! আদিত্য বিক্রমের মায়ানগর যে মুগ্ধতার ছবি আঁকে

Mayanagar Review: স্প্রে-তে সাদা এক কুয়াশার মতো আবহাওয়া তৈরি হয়। এই সাদা কুয়াশার মধ্যে দু'টি ক্রিয়া ঘটমান। এক, কুকুরদের মেটিং। দুই, এলার বসের কাছে যাওয়া।

Abhirup Mukhopadhyay
৬ মিনিট
সংকেতে গড়া জাদু-মুহূর্ত! আদিত্য বিক্রমের মায়ানগর যে মুগ্ধতার ছবি আঁকে

জীবনের মধ্যে এমন কিছু আশ্চর্য মুহূর্ত থাকে, যা সারাজীবন মাথার ভেতরে বারংবার জেগে উঠতে চায়। জেগে ওঠেও। যে ব্যক্তির দ্বারা আমরা সেই জাদু-মুহূর্তকে একদিন দেখতে পেয়েছিলাম, সেই ব্যক্তির চেয়েও বেশি সেইসব মুহূর্তদের সঙ্গে বোধহয় ক্রমেই নিভৃতে একটা সম্পর্ক আমাদের মধ্যে জন্ম নেয়। শিল্পও এমনই। ‘মায়ানগর’ দেখার পর থেকে মাথার ভেতরে খণ্ড খণ্ডভাবে ফিরে আসছে ছবিটির বহু দৃশ্য। তার মধ্যে থেকে কয়েকটি আলো-অন্ধকারময় মুহূর্তের কথা বলতে চাই।

ছবির প্রথমদিকের একটি দৃশ্য। বন্ধ, পুরনো থিয়েটার। ভাঙা স্টেজ। ফাঁকা সিট। এইসবের মধ্যে দিয়ে বাড়ির দীর্ঘদিনের পরিচারকের ছেলে রাজা সারাদিনের কাজ সেরে, ফিরে আসছে। সাইকেলটা হাঁটিয়ে নিয়ে বাড়িতে ঢুকছে রাজা। সাইকেলের চাকাটা ঘুরছে। আস্তে-আস্তে ঘুরছে। দৃশ্যটিতে, যেই উপস্থিত হলো বৃদ্ধ পরিচারক রাজার বাবা, আমরা দেখলাম সাইকেলের চাকাটি দাঁড়াল কিন্তু চাকার কেন্দ্র-অংশ ঢেকে রইল, বৃদ্ধ পরিচারকের মুখশ্রী।

সিনেমা হলে দেখামাত্র এই দৃশ্যভাবনাকে খুব বাহবা দিতে ইচ্ছে করেছিল। তখন হয়তো সেই ভাবনার পেছনে কার্যকর হয়েছিল টেকনিক আর স্মার্টনেসের প্রতি আমার সমর্পণবোধ। কিন্তু এখন মনে হয়, ছবিটি যাঁরা দেখেছেন তাঁরা হয়তো মনে করতে পারবেন, রাজার বাবা, ওই বৃদ্ধ পরিচারক ওই বাড়ি ও থিয়েটারের স্বর্ণযুগ দেখেছেন। আর আজও, বাড়িটির ভগ্ন-অবস্থা এবং সেই বাড়ির সন্তান বুবুকে আগলে বেঁচে আছেন। পুরনো বাড়িটির ওপর দিয়ে চলে যাওয়া সময়ের প্রবাহকে তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তাই হয়তো, ছবিতে বৃদ্ধ চরিত্রটির সঙ্গে পরিচালক আমাদের আলাপ করিয়ে দিলেন সময়ের এক ঘূর্ণনময় চাকার মধ্যবিন্দু দিয়েই। এই প্রয়োগ অতুলনীয়!

মুগ্ধতার এখানে সবে শুরু। এই দৃশ্যের সংলগ্ন আরও দু'টি দৃশ্যের কথা বলব। ‘মায়ানগর’-এর অন্যতম প্রধান চরিত্র এলা (অভিনয় করেছেন শ্রীলেখা মিত্র), একমাত্র সন্তান মারা যাওয়ার পর স্বামীগৃহ ছেড়ে নিজের মতো করে থাকতে চায়। কিন্তু তার কাছে ফ্ল্যাট কেনবার জন্য যথেষ্ট টাকা নেই। এলার মা ছিলেন একজন থিয়েটার অভিনেত্রী, এলার বাবা বিবাহিত অবস্থায় এলার মায়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ফলে, বুবু আর এলা একই পিতার সন্তান। শুধু তাদের মাতৃ-পরিচয় আলাদা।

এলার জন্য রাজা চাকরি পেয়েছে। ফলে, রাজা ওর প্রতি কৃতজ্ঞ। যখন ফ্ল্যাটের জন্য টাকার জোগাড়ের অন্য সব রাস্তা বন্ধ, এলা বাবার পুরনো বাড়িটা বিক্রির জন্য রাজাকে বুবুর কাছে কথা বলতে পাঠায়। দু'জনের সংলাপ-মুহূর্তটি এখানে বুবু চরিত্রে ব্রাত্য বসুর অভিনয়ের কারণে এক অনবদ্য প্রাচুর্যকে স্পর্শ করে আছে। বাবার সঙ্গে অন্য নারীর সম্পর্কের কথা জানতে পেরে আত্মহত্যা করে বুবুর মা। তারপর থেকেই কিছুটা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে বুবু। সেই ভারসাম্যহীনতার মধ্যে ছিল এক ধরনের শিশুসুলভ নির্ভরতার আচরণ। বুবু যখন রাজার সঙ্গে কথা বলতে বসে, তখন তার দু'হাত পর্যন্ত নেমে আসা ওভারসাইজ পোশাক, সেই শিশুসুলভতাকে যেন প্রশ্রয় দেয়। এখানে ব্রাত্য বসু তাঁর সম্পূর্ণ শরীরকে একক বৃক্ষের মতো স্থির রেখে, আকাশময় ছড়িয়ে দিয়েছেন তাঁর অভিনয়ভাষা, কেবল তাঁর দুটো চোখ দিয়েই। তিনি পুরো সংলাপটি বলেছেন, চোখের সাহায্যে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মানিকবাবুর মেঘ আসলে অন্য রকম যৌনতার কথা বলে

Manikbabur Megh Review: যে মেঘকে পাগলের মতো ভালোবাসে সে nephophile। ইংরেজি শব্দটি বাঙালির খুব চেনা নয়।

এখানে, আরও একটি বিষয় মুগ্ধ হওয়ার মতো। ছবিটা যখন দেখছি, তখন তো আমরা বুবু চরিত্রটির মানসিক-ইতিহাস জানি না। ব্রাত্য বসুর অভিনয়ের আপাত কয়েক সেকেন্ড, বুবু চরিত্রটিকে তাঁকে বেশ গম্ভীর ও দৃঢ় ব্যক্তিত্বের মনে হয়। রাজা বলছে, প্রোমোটাররা এই বাড়িটি কিনতে চাইছে, বুবুদা তুমি বিক্রি করবে কিনা। বুবু জিজ্ঞেস করছে, ওরা তোমাকে কেন বলছে? এই সংলাপে ব্রাত্য সেই দৃঢ় ব্যক্তিত্বকে ধরে রাখছেন। রাজাকে তাই আমরা এখানে কিছুটা যেন ভীত-ইতস্তত দেখতে পাই।

তারপর, ব্রাত্য বলেন, ‘বিক্রি করে দেব, বিক্রি করে দেব’। ঠিক এই পর্যন্ত, ব্রাত্য ধরে রাখেন সেই গম্ভীর ব্যক্তিত্বকে, যেন একটি জলধারা। যা এরপর হঠাৎই একটা ঢালুপথে, সম্পূর্ণ নতুন এক পরিচয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে নীচে, ঝরনা হয়ে। বুবু জিজ্ঞেস করে, তাদের থিয়েটার হলের ভেঙে যাওয়া স্টেজটা প্রোমোটাররা কি সারিয়ে দিতে পারবেন? সামান্য সময়ের মধ্যে, এই প্রশ্ন-উচ্চারণে ব্রাত্য বসু যে অভিনয়প্রাচুর্যকে প্রতিস্থাপন করেছেন, তা চরিত্রটির পূর্ব ব্যক্তিত্বকে সম্পূর্ণ ভুলে যেতে বাধ্য করে আমাদের। আমরা জানি প্রোমোটাররা বাড়িটি কিনতে চাইছে, ভেঙে ফেলে ফ্ল্যাট বানাবে বলে, তারা কী করে স্টেজ সারিয়ে দেবে? এই বিচারশক্তি বুবু চরিত্রটির মধ্যে নেই। কিন্তু সেই না-থাকাকে কোনও উচ্চস্বরের অভিনয়ের বদলে এক অপূর্ব সংযত ও সংহত উপায়ে চরিত্রটির মধ্যে বহন করেছেন ব্রাত্য।

শুধু তাই নয়, ছবিতে, উকিলের নির্দেশে বৃদ্ধ পরিচারককে বুবুর বলা, ‘তোমরা চলে যাও, তোমরা ভালো লোক নও’ এই সংলাপ অথবা পারিবারিক উকিলের সঙ্গে কথা বলার সময় বুব-র ঘেমে যাওয়া উদ্বিগ্ন আশ্রয়-উন্মুখ আচরণ— সবই বুবু চরিত্রটির স্থায়িত্বভারকে ছবিটিতে জোরালো করেছে।

‘চালচিত্র’-র ভুবন হালদার, ‘মানিক বাবুর মেঘ’-এর ডক্টর সাধন কিংবা ‘ঝরা পালক’-র জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে ব্রাত্য বসু যে ভিন্ন-ভিন্ন অভিনয়ের চিহ্ন আমাদের সামনে রেখেছেন, বুবু চরিত্রটি তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। বহু কারণে, ‘মায়ানগর’ একবার নয়, বারবার ফিরে দেখার ছবি। তবে আমি এ বিষয়ে নিঃসন্দেহ যে, সিনেমাটি ফিরে দেখার সেই বহু কারণের মধ্যে অন্যতম একটি কারণ হলো, এই ছবিতে ব্রাত্য বসুর অভিনয়ের নিস্তব্ধ সংকেতগুলি, যার কোনও তুলনা নেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ঋতুপর্ণর চিত্রাঙ্গদা: ফেলে আসা প্রথম প্রেমের অবিচল চরণধ্বনি

Rituparno Ghosh: পার্থ নেশাঘোর অবস্থায় রিহার্সালের সময় ড্রাম বাজাতে ভুলে যায়। মঞ্চে উঠে, পা দিয়ে মেরে মেঝেয় ফেলে দেয় রুদ্র। তৎক্ষণাৎ উঠে, রুদ্রর পা থেকে তার ঘুঙুরটা খুলে নিয়ে বাথরুমে চলে যায় পার্থ।

প্রসঙ্গে ফিরি। বুবু চরিত্রটির সঙ্গে রাজার কথোপকথনের পর দেখা যায়, রাজা সেই কথোপকথন বিষয়ে এলাকে ফোনে জানাচ্ছে। এই দৃশ্যটি সাধারণ। অথচ এই দৃশ্যটি কী মারাত্বক! কেন? রাজা যখন এলাকে ফোনে বলছে বুবুর সঙ্গে ওর কথাবার্তার সারমর্ম, তখন নীচ থেকে পরিচালক রাজার ঝুলন্ত পা দুটোকে এমনভাবে দেখান, যেন কেউ আত্মহত্যা করে ঝুলে আছে। রাজার শব্দগুলির সঙ্গে দৃশ্যটি কয়েক সেকেন্ডের জন্য সংঘর্ষ তৈরি করে, আমাদের সামনে থেকে চলে যায়। মনে হতে থাকে, আচমকা এমন এক ঝুলে থাকা দেহের ছায়ারূপ দেখতে পেলাম কেন? দৃশ্যটি যখন সম্পূর্ণ ভুলে গেছি, তখনই সেই প্রশ্নের উত্তর পাই। জানতে পারি, বুবুর মায়ের আত্মহত্যার কথা। যার পরেই বুবু মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। যে বুবুর সঙ্গে কথা বলে এসে রাজা এলাকে সব জানাচ্ছে, সেই অসংলগ্ন বুবু কিন্তু আসলে তার মায়ের আত্মহত্যার ফলাফল। তাই হয়তো এক ঝলকে, ওই ঝুলন্ত দেহের সংকেতটি আমাদের সামনে রেখে, ছবিটি নিয়ে এগিয়ে গেলেন পরিচালক!

এরকরম অজস্র সম্পদ ছড়িয়ে রয়েছে এই ছবিতে। যেমন, ছবিতে দেখতে পাই এলার স্বামী একজনের কাছে তার পালিত কুকুরকে মিট করানোর জন্য অন্য ভালো কুকুরের সন্ধান-উপায় জানতে চায়। এর পাশে, অপছন্দ থাকা সত্ত্বেও, নতুন ফ্ল্যাটের বিনিময়ে, এলা তার অফিসের বসের সঙ্গে 'কম্প্রমাইজ' করতে রাজি হয়। ছবিতে দেখি, এলা যখন বসের কাছে যাবে বলে বেরচ্ছে তখন মশা মারার স্প্রে হাতে কর্পোরেশনের লোক ঢুকে আসে। সকলেই জানেন, এই ধরনের স্প্রে-তে সাদা এক কুয়াশার মতো আবহাওয়া তৈরি হয়। এই সাদা কুয়াশার মধ্যে দু'টি ক্রিয়া ঘটমান। এক, কুকুরদের মেটিং। দুই, এলার বসের কাছে যাওয়া।

কুয়াশার মধ্যে একটা শব্দ লুকিয়ে থাকে, স্বপ্ন। আর স্বপ্ন তো মিলনের প্রতিশব্দই। কিন্তু এক্ষেত্রে ‘মিলন’ শব্দটিকে কি আমরা প্রয়োগ করতে পারি? কুকুরদের দৃশ্যটিতে দেখা যায়, মেয়ে কুকুরটি, ছেলে কুকুরটির সামনে প্রথমে ইতস্তত, নীরব। আসলে পুরো বিষয়টিই একটি যান্ত্রিক যৌনপ্রক্রিয়া। এলার ক্ষেত্রেও তাই। কুকুরদের মেটিংয়ের ফলে ওই ব্রিডের নতুন কুকুর পাবে এলার স্বামী। আর এলা পাবে, নতুন ফ্ল্যাট।

আমাদের মনে থাকবে, পরিচালক আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্তর প্রথম ছবি ‘আসা যাওয়ার মাঝে’-র শেষ দৃশ্যে কুয়াশাময় এক জঙ্গলের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর দেখা হয়। সেই দেখা হওয়াটুকু এক অপূর্ব মিলনের সৌহার্দ্য জাগিয়ে তোলে আমাদের মনে। ‘মায়ানগর’-এও সাদা কুয়াশার এফেক্টটা পরিচালক আনলেন কিন্তু তাঁকে ব্যবহার করলেন সম্পূর্ণ বিপরীতভাবে। এই সাদা কুয়াশা, আসলে মশা মারার স্প্রে থেকে তৈরি। সেই কুয়াশার মধ্যে স্বপ্ন নেই, আছে মৃত্যু। পুরো ঘটনার ক্রুয়েলিটিকে ওই মৃত্যুময় কুয়াশার আশ্চর্যভাবে প্রকাশ করেছে।

আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্ত

এই ছবিতে এলা চরিত্রে, শ্রীলেখা মিত্রের অভিনয় আজীবন মনে রাখার মতো এবং ইতিমধ্যেই বহুলভাবে তা সমাদৃত, পুরস্কৃতও। পাশাপাশি, এলার স্বামীর চরিত্রে সত্রাজিৎ সরকারের অভিনয়ও আমরা কোনওদিন ভুলতে পারব না। বিশেষত এই চরিত্রটিকে যে ধৈর্য দান করেছেন পরিচালকের ঈশ্বর-মন, তাকে কুর্নিশ জানাতেই হয়। ‘মায়ানগর’ আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্তর তৃতীয় ছবি। ‘আসা যাওয়ার মাঝে’ এবং ‘জোনাকি’-র পাশাপাশি এই ছবিটিতেও আদিত্য নীরব ভদ্রতায় প্রমাণ করে দিলেন কলকাতায় বসে, এখনও এমন উচ্চতার ছবি বানানো যায়। একজন বাঙালি পরিচালক তা পারেন। ছবিটি দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল, কত সাধারণ দ্রব্যকে পরিচালক নতুন সংকেতে ব্যবহার করেছেন এখানে। হুমায়ুন কবিরকে জীবনানন্দ দাশ একটি চিঠিতে লিখেছিলেন:

আমি সেই মানুষ, যে প্রচুর প্রতিকূলতা সত্ত্বেও প্রতিটি দ্রব্যকে সোনা বানিয়ে তুলতে চায় অথবা মহৎ কিছু। ভবিষ্যতে খাঁটি মূল্যের যথার্থ ও উপযুক্ত বিচার হবে, আমার ভয় হয়, সেই ভালো দিন দেখতে আমি বেঁচে থাকব না।

আমাদেরও ভয় হয়, ‘মায়ানগর’-এর মতো ছবি যেন বহুল স্তরে অস্বীকৃত না হয়ে থাকে। বরং ‘আসা যাওয়ার মাঝে’, ‘জোনাকি’, ‘মায়ানগর’ যিনি বানিয়েছেন, সেই আশ্চর্য পরিচালক আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্ত যেন আরও নতুন ছবির বিস্ময় আমাদের উপহার দিয়ে চলেন! দর্শক হিসেবে এটুকুই আমরা আশা করব।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।