চরম দারিদ্রকে তুড়িতে উড়িয়ে UPSC জয়, যে অসম্ভবকে সম্ভব করলেন বিহারের অনিল

Success Story: অনিলের বাবা বিনোদ বসাক ছিলেন পেশায় ফেরিওয়ালা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে জামাকাপড় ফেরি করতেন তিনি। অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরাতো।

Sohini Das
৩ মিনিট
চরম দারিদ্রকে তুড়িতে উড়িয়ে UPSC জয়, যে অসম্ভবকে সম্ভব করলেন বিহারের অনিল

অর্থাভাব, চরম দারিদ্র, মাথার উপর ছাদ না থাকাটা কঠিন পরিস্থিতি হতে পারে, কিন্তু কখনওই তা যে অজুহাত হতে পারে না, তা ফের প্রমাণ করে দিলেন অনিল বসাক। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া, সংবাদমাধ্যম জুড়ে চর্চায় এই নামটি। কে এই অনিল বসাক? বিহারের কিসানগঞ্জের এক নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্ম অনিলের। তবে সেই সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেই বিহারের পরম্পরা রক্ষা করেছেন তিনি। দারিদ্রকে পিছনে ফেলে অধ্যাবসায় আর জেদকে হাতিয়ার করেই ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় দুর্ধর্ষ ব়্যাঙ্ক দখল করেছেন অনিল। হয়েছেন আইএএস অফিসার।

বিহারকে মঠের দেশ বলা হত এককালে। বৌদ্ধ সন্ন্যাসিদের পীঠস্থান ছিল বলে, সে রাজ্যের নাম হয় বিহার। সেই বিহার রাজ্যটিকে নিয়ে গোটা দেশ যতই তুচ্ছতাচ্ছিল্য করুক না কেন, একটা ব্যাপারে কিন্তু বরাবরই বিহারে। আর সেটা ইউপিএসসি-র ব়্যাঙ্ক। দেশের একটা বড়সড় সংখ্যক আইএএস আজও বেরোয় বিহার থেকেই। আর সেই সংখ্যাটা প্রতি বছর নয় নয় করে অন্তত ১২ থেকে ১৩ শতাংশ তো হবেই।

অনিলের বাবা বিনোদ বসাক ছিলেন পেশায় ফেরিওয়ালা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে জামাকাপড় ফেরি করতেন তিনি। অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরাতো। নিজে স্কুলের গণ্ডিও পেরোতে পারেননি বিনোদবাবু। কিন্তু ছেলেকে মানুষের মতো মানুষ করবেন, সেই স্বপ্ন ছাড়তে পারেননি কখনও। তার উপরে ছেলে ছোট থেকেই ছিল মেধাবি। আর্থিক কষ্ট তো বরাবরেই সঙ্গী তাঁর। আর সেই অসুবিধাই তাঁকে শক্তি জুগিয়েছে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াইয়ের।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হিন্দি ছাড়া সবেতে ফেল! যেভাবে আইপিএস হয়েছিলেন বাস্তবের টুয়েলভথ ফেল মনোজ শর্মা

12th Fail Manoj Sharma : টাকা জোটাতে টেম্পো চালিয়েছেন। ধনী পরিবারের কুকুরদের হাঁটাতে নিয়ে যাওয়ার কাজ করেছেন, লাইব্রেরিতে পিওন হিসেবেও কাজ করেছেন।

কিষানগঞ্জের ওরিয়েন্টাল পাবলিক স্কুলে পড়াশোনা শুরু অনিলের। পরে আরারিয়া পাবলিক স্কুল থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পাশ। ২০১৪ সালে আইআইটি দিল্লিতে পড়ার সুযোগ মেলে। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন অনিল। বিহারের পরম্পরা মেনে তার পাশাপাশিই শুরু হয়ে গিয়েছিল ইউপিএসসি-র প্রস্তুতি। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়াশোনা শেষ করেই ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসেন অনিল। না, প্রথম বারে শিকে ছেঁড়েনি তাঁর ভাগ্যে। তবে হাল ছাড়েননি অনিল। দ্বিগুণ উদ্যোগে ফের পড়াশোনা শেষ করেন। সেই বার ব়্যাঙ্ক এল ৬১৬। কিন্তু এই ব়্যাঙ্ক তো তিনি চাননি। ফের শুরু হল হাড় ভাঙা খাটনি। তৃতীয়বারে অবশ্য় সমস্ত পরিশ্রমের ফল পেয়েছেন হাতে হাতে। অবশেষে ইউপিএসসির সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ৪৫ ব়্যাঙ্ক করেন অনিল।

কিছুদিন আগেই সিনেমার দৌলতে আইপিএস অফিসার মনোজ শর্মার জীবনের কথা সামনে এসেছে। কীভাবে দ্বাদশ ফেল মনোজ অদম্য শক্তি আর পরিশ্রমের জেরে ইউপিএসসি পাশ করে দেখিয়ে দিয়েছিলেন, রূপোলি পর্দায় সেই গল্পে মজেছিল দর্শক। ব্যাপারটা নিয়ে বেশ হইচইও পড়ে যায়। সেই কাহিনি মনগড়া ছিল না, যেমন নয় অনিলের এই লড়াই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলা মাধ্যমে পড়েই ইউপিএসসি পরীক্ষায় বাজিমাত! কোন মন্ত্রে লুকিয়ে বাপ্পা সাহার সাফল্যের রহস্য

UPSC : দারিদ্র্যকে জয় করে দ্বিতীয় স্থানাধিকারীর শিরোপা জিতে নিলেন বাংলার ছেলে বাপ্পা সাহা

পরিবারের চার সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে বড় অনিল। ফলে অতিরিক্ত চাপ তো একটা ছিলই কাঁধে। সংসার চালাতে বাবাকে নানাবিধ কাজকর্ম করতে দেখেছেন জীবনে। কখনও তিনি জিনিসপত্র ফেরি করেছেন, কখনও কোনও সংসারে গিয়ে করেছেন পরিচালকের কাজ। সেই ভাবেই তিলে তিলে সঞ্চয় করে কিসানগঞ্জে জামাকাপড়ের ছোট্ট একটা ব্যবসা দাঁড় করিয়েছিলেন বাবা বিনোদ।

সেই বাবাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে সামনে রেখেই জানপ্রাণ লড়িয়ে দিয়েছিলেন অনিল। ভাড়া বাড়ি থেকে নিজেদের পাকা বাড়িতে উঠে আসার মধ্যের যে লড়াই নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেছেন অনিল, তা প্রতিমুহূর্তে তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছে, জিততেই হবে। জিতেওছেন অনিল। দ্বিতীয়বার ইউপিএসসি-তে পাশ করে রাজস্ব দফতরে সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তবে তাঁর বরাবরের স্বপ্ন বিহার ক্যাডারের অংশ হবেন। আর শেষপর্যন্ত সেই ফিনিশিং লাইন ছুঁয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন অনিল।

কিছু স্বপ্ন সত্যি হয়। প্রবল প্রতিবন্ধকতা, দারিদ্র, অনটন সেই সব কিছুকে পিছনে বড় হয়ে ওঠে সেই স্বপ্নের দৌড়। আর সেই কথাটাই আরও একবার প্রমাণ করে দিয়েছেন কিসানগঞ্জের অনিল। অনিল বসাক, মনোজ শর্মারাই আসলে প্রমাণ করে দেন বারবার, ইচ্ছা থাকলে পাহাড় ডিঙানো কঠিন নয় মোটেও।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।