মোদির প্রথম চিন সফর! সফল হল উদ্দেশ্য?

PM Modi in China: মোদি 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ' (বিআরআই) নিয়ে ভারতের আপত্তির বিষয়টি জানান। এই প্রকল্প পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে।

Tanvia Barua
২ মিনিট
মোদির প্রথম চিন সফর! সফল হল উদ্দেশ্য?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে যখন টানাপড়েন চলছে, তখন শাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সামিটে চিনের তিয়ানজিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে বৈঠক করলেন। মার্কিন শুল্কনীতির প্রেক্ষাপটে এই সফরকে ভারতের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছিল।

এটিই মোদির প্রথম চিন সফর ছিল। এর আগের বেশ কয়েকটি এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে মোদি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর-কে পাঠিয়েছিলেন। এই সফরের মধ্যে দিয়ে মোদি অবশ্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিতে চেয়েছিলেন বলে মনে করেছিলেন অনেকেই। এই সফর কি ফলপ্রসূ হল?

৩১ অগাস্ট সফরের প্রথম দিনেই চিনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে মোদি বলেন, ভারত-চিনের সহযোগিতায় সমগ্র মানবজাতির কল্যাণ হবে। তিনি মনে করিয়ে দেন, পৃথিবীর ২৮০ কোটি মানুষ এই দুটো দেশে থাকে। মোদি এও বলেন যে, চিন ও ভারত পরস্পরের প্রতিপক্ষ নয়, বরং 'সহযোগিতার অংশীদার'। মোদি জানিয়ে দিয়েছেন, সম্প্রতি ভারত ও চিনের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবাও চালু হবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধ! কীভাবে সংকট কাটাবে ভারত?

Trump : এর সঙ্গে মার্কিন কর্পোরেট লবির একটা অংশের স্বার্থ, অস্ত্র লবির চাপ তথা ভারতের কৃষি ও ডেয়ারি শিল্পকে মার্কিন কোম্পানিগুলির কাছে উন্মুক্ত করার দাবিও রয়েছে।

সম্মেলনে যৌথ ঘোষণাপত্রে এসসিও সদস্য দেশগুলি গত ২২ এপ্রিল ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল। এই হামলার জন্য ভারত সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করলেও এসসিও সামিটে মোদি নির্দিষ্ট করে সন্ত্রাসবাদের সমর্থনকারী হিসেবে কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি।

মোদি 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ' (বিআরআই) নিয়ে ভারতের আপত্তির বিষয়টি জানান। এই প্রকল্প পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। ভারত এই জায়গাটিকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে থাকে, তাই চিনের এই প্রকল্পকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে মনে করা হয়। চিনের এই প্রকল্পকে ইঙ্গিত করে মোদি বলেন, "সংযোগ তখনই অর্থবহ, যখন তা সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করে। অন্যথায় সেটি কিন্তু আস্থা হারায়।"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'একতরফা ব্যবসা করছিল ভারত, এখন দেরি হয়ে গিয়েছে'! ট্রাম্প মোদির দূরত্ব কমবে?

Modi Trump Relation: সম্প্রতি এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতে খুব সামান্যই রফতানি করে, অথচ ভারত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিপুল পরিমাণে পণ্য বিক্রি করছে।

তিনি এও জানান, ভারত চাইছে ইরানের চাবাহার বন্দর ও উত্তর-দক্ষিণ আন্তর্জাতিক করিডরের মাধ্যমে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হোক। কারণ, ভারত মধ্য এশিয়া এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য করার জন্য ইরানের চাবাহার বন্দরে প্রবেশদ্বার বানিয়েছে। এটি তৈরি করতে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছে কেন্দ্র।

উল্লেখ্য, ভারত ইজরায়েলের বৃহত্তম অস্ত্র ক্রেতা। ২০২৪ সালে গাজা যুদ্ধের সময়, ভারতের অস্ত্র সংস্থাগুলি ইজরায়েলের কাছে রকেট এবং বিস্ফোরক বিক্রি করেছিল। ইরান ইজরায়েল হামলার সময় যখন এসসিও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছিল, তখন নয়াদিল্লি বলেছিল তারা এই বিবৃতি নিয়ে কোনো রকম আলোচনায় অংশই নেয়নি।

আবার কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ ‘এক্স’-এ লিখেছেন, বহু বছর ধরেই সন্ত্রাসবাদ নিয়ে চিনের দ্বিমুখী নীতি ও দ্বিচারিতার অভিযোগ করে আসছে ভারত। অথচ এখন, এসসিও সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্টকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বললেন, ভারত ও চিন দুই দেশই সন্ত্রাসবাদের শিকার। শুধু তাই নয়, কংগ্রেস দাবি করেছে এই সফরে মোদির ভূমিকা ‘দেশবিরোধী’। জয়রাম লিখেছেন, ‘অপারেশন সিঁদুরের’ সময় পাকিস্তানের সঙ্গে চিন হাত মিলিয়েছিল, এই নিয়ে ভারতীয় সেনা কর্তারাও সরব হয়েছিলেন। কিন্তু মোদি এই বিষয়গুলি আলোচনাতেই আনেননি। তাঁর দাবি, এটা দেশদ্রোহিতা।

জয়রামের আরও দাবি, ২০২০ সালের ১৯ জুন (গালওয়ান সংঘর্ষ) চিনকে ক্লিন চিট দিয়ে দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন মোদি। এই দিনটিও (২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট) কলঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।