সরকারি রক্তচক্ষুর দাস নয় আইন, মহম্মদ জুবেরের জামিন যে বার্তা দিল

সবদিক খতিয়ে দেখে তাই আদালত পরিষ্কার জানিয়েছে, জুবেরকে গ্রেফতারের সপক্ষে কোনও ন্যায্য কারণই নেই। তাঁকে আটকে রেখে, একের পর এক আদালতে ছুটিয়ে বেড়ানো অযৌক্তিক।

pampii adhikari
৪ মিনিট
সরকারি রক্তচক্ষুর দাস নয় আইন, মহম্মদ জুবেরের জামিন যে বার্তা দিল

গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই সরকার নির্বাচন হয়ে চলেছে এযাবৎ। তাই নির্বাচিত সরকারও গণতান্ত্রিক নীতি মেনেই শাসনকার্য চালাবে বলেই কাম্য। তার ব্যতিক্রম ঘটার অর্থ, স্বৈরতন্ত্রর ফাঁদে পা রাখা। কিন্তু ‘অমৃতকাল’-এ ভারত কি সেই স্বৈরতন্ত্রর দিকেই এগোচ্ছে? খবরের সত্যতা যাচাইকারী সাংবাদিক মহম্মদ জুবেরের গ্রেফতারি মামলায় উঠে আসছে এই প্রশ্নই। টানা ২৪ দিন জেলে থাকার পর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন জুবের। কিন্তু তাঁর গ্রেফতারি নিয়ে দেশের শীর্ষ আদালতের মন্তব্য গুরুত্ব দাবি করে। গ্রেফতারির ক্ষমতা রয়েছে বলেই পাইকারি হারে তা প্রয়োগ না করে, পুলিশেরও সংযমী হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছে আদালত। কিন্তু সুধা ভরদ্বাজ থেকে ভারভারা রাও, স্ট্যান স্বামী থেকে সফুরা জারগার, দিশা রবি থেকে উমর খালিদ এবং সর্বোপরি মহম্মদ জুবের, বারবার ঠিক তার উল্টোটাই ঘটতে দেখা গিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট যে গ্রেফতারির ক্ষমতার অপব্যবহারের উল্লেখ করেছে, সরকারি রীতিনীতির সমালোচনায় মুখ খুললেই আকছার তার প্রয়োগ হতে দেখা গিয়েছে সাম্প্রতিককালে। সমাজকর্মী, সাংবাদিক, কলেজপড়ুয়া তো বটেই, নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধি জিগনেশ মেভানিও রক্ষা পাননি তা থেকে। আর প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঘটনাক্রম সাজানো হয়েছে কার্যত একই ছাঁচে। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের, দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ‘কুখ্যাত’ বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে বছরের পর বছর জেলবন্দি করে রাখা হয়েছে কাউকে। কারও বিরুদ্ধে আবার দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতায় ইন্ধন, ধর্মীয় ভাবাবেগে ইন্ধন জোগানোর অভিযোগ। তবে গ্রেফতারির ক্ষেত্রে যথেষ্ট ঝাড়াইবাছাই হয় বইকি! প্রকাশ্যে নিয়মিত দাঙ্গা, হাঙ্গামায় ইন্ধন জুগিয়ে গেলেও, শুধুমাত্র শাসক দলের প্রতিনিধি হওয়ার দরুন ছাড় পেয়ে যান কিছু মানুষ। আর সামান্য ব্যাঙ্গাত্মক ট্যুইটের জন্য জেলে যেতে হয় কাউকে।

জুবেরের মতো মানুষ এই দ্বিতীয় গোত্রে পড়েন। তাই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির সারবত্তাহীন অভিযোগের ভিত্তিতে হাতে হাতকড়া পড়ানো হয় তাঁর। মামলার ধরন দেখে মনে প্রশ্ন জাগতে বাধ্য যে, শুধুমাত্র হেনস্থা করতে, ‘উচিত শিক্ষা’ দিতে, রাজনৈতিক আক্রোশ মেটাতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না। কারণ গ্রেফতারির সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ এবং প্রশাসনের তরফে কার্যত লখিন্দরের বাসরঘর গড়ে তোলা হয়, যাতে কোনওভাবেই ছিদ্র গলে বেরিয়ে না যেতে পারেন অভিযুক্ত। তাই মন্ত্রবলে রাতারাতি এক ডজন মামলা তৈরি হয়ে যায়, যাতে এক মামলায় জামিন পেলেও, অন্য মামলায় জেলেই আটকে রাখা যায় অভিযুক্তকে। হাতে সময় নিয়ে তাঁর সঙ্গে বিদেশি শক্তির সংযোগ, মোটা টাকা লেনদেনের তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করা যায় জনমানসে, যাতে সব কাটিয়ে বেরোতে বেরোতে জনতার আদালতে আপনাআপনিই দোষী সাব্যস্ত হয়ে যান অভিযুক্ত।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নুপুর বিতর্কের মাঝেই মহম্মদ জুবেরের গ্রেপ্তারি কোন বার্তা দিচ্ছে?

জুবেরের গ্রেপ্তারিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাস্বরূপই দেখছেন অনেকে। তাঁদের মতে, নূপুরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে অপদস্থ হতে হয়েছে বিজেপি-কে। কোথাও না কোথাও একটি উদাহরণ তৈরিরও প্রচেষ্টা রয়েছে যে, পয়গম্বর মহম্মদকে নিয়ে মন্তব্যে যদি বিতর্ক হয়, তাহলে হিন্দু দেব-দেবীদের নিয়ে মন্তব্য করেও পার পাওয়া যাবে না।

সম্প্রতি জিগনেশের ক্ষেত্রেও তা লক্ষ করা গিয়েছিল। এক মামলায় গ্রেফতার করে রাতারাতি গুজরাত থেকে অসম তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। তারপর সেই মামলায় জামিন পেলেও, নতুন একটি মামলা আচমকাই উড়ে এসে জুড়ে বসে। সেই দ্বিতীয় মামলার অজুহাত দেখিয়ে আটকে দেওয়া হয় জামিন। জুবেরের ক্ষেত্রেও একই রীতি লক্ষ করা যায়। প্রথমে ভুঁইফোড় সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর গ্রেফতারি। তার পর উত্তরপ্রদেশে দায়ের আরও ছয়টি মামলা দেখিয়ে হেফাজত চালিয়ে নিয়ে যাওয়া। সব কাটিয়ে বেরোতে ২৪ দিন লেগে গেল জুবেরের। তবে এর মধ্যেই বিদেশি শক্তির সঙ্গে তাঁর সংযোগ, ৫০ লক্ষ টাকার লেনদেন জুড়ে দেওয়া হয়েছে তাঁর নামের সঙ্গে। অথচ যে ভুঁইফোড় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় জুবেরকে, তার আর অস্তিত্বই নেই নেটদুনিয়ায়। সেই ছায়ামূর্তির খোঁজ নেওয়ার কোনও গরজও দেখা যায়নি পুলিশের তরফে।

সবদিক খতিয়ে দেখে তাই আদালত পরিষ্কার জানিয়েছে, জুবেরকে গ্রেফতারের সপক্ষে কোনও ন্যায্য কারণই নেই। তাঁকে আটকে রেখে, একের পর এক আদালতে ছুটিয়ে বেড়ানো অযৌক্তিক। তাই উত্তরপ্রদেশের হাথরস, গাজিয়াবাদ, মুজফ্ফরনগর, লখিমপুর খেরি এবং সীতাপুরে দায়ের হওয়া ছ’টি মামলা থেকেও জুবেরকেও জামিন দিয়েছে আদালত। সেখান থেকে সমস্ত মামলা দিল্লিতে স্থানান্তরিত করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের উদ্দেশে সাফ বার্তা আদালতের, “গ্রেফতারির ক্ষমতার অস্তিত্বকে গ্রেফতারির ক্ষমতা প্রয়োগের থেকে পৃথক রাখা উচিত। এক্ষেত্রে সংযমী হওয়া প্রয়োজন।” জুবেরের বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশ সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলকেও বাতিল করেছে আদালত। চার বছর আগের ট্যুইটের জন্য ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনও মামলায় জুবেরকে গ্রেফতারও করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

খবরের দুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত বলে জুবেরের গ্রেফতারিতে অবধারিতভাবেই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্ন জড়িয়ে, ২০১৪ সাল থেকে বর্তমান সরকারের আমলে বারবার তা পদদলিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েইছে। তাই জুবেরের গ্রেফতারি এবং জার্মানিতে বাকস্বাধীনতা এবং সংবাদমাধ্যমে স্বাধীনতার পক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সওয়াল, সরকারের দ্বিচারিতাকেই তুলে ধরে। সরকারি দাবি-দাওয়াকে বেদবাক্য বলে মেনে নেওয়ার পরিবর্তে, সরকারকে প্রশ্ন করার ‘স্পর্ধা’ দেখাক সংবাদমাধ্যম, তা না-পসন্দ সরকারের। তাই জুবের যাতে আগামী দিনে ট্যুইট না করতে পারেন, আদালতের কাছ থেকে সেই নির্দেশ আদায় করতে চেয়েছিল উত্তরপ্রদেশ সরকার।

কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত উত্তরপ্রদেশ সরকারের সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। আদালতের সাফ যুক্তি, “ওঁর ট্যুইট করা আটকাতে পারি না আমরা। ওঁর বাকস্বাধীনতার অধিকার খর্ব করার নির্দেশ দিতে পারি না। আইনজীবী তর্ক করতে পারবেন না বলার মতো ব্যাপার। সাংবাদিক লিখতে পারবেন না, এমন নির্দেশ কীভাবে দেওয়া সম্ভব!” যদিও উত্তরপ্রদেশ সরকার আদালতে জুবেরকে সাংবাদিক বলেই মানতে চায়নি।এর পর বন্ড জমা দিয়ে সন্ধেয় জেল থেকে বেরিয়ে আসেন জুবের। কিন্তু তাঁর এই ‘মুক্তি’ কতদিন স্থায়ী হবে, আগামী দিনে আরও কী কী অপেক্ষা করছে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না। জুবের যদিও বা জামিন পেলেন, প্রায় দু’বছর ধরে জেলবন্দি উমর, শার্জিল ইমামদের ভবিতব্য কী, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। জুবেরের বাকস্বাধীনতা আদালতে বৈধতা পেয়েছে যেমন, উমরদের ‘সত্য’ কি গৃহীত হবে, সংশয় কাটে না।

লিখেছেন
pampii adhikari
pampii adhikari
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

পিস বন্ড কী, কেন দিতে হয়? নেহা বোরার আপত্তিতে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ঔপনিবেশিক আমলের আইন

Peace Bond: শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করলেই কি দিতে হবে পিস বন্ড? AISA-র জাতীয় সভাপতি নেহা বোরার আপত্তিতে নতুন করে বিতর্কে ঔপনিবেশিক আমলের প্রতিরোধমূলক আইন। ব্রিটিশ আমল থেকে স্বাধীন ভারত, CrPC থেকে BNSS—কীভাবে বদলেছে এই আইনি ব্যবস্থা? কেন কাউকে ১০ হাজার টাকার মুচলেকা দিতে বলা হয়? কী বলছে আইন?

রামলীলা ময়দানের সভায় ভিড় দেখাতে এআই ছবি? কতটা সত্যি?

Ramlila Maidan AI image controversy: দিল্লির রামলীলা ময়দানে ১ নভেম্বরের ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সমাবেশে ভিড় ও এআই ছবি ব্যবহার নিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে বিতর্ক তুঙ্গে। ভাইরাল ছবিগুলোর সত্যতা কী?

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।