বেশি অথবা কম ঘুম দুইই কাল হতে পারে শরীরের! জানেন সুস্থ থাকতে কোন বয়সে কতটা ঘুম জরুরি?

Sleep : কিছুতেই ঘুম আসে না? কিংবা যখন ঘুমাচ্ছেন অনেক বেশি সময় পরও ক্লান্তি কাটছে না? দুইই হতে পারে বিপদের কারণ। জেনে নিন কোন বয়সে কতটা ঘুম জরুরি।

inscript
৩ মিনিট
বেশি অথবা কম ঘুম দুইই কাল হতে পারে শরীরের! জানেন সুস্থ থাকতে কোন বয়সে কতটা ঘুম জরুরি?

ঘুম, যে কোনো রোগ নিরাময়ের মহৌষধি। প্রতিদিন নির্দিষ্ট এবং পরিমিত ঘুমের দিকে জোর দেন কম বেশি প্রায় সব চিকিৎসকই। সারাদিনের ক্লান্তি দূর করা থেকে শুরু করে শরীরের সমস্ত কোষগুলিকে বিশ্রাম দেওয়া, সুস্থতার লক্ষ্যে ঘুমের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। তবে আজকের প্রজন্মের সিংহভাগের মধ্যেই একটি বিশেষ সমস্যা লক্ষ্য করা যায়, তা হল ইনসমনিয়া অর্থাৎ সঠিক ঘুমের অভাব। এর জন্য অনেকটাই দায়ী আজকের আধুনিক জীবনযাপনের ধরন। একদিকে খাওয়া দাওয়ার অনিয়ম অন্যদিকে প্রযুক্তির চাপে পাল্লা দিতে দিনের একটা লম্বা সময় ইলেকট্রনিক্স দ্রব্য যেমন মোবাইল অথবা ল্যাপটপের দিকে ঠায় তাকিয়ে থাকা, আঘাত হানছে রাতের ঘুমের ওপরই। যার জেরে ঘুমোতে গিয়েও ঘুম আসছে না অনেকেরই। এবং ভিতরে ভিতরে ছড়াচ্ছে অগুন্তি সব রোগ।

অনেকের ক্ষেত্রে আবার এর ঠিক উল্টোটাও দেখা যায়। অর্থাৎ ঘুমের আধিক্য। যখন তখন ঘুমিয়ে পড়ছেন হয়তো কেউ কেউ। সেটাও কি সুস্থতার লক্ষণ? সুস্থতার জন্য কম বা বেশি ঘুম দুইই সমান সমস্যা তৈরি করতে পারে। সদ্যোজাত শিশু থেকে শুরু করে অন্তত বছর তিনেক পর্যন্ত বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ঘুমের পরিমাণ সাধারণত বেশি হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে ঘুম। অন্যদিকে, গড়ে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম যে কোনো প্রাপ্ত বয়সের মানুষের জন্যই প্রযোজ্য। জানেন কি কোন বয়সে ঠিক কতটা পরিমাণ ঘুম সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয়? দেখে নিন তালিকা...

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কথায় কথায় ভুলে যাচ্ছেন সবকিছু! ডিমনেশিয়া নয় তো! ঝুঁকি কমাতে বদল করবেন যেসব অভ্যাস

Dementia : সুস্থ জীবনযাপন ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে এই রোগের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার, জেনে নিন বিস্তারিত।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশন বলছে, বয়স অনুযায়ী মানুষের ঘুমের পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানুষকে একটি বিশেষ অভিযোগ করতে দেখা যে যে, যথেষ্ট ঘুম হচ্ছে না, কিন্তু সেই যথেষ্ট বলতে কতটা? বয়স অনুযায়ী বদলে যায় সেই পরিমাণও।

৪ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে কমপক্ষে মোটামুটি ১০ ঘণ্টা এবং সর্বোচ্চ আঠারো ঘণ্টা ঘুম যথেষ্ট বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের। শিশুর বয়স যখন এক বছর থেকে দুই বছরের মধ্যে থাকে, তখন ঘুমের পরিমাণ এগারো থেকে চোদ্দ ঘণ্টার মধ্যে হওয়া আবশ্যক। প্রাক স্কুল পর্ব অর্থাৎ ৩ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৩ ঘণ্টা ঘুম যথেষ্ট বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এরপর যথাক্রমে ৬ থেকে ১৩ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে নয় থেকে দশ ঘণ্টা ঘুম এবং চোদ্দ থেকে সতেরো বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা স্থায়ী ঘুম প্রয়োজন বলেই দাবি এনএসএফের।

প্রাপ্তবয়স্ক তরুণ অর্থাৎ ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে সারাদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের। অন্যদিকে প্রাপ্তবয়স্ক অর্থাৎ ২৬ থেকে ৬৪ বছর পর্যন্ত মানুষের ক্ষেত্রেও এই একই সময়সীমা যথেষ্ট বলে দাবি করা হয়। যদিও ঘুমের কম বেশি এ ঘটনা নতুন কিছু নয়, নানা কারণেই হতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে এই ঘটনা যেন নিয়মিত না হয় এবং ঘুমের পরিমাণ যেন কিছুতেই ৫ ঘণ্টার কম বা ৯ ঘণ্টার বেশি না হয়।

অনিয়মিত জীবন যাপন এই স্বাভাবিক ঘুম চক্রে ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য দায়ী হতে পারে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন যে, সারাদিন এই উপরিউক্ত পরিমাণ ঘুম যেমন প্রয়োজনীয় তেমনই আবশ্যক অন্তত কিছু সময় গভীর ঘুমের। তাহলেই সুস্থ থাকে শরীর। সারাদিনে অন্তত দেড় থেকে দুই ঘণ্টা গভীর ঘুম যেকোনো প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের সুস্থতার জন্য জরুরী। ঘুমের নির্ধারিত সময় মেনে চলা, নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, রাতের দিকে অম্ল জাতীয় কিছু না খাওয়া, শোয়ার ঘরের আদর্শ তাপমাত্রা, শব্দ এবং আলো, আরামদায়ক বিছানা ও বালিশ, অ্যালকোহল এবং ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় সেবন না করা এবং সর্বোপরি ঘুমোনোর আগে ইলেকট্রনিক ডিভাইস দূরে রাখা, এইগুলি খেয়াল রাখলে সঠিক ঘুম পেতে পারেন আপনিও।

লিখেছেন
inscript
inscript
15 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।

সুপারমার্কেটের শাকে নয়, বুনোশাকেই রয়েছে বেশি পুষ্টিগুণ

Wild leafy greens: Scientific Reports (2024)-এর গবেষণা বলছে, বাণিজ্যিক উপায়ে চাষ করা সাধারণ সবজির চেয়ে এই বুনো শাকগুলিতে আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ভিটামিন এ ও সি এবং ফাইবার অনেক বেশি থাকে। এমনকী কর্ণাটকের সোলিগা উপজাতির মহিলারা গর্ভবতী মায়েদের রক্তশূন্যতা দূর করতে বিশেষ কিছু বুনো শাক ব্যবহার করে আসছেন যুগের পর যুগ।