ট্রামের ভেতর জাদুঘর! অসম্ভব সম্ভব হয় কলকাতায়

কলকাতার পরিচিত ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম ছাড়াও আরও বহু মিউজিয়াম এবং প্রদর্শনী আমাদের বহু ইতিহাসের চোখের সামনে তুলে ধরে।

Raktim Dey
৩ মিনিট
ট্রামের ভেতর জাদুঘর! অসম্ভব সম্ভব হয় কলকাতায়

কলকাতায় জাদুঘর বলতে প্রায় প্রত্যেকেই ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম অথবা ভারতীয় জাদুঘরের নাম বলে থাকবে। সমগ্র এশিয়ার অন্যতম বড় এবং পুরনো মিউজিয়ামের তালিকায় এই জাদুঘর রয়েছে। প্রত্যেক বছর বহু মানুষ এই জাদুঘর দেখতে আসেন। কলকাতায় ভারতীয় জাদুঘর ছাড়াও আরও অনেক জাদুঘর এবং প্রদর্শনী চলছে, যেগুলি ইতিহাসের অনেক তথ্য আমাদের সামনে তুলে ধরে। এই ধরনের জাদুঘর এবং প্রদর্শনীগুলি প্রধানত কোনও বিখ্যাত মনীষী, অধ্যায়, বিষয় অথবা বস্তুকেন্দ্রিক। কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত এই মিউজিয়াম এবং প্রদর্শনীগুলি কম খরচে সহজেই ঘুরে দেখে নেওয়া যায়।

কলকাতার ঐতিহ্যগুলির মধ্যে একটি হলো ট্রাম। কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলায় রয়েছে ট্রাম মিউজিয়াম। কে. সি. দাসের দোকানের বিপরীতে ধর্মতলার ট্রামডিপোর প্রবেশ পথ থেকে প্রবেশ করে ট্রামগুলো যেদিকে এগিয়ে যায়, সেদিকে ট্রামলাইন ধরে কয়েক মিনিট হেঁটে এগিয়ে গেলেই দেখা যায় এই মিউজিয়াম। এই মিউজিয়ামের নাম 'স্মরণিকা'। ট্রাম মিউজিয়াম বানানোর জন্য একটি আস্ত ট্রাম ব্যবহার করা হয়েছে। তাই আপাতদৃষ্টিতে একে মিউজিয়াম বলে চিহ্নিত করা যায় না। এই মিউজিয়ামের উদ্বোধন হয়েছিল ২০১৪ সালে। সি.টি.সি দ্বারা পরিচালিত স্মরণিকার প্রবেশমূল্য দশ টাকা। দুই কামরার এয়ারকন্ডিশনড ট্রামটির দ্বিতীয় কামরায় রয়েছে সংগ্রহশালা। ট্রামের বিভিন্ন পরিবর্তিত রূপের মডেল এবং ছবি , ট্রামের যন্ত্রাংশ, টিকিট এবং মান্থলি পাসের বিবর্তন, ড্রাইভার এবং কনডাক্টরের পোশাক স্মরণিকার সংগ্রহে রয়েছে। সি.টি.সি-র জন্মলগ্ন থেকে বিভিন্ন অধ্যায়ের কথা স্মরণিকার সংগ্রহ থেকে জানা গেলেও তার পূর্ববর্তী কোনও ইতিহাস এই মিউজিয়ামে নেই। ট্রামের প্রথম কামরাটিকে একটি ছোট ক্যাফেতে রূপান্তরিত করা হয়েছে। সেখানে চা, কফি এবং কিছু শুকনো খাবার পাওয়া যায়। স্মরণিকার ভেতরে মোবাইল ফোনে ছবি তোলার ক্ষেত্রে সমস্যা না থাকলেও ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকতে পারে। প্রত্যহ দুপুর একটা থেকে সন্ধে আটটা অবধি স্মরণিকা দর্শকদের জন্য খোলা থাকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মেটকাফ হল যেন টাইমমেশিন! পা রাখলেই বাঙালির ইতিহাসে ডুব

দেওয়ালজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য বিখ্যাত বাংলা সিনেমার এবং পুরনো বিজ্ঞাপনের পোস্টার টাইমমেশিন ছাড়াই কাউকে গত পাঁচটি দশকে সফর করিয়ে আনতে পারবে।

৩৮, এলগিন রোড। বহু মানুষের কাছে ঠিকানা অপরিচিত হলেও বাড়িটার একটা নাম রয়েছে। বাড়িটার নাম 'নেতাজী ভবন'। নেতাজির স্মৃতিবিজড়িত এই বাড়ি বহু ইতিহাসের সাক্ষী। এই বাড়িতে নেতাজিকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে এক সংগ্রহশালা। আশুতোষ মুখার্জি রোড থেকে বাঁদিকে এলগিন রোড ধরে সোজা মিনিটপাঁচেক হাটলে রাস্তার ডানদিকে পড়ে 'নেতাজী ভবন'। শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালের পিছনের দিকে কয়েক মিনিট হাঁটা পথে এই বাড়িতে পৌঁছনো যায়। এই বাড়ির নিকটবর্তী দু'টি মেট্রো স্টেশন হলো রবীন্দ্র সদন এবং নেতাজী ভবন। সোমবার বাদে সপ্তাহের বাকি সব দিন বেলা এগারোটা থেকে বিকেল পাঁচটা অবধি নেতাজী ভবনের সংগ্রহশালা দর্শকদের জন্য খোলা থাকে। নেতাজী ভবনের প্রবেশমূল্য কুড়ি টাকা। নেতাজীর নিজের হাতের লেখা অমূল্য চিঠিপত্র থেকে বিভিন্ন ছবি রয়েছে এই বাড়িতে। নেতাজির ব্যবহৃত খাট, বিভিন্ন পোষাক, আসবাবপত্র এই বাড়িতে যত্ন করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। নেতাজী ভবনে প্রবেশ করলেই ডানদিকে পড়ে টিকিট কাউন্টার। একতলায় টিকিট কাউন্টারের কাছেই রাখা রয়েছে একটি গাড়ি। এই গাড়িতেই নেতাজি ব্রিটিশদের চোখে ধুলো দিয়ে কলকাতা ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। একতলায় গাড়ির ছবি তুলতে কোনও বাধা না থাকলেও দোতলায় ক্যামেরা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। দোতলায় নেতাজির জন্ম থেকে বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন মূল্যবান নথি রয়েছে। আজাদ হিন্দ ফৌজের অভ্যর্থনার সময় পাওয়া ফুলের মালা, জার্মানি থেকে জাপানের উদ্দেশ্যে যাত্রার পূর্বে দাদাকে নিজের হাতে লেখা চিঠি, আজাদ হিন্দ ফৌজের উর্দি, অস্ত্র, হিটলারের সঙ্গে করমর্দনের ছবি তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। দোতলায় একটি ঘরে নেতাজির দেওয়া বিভিন্ন ভাষণ শোনা যায়। সেই ঘরে তাঁর গলার আওয়াজের প্রতিধ্বনি হয় । দোতলার বারান্দায় বাড়ি থেকে তাঁর চলে যাওয়ার পথ দেখানোর জন্য পদচিহ্ন আঁকা রয়েছে।

ব্যাঙ্কশাল কোর্ট থেকে হেয়ার স্ট্রিট ধরে গঙ্গার দিকে হাঁটলে হেয়ার স্ট্রিট এবং স্ট্র্যান্ড রোডের সংযোগস্থলে সাদা রঙের এক প্রাসাদপ্রমাণ বাড়ি দেখা যায়। এই বাড়িটির নাম মেটকাফ হল। বর্তমানে মেটকাফ হলে বাংলা এবং বাঙালির সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিল্প, ইতিহাস সংক্রান্ত এক প্রদর্শনী চলছে। এই প্রদর্শনীর নাম 'আমি কলকাতা'। মঙ্গলবার থেকে রবিবার সকাল দশটা থেকে বিকেল পাঁচটা অবধি মেটকাফ হল দর্শকদের জন্য খোলা থাকে। প্রবেশমূল্য কুড়ি টাকা। মেঝেতে আঁকা আলপনা থেকে দেওয়ালে টাঙানো পুরনো কলকাতার ছবি, বিভিন্ন মনীষীদের বিখ্যাত উক্তি, অসাধারণ কিছু সিনেমার এবং বিজ্ঞাপনের পোস্টার থেকে বাংলা এবং বাঙালির জীবনযাত্রা, হাতে টানা রিকশা থেকে দাঁড় টানা নৌকো- সবই মেটকাফ হলের দু'তলার বিভিন্ন ঘরে ফুটে উঠেছে।

কলকাতার পরিচিত ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম ছাড়াও এই তিনটে এবং আরও বহু মিউজিয়াম এবং প্রদর্শনী আমাদের বহু ইতিহাসের চোখের সামনে তুলে ধরে।

লিখেছেন
Raktim Dey
Raktim Dey
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।