অক্ষয় হোক পুজোর রান্নার ঐতিহ্য! যে ষোলোআনা বাঙালি খাবারগুলি অবশ্যই খাবেন...

Durga Puja 2022: যারা নানা রকম খাবারের স্বাদ নেওয়ার জন্য দেশ বিদেশে ঘুরে বেড়ান, তাঁদের অন্তত একবার পুজোর সময় পশ্চিমবঙ্গে, বিশেষত কলকাতায় আসা উচিত।

Sanchari Bhowmik
৩ মিনিট
অক্ষয় হোক পুজোর রান্নার ঐতিহ্য! যে ষোলোআনা বাঙালি খাবারগুলি অবশ্যই খাবেন...

‘খাদ্য রসিক’! বাঙালির নামের পাশে এই তকমাটা যেন অক্ষরে অক্ষরে মিলে যায়। তার উপর সামনেই পুজো আর এবার পুজোতে আনন্দের মাত্র খানিকটা বেশি, কারণ কোভিডের লাল চোখ ভয় আপাতত দেখাচ্ছে না। পাশাপাশি বিশ্বের দরবারে দুর্গাপুজো পেয়েছে হেরিটেজ স্বীকৃতি। তাই বাঙালির কাছে এবারের পুজো বিশেষভাবে বিশেষ। আর পুজো মানেই আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে দিনরাত আড্ডা দেওয়া, হইহুল্লোড়ে মেতে ওঠা, বিকেলবেলায় গানের লড়াই, আর রাত দুপুরে জমিয়ে পেটপুজো। তাই পুজোর আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে যায় নানা রকম খাবারের স্বাদে।

কলকাতা হোক বা মফসসল কিংবা কোনও প্রত্যন্ত গ্রাম, দুর্গাপুজোর আনন্দকে আরও বেশি করে বাড়িয়ে তোলে নানাবিধ খাবার। তাই খাবারের প্রবল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে গেছে বাঙালির জীবনে। অন্যান্য উৎসবের থেকে একেবারেই আলাদা এই পুজো। খাবারের উপর কোনও বাধা- নিষেধ থাকে না। নিরামিষ থেকে আমিষ, মিষ্টি থেকে টকঝাল, সাধারণ থেকে এক্সোটিক, ঘরোয়া থেকে ফিউশন- রান্নার প্রায় হাজারের বেশি পদ থাকে। যারা নানা রকম খাবারের স্বাদ নেওয়ার জন্য দেশ বিদেশে ঘুরে বেড়ান, তাঁদের অন্তত একবার পুজোর সময় পশ্চিমবঙ্গে, বিশেষত কলকাতায় আসা উচিত।

বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় কিংবা বাড়িতেও বানিয়ে খেতে পারেন এই পদগুলি।

১. খিচুড়ি -

অষ্টমীর ভোগ খিচুড়ি ছাড়া অসম্পূর্ণ। বাঙালির যে কোনও পুজোর অনুষ্ঠানে খিচুড়ি ভোগ থাকেই। বানানোও খুব সহজ। পাড়ার কর্তৃপক্ষ যদি এবার পুজোর খাওয়া দাওয়া বাতিল করে তাহলে বাড়িতেই অষ্টমীর দিন নিজে নিজে বানিয়ে ফেলুন।

২. সরষে ইলিশ -

কথায় আছে মাছে ভাতে বাঙালি। খেতে বসলে পাতে একপিস মাছ থাকবে না, এটা হয়ই না। পুজোর ক’টাদিন নিয়ম মেনে চলতে হবে না। পাতলা ঝোলের বদলে সরষে-পোস্ত দিয়ে ইলিশ রাঁধুন। বাজারে এখন পাওয়াও যাচ্ছে ভালো মানের ইলিশ। ফলে পুজোয় একটা দিন ইলিশ খাওয়া থেকে নিজেকে বঞ্চিত করবেন না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
একা 'দাদা-বৌদি'-ই বদলে দিয়েছে সোদপুরের ছবি! নামজাদা রেস্তোরাঁর ঠিকানা এখন মফসসল

Sodepur Restaurants: তিন বছরে কোন কোন রেস্তোরাঁ খুলেছে সোদপুরে

৩. আলু পোস্ত -

ধরুন, পুজোর সময় বাড়িতে কোনও অবাঙালি বন্ধু এসেছেন যিনি নিরামিষ খেতে পছন্দ করেন। তাঁকে সবার আগে যে খাবার রেঁধে খাওয়ানো উচিত সেটা হল আলু পোস্ত। বাসমতি চালের ভাত, সোনা মুগ ডাল সঙ্গে আলু পোস্ত। নিরামিষ খাবারের স্বাদও মুখে লেগে থাকবে‌।

৪. ঘুগনি -

সন্ধের জমজমাটি গানের লড়াই চলার সময় পরিবারের প্রত্যেক সদস্যদের জন্য স্ন্যাকস হিসেবে ঘুগনি পারফেক্ট। এর উপরে কুচিকুচি করে কাটা পেঁয়াজের টুকরো ছড়িয়ে দিতে পারলে তো আর কোন কথাই নেই।

৫. চিংড়ি পোস্ত -

সরষে ইলিশের নাম নেওয়ার পর যদি চিংড়ির নাম না করি তাহলে ঘটিরা আবার খুব রেগে যাবেন। চিংড়ি পোস্ত এমনই এক পদ যা ঘটি বাঙাল সকলেই পছন্দ করবেন। মালাইকারির মত মিষ্টি না। অন্যস্বাদের এই রান্না পুজোর একদিন করতেই পারেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Karim's vs Kareem's: এ বলে আমায় দেখ, ও বলে আমায়! পুজোয় কোথায় কোন বিরিয়ানি সেরা?

Kolkata Biriyani: মুম্বইয়ের করিম ধনানির হাতে তৈরি করিমস রেঁস্তোরার সঙ্গে অনেকেই দিল্লির জামা মসজিদ এলাকার করিমসকে গুলিয়ে ফেললেও দু’টি কিন্তু একবারে আলাদা রেঁস্তোরা।

৬. সন্দেশ -

মিষ্টি ছাড়া পুজো হয়! রসের মিষ্টি ছাড়া যারা একটু শুকনো মিষ্টি খেতে পছন্দ করেন তাদের জন্য এই সন্দেশ। কলকাতার সব মিষ্টির দোকানে সন্দেশের প্রচুর ভ্যারাইটি থাকে, যেকোনও একটা বা দু’টো বেছে নেওয়াই খুব মুশকিল।

৭. লুচি -

পুজোর ক’টাদিন ব্রেকফাস্টে লুচি, আলুর দম থাকবে না এটা কখনও হয়! আটা না, ময়দার তৈরি লুচি নরম হয় বেশি। আলুর তরকারির সঙ্গে বেশি মানানসই। পরপর পাঁচ দিন না হোক, অন্তত দু’ একদিন সকালে তো অবশ্যই খাবেন।

৮. মোচার চপ -

যতই মোচার নাম করুক, চপের মূল উপাদান কিন্ত পাকা কলা আর আলু। বিকেলবেলার আড্ডায় চায়ের সঙ্গে মোচার চপ থাকলে একেবারে জমে যাবে।

৯. মোচার ক্রকেটস্-

সেদ্ধ আলু খোসা ছাড়িয়ে গ্রেট করে নিতে হবে৷ সেদ্ধ আলু, জল ঝরানো সেদ্ধ মোচা, বিটনুন, ভাজা মশলা, আম-আদা বাটা একসঙ্গে ভালো করে মেখে মণ্ড তৈরি করতে হবে৷ ওই মণ্ড ছোট ছোট গুলি করে ভাগ করে প্রতিটি গুলির ভিতর চিজ পুরে চারিদিক থেকে আটকে কর্নফ্লাওয়ারের গোলায় ডুবিয়ে বিস্কুটের গুঁড়ো মাখিয়ে ছাঁকা তেলে ভেজে নিতে হবে। তাহলেই তৈরি হয়ে মজাদার মোচার ক্রকেটস্।

১০. কষা মাংস -

নবমীর দুপুরে কবজি ডুবিয়ে মটন কষা খায় না এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তেল, মশলা, খুব ঝাল দিয়ে তৈরি হয় এই রান্না। এবার পুজোতেও কিন্তু খেতে ভুলবেন না।

১১. রসগোল্লা -

কলকাতার রসগোল্লা সারা পৃথিবী বিখ্যাত। দেশ বিদেশ থেকে কলকাতায় এলে সবার আগে রসগোল্লার স্বাদ নেয় সকলে। পুজোর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাঙালির পাতে মিষ্টি থাকবেই। আর রসগোল্লা ছাড়া বিজয়া তো ভাবাই যায় না।

লিখেছেন
Sanchari Bhowmik
Sanchari Bhowmik
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।