কালো বা নীল নয়! অবাক করবে বাংলার এই তিন অঞ্চলের সাদা কালীর কাহিনি

White Kali Puja 2022: মাঝে মাঝে রাতে হঠাৎ তামাক সেবনের ইচ্ছাও হয় দেবীর। তাই মন্দিরের এক কোণেই প্রস্তুত রাখা থাকে গড়গড়া।

Arunava Nag Roy
৪ মিনিট
কালো বা নীল নয়! অবাক করবে বাংলার এই তিন অঞ্চলের সাদা কালীর কাহিনি

সচরাচর কালী মূর্তি হয় ঘোর কৃষ্ণবর্ণ বা শ্যাম বর্ণের। পুরাণ মতে কালী হলেন মহামায়ার কালিকা শক্তিরূপ। অসুরদের অত্যাচারে যখন মানবকুল অতিষ্ঠ, চারিদিকে ধ্বংসের লীলা খেলা, তখন মহামায়া ভয়ঙ্কর ক্রোধ ধারণ করেন। সেই সময় তাঁর শরীর থেকে তীব্র জ্যোতি বের হতে থাকে। তখনই কালো রূপ ধারণ করেন মহামায়া, তাঁর সেই রূপকেই পুজো করা হয় কালী রূপে। সাধারণত কালীর যে মূর্তি দেখতে পাওয়া যায় সেটি কালো রংয়ের বা গাঢ় নীল রঙের অর্থাৎ শ্যাম বর্ণের হয়। কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশের বর্ণনা মতেও দেবীর গাত্রবর্ণ হওয়া উচিত কালো। এই কারণেই তাঁর এমন নামকরণ। কিন্তু কখনও শুনেছেন সাদা রঙের কালী প্রতিমার পুজোর কথা? আজ এমন তিনটি জায়গার খোঁজ রইল যেখানে পূজিত হন শ্বেত কালী।

কুলটির ফলহারিণী কালী

কুলটির ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের লালবাজার এলাকায় ফলহারিণী কালীর রং শ্বেতশুভ্র বা সাদা। কালী এখানে শ্বেতশুভ্র রূপে পূজিত হন। ২০০৫ সাল থেকে এই পুজো শুরু করেন মধুময় ঘোষ। দেবীর প্রতিষ্ঠাতা এবং পুরোহিত মধুময় ঘোষ জানান, এই রূপে ভবতারিণী প্রথম দর্শন দিয়েছিলেন রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে। রামকৃষ্ণও স্বপ্নাদেশ পেয়ে পুজো শুরু করেছেন। মধুময় জানান, তিনি দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন এবং সেই আদেশ অনুসারেই পুজো করছেন। তিনি জানান, আজ থেকে প্রায় ১৭ বছর আগে কালী তাঁকে স্বপ্নাদেশ দিয়েছিলেন নিত্য পুজো করার জন্য। আর এই শ্বেতশুভ্র রূপের কথা আগে থেকেই নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন কালী। এই নির্দেশ পাওয়ার পর মধুময় চলে যান বাঁকুড়ায়। সেখানে শুশুনিয়া পাহাড় থেকে এই পাথরের মূর্তি নিয়ে আসেন। তারপর থেকে নিয়মিত পুজো হয়ে চলেছে কুলটির ফলহারিণী কালীর।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দশ মাথা, দশ পা! বিপ্লবীদের হাতে পূজিত হতেন মালদহের মহাকালী

Kalipuja 2022: প্রথম প্রতিমা তৈরি করেছিলেন রামকেষ্ট দাস এবং প্রথম পুরোহিত ছিলেন শরৎ পণ্ডিত। বংশ পরম্পরায় তাঁদেরই পরিবার এখনও প্রতিমা তৈরি এবং পুজো করে আসছেন

মধুময় নিত্য পুজো করেন। তবে তাঁর পাশাপাশি গ্রামের মানুষও কালিকার সাধনায় মেতে ওঠেন। প্রত্যেক অমাবস্যায় জাঁকজমক সহকারে হয় পুজো। মধুময় জানান, আগে দেবীর মন্দির ছিল না। কিন্তু স্থানীয় মানুষদের সাহায্যে তিনি মন্দির তৈরি করতে পেরেছেন। প্রতি বছর কালীপুজোয় ধুমধাম করে পুজো হয় এখানে। স্থানীয় মানুষজনও সেই পুজোয় অংশগ্রহণ করেন। প্রতিষ্ঠাতার বাড়ির পাশেই এক চিলতে মন্দিরে পুজো হয়। এবছরও কুলটির ফলহারিণী কালী মন্দির দীপান্বিতা অমাবস্যা উপলক্ষ্যে সেজে উঠছে মহাসমারোহে। গোটা লালবাজার-সহ স্থানীয় এলাকার মানুষজন এখানে পুজো দিতে আসেন। তবে কালীপুজো ছাড়াও প্রত্যেক অমাবস্যায় বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয় এখানে। এছাড়াও বার্ষিক পুজোতেও মহা ধুমধাম করে পুজো হয় ফলহারিণী কালীর।

অজয়পুরের দেবী শ্বেতকালী

বীরভূমের সদর শহর হল সিউড়ি। এই সিউড়ির থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি গ্রাম হল অজয়পুর। গ্রামের পাশ দিয়েই বয়ে গিয়েছে ময়ূরাক্ষী নদী। ১৯৭৮ সালে হয়েছিল এক মারাত্মক প্লাবন। সেই প্লাবনে অজয়পুরের পার্শ্ববর্তী গোটা একটি গ্রাম ভেসে যায়। গ্রামটির নাম ছিল ব্রজরপুর। ভিটেমাটিহীন মানুষরা ব্রজরপুর ছেড়ে আশ্রয় নেন অজয়পুরে। সেই সময় গৃহহীনদের দলের সঙ্গে অজয়পুরে আসেন জ্বালাতন সাধু নামে এক সাধু। শোনা যায় তিনিই নাকি এই পুজোর সূচনা করেন। গাত্রবর্ণ ছাড়াও এই শ্বেত কালীর পুজোর তিথিও আলাদা। কার্তিক মাসের অমাবস্যা নয়, অগ্রহায়ণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই কালীপুজো হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলাদেশের কালীমূর্তি চুরি হয়ে রাজস্থানের দুর্গে! যেভাবে পুজো হয় যশোরেশ্বরী কালীর

Jeshoreshwari Kali Temple Bangladesh: মূর্তির অবয়ব পুরোটাই আবৃত মখমলে। মাথার ওপর টকটকে লাল রঙের চাঁদোয়া ও সোনার মুকুট। কণ্ঠে রক্তজবার মালা ও নানা অলংকার। লোলজিহ্বা দেবীর ভীষণা মূর্তি।

কিন্তু প্রশ্ন ওঠে, কেন এমন সিদ্ধান্ত? এর পিছনে জ্বালাতন সাধুর যুক্তি ছিল একদম সাফ। তাঁর মতে, অমাবস্যার রাতে অন্ধকারের মধ্যে প্রদীপ জ্বালিয়ে পুজো করা বেশ কষ্টসাধ্য। অন্ধকারে সঠিক নিয়ম রীতি মাফিক পুজো করাও কঠিন। সুতরাং পুজো করার শ্রেষ্ঠ সময় হল পূর্ণিমা। তাই জ্বালাতন সাধু পূর্ণিমা তিথিতে এই পুজোর প্রচলন করেন। এই সন্ন্যাসী সঙ্গে কোনও শিষ্য বা আত্মীয়কে আনেননি। ফলত শেষ জীবনে ঠিক করেন অজয়পুর গ্রামের কোনও একনিষ্ঠ ভক্তকেই পুজোর দায়িত্ব দিয়ে যাবেন। মৃত্যুর আগে সাধু এই পুজোর ভার দিয়ে যান অজয়পুরের হৃষিকেশ মাহারাকে। তার পর থেকে তাঁরই বংশধর এই পুজো করে আসছেন। বর্তমানে মহেশ্বর মাহারা এই পুজো করেন। নির্দিষ্ট তিথিতে পুজোর সময় এই গ্রামে ভিড় হয় উপচে পড়ার মতো। কালীপুজোর দিনেও মহাসমারোহে পুজো হয়। প্রতি অগ্রহায়ণ মাসের পূর্ণিমায় নব কলেবরে সেজে ওঠে এই গ্রাম।

রাজবলহাটের দেবী রাজবল্লভী

হুগলি জেলার অন্তর্গত রাজবলহাটের অন্যতম দর্শনীয় স্থান হল দেবী রাজবল্লভীর মন্দির। ঐতিহাসিকদের মতে, এই রাজবল্লভী মন্দিরটি প্রায় আটশো বছর পুরনো। অবশ্য এই মন্দিরটি কবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। অনেকে বলেন, ১২৪২ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন রাজপুর এবং বর্তমানের রাজবলহাটের রাজা সদানন্দ রায় এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আবার অপর পক্ষের মতে, ষোড়শ শতকে ভুড়িশ্রেষ্ঠর রাজা রুদ্রনারায়ণ রায় এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই মন্দিরের দেবী রাজবল্লভী দেবী নামে পরিচিত। স্থানীয় পুরোহিতের মতে এটি আসলে দুর্গা, সরস্বতী এবং কালীর এক মিশ্ররূপ। তবে জনগণের মধ্যে দেবী রাজবল্লভী দেবী শ্বেতকালী নামেই বেশি পরিচিত।

মন্দিরের প্রবেশপথ পেরোলেই চোখে পড়বে এক বিরাট নাটমন্দির। এই নাটমন্দিরকে ঘিরে রয়েছে চারটি শিবমন্দির। নাটমন্দির পেরিয়ে গর্ভগৃহে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে শ্বেতকালীর মূর্তিটি। প্রায় ৬ ফুট উচ্চতার দেবী মূর্তির পরণে রয়েছে স্থানীয় তাঁতিদের বোনা শাড়ি। ঢুকলেই দেখা যায় দেবীর এক হাতে রয়েছে ছুরি, আরেক হাতে রয়েছে পাত্র। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো এখানে কালীর পায়ের নিচে একটি নয় বরং দু’টি শিব মূর্তি রাখা রয়েছে। কালীর ডান পা রয়েছে কালভৈরবের বুকের উপরে। আর বাম পা রাখা আছে বিরূপাক্ষ শিবের মাথার উপরে। কথিত আছে, এই মন্দিরে পঞ্চমুণ্ডির আসনের ওপর বসেই তন্ত্র সাধনা করতেন রাজবলহাটের রাজা সদানন্দ রায়। রাজবল্লভী দেবীর স্বভাবও কিন্তু রাজকীয়। শোনা যায়, তিনি প্রতি রাত্রে কাঠের পালঙ্কে নিদ্রা যান। মাঝে মাঝে রাতে হঠাৎ তামাক সেবনের ইচ্ছাও হয় দেবীর। তাই মন্দিরের এক কোণেই প্রস্তুত রাখা থাকে গড়গড়া। তবে ভোগের ক্ষেত্রে কালী সিদ্ধ ভোগই বেশি পছন্দ করেন। সারা বছর ভিড় থাকলেও, প্রতি বছর কালীপুজোর সময় ভিড় হয় লাগাম ছাড়া। দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন দেবী রাজবল্লভীর দর্শন করতে।

লিখেছেন
Arunava Nag Roy
Arunava Nag Roy
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।