চন্দ্রযানের সাফল্য দেশ শুনেছে তাঁর গলাতেই, থামল ইসরোর নেপথ্য-কন্ঠ
Chandrayaan-3: চাঁদের মাটিতে এখনও প্রদক্ষিণ করছে চন্দ্রযান ৩-এর রোভার প্রজ্ঞান। খুটিনাটি খবর পৌঁছে দিচ্ছে ইসরোর কাছে। কিন্তু ভালারমতি রইলেন না ইসরোয় তা দেখার জন্য।

চাঁদের বুকে সফল ভাবে অবতরণ করার ঠিক আগে যখন প্রতিটা ভারতবাসীর বক্ষ দুরুদুরু, সেই প্রতীক্ষার প্রহরে কানে ভেসে উঠেছিল একটা গলা। তিন, দুই, এক... অবশেষে চাঁদের মাটিতে সফল ভাবে পাড়ি জমালো ভারত। সেই কাউন্টডাউন, প্রত্যাশার সেই গলা আর শুনতে পাবে না ভারত। থামল পথচলা। প্রয়াত হলেন ইসরোর ঘোষিকা এন ভালারমতি, যার গলা ছুঁয়েই চন্দ্রযানকে স্পষ্ট চাঁদের মাটিতে নামতে দেখেছিল ভারতবাসী।
না, শুধু ঘোষিকা নন। তিনি ইসরোর বিজ্ঞানীও বটে। গত ২৩ অগস্ট, চন্দ্রযান ৩-র চাঁদজয়ের সমস্ত খুঁটিনাটি একনাগাড়ে বলে গিয়েছেন ভালারমতি। শুনিয়েছেন গোটা বিশ্বকে। তবে সূর্যজয়ের ধারাবিবরণী শোনানোর সুযোগ পেলেন না তিনি আর। চেন্নাইয়ে শনিবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ভালারমতি। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া ইসরোতে। শোক নেমেছে বিজ্ঞানী মহলেও।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Sulphur on Moon: রোভার প্রজ্ঞানের প্রাথমিক উদ্দেশ্যগুলির মধ্যে একটি হচ্ছে, চাঁদের ধুলো এবং নুড়ির রাসায়নিক গঠন বোঝা।
ভালারমতির মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন করেছেন ইসরোর প্রাক্তন ডিরেক্টর পিভি বেঙ্কটাকৃষ্ণণ থেকে শুরু করে অনেক কর্তাব্যক্তিই। শোক জানিয়েছেন, ইসরোর অধিকর্তা এস সোমনাথও।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Chandrayaan-3 landing: চাঁদের মাটি ছুঁল ভারত, অথচ নিজেদের একটা দাগ রেখে যাবে না, তা আবার হয় নাকি। তাই চাঁদের মাটিতে সে এঁকে আসবে ভারতের একটি জাতীয় পতাকা ও ইসরোর লোগো।
ভালারমতির জন্ম ১৯৫৯ সালের ৩১ জুলাই, তামিলনাড়ুক আরিয়ালুর এক গ্রামে। পড়াশোনা শেষ করে ইসরোয় যোগ দেন ১৯৮৪ সালে। ২০১২ সালে ভারতের তৈরি প্রথম রেডার স্যাটেলাইট (রিসাট ওয়ান) সফল ভাবে উপগ্রহে স্থাপন করা হয়েছিল। যেটি ছিল দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি ভারতের প্রথম স্যাটেলাইট। আর সেই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন ভালারমতি। ক্রমশ তার কাঁধে এসে পড়ে অভিযানের ধারাভাষ্য দেওয়ার কাজ। শুধু চন্দ্রযান-৩ নয়। এর আগেও একাধিক মহাকাশ অভিযানের খুঁটিনাটি খবর জনগণের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন ভালারমতি ইসরোর হয়ে। বিজ্ঞান গবেষণায় তার অবদানের জন্য পেয়েছিলেন আব্দুল কালাম পুরস্কার। নিজের রাজ্য তাঁকে ওই সম্মানে ভূষিত করেছিল।
চাঁদের মাটিতে এখনও প্রদক্ষিণ করছে চন্দ্রযান ৩-এর রোভার প্রজ্ঞান। খুটিনাটি খবর পৌঁছে দিচ্ছে ইসরোর কাছে। কিন্তু ভালারমতি রইলেন না ইসরোয় তা দেখার জন্য। বরং তিনিই পৌঁছে গেলেন সেই চাঁদের কাছাকাছি। রয়ে গেল তাঁর সেই কণ্ঠ। 'লাস্ট স্টেজ কমপ্লিটেড'- এমন শব্দবন্ধ ভালারমতির গলায়, আজও যেন কানে ভাসছে ভারতবাসীর।







