১৯০ কোটি বছর ধরে মহাকাশের পথ পেরিয়ে পৃথিবীতে কোন বার্তা এসে পৌঁছল?

NASA GRB Signal: ১৯০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে স্যাগিত্তা নক্ষত্রপুঞ্জ থেকে এই সিগন্যালের উৎপত্তি হয়েছে।

Satyaki Tat
৩ মিনিট
১৯০ কোটি বছর ধরে মহাকাশের পথ পেরিয়ে পৃথিবীতে কোন বার্তা এসে পৌঁছল?

১৯০ কোটি বছর ধরে মহাকাশের পথ অতিক্রম করেছে সে। এই এতটা পথ অতিক্রম করে ধরা দিয়েছে মানুষের কাছে। দীর্ঘ সেই পথ, যার সূত্রপাত এক ভয়াবহ হিংসাত্মক ঘটনার মাধ্যমে। সেই তীব্র হিংসাত্মক, ধংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে এতটাই আগে, যে তখন পৃথিবীর বুকে সবক'টি মহাদেশ একসঙ্গে ছিল। পৃথিবীর সমস্ত স্থলভাগ ছিল একজোট হয়ে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তখন সদ্য অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেনের আধিক্য বৃদ্ধি পাওয়া শুরু হয়েছে। সায়ানোব্যাকটেরিয়া কিছু কোটি বছর আগে থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আনতে শুরু করেছে অক্সিজেন। পৃথিবীতে প্রাণের সঞ্চার ঘটে গেছে, এবং মনে করা হয়, ততদিনে প্রথমবারের মতো প্রাণের বিলুপ্তিও ঘটে গেছে।

কিন্তু কী এসে পৌঁছল? ভিনগ্রহীদের কোনও বার্তা? কোনও সিগন্যাল?

না। এখনও পৃথিবীর মতো কোনও সমান্তরাল সভ্যতার খোঁজ পাওয়া যায়নি। সেইরকম কোনও বার্তাও এসে ধরা পড়েনি আমাদের কাছে, এখনও। তবে? নাসা জানাচ্ছে, ৯ অক্টোবর তাদের কাছে ধরা পড়েছে এক দীর্ঘ তরঙ্গ, খুবই শক্তিশালী এবং অস্বাভাবিক রকমের উজ্জ্বল। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই দীর্ঘ, শক্তিশালী তরঙ্গের উৎস এক ভয়ংকর গামা রশ্মি বিস্ফোরণ। যাকে বলা হয়, এই ব্রহ্মাণ্ডের সবথেকে শক্তিশালী বিস্ফোরণগুলির একটা। আজ থেকে বেশ কয়েক কোটি বছর আগে এরকমই এক গামা রশ্মি বিস্ফোরণ ধেয়ে এসেছিল পৃথিবীর দিকে, তবে মাত্র ৬,০০০ আলোকবর্ষ দূর থেকে। ৬,০০০ আলোকবর্ষকে সাধারণত বড় দূরত্ব বলেই বর্ননা করা যায়, কিন্তু এই ধরনের বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী যে ৬,০০০ আলোকবর্ষ দূরত্বেও তার ধ্বংসাত্বক ক্ষমতা মারাত্মক থাকে। মনে করা হয়, অরদোভিশিয়ান বিলুপ্তির ঘটনা, বা পৃথিবীর ইতিহাসের শুরুর দিকের প্রাণ বিলুপ্তির ঘটনা, সেই ৬,০০০ আলোকবর্ষ দূর থেকে আসা গামা রশ্মি বিস্ফোরণের কারণে ঘটেছিল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মহাকাশ থেকে ধেয়ে আসা বিপদ এড়াল নাসা-র অস্ত্র! যেভাবে বিলুপ্তি থেকে বাঁচল মানুষ

DART mission of NASA: নাসা মানবজাতির হতে তুলে দিয়েছে এমন এক অস্ত্র, যা ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে ডাইনোসরদের হাতে ছিল না।

নাসা জানাচ্ছে, ৯ অক্টোবর তাদের বিভিন্ন মানমন্দির, টেলিস্কোপে এক্স রে এবং গামা রে-র আগমন ধরা পড়ে। ওইদিন মার্কিন সময়ে সকাল নাগাদ তা আমাদের সৌরজগৎ অতিক্রম করে। নাসার ফের্মি গামা-রে স্পেস টেলিস্কোপ, নিল গেহরেলস্ সুইফট অবজার্ভোটরি, উইন্ড স্পেসক্রাফ্ট, এবং সেই সঙ্গে পৃথিবীর তাবড় তাবড় টেলিস্কোপ এবং মানমন্দিরের যন্ত্রে এই বিস্ফোরণ ধরা পড়ে। চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় বিজ্ঞানীদের মধ্যে।

তাঁরা জানাচ্ছেন, ১৯০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে স্যাগিত্তা নক্ষত্রপুঞ্জ থেকে এই সিগন্যালের উৎপত্তি হয়েছে। প্রাথমিক গবেষণার পর বিজ্ঞানীদের ধারণা, একটি বিশালাকার নক্ষত্র নিজের মাধ্যাকর্ষণের জেরে পতনের ফলে কৃষ্ণগহ্বর বা Black Hole-এ পরিণত হওয়ার ফলে এই তীব্র শক্তিশালী গামা রশ্মির বিস্ফোরণ ঘটেছে। তা এতটাই শক্তিশালী যে, ১৯০ কোটি বছর যাত্রার পরেও তা ভীষণভাবে উজ্জ্বল, এবং প্রায় দশ ঘণ্টা ধরে এই বিস্ফোরণ নাসার বিভিন্ন যন্ত্রে ধরা পড়েছে। সেই সঙ্গে নাসা জানাচ্ছে, এই বিস্ফোরণ তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কাছে ঘটেছে। অতীতে তাদের যন্ত্রে যে ধরনের বিস্ফোরণ ধরা পড়েছে, তার তুলনায় ১৯০ কোটি আলোকবর্ষর দূরত্বকেও তারা কাছাকাছি বলেই দাবি করছেন। সেই সঙ্গে এত উজ্জ্বল এবং শক্তিশালী গামা রশ্মি সুদূর অতীতে তাদের কোনও যন্ত্রে ধরা পড়েনি। সেই কারণে তারা আরও বেশি উত্তেজিত।

এই আবিষ্কার বিজ্ঞানী-মহলকে তীব্রভাবে উৎসাহিত করেছে। এই রশ্মির ওপর গবেষণা করে তারা আরও বিশদে বোঝার চেষ্টা করবেন, কোন পরিস্থিতিতে কৃষ্ণগহ্বরের সৃষ্টি হয়। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা প্রয়োজন, একটি কৃষ্ণগহ্বর সৃষ্টি হওয়ার প্রাথমিক শর্তই হলো, নক্ষত্রের আয়তন বিশাল হতে হবে। আমাদের সৌরজগতের কেন্দ্রে থাকা নক্ষত্রের থেকে তা অনেকাংশেই বৃহৎ হতে হবে। তবেই একটা সময়ের পর নিজের মাধ্যাকর্ষণের জেরে তার পতন হবে এবং সে পরিণত হবে এমন একটি বস্তুতে, যার থেকে আলোরও রেহাই নেই।

নাসা এই ঘটনাকে বলছে GRB 221009A; নাসা-র ফের্মি সিমপোজিয়াম, যা শুরু হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে, তার সূত্রপাত হলো এই ঘটনার মধ্য দিয়েই। মেরিল্যান্ডে নাসা-র গোদার স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে অবস্থিত ফের্মি প্রোজেক্টের ডেপুটি অ্যাসিস্ট‍্যান্ট জুডি রাকুসিন যেমন মজা করে বলছেন, "আমাদের এই মিটিং শুরু হলো একেবারে একটা বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে! যে সে কথা নয়!"

এই ধরনের উজ্জ্বল গামা রে আরও কয়েক দশকে ধরা পড়বে না, এমনটাই মনে করছে নাসা। ইতালি-র ব‍্যারির একজন গবেষক, যিনি ফের্মি-র প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই বিস্ফোরণের প্রাথমিক সংকেতগুলো টের পেয়েছেন, তিনি বলছেন, "অন‍্যান‍্য গামা রে বিস্ফোরণের তুলনায় এটির দূরত্ব কম হওয়ার দরুন আমাদের এই বিস্ফোরণের খুঁটিনাটি চিনতে সুবিধে হচ্ছে। এই বিস্ফোরণের ঔজ্জ্বল্য বেশি, তীব্রতাও বেশি।"

প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে এই বিস্ফোরণের সংকেতের সাক্ষী থাকল ফের্মি-র 'লার্জ এরিয়া টেলিস্কোপ' (LAT)। ইন্টারন‍্যাশনাল স্পেস স্টেশনে চলতে থাকা আরও একটি নিরীক্ষাকে সাহায্য করল এই সংকেত, তা হলো নাসা-র নাইসার এক্স রে টেলিস্কোপ এবং জাপানের মনিটর অফ অল স্কাই এক্স রে- এই দুইয়ের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন।

লিখেছেন
Satyaki Tat
Satyaki Tat
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?

৩ অগাস্ট থেকে বদলে যাচ্ছে শেয়ার বাজারের নিয়ম!

Stock Market India: নতুন ব্যবস্থার অধীনে শেয়ার বাজার বন্ধের সময়কে তিনটি আলাদা অংশে ভাগ করা হয়েছে। তবে নন-এফএন্ডও (Non-F&O) স্টকগুলির ক্ষেত্রে আগের মতোই বিকেল ৩:৩০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিন্তু এফএন্ডও স্টকগুলির ক্যাশ মার্কেটে প্রতিদিন একটানা লেনদেন চলবে বিকেল ৩:১৫ মিনিট পর্যন্ত।

আইআইটি-র দুই প্রাক্তনীর বৈদ্যুতিক কৃষিযন্ত্রে একরপ্রতি খরচ মাত্র ৪০ টাকা

Electric Power Tiller: বাজারে যেসব ট্র্যাক্টর পাওয়া যায়, তা হয় বিশাল বড় জমির উপযোগী, না হয় কেনা ও চালানো দুটোই খুব ব্যয়বহুল। ভারতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কৃষকের জমিই ছোট ও খণ্ড-বিখণ্ড, যেখানে বড় যন্ত্র ঢোকানোই সম্ভব নয়। আবার চিন থেকে আমদানি করা ছোট ছোট সস্তা মেশিনগুলিতে যন্ত্রাংশ ও সার্ভিসিংয়ের চূড়ান্ত সমস্যা তৈরি হয়। তাই বিদেশ থেকে আমদানির কথা না ভেবে, আইআইটি বোম্বের দুই প্রাক্তনী ঐশ্বর্য রামকৃষ্ণন ও কেদার গোখলে সিদ্ধান্ত নেন খাঁটি দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতের মাটির উপযোগী সমাধান তৈরি করার।

মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও উষ্ণ থাকে সোনাম ওয়াংচুকের বাড়ি

Sonam Wangchuk House: সোনম ওয়াংচুক মানেই পাহাড়ঘেরা লাদাখের ছবি, বরফে ঢাকা জীবন আর নতুন এক ভাবনার আলো। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং উদ্ভাবক। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যেন রূপকথার সেই মানুষটি, যিনি পাহাড়ের রুক্ষ জীবনের কঠিন সমস্যাগুলিকে বিজ্ঞানের সহজ ছোঁয়ায় অত্যন্ত সহজ করে তুলেছেন।

মহাকাশে মিলল চিনির সন্ধান, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?

natural sugar in space: ছায়াপথের কেন্দ্রের একটি আণবিক মেঘে প্রথমবারের মতো প্রকৃত মনোস্যাকারাইড ‘এরিথ্রুলোজ’-এর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার জানাচ্ছে, নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির আগেই মহাকাশে জটিল জৈব অণু তৈরি হতে পারে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে।

কর্মদক্ষতা মাপল এআই, চাকরি হারালেন কর্মীরা? মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

Meta mass layoffs: কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেবে? মেটার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ, এআই-নির্ভর মূল্যায়নের কারণে মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীরা অন্যায্যভাবে চাকরি হারিয়েছেন।