গালাগাল খেলেই বলে, "ডার্ক জোক লিখেছি, সমাজ আমায় বুঝল না!"

Dark Comedy: আমাদের এখানে এই ধরনের কোনও কমিক নেই। যারা ছিল, তারা এখন কেসের ঠেলা সামলাচ্ছে। বেশ হচ্ছে।

Soumit Deb
৫ মিনিট
গালাগাল খেলেই বলে, "ডার্ক জোক লিখেছি, সমাজ আমায় বুঝল না!"

পৃথিবী নামক ডিলুলুতে যে ক'টি স্ট্যান্ড আপ কমিক নামক কার্বন-বেসড অর্গানিজম হেঁটেচলে বেড়াচ্ছে, তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম নামখানা বোধহয় ডেভ শ্যাপেল। যাঁরা এই নামটা প্রথমবারের জন্যে শুনলেন তাঁদের জন্য বলি, ডেভ শ্যাপেল হলেন কমেডির শচিন তেন্ডুলকার। একমেবাদ্বিতীয়ম। ক্লিয়ার? বেশ! শুরু করি।

ডেভবাবু সর্বকালের শ্রেষ্ঠতম কমিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেশ বিতর্কিত একজন মানুষও বটে। তিনি ‘ট্রান্স’ কমিউনিটির মানুষদের নিয়ে প্রচুর 'জোক' বলেন। ফলে তারা রেগে যান। সোশ্যাল মিডিয়ায় রাগ দেখান। ক্ষমা চাইতে বলেন। আর ডেভ এই সমস্তটায় পাত্তা না দিয়ে আবারও সেই একই কাজ করেন। জোক বলেন। যেমন বলেছেন তাঁর এক বন্ধুর কথা, ড্যাফনি। ড্যাফনি একজন ট্রান্স মহিলা। মানে এমন একজন মহিলা যিনি ভাগ্যের বিড়ম্বনায় পুরুষের শরীরে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং তারপর সেই বিড়ম্বনাকে অস্বীকার করে, নানা বাধা বিপত্তি, সমাজের কটুক্তি, ডেভের মতো কমেডিয়ানদের জোক উপেক্ষা করে, গর্বিত ভাবে নারীত্বের উদযাপন করেছেন। ড্যাফনি নিজেও একজন স্ট্যান্ড আপ কমিক। ডেভ শ্যাপেলের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয় একটি শো-তে। সেখান থেকে আলাপ গড়ায় বন্ধুত্বে। সেই বন্ধুকে ডেভ তাঁর নিজের শো-তেও পারফর্ম করার সুযোগ করে দেন। বন্ধুর পর মঞ্চে ওঠেন। ড্যাফনি তখন সামনের সারির চেয়ারে। দুই বন্ধু, একে অপরের সঙ্গে কথোপকথন শুরু করে আর শো-টা একটা স্ট্যান্ড আপ কমেডি শো-এর থেকেও অনেক বেশি কিছু হয়ে ওঠে।

ডেভ শ্যাপেল

ডেভ ট্রান্স কমিউনিটি নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকেন কারণ তিনি বুঝতে চাইছিলেন তাঁর বন্ধুকে, তাঁর বন্ধুর মতো মানুষদের। ড্যাফনি সেই সব প্রশ্নের এমন সমস্ত উত্তর দেন যাতে গোটা হল হাততালি, বাহবা আর হাসিতে ফেটে পড়ে। শুধু ড্যাফনি হাসেন না। তিনি একটা সময় পর চিৎকার করে যা বলেন, সেটার বাংলা করলে দাঁড়ায়, "তোমায় তো কেউ আমায় বোঝার দায়িত্ব দেয়নি, আমি একজন মানুষ যে নতুন অজ্ঞিতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, আমায় একটু বিশ্বাস করো ব্যাস।" হিউম্যান এক্সপেরিয়েন্স বলেছিলেন ড্যাফনি। এরপর থেকেই দুই বন্ধুর বন্ধুত্ব আরও গাঢ় হয়। কিন্তু ওই যে, আগেই বললাম বিতর্ক। আবারও ট্রান্স কমিউনিটির রোষের মুখে পড়েন ডেভ। শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়া ট্রায়াল। ডেভের আবারও কিছু যায়-আসে না কিন্তু ড্যাফনির যায়-আসে। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বন্ধুর সমর্থনে একটা পোস্ট দেন। ব্যাস, যাবি কোথায়! শুরু হয় ড্যাফনিকে ম্যালাইন করা। তা এমন পর্যায়ে যায় যে ডেভ শ্যাপেলের বন্ধু, একজন ট্রান্স মহিলা ড্যাফনি ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেন। ডেভ যখন এই কথাটি বলেন তখন গোটা হল স্তব্ধ হয়ে যায়। কারণ ডেভ বলেছিলেন, "আমার বন্ধু ছাদ থেকে লাফিয়ে নিজেকে মেরে ফেলেছে"। ব্যাক্তিগত। ভীষণ ভীষণ ব্যক্তিগত। কিন্তু ঠিক তারপরেই ডেভ বলেন,

"আমার বন্ধু সারাজীবন নিজেকে মহিলা হিসেবে চিনেছে কিন্তু ছাদে উঠে লাফানোর জন্যে যে খারাপ দুঃসাহস দরকার সেটা শুধুমাত্র একটা ছেলেরই থাকে।"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আজ 'অজাচার', কাল মেয়েদের কটূক্তি! রণবীরদের সব 'ডার্ক কমেডি' আমাদের নজরে আসে?

Ranveer Allahbadia India Got Latent: সময় রায়নাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে মহিলা, ট্রান্সজেন্ডার, মুসলিম এবং যৌন নির্যাতনের শিকার মানুষদের নিয়ে মজা করা নেহাতই 'জোকস'! এ তো করাই যায়!

এইটা একটা ডার্ক জোক। এইটা।

মৃত বন্ধুকে নিয়ে অমন একটা জোক লেখা তখনই সম্ভব, যখন একজন শিল্পী নিজ শিল্পের জন্যে তাঁর গোটা জীবনটা, অন্তরটা নিংড়ে ফেলেছেন। না হলে এই দখল থাকার কথা নয়। কারণ তারপরই ডেভ শ্যাপেল বলবেন যে, ড্যাফনির একটি কন্যাসন্তান আছে। ডেভ তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেই মেয়েটির জন্য অর্থ সংগ্রহ করছেন যেটা মেয়েটি সাবালিকা হওয়ার পর ডেভ নিজে তাঁর হাতে তুলে দেবেন। আর নিজের বন্ধুর মেয়েটিকে একটি কথা বলবেন যেটা বলবার জন্য বর্তমানে তিনি প্রস্তত নন। কথাটা হলো, “আমি তোমার বাবাকে চিনতাম, তিনি একজন দারুণ মহিলা ছিলেন।”

এইটাও একটা ডার্ক জোক। এইটাও।

কে বলছেন? ডেভ শ্যাপেল বলছেন। কে ডেভ শ্যাপেল? সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ কমেডিয়ানদের একজন। কার ব্যাপারে বলছেন? নিজের বন্ধুর ব্যাপারে। এই ডেভই বলেছেন যে, ওঁর ট্রান্স মানুষদের ঈর্ষা হয় যে কী চমৎকারভাবে ওরা নিজেদের মুভমেন্টকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে! কী অর্গানাইজড! কী ঐক্য ওদের মধ্যে! ডেভ শ্যাপেল কৃষ্ণাঙ্গ। বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে চলা মুভমেন্ট নিয়ে বলতে গিয়ে বলেছেন ওই কথা।

সেটাও কারও অফেন্সিভ লাগতে পারে। আজকের পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে কোনও কিছুই আর অসম্ভব না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মফসস্‌লের উস্কোখুস্কো চরিত্ররা, বানি হতে চেয়ে, নয়না হয়ে গেল যারা...

Yeh Jawaani Hai Deewani: আমরা কি আসলে সবাই ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি দেখে বানি হতে চেয়েছিলাম, আর অনেকগুলো বসন্ত পার করে আজ মেনে নিয়েছি আসলে বানি হওয়া যায় না?

শ্যাপেলের মতোই রিকি জার্ভিস, সারা সিলভারম্যান, নর্ম ম্যাকডোনাল্ড, বিল বার এমন আরও অনেকের নাম করা যায় যাঁরা ব্যাকল্যাশকে পাত্তাই দেন না। অ্যান্থনি জেসলনিক বা জিম কারের মতো কমেডিয়ানদের শো-তে মানুষ যায়ই অফেন্সিভ জোক শুনবে বলে। কারণ কমেডির বিভিন্ন শাখার মধ্যে ডার্ক বা মরবিড কমেডিও একটা শাখা। যে শাখার জোক লেখা সবচেয়ে কঠিন। কারণ স্ট্যান্ড আপ কমেডি এই গোটা মহাবিশ্বে একমাত্র এমন এক আর্টফর্ম যেটা একা একা প্র্যাকটিস পর্যন্ত করা যায় না। দর্শক দরকার হয়। আপনি প্রথমে মাথা খাটিয়ে এক ঘণ্টার জোক লিখবেন। তারপর সেটা অনেকগুলো ওপেন মাইকে করার পর দু’মিনিটের হয়ে যাবে। কারণ ওই শুধুমাত্র ওই দু’মিনিটেই মানুষ হাসছে। তারপর আবার লেখা। আবার ওপেন মাইক। চার মিনিট। এইভাবে অনেকটা সময় পর আপনার হাতে একটা একঘণ্টার ‘সেট’ থাকবে যেটা নিয়ে আপনি কনফিডেন্ট। তারপর আপনি এক-দেড় বছর ধরে সেই একই জিনিস পারফর্ম করবেন। করতে করতে আপনার রিফ্লেক্স বাড়বে, একটা কথার চারটে উত্তর মাথায় ঘুরবে। প্র্যাকটিস, প্র্যাকটিস, প্র্যাকটিস। ডার্ক হোক বা ক্লিন, জোক লেখার এছাড়া আর কোনও উপায় নেই।

যে ‘ডার্ক জোক’ নিয়ে বর্তমানে সকলে হাঁইহাঁই করছে সেটা না ডার্ক, না জোক। সর্বোপরি সেটাও আবার চুরি করা। ওই জোক নিয়ে আলোচনা করার কোনও মানে নেই।

একজন কমিক যখন কোনও জোক দর্শকদের সামনে বলছেন, তখন তিনি দু'ভাবে ভাবতে পারেন। এক, আমার যা প্রাণ চায় আমি তাই বলব, তাতে কেউ রেগে গেলে যাবে। তখন তাঁকে প্রস্তুত থাকতে হবে সেই রাগটার জন্য। কারণ সেই কমিকের যেমন সেই জোক জনসমক্ষে বলার অধিকার আছে, তেমনই শ্রোতারও রেগে যাওয়ার অধিকার আছে। একশোবার আছে। দুই, যে পরিসরে দাঁড়িয়ে কমিক সেই জোকটা বলছেন সেই পরিসরকে ভালো করে চিনতে হবে। সেখানকার দর্শকদের, শ্রোতাদের বাস্তবতা জানতে হবে। তাদের মনন ধরার চেষ্টা করতে হবে। ব্যাস সেফ গেম!

কিন্তু দুটো একসঙ্গে হয় না। কারণ এমন কোনও জোক আজ পর্যন্ত লেখা হয়নি যেটায় কেউ অফেন্ডেড হবে না!

ড্যাফনি

যে জোকে আমি হাসব, সেই জোক আপনার অফেন্সিভ মনে হতেই পারে। আবার যে জোকে আপনি হাসবেন সেই জোক শুনে আমার বিরক্ত লাগতেই পারে। কিন্তু হাসিটা ইম্পর্টেন্ট। হাসছেন মানে ওটা জোক। সে ওই জোক আর কারও ভালো লাগুক, ছাই না লাগুক। তাই সমস্যাটা জোকে নয়। সমস্যাটা কমিকের না। দর্শকদেরও সমস্যা না। সমস্যাটা মব মেন্টালিটির। একজন মানুষকে কোনও কারণে পাঁচজন লোক গালাগাল করছে। মানুষটার সঙ্গে একজন আছে। দুই বনাম পাঁচ। আমি তাহলে গালাগাল পক্ষে যাই। ছয় বনাম দুই। ব্যাস। হয়তো বিষয়টার সঙ্গে আমার কোনও যোগাযোগ নেই কিন্তু তাও আমি গালাগাল করব! কারণ আমি চাই আমার একটা দল, একটা লেবেল, একটা মব যারা আমায় সাপোর্ট করবে। এমনও তো হতে পারে যে সর্বশ্রেষ্ঠ গালাগালটা দিলে আমি বিখ্যাতও হয়ে যাব। লোকে বলবে ‘বাহ কী দিলি ভাই’। আজ ডার্ক জোক নিয়ে হচ্ছে। পরশু অন্য কিছু নিয়ে হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকটা উঠতি গাধাও মাঝেমধ্যেই এই নেশায় ভুলভাল কিছু একটা লিখে ফেলে। তারপর যেই গালাগাল খায়, সঙ্গে সঙ্গে বলে ডার্ক জোক লিখেছি। সমাজ আমায় বুঝল না!

না বান্টি। না। অত সোজা না।

ডেভ শ্যাপেলের আরেকটা গপ্পো দিয়েই এই অমূলক লেখাটি শেষ করি। ডেভ তখন ‘শ্যাপেল শো’ করছেন। সেই সময়ে চ্যানেল কর্তৃপক্ষের তরফে তাঁকে একটা বিশেষ শব্দবন্ধ বলতে বারণ করা হয় একটি বিশেষ শ্রেণির মানুষদের নিয়ে। ডেভ বলেন তিনি তো কথায় কথায় ‘নিগার’ শব্দটিও ব্যবহার করেন, তাহলে? তখন কর্তৃপক্ষ বলে যে, না, ডেভ সেই বিশেষ শ্রেণির মানুষদের নিয়ে সেই বিশেষ কথাটা বলতে পারেন না তার কারণ ডেভ সেই শ্রেণির অর্ন্তভুক্ত নন। তার উত্তরে ডেভ বলেছিলেন, 'ভাই আমি নিগারও নই!'

Ps. এই লেখাটি পড়ে যারা অফেন্স নেওয়ার কথা ভাবছেন কেন আমি এখানকার কমিকের উদাহরণ দিলাম, তাঁদের জ্ঞাতার্থে জানাই আমাকে ডার্ক জোক, অফেন্সিভ কমেডি— এইসব নিয়েই লিখতে বলা হয়েছিল। আমাদের এখানে এই ধরনের কোনও কমিক নেই। যারা ছিল, তারা এখন কেসের ঠেলা সামলাচ্ছে। বেশ হচ্ছে। এখানকার স্ট্যান্ড আপ নিয়ে যদি কখনও লিখতে বলা হয়, তাহলে আপনার জন্য লিখতে পারব এক পৃথিবী। চিয়ার্স।

লিখেছেন
Soumit Deb
Soumit Deb
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।