সংবিধান সদন : নতুন যে নামে পুরনো সংসদ ভবনকে চিনতে চলেছে দেশ

Sambidhan Sadan: শুধু সংবিধান সদন নামেই কি আটকে থাকবে সংবিধান অনুসরণ? নাকি সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা করবে শাসকদল?

Manjima Dasgupta
২ মিনিট
সংবিধান সদন : নতুন যে নামে পুরনো সংসদ ভবনকে চিনতে চলেছে দেশ

বিশেষ অধিবেশনের প্রাক্কালেই নতুন সংসদ ভবনে প্রবেশ করেছেন সাংসদরা। নতুন সংসদ ভবন ঘিরে প্রস্তুতিও তুঙ্গে। এর মধ্যেই নতুন ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির।

কী বললেন প্রধানমন্ত্রী:

পুরনো সংসদ ভবনের গরিমায় যেন কোনও কালিমা না পড়ে। পুরনো সংসদ ভবন পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে থাকবে, তা হতে পারে না। এমনটাই বলতে শোনা গেল মোদিকে। একইসাথে তিনি পুরনো সংসদ ভবনের নাম 'সংবিধান সদন' রাখার আবেদন জানান অন্যান্য সাংসদদের কাছে। পুরনো সংসদ ভবন থেকে এই শেষ ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, তাঁর শেষদিনের এই বক্তৃতায় উঠে এসেছে ৩৭০ ধারা এবং ৩৭৭ ধারা রদের নানা প্রসঙ্গ। বারবার উঠে এসেছে আত্মনির্ভরতার প্রসঙ্গও। নতুন ভবিষ্যতের প্রতীক হিসেবে নতুন সংসদ ভবনকে উল্লেখ করেছেন নরেন্দ্র মোদি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সাংসদদের জন্য তাক লাগানো আসন! নতুন পার্লামেন্টে ঠিক কী কী রয়েছে?

New Parliament Seating : নতুন সংসদের পরিকল্পনা অনুসারে লোকসভায় যৌথ অধিবেশন হলে মোট ১,২৭২টি আসনে সদস্যরা বসতে পারবেন।

পুরনো সংসদ ভবনের ইতিহাস:

১৯২৭ সালে পুরনো সংসদ ভবনের নির্মাণ করা হয়। তারপর থেকে দীর্ঘ প্রায় ১০০ বছর ধরে এখানে চলেছে সংসদ অধিবেশনের কাজ।

কী আছে নতুন সংসদ ভবনে:

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নতুন পার্লামেন্ট গড়তে ৮৩৬ কোটি! পুরনো সংসদ ভবন তৈরি হয়েছিল কত টাকায়?

Old Parliament Making History: ১৯১৯ সালে কাউন্সিল হাউসের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেন লুটিয়েন্স এবং বেকার। তারা ঠিক করেন এই ভবনটি হবে বৃত্তাকার আকৃতির।

মোট ৬ টি প্রবেশপথ আছে এই নতুন সংসদ ভবনে, যে ভবনের নাম পার্লামেন্ট হাউস অফ ইন্ডিয়া। প্রবেশপথগুলির নাম - গজ দ্বার, অশ্ব দ্বার, গরুড় দ্বার,মকর দ্বার, শার্দুল দ্বার, হংস দ্বার। প্রতিটি নামের ক্ষেত্রেই পুরাণের অনুষঙ্গ জড়িয়ে আছে। প্রশ্ন হল, সংবিধান রচনার এত বছর পরেও, ধর্মনিরপেক্ষ একটি দেশে, শুধুমাত্র পুরাণের অনুষঙ্গ টেনেই কেন প্রবেশপথের নামকরণ হল। প্রবেশাধিকার কি শুধুই ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেই ক্রমশ সংকুচিত হতে থাকবে ভবিষ্যতে?

কেন নাম বদল:

এর আগে জি-২০ সম্মেলনের সময় ইন্ডিয়া বনাম ভারত নাম নির্বাচনের তরজা চলেছিল জোরকদমে। এবার পুরনো সংসদ ভবনের নাম সংবিধান সদন নাম হল কেন? সংবিধানের কতটুকু অনুসরণই বা করছে বর্তমানের কেন্দ্র সরকার? ভারতের নাম প্রসঙ্গেই আসা যাক। সংবিধানের প্রথম বাক্যটিই হল- " India, that is Bharat, shall be a union of state. "

ভারতের বিচারব্যবস্থার দিকে তাকালেও সেই একই চিত্র। ২০১৬ সালের মে মাসে, দেশের নাম ভারত করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। বিচারপতি টি.এস.ঠাকুর সেই জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দেন। এবং এই বিষয়ে কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ সময় অপচয় করার জন্য ভর্ৎসনা করেন। খারিজ করার যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছিল, যাঁর ইচ্ছে ভারত নামে ডাকার তিনি ডাকতে পারেন। যাঁরা ইন্ডিয়া নামে ডাকতে চান, তাঁদের সেই সুযোগ দিতে হবে। সংবিধানে এই দুই নামেরই উল্লেখ রয়েছে। বোঝা যায়, তখনও শাসকদলের তরফে কোনও বিশেষ নাম চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা শুরু হয়ে যায়নি। পরে, ক্রমশই বদলে যেতে থাকে পরিস্থিতি। ২০২০ সালে দিল্লির এক ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টে ফের জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। সংবিধানের ১ নং ধারার বদল চেয়ে তিনি ইন্ডিয়া নাম বাতিলের পরামর্শ দেন। তাঁর যুক্তি ছিল, ইন্ডিয়া নাম বাতিলের মধ্যে দিয়ে পূর্বপুরুষদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হবে। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বদেশচেতনা প্রকট হবে। যদিও এই মামলাও খারিজ হয়ে যায়।

যদি বর্তমানে, ভারত নামটিই শুধুমাত্র ব্যবহার করতে চাওয়া হয়, সেই ক্ষেত্রে সংবিধানে সংশোধন ঘটাতে হবে। কোন পথে হাঁটছে কেন্দ্র সরকার?

শুধু সংবিধান সদন নামেই কি আটকে থাকবে সংবিধান অনুসরণের প্রমাণ? নাকি সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা করবে শাসকদল? সেইদিকে তাকিয়ে গোটা দেশ।

লিখেছেন
Manjima Dasgupta
Manjima Dasgupta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।