পাতে উঠবে বিষমুক্ত খাবার, ত্রিপুরা পারছে, আমরা পারি না?

Nutrition Gardens In Tripura: পুষ্টি বাগান, যা মানুষের হাতে তুলে দেবে পুষ্টিমূল্যযুক্ত টাটকা শাকসব্জি,ফলমূল। আর গ্রামের অর্থনৈতিক ভিত্তিকেও করবে মজবুত।

Sohini Das
৪ মিনিট
পাতে উঠবে বিষমুক্ত খাবার, ত্রিপুরা পারছে, আমরা পারি না?

সোনার ফসল, সোনার জমি, কৃষক, সমাজবন্ধু এই শব্দগুলির মধ্যে যতটা রোম্যান্টিসিজম রয়েছে, বাস্তব মাটিটা কিন্তু তার চেয়েও শক্ত, তার চেয়েও কঠিন। এই সোনার ফসল ফলানোর পিছনে একজন কৃষকের যে কী রক্তজল করা পরিশ্রম থাকে, তা ভাবার বাইরে। অথচ দাম পাওয়ার সময়ে মেলে না ফুটোকড়ি। আজও ভারতবর্ষের এখান ওখান সেখান থেকে কৃষক আত্মহত্যার খবর আসে। আমরা খবর দেখি, পড়ি ভুলে যাই। বাজারে গিয়ে দাম দিয়ে শাকসব্জি কিনি, অর্ডার করি অনলাইনে। কিন্তু যে দামে আমরা সব্জি-আনাজপত্র কিনি, তার সিকিভাগও কি যায় কৃষকের হাতে? নাকি মাঝরাস্তাতেই গলে পড়ে যায় বেশিরভাগটাই। কৃষকের হাতে যেটুকু পৌঁছয়, তাতে তাঁদের পেট চলে না। যে পথে শ্রমের মূল্য গলে পড়ে যায়, সে পথেই গলে যায় খাবারের পুষ্টিগুণও। ক্ষেত থেকে বাজার অবধি পৌঁছতে পৌঁছতে তাতে চড়ে নানা রং, নানা রাসায়নিক। কৃষকের রক্তঘাম করে ফলানো সোনার ফসলে এসে ঢোকে বিষ। যা আমরা গুচ্ছ গুচ্ছ দাম দিয়ে কিনে আনি। রেঁধে বেড়ে খাই।

প্রায়শই আমরা ভাবি, যেসব খাবারদাবার আমরা খাচ্ছি, তা আদৌ পুষ্টিযুক্ত তো? নাকি তার বদলে ভেজাল খাবারদাবারের মধ্যেই পুষ্টি খুঁজছে আমাদের শরীর। উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ক্ষেতে বিষাক্ত সব রাসায়নিকের ব্যবহার কোনও নতুন কথা নয়, যার ফলে জমির স্বাভাবিক ফলন ক্ষমতা যেমন কমছে, তেমনই আমাদের শরীরে জমছে বিষ। তাছাড়া চাষবাসের উপর নির্ভরশীল গ্রামাঞ্চলগুলির অর্থনৈতির অবস্থাও তেমন বলার মতো নয়। আগেই বলেছি, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ফসলের ঠিকঠাক দাম যেন সোনার পাথরবাটি। এ হাত ও হাত ঘুরে কৃষকদের কাছে যখন ফসলের দাম এসে পৌঁছয়, ততক্ষণে তা পৌঁছেছে তলানিতে। তবে এই সব সমস্যা মেটাতেই ত্রিপুরায় শুরু হয়েছে নিউট্রিশন গার্ডেনের ভাবনা। পুষ্টি বাগান, যা মানুষের হাতে তুলে দেবে পুষ্টিমূল্যযুক্ত টাটকা শাকসব্জি,ফলমূল। আর গ্রামের অর্থনৈতিক ভিত্তিকেও করবে মজবুত। অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে থাকা ত্রিপুরার গ্রামগুলিতে শুরু হয়েছে এই উদ্যোগ। যেখানে জোর দেওয়া হচ্ছে পুষ্টিসমৃদ্ধ চাষবাসের উপরে।

এখনও ভারতবর্ষের একটা বৃহত্তম জায়গা জুড়ে গরিবি ও খিদের সমস্যা। খাবার যদি জোটেও বা পুষ্টি অনেক দূরের কথা। বেশিরভাগ গ্রামাঞ্চলের ছেলেমেয়েদেরই গোটা পুষ্টিটাই আসে স্কুলের মিডডে মিল থেকে। কারণ বাড়িতে একবেলার খাবারই ভালো করে জোটে না। তবে সেখানেও তো নানাবিধ দুর্নীতির বেড়াজাল। প্রয়োজনীয় ডিম-দুধ বা প্রোটিনের পুষ্টি তাই অধরাই থেকে যায় সেই সব বাড়ন্ত ছেলেমেয়েদের।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ফসল ফলিয়েও অপুষ্টিতে ভুগছে কৃষকদের সন্তানরাই! যেভাবে লড়ছে অসমের জনজাতিরা

Dhemaji Assam: মরশুমি ফল জলপাই, আম, কুল, কামরাঙার আচার বানিয়ে রাখা থাকে। বন্যার দিনে সে সব দিয়ে ভাত খাওয়া হয়।

তবে ত্রিপুরায় এবার জোর দেওয়া হচ্ছে এমন চাষবাসের উপরে, যেখানে গোড়া থেকেই পুষ্টিমূল্য বজায় রাখার কথা মাথায় রাখা হবে। আর এমনি এমনি নয়, তার জন্য রীতিমতো প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে ছেলেমেয়েদের। ২০১৮ সালে আইসিএআরের সহায়তায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ওই পুষ্টিবাগানে শুধু শাকসবজিই নয়, তার পাশাপাশি ভেষজগুণ সম্পন্ন গাছ চাষেরও ব্যবস্থা করা হয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষিপ্রধান পরিবারগুলিতে পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবারদাবার পৌঁছে দেওয়াই ছিল এই উদ্যোগের প্রাথমিক উদ্দেশ্য। তার পাশাপাশি আর্থিক উন্নয়নের ভাবনা তো রয়েইছে।

২০২০ সাল নাগাদ ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব রিসার্চ (আইসিএআর) এবং কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র (কেভিকে) যৌথভাবে এই উদ্যোগ নেয়। ত্রিপুরার কৃষকদের নিজস্ব জমিতে বানিয়ে দেওয়া হয় একটি করে নিউট্রিশাস গার্ডেন। যেখান থেকে শুধু তাঁদের পরিবারেরই নয়, পাশাপাশি গোটা গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরে যাতে পুষ্টিমূল্য পৌঁছে দেওয়া যায়, তা সুনিশ্চিত করতে হবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হু হু করে বাড়ছে কৃষক আত্মহত্যা! দেশজুড়ে অন্নদাতাদের দুর্দশার দায় কার

Farmer's Suicide: নানান সমস্যায় জর্জরিত কৃষকরা বেঁচে থাকার কোনও বিকল্প উপায় না খুঁজে পেয়ে দলে দলে আত্মঘাতী হচ্ছেন।

এই উদ্যোগের জন্য নির্বাচিত কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সমস্ত সাহায্যের ব্যবস্থা করা হয়। জমির সার থেকে ওষুধ, সব কিছুই সরবরাহ করা হয়, যাতে তাঁরা তাঁদের পুষ্টি বাগানে ফলাতে পারেন সোনার ফসল। আর এই মডেলটি এমন ভাবে ভাবা হয়েছে, যাতে এবার বাজারে না গিয়ে সোজা কৃষকের থেকেই তাজা শাকসব্জি, ফল কিনতে পারেন ক্রেতারা। ফলে ফঁড়ে এবং মধ্যসত্ত্বভোগীদের বাড়বাড়ন্তেও রাশ টানা যাবে খানিকটা। বাড়বে কৃষকের আয়। তাঁদের ঘাম-রক্ত ঝরানো ফসল সোজা তাঁদের কাছ থেকে কেনার চেয়ে ভালো আর কী-ই বা হতে পারে। এতে কৃষক যেমন ফসলের সঠিক দাম পাবেন, খদ্দেরও পাবেন ঠিকঠাক সব্জি বা ফলটি। কৃষকের ক্ষেত থেকে বাজারে ক্রেতার হাতে পৌঁছতে পৌঁছতে এতদিন অনেক স্তর, অনেক হাত ঘুরে আসতে হত পণ্য়কে। তাতে টাটকা সব্জি-ফলের রূপ এবং গুণ, দুটোই অনেকাংশে যেত বদলে। সেই পরিস্থিতিটাই পাল্টে দিতে চায় এই উদ্যোগ। এ ক্ষেত্রে জমি এবং শ্রমটুকুই শুধু কৃষকের, চাষবাসের বাকি সরঞ্জামই সরবরাহ করবে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র।

এখানেই শেষ নয়। এই উদ্যোগের আরও একটি দিক হল, গ্রামের পিছিয়ে পড়া মেয়েদের তুলে আনা। ত্রিপুরার বৈরাগীপাড়া গ্রামের সেভেন সিস্টারস ডেভলপমেন্ট অ্যাসিসটেন্স (SeSTA)-র তরফে চেষ্টা করা হচ্ছে, এমন পুষ্টি-উদ্যানের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া মেয়েদের দিশা দেখানো। এই প্রকল্প থেকে উপকৃতল হচ্ছেন ত্রিপুরি সম্প্রদায়ের আদিবাসী কৃষকেরাও। আদিবাসী কৃষক পরিবারের মেয়ে হান্না ডেব্বারমা জানালেন, এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় দিক হল, আমরা আমাদের আশপাশে যা আছে, সেসব ব্যবহার করেই বিভিন্ন ধরনের সব্জি-ফলমূল উৎপাদন করছি। বিজ্ঞানের সাহায্য নিয়ে চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে উৎপাদিত সব্জির পুষ্টিগুণ বজায় থাকে পুরোমাত্রায়। বরং তা কীভাবে আরও বেশি বাড়ানো যায়, সেই চেষ্টাই করা হচ্ছে।

অর্গানিক গ্রাম গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে অভিনব এই উদ্যোগ। পাশাপাশি তাতে উপকৃত হচ্ছেন গ্রামের একাধিক কৃষক ও তাদের পরিবার। কাজ পাচ্ছেন বহু মানুষ। মেয়েদের জন্যও খুলে যাচ্ছে নতুন নতুন পথ। তার সঙ্গেই বাড়ছে জমির মানও। অকারণ কীটনাশকের ব্যবহার কমায় বাড়ছে স্বাস্থ্যকর শাকসবজির ফলন। সব মিলিয়ে সামগ্রিক ভাবে গ্রামীণ এলাকার অর্থনীতিকেই দিশা দেখাচ্ছে পুষ্টি-উদ্যান প্রকল্প। প্রাথমিক ভাবে শাকসব্জি দিয়ে শুরু হলেও আগামী দিনে ধান, গমের মতো দানাশস্য উৎপাদনের দিকেও মন দেওয়া হবে। যা বদলে দেবে ত্রিপুরার গ্রামীণ অর্থনীতি।

ত্রিপুরার মতো বাকি দেশও কি হাঁটতে পাবে সেই পথে! গড়ে উঠবে ভেজালহীন খাঁটি ভারত, রইল জিজ্ঞাসা।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।