দিনে একটা কলা হয়ে উঠবে ক্যানসার থেকে হৃদরোগের রক্ষাকবচ, বলছে গবেষণা

পটাশিয়াম-সমৃদ্ধ কলা খেলে কমবে রক্তচাপ এবং ক্যানসারের ঝুঁকি। এমনকী, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও কমিয়ে দিতে পারে কলা।

Piya Saha
৩ মিনিট
দিনে একটা কলা হয়ে উঠবে ক্যানসার থেকে হৃদরোগের রক্ষাকবচ, বলছে গবেষণা

বিশ্বজুড়ে হু হু করে বাড়ছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা। একাধিক সমীক্ষার রিপোর্টও বলছে ভারতে অল্পবয়সিদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ হার্ট অ্যাটাক। 'দ্য গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ' নামক সংস্থার পরিসংখ্যানও বলছে, ভারতে প্রতি দশ হাজার মৃতর মধ্যে ২৭২ জনের মৃত্যুর জন্য দায়ী হার্ট অ্যাটাক।এই সংখ্যা বিশ্বে গড় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর তুলনায় বেশি। ২০১৭ সালে ভারতের ২.৬৩ মিলিয়ন মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। অথচ, সমস্ত পুষ্টি উপাদান যথাযথভাবে গ্রহণ করলে এবং জীবনযাপন করলেই হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকখানি কমানো সম্ভব। তেমনই একটি ফল হলো কলা। পাঠকরা নিশ্চয় অবাক হচ্ছেন, আর ভাবছেন যে, কলা খেয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব! হ্যাঁ নতুন এক গবেষণায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে।

বিশ্বের বহুল জনপ্রিয় ও গৃহীত ফলগুলির মধ্যে অন্যতম কলা। মানুষের স্বাস্থ্যরক্ষার্থে যে যে পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন, তার সবই রয়েছে কলাতে। ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ফাইবার, প্রোটিন এবং ভিটামিন বি-৬ এবং ভিটামিন সি রয়েছে কলায়। পটাশিয়াম-সমৃদ্ধ কলা খেলে কমবে রক্তচাপ এবং ক্যানসারের ঝুঁকি। এমনকী, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও কমিয়ে দিতে পারে কলা। প্রতিটি কলাতে ৪৫৫ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম রয়েছে আর হৃৎস্পন্দনে পটাশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। পাশাপাশি পটাশিয়াম স্নায়ুর ও পেশির কার্যকারিতাকে উন্নত করে। কিডনিতে রক্ত পরিশ্রুত করতে এবং প্রতিটি কোশে পুষ্টি উপাদান পৌঁছে দিয়ে শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সাহায্য করে।

নতুন গবেষণায় কী বলছে ?

নতুন এক গবেষণা থেকে জানা গেছে, চিকিৎসকরা রোগীর দেহের পটাশিয়ামের মাত্রা পরীক্ষা করে হৃদযন্ত্রের বেশ কিছু অসুখের চিকিৎসা করতে পারবেন। গবেষকরা ইঁদুরের দেহে এই পরীক্ষা করেছেন। পরীক্ষায় দেখা গেছে, কম পটাশিয়ামযুক্ত খাদ্যগ্রহণের কারণে ধমনিতে ক্যালসিফিকেশন এবং মহাধমনি কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, হার্ট অ্যাটাকের পূর্বেও সাধারণত মহাধমনি শক্ত হয়ে ওঠে, যা থেকেই বড় বিপদের পূর্বাভাস পাওয়া যায়। গবেষকরা জানিয়েছেন, যে ইঁদুরটিকে কম পটাশিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়ানো হয়েছে, তার ক্ষেত্রেই এই লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে। অপর পক্ষে অন্য আরেকটি ইঁদুর সঠিক পরিমাণে পটাশিয়ামযুক্ত খাদ্যগ্রহণের কারণে মহাধমনিতে কোনও সমস্যা লক্ষ করা যায়নি।

কলা হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে সাহায্য করে

নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে যে, নিয়মিত কলা খেলে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোক প্রতিরোধ করা যেতে পারে। কলা এবং অন্যান্য পটাশিয়াম-সমৃদ্ধ খাবারগুলি ধমনিকে শক্ত হয়ে যাওয়া এবং শুরু হয়ে যাওয়া থেকে প্রতিরোধ করতে পারে যার ফলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা হ্রাস পায়। একটি কলা দৈনিক পটাশিয়ামের প্রায় ১০% চাহিদা পূরণ করতে পারে। সমীক্ষা করে দেখা যায়, যাঁদের খাদ্যতালিকায় পটাশিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে কম, তাঁদের ক্ষেত্রে স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি অন্যান্যদের তুলনায় প্রায় ৫০% বেশি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অবসাদ আসলে বড় বিপদের সংকেত! সতর্ক হওয়ার সময় এখনই, বলছে গবেষণা

ব্রেন অ্যাটাকের আগেই যেন অবসাদ, বিষণ্ণতা সাইরেন বাজিয়ে জানিয়ে দেয় এবার বিপদ আসন্ন। না, হতাশায় ডুব দেবেন না, এই স্টাডি এবং ডাক্তাররা আপনাকে বলে দিচ্ছেন, কী করে এই বিপদের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাবেন।

আমরা সকলেই জানি অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের কারণে মানবদেহে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং ফলস্বরূপ হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। কিন্তু গবেষণা বলছে, লবণের নেতিবাচক প্রভাব কমাতে পারে কলা এবং তাতে হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা বজায় থাকে। তবে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি বেশি কার্যকর বলেই প্রমাণিত হয়েছে গবেষণায়। প্রত্যেক চিকিৎসকই প্রতিদিন সীমিত মাত্রায় লবণ গ্রহণের পরামর্শ দেন। তবে বর্তমানে গৃহীত খাবারের বেশিরভাগই প্রক্রিয়াজাত খাবার হওয়ায় সীমিত মাত্রায় সোডিয়াম গ্রহণ করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। পটাশিয়াম-সমৃদ্ধ কলা প্রস্রাবে সোডিয়ামের নিঃসরণ বাড়াতে সাহায্য করে।

কলার অন্যান্য উপকারিতা

হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি এই ফল গ্রহণের একাধিক উপকারিতা রয়েছে। একজন ব্যক্তির স্বাস্থ্যকে সার্বিকভাবে উন্নত করতে সক্ষম কলা।

• উন্নত স্মৃতিশক্তি ও মেজাজ বজায় রাখে

কলায় থাকা ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামিনো অ্যাসিড স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি কোনও কিছু শেখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।

• হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়

কলায় প্রচুর পরিমাণে জল ও ফাইবার থাকে যা হজমশক্তি উন্নত করতে সক্ষম। একটি মাঝারি আকারের কলা একজন ব্যক্তির দৈনিক প্রয়োজনীয় ফাইবারের প্রায় ১০% সরবরাহ করে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাদ্যগ্রহণের ফলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় থাকে, ফলে গ্যাস, পেটে ব্যথার মতো সমস্যাগুলি কমে যায়।

• ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে

কলা এবং অন্যান্য ফাইবারযুক্ত ফল রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে যে, উচ্চ ফাইবার রয়েছে, এমন খাবার টাইপ ২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সক্ষম। তবে ডায়াবেটিস রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়া উচিত।

• রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে

পটাশিয়াম-সমৃদ্ধ খাবার কার্ডিওভাসকুলার স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। ফলে রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই আজই সোডিয়ামের পরিমাণ কমিয়ে খাদ্যতালিকায় কলা যোগ করুন।

• ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাস করে

গবেষকদের মতে, কলায় উপস্থিত লেকটিন প্রোটিনের কারণে লিউকেমিয়া কোশের বৃদ্ধি বাধা পায়। এক্ষেত্রে কলা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। ফলে ক্যানসারের ঝুঁকিও কমে যায়।

লিখেছেন
Piya Saha
Piya Saha
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।