মণিপুর অসুস্থ, রোগের খোঁজ রাখে না ভারতবর্ষ

Revisiting Manipur: কোথাও যেন মণিপুর ভীষণ ক্লান্ত, আর পারছে না। মণিপুর এখনও অসুস্থ। কবে মণিপুর সুস্থ হবে তার উত্তর আছে সত্যিই কারও কাছে?

Kamalika Sengupta
৩ মিনিট
মণিপুর অসুস্থ, রোগের খোঁজ রাখে না ভারতবর্ষ

বছর ঘুরে গেল মণিপুরে! এখন ভোট মরসুম। লোকসভা নির্বাচনের আবহে কে আর মনে রাখছে ওদের কথা? মাত্র দুটো আসন মণিপুরে। মনে রেখেই বা কী হবে? মণিপুর কেমন আছে, জানতে চাইল না প্রায় কেউই। মণিপুরে ভোটের টান নেই তেমন, তাই আর খোঁজও নিচ্ছে না কেউ। বছর ঘুরে গেলেও মণিপুরে এখনও ইম্ফলের লোক মেইতিরা যেতে পারে না চুরাচান্দপুরে। আর চুরাচান্দপুরের লোকেরাও এখনও ইম্ফল আসতে পারে না। মণিপুরে এখনও পাহাড় আর সমতলের মধ্যে রয়েছে কাঁটাতারের বেড়া, অবিশ্বাসের বেড়া।

মণিপুরের একজন সাংবাদিকের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। সে জানাল, “অনেক বদলে গেছে সবকিছুই। হিংসা কমেছে ,তবে আমরা এখনও উপরে যেতে পারি না, আর ওরা ইম্ফলে আসতে পারে না। যারা ঘর ছেড়ে চলে এসেছিল, তারা এখনও ক্যাম্পে আছে, ফেরত যেতেই পারেনি। তারা আর ফিরবেও না হয়তো।” খানিক ভেবে সেই সাংবাদিক আরও বলে, “আসলে আমরা মেনে নিয়েছি পরিস্থিতি আর ঠিক হবে না।” কোভিডের মতো এটাই মণিপুরে New Normal। মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায়ও নেই।

মহিলারা ক্যাম্পকেই নিজেদের বাড়ি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন। সেখানে জনতা রান্নাঘরে এখন রান্না করেন তারা। কোনও নিজস্ব জায়গা নেই, কোনও গোপনীয়তা নেই এখানে। উপায় নেই। এভাবে থাকা ছাড়া কোনও উপায়ই নেই। "বুক ফেটে যায় কিন্তু কী করব উপায় নেই," বলছেন ইম্ফলের শিবিরে থাকা এক মহিলা। কীভাবে চলছে দিন? বললেন, “খাবার পাই, হিংসা কম। তবে কাজ নেই বরের, ওপরে দোকান ছিলো, এখন যা পাচ্ছে তাই করছে"। আমার সঙ্গে কথা বলতে বলতে হঠাৎ প্রশ্ন করে উঠলেন মহিলা, “ফিরব না দিদি আমরা? সরকার কিছু করছে?” সরকারের কী করার কথা, সরকার কী কী করছে, সেই উত্তর নেই, এই মহিলার মতো অজস্র মহিলার এমন প্রশ্নের উত্তর নেই আমার কাছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শান্তি ফিরছে মণিপুরে, বলছেন প্রধানমন্ত্রী, আসল সত্যটা কী?

Independence Day 2023, Manipur: কথায় বলে, বিশ্বাসে মিলায় বস্তু। হিংসাও হয়তো মিলিয়ে যাবে একদিন রাষ্ট্রনেতার বিশ্বাসে।

হইনু পেশায় একজন সাংবাদিক। দিল্লিতে থাকে। ২০২৩ সালের ৩ মে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁর বাড়িতে। বাবা, মাকে কোনওমতে বার করে গুয়াহাটিতে এনেছিল হইনু। ওঁর পরিবার এখনও ফিরতে পারেনি। ইম্ফলের হ্যাপি ভ্যালিতে হইনুর পোড়া বাড়ি ওভাবেই আছে এখনও, এক বছর পেরিয়েও।

হইনুর চোখে জল। বলল, "আমার বাড়ির একটা ছবি তুলে দেবে? কতদিন দেখি না। বলল, “কী বদলেছে? আমাদের মধ্যে যে ভাগ হওযা শুরু হয়েছিল তা আরও গভীর হয়েছে। সরকার চুপ, যেন আমাদের দরকার নেই! ৬০,০০০ লোকের ঠাঁই ক্যাম্পে! আমরা আশা করি না আর কিছু। হিংসা নেই কিন্তু এই যে চুপ করে আছে সবাই, এটাই সাংঘাতিক।”

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সারা বিশ্বের সামনে স্পষ্ট হয়ে গেল নরেন্দ্র মোদির নির্বুদ্ধিতা

Narendra Modi on Manipur: নরেন্দ্র মোদি ভোট এলে তিনি ছোট রাজ্য, বড় রাজ্য সর্বত্র ঘন ঘন চলে যান ঠিকই, তবে এবারে তিনি আর মণিপুরের পথে যাননি।

নির্বাচনে হিংসাও হয়েছে। তবে কোথাও যেন গা সয়ে গেছে সেটাও। ক্যাম্পে যারা থাকে তাদের জন্য পুতুল তৈরির কাজ, আরও কিছু ব্যবস্থা করা হয়েছে বিবিধ এনজিও আর সরকারের তরফে। তাতে জীবন যে চলে না তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

কৈলাম গোবিন্দ মোরে তে স্কুলের অধ্যক্ষ ছিলেন। এখন সবজি বিক্রি করেন ইম্ফলে। আমাকে বললেন, “আমি ১২,০০০ টাকা পেতাম মাইনে। ৩ তারিখ পালিয়ে আসি ইম্ফলে। মাসের পর মাস গেল। শিবিরেই আছি। কিছু করতে তো হবে, তাই এখন সবজি বিক্রি করি। কোনওরকম পেট চলে। সরকার বলেছিল বাড়ি যেতে পারব কিন্তু বছর ঘুরে গেল, কিছুই হলো না। মাঝে মাঝে আপনাদের মতো সাংবাদিকরা আসেন, লেখেন কিন্তু কিছুই হয় না। আজকাল সম্মানেও লাগে না। শিক্ষক থেকে সবজি বিক্রেতা হতে গেছি। বাঁচতে তো হবে?”

বাঁচতে তো হবে! কথাটা ধাক্কা দেয়, কথাটা শিকড় নাড়িয়ে দেয়। কৈলাম ভোট দেননি। ভোটের দিনও হিংসা হয়েছে সেখানে।

মণিপুরকে ফিরে দেখতে গেছিলাম, দেখলাম। কোথাও যেন মণিপুর ভীষণ ক্লান্ত, আর পারছে না। মণিপুর এখনও অসুস্থ। কবে মণিপুর সুস্থ হবে তার উত্তর আছে সত্যিই কারও কাছে?

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।