ভারতের প্রায় ৬ কোটি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত, যে সমীক্ষা চিন্তা বাড়াচ্ছে দেশের চিকিৎসকদের

Fungus Disease India : এবার করোনা নয়, আরও বেশকিছু রোগ চোখ রাঙাচ্ছে। আর সেই গান পয়েন্টের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে ভারত।

inscript
৩ মিনিট
ভারতের প্রায় ৬ কোটি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত, যে সমীক্ষা চিন্তা বাড়াচ্ছে দেশের চিকিৎসকদের

২০২০ সাল। গোটা পৃথিবীতে আছড়ে পড়ল একটি ছোট্ট শব্দ – ‘করোনা’। সেই ঢেউইয়েয়াক্রান্ত হল ভারতও। আণুবীক্ষণিক এই ভাইরাস, আর তার জন্য কয়েক কোটি মানুষের জীবন নিয়ে টানাটানি শুরু হল। অনেকে দুর্বল শরীর নিয়েও বেঁচে রইলেন, অনেকে হার মানলেন। তারপর কেটে গিয়েছে অনেকগুলো দিন। এই মুহূর্তে করোনার সেই বীভৎসতা এখন নেই। চিনের নতুন কোভিড ভ্যারিয়েন্ট ভয় দেখালেও, আগের ভয়াবহ পরিস্থিতি এখনও আসেনি। কিন্তু এবার করোনা নয়, আরও বেশকিছু রোগ চোখ রাঙাচ্ছে। আর সেই গান পয়েন্টের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে ভারত।

ডেঙ্গু থেকে হাম, ২০২২ সাল বেশকিছু চেনা রোগের বাড়বাড়ন্তের সাক্ষী থাকল। ভারতের অনেক জায়গাতেই থাবা বসিয়েছিল এই দু’টি রোগ। এদিকে সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, ‘পিকচার তো আভি শুরু হুয়ি হ্যায়।’ সম্প্রতি এইমস দিল্লি ও কলকাতা, ইংল্যান্ডের ম্যাঞ্চেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কয়েকটি বড়ো প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা একজোট হয়ে একটি বিশেষ সমীক্ষা চালান। বিশ্বের মোট ৪০০টি রিপোর্ট ঘেঁটে এই বিশেষ সমীক্ষার ফল সামনে আনেন। মূলত ফোকাস ছিল ভারতের বিভিন্ন রোগ এবং তার ভবিষ্যৎ নিয়ে।

সেই সমীক্ষাতেই উঠে এল চাঞ্চল্যকর একটি তথ্য। করোনা বা সেরকম কোনও মারণ ভাইরাস নয়; ভারতের এই মুহূর্তে চিন্তার বিষয় ‘ছত্রাক’। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন সময় মানুষের মধ্যে ছত্রাকঘটিত রোগ দেখা যায়। অত্যন্ত পরিচিত বিষয় এটি। কিন্তু সাম্প্রতিক এই সমীক্ষায় বলা হচ্ছে, ভারতের জনসংখ্যার ৪.৪ শতাংশ মানুষ জটিল ছত্রাকঘটিত রোগে আক্রান্ত! সংখ্যার বিচারে প্রায় ৬ কোটি ভারতীয় এমন গান পয়েন্টের সামনে দাঁড়িয়ে। এই ৬ কোটির মধ্যে ১০ শতাংশ মানুষের দেহে আবার মারণ আকার নিয়েছে এই ছত্রাকঘটিত রোগগুলি। এমন পরিসংখ্যানই চিন্তায় ফেলেছে বিজ্ঞানীদের।

ছত্রাকঘটিত রোগের বিভিন্ন প্রকারভেদ ভারতে এমনিই দেখা যায়। সেটা অত্যন্ত স্বাভাবিক বলেই ধরে নেওয়া হয়। যেমন দেখা যায় টিনিয়া ক্যাপিটিসের ক্ষেত্রে। এটি চুলের ফাঙ্গাল ইনফেকশন। সাধারণত স্কুলে পড়া কিশোর কিশোরীদের চুলের তালুতে এই ছত্রাকঘটিত রোগ বাসা বাঁধে। কিংবা প্রজননের সময় মেয়েদের যোনিতেও ছত্রাকঘটিত একপ্রকার সামান্য ইনফেকশন দেখা যায়। মূলত ইস্টের কারণে এই রোগটি হয়। এরকমই বেশকিছু রোগ আছে, যেগুলি গোটা ভারতে হরদম দেখা যায়। এইমসের গবেষক ও চিকিৎসকরা এই মনোভাবকেই দায়ী করেছেন। তাঁরা বলছেন, অধিকাংশ ভারতীয়ের মতে সমস্ত ফাঙ্গাল ইনফেকশন, ছত্রাকঘটিত রোগ অত্যন্ত সাধারণ। কিন্তু এগুলোও যে মারণ আঘাত দিতে পারে, সেই সম্পর্কে এখনও আমরা অসচেতন।

উদাহরণ হিসেবে গবেষকরা তুলে ধরেছেন বেশকিছু ছত্রাকঘটিত রোগের কথা। ফুসফুস ও সাইনাসে ছত্রাকঘটিত রোগে ভারতে প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষ আক্রান্ত। অন্তত ৩৫ লক্ষ ভারতীয় ফুসফুসের ফাঙ্গাস অ্যালার্জিতে আক্রান্ত। এই দুটো রোগই সময় সময় প্রাণঘাতী চেহারা নেয়। সরাসরি ফুসফুস ও শ্বাসতত্নত্রে আঘাত করার ফলে শ্বাসকষ্টও শুরু হয়। ইদানিং করোনা ভাইরাসের আক্রমণের কারণে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একটু হলেও দুর্বল হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে এই ফাঙ্গাল ইনফেকশন ও অ্যালার্জি যে আরও বড় ছাপ ফেলবে না, কে বলতে পারে?

এছাড়াও গবেষকরা বলেছেন, ভারতের প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের চোখেও ফাঙ্গাল ইনফেকশন দেখা যায়। যার ফলে অন্ধ হয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা থাকে। দিনের শেষে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও নষ্ট করে দেয় এই ছত্রাকগুলি। গবেষকদের সাবধানবাণী, এমন রোগগুলিকে দূরে সরিয়ে রাখা যাবে না। যত দিন যাবে, গ্লোবাল ওয়ার্মিং বাড়বে। ফলে এই ধরণের রোগ আরও বাড়বে। হয়তো প্রাণঘাতীও হতে পারে। তাই এখন থেকেই সবার সাবধান হওয়া জরুরি।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।