ছিল না ফুটবল কেনার সামর্থ্য, মোজা দিয়েই বল বানিয়ে মাঠে নেমে পড়তেন পেলে

Pele Death : আসলে পেলে মানেই ফুটবল, আর ফুটবল মানেই পেলে। এই প্রবাদ বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অমর হয়ে থেকে গিয়েছে।

Aritra Som
৪ মিনিট
ছিল না ফুটবল কেনার সামর্থ্য, মোজা দিয়েই বল বানিয়ে মাঠে নেমে পড়তেন পেলে

মিনাস গেরায়েসের ত্রেস কোরাকোয়েসের রাস্তা দিয়ে আজও একদল তরুণ ফুটবল খেলতে খেলতে বাড়ি ফিরে যায়। যত্নে সাজিয়ে রাখে বুট, জার্সি। সমস্ত কাজ শেষের পর এই ফুটবলই যে লড়াইয়ের মন্ত্র। ১৯৪০-৫০ এর দশকেও পরিস্থিতিটা আলাদা ছিল না। হয়তো মানুষগুলো পকেট আরেকটু খালি ছিল। সেই সময় রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়াত এক দঙ্গল স্থানীয় ছেলে। পায়ে জুতো নেই, চামড়ায় নেই ঔজ্জ্বল্য। কিন্তু সঙ্গে আছে লড়াইয়ের অস্ত্র – ফুটবল। খালি পায়েই বিশ্বজয় করার স্বপ্ন। ‘বীরপুরুষ’-এর মতো দিনের শেষে বাড়িতে ফিরে আসা… “আমি আছি ভয় কেন মা করো”।

সেই দঙ্গলের মধ্যেই একটি ছেলের দিকে বারবার নজর পড়ত ত্রেস কোরাকোয়েসের পথচলতি বাসিন্দাদের। ওর বাবা ডডিনহোরও ইচ্ছে ছিল ফুটবলার হওয়ার, কিন্তু বিধি বাম! সংসারে হাঁড়ির হাল, বাধ্য হয়ে স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে টাকা উপার্জনের পথে নামতে হয়। বাবাকে সাহায্য করার জন্য ছোট বয়সেই কাজে নেমে পড়তে হয় ওই ছেলেটিকে। ওর নাম এডসন আরান্তেস দে নাসচিমেন্তো (Edson Arantes de Nascimento)। সংসারে সাহায্য করতে অল্প বয়সেই স্থানীয় চায়ের দোকানে কাজ করতে শুরু করে এডসন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
স্তব্ধ হল শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়ের জীবন! যে কারণে পেলে আসলে অমর...

Pelé Passes Away: পেলে মূলত পছন্দ করতেন ‘জিঙ্গা’ স্টাইল ফুটবল খেলতে। এটি লাতিন আমেরিকার অত্যন্ত প্রাচীন একটি পদ্ধতি।

কিন্তু ফুটবল? সেটা তো ওই ছেলেটিরও স্বপ্ন! এরপর দিন গড়াবে অনেক, অ্যামাজন দিয়ে জল গড়াবে। বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবে, চাঁদে পা রাখবে মানুষ। আর এতো সব ঘটনার মধ্যে ব্রাজিলের ছোট্ট এই জায়গা থেকে একটা ছেলে লম্বা একটা লাফ দেবে। বাইসাইকেল কিকের জোরে হারিয়ে যাবে ‘এডসন আরান্তেস দে নাসচিমেন্তো’ নামটি। বদলে জ্বলজ্বল করবে একটাই নাম, একটাই পরিচয়, একটাই শিরোপা – পেলে।

সাও পাওলোর হাসপাতালে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইটা ততক্ষণে শেষ হয়েগিয়েছে। সেই দস্যি ছেলেটা, বল নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করা সম্রাট নিজের বিছানায় চোখ বুজেছেন। আর উঠবেন না তিনি, জেনে গিয়েছে বিশ্ব। সেই সময় ব্রাজিলের আরেক তারকা নেইমার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন। ‘আগে ১০ নম্বর জার্সিটি স্রেফ একটি সংখ্যা ছিল। পেলে এসে সেই সংখ্যাটাকে একটা অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিলেন।’ আসলে পেলে মানেই ফুটবল, আর ফুটবল মানেই পেলে। এই প্রবাদ বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অমর হয়ে থেকে গিয়েছে। সম্রাট তো আসলে একজনই। কেউ কি তাঁর জায়গা নিতে পারে?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কলকাতায় এসে ম্যাচ ড্র! মোহনবাগানের গোলরক্ষককে তবু বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন পেলে

Pele in Kolkata: মোহনবাগানের গোলরক্ষক শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায়কে জড়িয়ে ধরে পেলে বলেছিলেন, "পুরো গর্ডন ব্যাংকসের মতো সেভ করেছ!"

কেবল ফুটবলার নন, বিশ্বের উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গেও জড়িয়ে ছিলেন পেলে। যতবারই বল পায়ে এগিয়ে যেতেন, ড্রিবল আর সাম্বার জাদু মিলেমিশে উজ্জ্বল হয়ে উঠত স্টেডিয়াম, পেলের মনে পড়ত ছোটবেলার সেই দিনগুলো। সংসারে তখন হাঁড়ির হাল। খেলার জন্য বুটটুকুও ছিল না। চায়ের দোকানে কাজ করতে করতে স্বপ্ন দেখতেন, একদিন ওই হলুদ জার্সি পরব। কিন্তু কীভাবে? জানতেন না পেলে, কেবল খেলেই যেতেন। পাড়ার বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে তৈরি করেছিলেন ছোট্ট একটি দল। ‘দ্য শুলেস ওয়ানস’। ছেলের এই উৎসাহের মধ্যে নিজের স্বপ্নও খুঁজে পেতেন বাবা ডোডিনহো। তিনিই ছিলেন পেলের প্রথম কোচ, মেন্টর।

কিন্তু স্বপ্নপূরণের ক্ষেত্রে বাধা যে অনেক! খেলার জন্য প্রধান জিনিসই হল ফুটবল। সেটাই তো নেই পেলের কাছে! ঘরে সামান্য খাওয়ার টাকাও নেই, ফুটবল কিনবেন কী করে! সে তো অনেক দূরের তারা! শেষমেশ নিজেই নিজের রাস্তা খুঁজে নিলেন ছোট্ট পেলে। বাড়িতে পড়েছিল প্রচুর খবরের কাগজ। এপাশ ওপাশ থেকে আরও কিছু কাগজ এনে ভালো করে মুড়িয়ে তৈরি করা হল বড়ো গোলাকার একটা পিণ্ড। তারপর জোগাড় করা হল বাতিল, ফেলে দেওয়া মোজা। সেগুলোকে জড়ো করে একসঙ্গে জোড়া হতো। ব্যস, ফুটবলের মতোই কিছু একটা তৈরি তো হল! সেটা দিয়েই চলত প্র্যাকটিস। লড়াই, লড়াই এবং লড়াই। পেলে হওয়ার রাস্তা কি এতই সহজ?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
তিন তিনবার বিশ্বকাপ জয়! ফিরে দেখা 'হ্যাট্রিকের রাজা' পেলের জীবনের সেরা ম্যাচগুলি

Pele Passes Away: মাত্র ১৭ বছর ২৪৯ দিন বয়সে টুর্নামেন্টে ছয়টি গোল করে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন পেলে।

শুধু চায়ের দোকানের সামান্য ক’টা টাকায় কি সংসার চলে? আচ্ছা, যদি ফুটবলই টাকা কামানোর উপায় হয়? শুরু হল খেপ খেলা। বিভিন্ন দলের হয়ে ছোটবেলায় ফুটবল খেলেছেন পেলে। ভাগ্যিস খেলেছিলেন! কারণ সেখান থেকেই তাঁর স্বপ্নের উত্থান শুরু। যে দলগুলির হয়ে খেলতেন, সেরকমই একটি দলের কোচ ছিলেন ওয়ালদেমার দে ব্রিতো। ব্রাজিলের জাতীয় দলের প্রাক্তন সদস্য তিনি। পেলের খেলা দেখে একটু অবাকই হলেন। প্রথাগত ফুটবল কোচিং নেই, ঠিকঠাক ফুটবলও সঙ্গে নেই, বুটও নেই। অথচ এই ছেলে তো সবাইকে ঘোল খাইয়ে রেখে দিচ্ছে! এক মুহূর্তও দেরি করলেন না তিনি। সোজা চলে গেলেন ব্রাজিলের বিখ্যাত স্যান্তোস এফসি ক্লাবে। সেখানে গিয়ে কেবল একটা কথাই বললেন তিনি – He is destined to be the greatest footballer in the world. বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ফুটবলার হওয়ার মতো প্রতিভা আছে এই ছেলেটির মধ্যে।

মাত্র ১৫ বছর বয়সে স্যান্তোস ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলতে নেমে পড়েন পেলে। তারপর? বিশ্ব ফুটবলের অমর এক রূপকথার জন্ম। প্রথম মরসুমেই দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা পেলে। সঙ্গে সঙ্গে ডাক এল ব্রাজিলের জাতীয় দল থেকে। সেই হলুদ জার্সি… সেই স্বপ্ন… মুখোমুখি হচ্ছেন পেলে। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দিগন্ত ছাড়িয়ে গিয়েছে। এবার তিনি সেরা নন, সেরাদের সেরা হতে চান। ফুটবল তাঁর কাছে বেঁচে থাকার মন্ত্র, লড়াইয়ের অস্ত্র। ব্রাজিলের রাস্তায় খালি পায়ে খেলতে খেলতে যে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলেন তিনি। ফুটবল দিয়ে বদলে দেওয়া যায় পৃথিবী, বদলে যায় ভাগ্য – মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন পেলে।

১৯৫৮ সাল যেন স্বপ্নের বছর। সুইডেনে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলতে পৌঁছলেন পেলে। বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে তাঁর আগমন। স্বাভাবিকভাবেই সবার নজর এই ছেলেটির দিকে। কিন্তু হঠাৎই হাঁটুতে চোট। তীরে এসে তরী ডুববে এবার! পেলের ভেঙে পড়া চেহারার পাশে এসে দাঁড়ালেন ব্রাজিলের সতীর্থরা। না, এই ছেলেটাকে এভাবে হাতছাড়া করা ঠিক হবে না। চোট সারিয়ে ফেরার পর ফুটবল মাঠ যা দেখল, তা বোধহয় রূপকথাই। সেমি ফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক, তারপর ফাইনালে সুইডেনকে ৫-২ গোলে হারানো। ব্রাজিলের প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক তিনি। কতই বা বয়স, ১৭ বছর!

এরপর আরও দুটো বিশ্বকাপ হাতে তুলবেন তিনি। ১২৮১ টি গোলের রেকর্ড তৈরি করবেন। শুধুমাত্র পেলেকে দেখার জন্য উপচে পড়বে ময়দান। স্বয়ং ফিফা বলে দেবে, পেলেই হলেন সর্বকালের সেরা ফুটবলার। কেবলমাত্র গায়ের জোরে নয়, ফুটবল যে একটি সুন্দর খেলা, একটি শিল্প, পেলে না থাকলে সেটা বুঝতে হয়তো অনেক দেরি হয়ে যেত। জীবনের শেষদিনগুলোও হয়তো সম্রাটের মনে পড়বে ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপ জেতার পর সেই কান্না। পেলে কেবল ফুটবল নন, পেলে একটি প্রতিবাদের নাম। একটি উত্তরণের নাম। তৃতীয় বিশ্বের সর্বহারা এক ছেলের ঈশ্বর হওয়ার নাম।

লিখেছেন
Aritra Som
Aritra Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নারী টেস্টে এত অনীহা কেন, লর্ডসের ইতিহাসও বদলাবে না সেই ছবি?

Women’s Test Cricket: লর্ডসে ভারতের নারী ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয় নারী টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বদলানোর সুযোগ এনে দিয়েছে? এত সাফল্য ও জনপ্রিয়তার পরও কেন এই ফরম্যাটে নিয়মিত ম্যাচ নেই?

শিব-পরশুরামের যুদ্ধবিদ্যা কালারিপায়াট্টু থেকেই জন্ম কুংফুর!

Kalaripayattu Indian Martial Art: ভারতীয় পৌরাণিক ঐতিহ্যে কালারিপায়াট্টুকে স্রেফ যুদ্ধের কৌশল হিসেবে দেখা হয়নি, বরং এটিকে মানব শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রাণশক্তিকে জাগিয়ে তোলার এক মহান সাধনা বলে মনে করা হয়।

দু'হাজার বছর পুরনো ‘আত্য পাত্যা’: এই খেলাই শিখিয়েছিল যুদ্ধের কৌশল!

Atya Patya Traditional Indian Game: আনুমানিক ১০০ থেকে ৩০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত প্রাচীন তামিল সাঙ্গম সাহিত্য ‘নাটতৃণৈ’-তে এই খেলার প্রথম লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়। অতএব, এই খেলার বয়স প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি। সেখানে বলা আছে, প্রাচীন চোল রাজবংশের সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগে নিজেদের ক্ষিপ্রতা, দ্রুত দৌড়ানোর ক্ষমতা আর শরীরকে এক নিমেষে বাঁকানোর চপলতা বাড়াতে এই খেলায় মেতে উঠত।

১৬ বছর পর ফের ভারতের পথে ললিত মোদী

Lalit Modi return to India: দীর্ঘ সময় পর দিল্লির আপিল ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আর্থিক অনিয়মের বড় অভিযোগ ও জরিমানা বাতিল করে দেওয়ার পরেই এই আলোচনার সূত্রপাত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ললিত মোদী নিজেই স্পষ্ট করেছেন, সমস্ত বড়সড় আইনি জটিলতা কাটার পর ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭-এর শুরুতেই ফের তিনি ভারতে পা রাখতে চলেছেন।

গোলের আড়ালে ঘৃণার খেলা: ২০২৬ বিশ্বকাপে ট্রাম্প, ফিফা আর ফুটবলের পরাজয়

Trump FIFA World Cup: এই বিশ্বকাপ শুধুই একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; মাঠের লড়াই ছাপিয়ে তা হয়ে উঠেছে ভূ-রাজনীতি, বর্ণবিদ্বেষ এবং বাণিজ্যিক আধিপত্যের এক জটিল ময়দান।

একটা রাজপুত্তুর যার মুকুট হারিয়ে গিয়েছে

Lionel Messi Retirement: তিনটে ফাইনালের বোঝা। একে একে ছেড়ে যায় সহযোদ্ধারা। রক্তাক্ত মাসচেরানো চলে যান, কুন আগুয়েরোর অসুখ... তবু লিও পড়ে থাকে, আমরা পড়ে থাকি আর কিছুদিন। বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে প্রয়োজন ছিল একজন স্ক্যালোনির, তিনি সেটুকু সেতু নির্মাণের দায়িত্ব নিলেন। আমরা অপেক্ষা করলাম লুসাইলে। আমরা তো কবেই হেরে গিয়েছিলাম, সৌদি আরব শুধু চিনিয়ে দিয়েছিল আশপাশটা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: যেভাবে ১৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় পরিণত হল ফুটবল

FIFA Revenue 2026: 'কুইন্টেট প্রাইভেট ব্যাংক'-এর সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের অনুঘটক হওয়ার চেয়ে বিশ্বকাপ আসলে একটি শক্তিশালী স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক উদ্দীপক হিসেবেই বেশি কাজ করে। ফিফা, সম্প্রচারকারী সংস্থা, স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড এবং আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) ক্ষেত্রগুলি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করলেও, কোম্পানির শেয়ারের দামে সেই ইতিবাচক প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে রাখা বেশ কঠিন।

যখন ইউরোপে নারীরা গৃহবন্দি, তখন অসমে মেয়েরা খেলছিলেন ধোপখেল

Dhop Khel Assam: আহোম রাজাদের রাজপ্রাসাদ থেকে বিহুর মেঠো মাঠ—অসমের মাটিতে একসময় গমগম করত ধোপখেলের আওয়াজ। ফুটবল, কাবাডি আর দূরন্ত নিশানার এই অদ্ভুত রোমাঞ্চকর খেলাটি শুধু পুরুষদের বীরত্ব প্রমাণের লড়াই ছিল না; যখন ইউরোপে নারীদের জীবন ছিল চার দেওয়ালে বন্দি, তখন অসমে মেয়েরাও মাঠে নেমে মেতে উঠতেন ধোপখেলে।