ফুলন দেবীর খুনিই ভারতে আনেন পৃথ্বীরাজ চৌহানের অস্থি! জানেন, কে তিনি?

Phoolan Devi Killer Sher Singh Rana: দুপুর ১:৩০ টা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরোন ফুলন দেবী। বেরোতেই তাঁকে বন্দুকের গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়ে গাড়ি করে পালিয়ে যান সেই যুবক।

Arunava Nag Roy
৬ মিনিট
ফুলন দেবীর খুনিই ভারতে আনেন পৃথ্বীরাজ চৌহানের অস্থি! জানেন, কে তিনি?

চম্বল এবং সেখানকার ডাকাতদের কাহিনি আজ আর কারও অজানা নয়। চম্বল বললেই সবার আগে মনে পড়ে ফুলন দেবীর নাম। চম্বলের এক ও অদ্বিতীয় রানি! ফুলন প্রথমে চম্বলের ডাকসাইটে ডাকাত হিসেবে কুখ্যাতি অর্জন করেন এবং পরবর্তীকালে লোকসভা নির্বাচনে জিতে সাংসদ হন। চম্বলের রুক্ষ-শুষ্ক পরিবেশ থেকে দিল্লির অশোকা রোডের বিলাসবহুল বাংলোতে পৌঁছে ফুলন হয়তো ভেবেছিলেন তাঁর জীবন বোধহয় এবার কুসুমাস্তীর্ণ হবে। কিন্তু তেমনটা হলো না। রাজনীতিতে আসার কয়েক বছরের মধ্যেই তাঁকে তাঁর বাংলোর বাইরেই গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যার নেপথ্যে ছিল বহু বছর ধরে পুষে রাখা এক রাগ এবং প্রতিশোধস্পৃহা। সাংসদ হয়েও সেই ক্ষোভ থেকে বাঁচতে পারলেন না কেন ফুলন?

উত্তরপ্রদেশের জালোনের কাছে একটি ছোট্ট গ্রামে ১৯৬৩ সালের ১০ অগাস্ট জন্ম হয় ফুলন মাল্লার। জন্ম থেকেই দারিদ্র এবং সামাজিক বৈষম্যের মুখে পড়েছিলেন ফুলন। উত্তরপ্রদেশে 'মাল্লা' তথাকথিত নিচু জাতি হওয়ায় সমাজের উচ্চবর্গের শোষণ ছিল মাত্রাতিরিক্ত! ছোট থেকেই ফুলন নিজের মায়ের মুখে শুনতেন কীভাবে তাঁর নিজের কাকা তাঁদের ঠকিয়ে সব জমিজমা হাতিয়ে নিয়েছে। মায়ের মুখে সব শুনে আর থাকতে না পেরে দশ বছরের ফুলন কাকার বাড়ির সামনে গিয়ে ধরনা দেয়। কিন্তু তার কাকা তাঁকে মেরেধরে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় এবং কয়েকদিনের মধ্যেই ফুলনের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। পরিবার এবং সমাজের চাপে মাত্র দশ বছরের একটি ছোট্ট মেয়ে বিয়ে করতে বাধ্য হয় পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে। বিয়ের পর প্রতিনিয়ত যৌন নির্যাতন এবং ধর্ষণের শিকার হতে হয় ফুলনকে। বাধ্য হয়ে, থাকতে না পেরে সেখান থেকে পালিয়ে বাপের বাড়ি চলে আসে ফুলন। একে দলিত, তায় মেয়ে! শ্বশুরের ঘর ছেড়ে চলে আসার এই ঘটনা একঘরে করে দেয় ফুলনকে।

ফুলন দেবী

তবে সমাজ একঘরে করে দিলেও স্থানীয় ডাকাতদের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়ে যায় ছোট্ট ফুলনের। বন্ধুত্ব হয় বিক্রম মাল্লার সঙ্গে। কয়েক বছরের মধ্যেই বিক্রম ডাকাত দলের নেতা হয়ে যায়। ততদিনে অবশ্য ফুলন পুরোপুরিই ডাকাত দলে যোগ দিয়ে দিয়েছে। মূলত মাল্লা এবং গুজ্জর সমাজের মানুষরাই এই দলে যোগ দিত। চম্বলে ততদিনে বেশ কয়েকটি ডাকাত দল গজিয়ে উঠেছে। ফলত ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে 'গ্যাং ওয়ার' ছিল অবশ্যম্ভাবী। চম্বলের আরেকটি দল ছিল ঠাকুর গ্যাং। এই দলের নেতা ছিল শ্রীরাম ঠাকুর এবং লালা ঠাকুর। ঠাকুর গ্যাংয়ের বেশ কয়েকজনের কুনজর প্রথম থেকেই ছিল তরুণী ফুলনের উপর। মাল্লা এবং ঠাকুর- এই দুই দলের লড়াই ছিল চম্বলের রোজনামচা। এমনই এক লড়াইয়ে একদিন ঠাকুর গ্যাংয়ের হাতে নিহত হয় বিক্রম মাল্লা। এরপর একদিন অপহরণ করে নেওয়া হয় ফুলনকে। তিন সপ্তাহ ধরে লাগাতার ধর্ষণ করা হয় তাঁকে। গ্রামে নগ্ন করে ঘোরানো পর্যন্ত হয় ফুলনকে। এরপর ঠাকুররা একদিন অর্ধমৃত অবস্থায় রাস্তার ধারে ফেলে দিয়ে চলে যায় ফুলনকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অনুপ্রেরণা জন আব্রাহাম! ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যাঙ্ক ডাকাতি হয়েছিল যেভাবে...

India's Biggest Bank Robbery: ৩১ ডিসেম্বর সকালবেলা, ব্যাঙ্ক খুললে কর্মীদের চোখ কপালে উঠে যায়! ব্যাঙ্কের সব লকার ফাঁকা, মেঝেতে গর্ত এবং দেওয়ালে লেখা ‘জয় মাও’।

এতে ভেঙে পড়ার মেয়ে তো নয় ফুলন। ফুলন ওঠেন, জাগেন, প্রতিশোধ নেওয়ার পণ করে। ১৬ বছরের কিশোরী ফুলন মাল্লা হয়ে ওঠেন ফুলন দেবী। এই ঘটনার মোটামুটি দু'বছরের মধ্যেই নিজের দল তৈরি করে ফেলেন ফুলন। এই দল ছিল আগের চেয়েও অনেক বড় এবং অনেক বেশি শক্তিশালী। এরপর ১৯৮১ সালে বেহমই গ্রামে ফিরে আসেন ফুলন। এই গ্রামেই নগ্ন করে ঘোরানো হয়েছিল তাঁকে। নিজের বিশাল ডাকাত বাহিনী নিয়ে ঠাকুরদের উপর হামলা চালান ফুলন দেবী। গ্রামের চৌমাথায় ঠাকুর গ্যাংয়ের ২২ জন ডাকাতকে দাঁড় করিয়ে তাঁদের বুকে গুলি মেরে ফেলেন ফুলন। ঠাকুর গ্যাংকে নির্মূল করে নিজের প্রতিশোধ পুরো করেন। এই ঘটনার পরেই গোটা দেশে আগুনের মতো ছড়িয়ে যায় ফুলন দেবীর নাম। উত্তরপ্রদেশে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে উচ্চবর্গীয় ঠাকুররা বরাবরই প্রভাবশালী। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক চাপে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন উত্তরপ্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ভিপি সিং। একইসঙ্গে পুলিশও হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে ফুলনের বাহিনীকে। দলবল নিয়ে উত্তরপ্রদেশ ছেড়ে পালিয়ে যান ফুলন।

১৯৮৩ সালে আত্মসমর্পণ করেন ফুলন দেবী

১৯৮৩ সালে মধ্যপ্রদেশে নিজের গোটা গ্যাং-সহ আত্মসমর্পণ করেন ফুলন দেবী। ২২টি হত্যা এবং ৩০টি ডাকাতির অপরাধে মোট ১১ বছরের কারাদণ্ড হয় তাঁর। ১৯৯৪ সালে জেল থেকে বেরিয়ে উমেদ সিংয়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। ১৯৯৬ সালে সমাজবাদী পার্টির টিকিটে মির্জাপুর থেকে লোকসভা নির্বাচনে জিতে সংসদে পৌঁছন ফুলন। চম্বলের জঙ্গল থেকে তাঁর বাসস্থান হয় দিল্লির সাউথ ব্লকের ৪১ অশোকা রোডের বাংলো। ক্রমে চম্বল, ডাকাতি এবং বেহমই গ্রামের সেই গণহত্যা পিছনে থেকে যায়, নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে এগিয়ে চলেন ফুলন দেবী। তবে ফুলনের প্রতিশোধের কাহিনি যেখানে শেষ হয়, সেখান থেকেই শুরু হয় আরেকজনের প্রতিশোধের গল্প।

ফুলন দেবীর জীবন যতটা বর্ণময়, মৃত্যুও ততটাই নাটকীয়। ২৫ জুলাই ২০০১, সকালবেলা নিজের অশোকা রোডের বাংলোতে ছিলেন ফুলন। সমাজের তরুণ যুবক-যুবতীদের নিয়ে তিনি একটি সংগঠন তৈরি করছিলেন। 'একলব্য সেনা' নামের এই সংগঠনটি মূলত সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেই যুক্ত ছিল। এই একলব্য সেনায় যোগ দিতে এক বছর পঁচিশের যুবক সেদিন আসেন বাংলোয়। বেশ কিছুক্ষণ কথা বলার পর তাঁকে নিজের হাতে রান্না করা ক্ষীর খাওয়ান ফুলন। ফুলনের সঙ্গে কথা বলে বাইরে নিজের মারুতি ৮০০ গাড়িতে গিয়ে সঠিক সময়ের অপেক্ষা করতে থাকেন সেই যুবক। গাড়িতে তাঁর সঙ্গী ছিলেন আরও দু'জন ব্যক্তি। দুপুর ১:৩০ টা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরোন ফুলন দেবী। বেরোতেই তাঁকে বন্দুকের গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়ে গাড়ি করে পালিয়ে যান সেই যুবক। সঙ্গে সঙ্গে ফুলন দেবীকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পাথর ছোঁড়া হয়েছিল অটল বিহারীকে! দেশকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল এই বীভৎস খুন...

Ranga Billa Kidnapping and Murder Story: ভারতের ইতিহাসে প্রথমবার ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এই সম্পূর্ণ সাক্ষারকারটি সংগঠিত হয় জেলের ভেতর।

শের সিং রাণা

এই দুঃসাহসিক কাজ করে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিটি ছিলেন শের সিং রাণা। পালিয়ে গেলেও কয়েকদিনের মধ্যেই পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যান তিনি। ধরা পড়ে তিনি জানান, ১৯৮১ সালের সেই ঠাকুর হত্যার প্রতিশোধ নিয়েছেন তিনি। ছোট থেকেই সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কাহিনি শুনতেন রাণা। ফলে সেই সময় থেকেই ফুলন দেবীর উপর রাগ ও ঘৃণা জমতে থাকে, যার পরিণাম এই হত্যা। গ্রেফতারের পরপরই মামলা শুরু হয়ে গেলেও বিচারপ্রক্রিয়া চলে বড়ই মন্থর গতিতে। ইতিমধ্যেই ঘটে এক ঘটনা। ২০০৪ সালে ১৭ ফেব্রুয়ারি রাণার হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল হরিদ্বারের এক আদালতে। তিহার থেকে হরিদ্বার যেতে বেশ সময় লাগে। তাই ভোরবেলাই তাঁকে জেল থেকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল পুলিশের। সেদিন ভোর ছ'টা নাগাদ ওয়ারেন্ট দেখিয়ে রাণাকে নিজের সঙ্গে নিয়ে যায় এক পুলিশ। কিন্তু সকাল সাতটা নাগাদই ভুল ভাঙে জেল কর্তৃপক্ষের। যথাসময়ে রাণাকে নিতে এসে পুলিশ জানতে পারে, প্রায় এক ঘণ্টা আগেই আরেকজন পুলিশ তাঁকে নিয়ে চলে গেছে। পুলিশের আর বুঝতে বাকি থাকে না যে, জেল থেকে ফেরার হয়েছেন শের সিং রাণা। আসলে রাণা মনে করতেন, তাঁর বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ আছে পুলিশের কাছে। সুতরাং ফাঁসিই তাঁর শেষ পরিণতি। এই সাজা থেকে বাঁচতেই পালানোর পরিকল্পনা করেন তিনি।

এই ছদ্মবেশী পুলিশটির আসল নাম ছিল সন্দীপ সিং। সেই সময় প্রায় ছয় লক্ষ টাকা নিয়ে রাণাকে ফেরার হতে সাহায্য করেন সন্দীপ। কয়েকদিন পরেই অবশ্য পুলিশের জালে ধরা পড়ে যান সন্দীপ। জেরায় সন্দীপ জানান, দিল্লির কাশ্মীরি গেট থেকে গাজিয়াবাদের বাস ধরেছিলেন তাঁরা। গাজিয়াবাদে পৌঁছে সেখান থেকে মোরাদাবাদের বাস ধরেছিলেন রাণা। একদিন পরে নিজের গ্রামে যাওয়ার কথা ছিল সন্দীপের, কিন্তু তার আগেই পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যান তিনি। এরপর আগামী দু'বছর শের সিং রাণা একপ্রকার নিরুদ্দেশই ছিলেন। ২০০৬ সালে কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আসলে মোরাদাবাদ থেকে রাঁচি হয়ে কলকাতা পৌঁছন রাণা। কলকাতা থেকে ভুয়ো পাসপোর্ট বানিয়ে বাংলাদেশের খুলনায় গিয়ে বসবাস শুরু করেন তিনি। কিন্তু নিয়মিত ভিসা রিনিউ করতে কলকাতায় আসতেই হতো তাঁকে। ২০০৬ সালে কলকাতায় ভিসা রিনিউ করতে এসে পুলিশের জালে ধরা পড়েন শের সিং রাণা।

পুলিশকে রাণা জানান, তিনি মোটেও নিজের জন্য ফেরার হননি; তিনি ফেরার হয়েছিলেন দেশের জন্য। দেশের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতেই জেল থেকে পালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, জেলে থাকাকালীন তিনি জানতে পারেন, গজনিতে মহম্মদ ঘোরির সমাধির পাশেই রয়েছে পৃথ্বীরাজ চৌহানের সমাধি। বড় অনাদরে পড়ে রয়েছে সেটি। ঘোরির সমাধি দর্শন করতে এলে মানুষ পৃথ্বীরাজ চৌহানের সমাধির উপর জুতো খোলে। এমন কথা শুনে তিনি ঠিক করে নেন, পৃথ্বীরাজ চৌহানের অস্থি ভারতে ফিরিয়ে আনবেনই। সেই জন্য প্রথমে দিল্লি থেকে পালিয়ে কলকাতা, তারপর বাংলাদেশ থেকে কান্দাহার হয়ে গজনি পৌঁছান তিনি। গজনির একটি ছোট্ট গ্রামে সমাধি রয়েছে মহম্মদ ঘোরির। সেখানে মহম্মদ ঘোরির সমাধি মেরামত করার অছিলায় পৃথ্বীরাজ চৌহানের অস্থি নিয়ে ভারতে পালিয়ে আসেন তিনি। এই 'সিক্রেট অপারেশন'টি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ক্যামেরায় বন্দি করেছিলেন রাণা। ২০০৫ সালের এপ্রিল মাসে ভারতে ফিরে উত্তরপ্রদেশের এটাওয়ায় একটি মন্দির বানানোর উদ্যোগ নেন শের সিং রাণা। মন্দিরের শিলান্যাসের পর সেখানেই রেখে দেওয়া হয় পৃথ্বীরাজ চৌহানের অস্থি। অবশ্য, সেই মন্দির কিন্তু আজও তৈরি হয়নি।

বর্তমানে নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যস্ত থাকেন শের সিং রাণা

২০০৬ সালে গ্রেফতার হওয়ার পর ২০১২ সালে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হয়ে জেল থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন শের সিং রাণা। বলাই বাহুল্য, তাঁকে হারতে হয়। ২০১৪ সালে ফুলন দেবী হত্যাকাণ্ডে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত এবং তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। তবে ২০১৬ সালে জামিন পেয়ে যান তিনি। ফুলন দেবীকে হত্যা করে ঠাকুরদের হত্যার প্রতিশোধ এবং পৃথ্বীরাজ চৌহানের অস্থি ভারতে ফেরত আনার জন্য, উচ্চবর্গীয় হিন্দুদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন শের সিং রাণা। এরপর ২০১৮ সালে মধ্যপ্রদেশের বরিষ্ঠ বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী প্রতাপ সিংয়ের কন্যা প্রতিমা সিংয়ের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বর্তমানে নিজের রাজনৈতিক সংগঠন রাষ্ট্রবাদী জনলোক পার্টির কার্যকলাপ নিয়ে ব্যস্ত রাণা। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও হেরে যান তিনি। সব ঠিক থাকলে, ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলেছেন তিনি। অপরাধ জগত থেকে রাজনীতির জগতে এসে সফল হয়েছিলেন ফুলন দেবী। শের সিং রাণা জীবনও কি সেই খাতেই বইবে? না কি তাঁর জন্যও অপেক্ষা করে রয়েছে অন্য কারও প্রতিশোধ? উত্তর সময়ই দেবে।

লিখেছেন
Arunava Nag Roy
Arunava Nag Roy
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।