জনসংখ্যা মাত্র তিন! পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট দেশের কাহিনি অবাক করবে আপনাকেও

World's Smallest Nation Sealand : সেই লোহার কাঠামোটাই নাকি একটা দেশ! এমনই আশ্চর্য গল্প জড়িয়ে আছে এর সঙ্গে।

inscript
৩ মিনিট
জনসংখ্যা মাত্র তিন! পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট দেশের কাহিনি অবাক করবে আপনাকেও

দেশ বলতে আমরা কী বুঝি? মোটামুটি একটা বড় ভূখণ্ড, বন জঙ্গল, নদী নালা… সেইসঙ্গে সেই দেশের মানুষজন। সঙ্গে অবশ্যই থাকবে অন্যান্য জীবজন্তু। সেই দেশের নিজস্ব সংবিধান, পতাকা, মুদ্রা থাকবে, আইন থাকবে। কিন্তু এমন কোনও দেশের ব্যাপারে শুনেছেন, যেটি মাঝসমুদ্রে মাত্র দুটি বিরাট পিলার বা স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে! কোনও পাহাড়-পর্বত, গাছপালা কিচ্ছু নয়, স্রেফ একটা লম্বা, বড় প্ল্যাটফর্ম। দূর থেকে দেখে মনে হবে, সমুদ্রের ওপর কোনও হেলিপ্যাড, বা জাহাজ বন্দর, ছোট্ট কারখানা। সেই লোহার কাঠামোটাই নাকি একটা দেশ! এমনই আশ্চর্য গল্প জড়িয়ে আছে এর সঙ্গে। আসুন, আলাপ করা যাক পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম দেশ, সিল্যান্ডের (Sealand) সঙ্গে।

সিল্যান্ড, সম্পূর্ণ ভাষায় বললে প্রিন্সিপ্যালিটি অফ সিল্যান্ড (Principality of Sealand)। দু’টো বিশাল। মোটা থামের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটা লোহার কাঠামো। সেটা কী করে একটা আস্ত দেশ হবে? তার জন্য একটু ফিরে যেতে হবে ইতিহাসে। সিল্যান্ডের মূল গল্প শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে। সেই সময় জার্মানির ফৌজ, বিমান ইংল্যান্ডকে তছনছ করে দিচ্ছে। তখনই ব্রিটিশ উপকূলের থেকে বেশ কয়েক মাইল দূরে দু’টি লম্বা টাওয়ার তৈরি করা হয়। তখন এর নাম ছিল ‘রাফস টাওয়ার’। বলা ভালো, ইংল্যান্ডের একপ্রকার দুর্গ ছিল এটি। সৈন্যসামন্ত, অস্ত্র, কামান, বন্দুক সবই মজুত থাকত এখানে। শত্রু বিমান দেখলেই সেগুলিকে আক্রমণ করা ও জার্মানদের গতিবিধি জানতে এই টাওয়ারটি ব্যবহার করছিল ব্রিটিশ ফৌজ।

যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ১৯৫৬ সাল নাগাদ ব্রিটিশ রয়্যাল নেভি এই টাওয়ারটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে চলে যায়। ফাঁকাই পড়ে থাকল এই রাফস টাওয়ার। তবে ১৯৬৭ সাল থেকে এখানকার আসল গল্প শুরু হয়। যুদ্ধের সময় এই টাওয়ারে র্যা ডার, বেতার যন্ত্র ইত্যাদি বসানো হয়েছিল। ’৬৭ সালে একটি অবৈধ রেডিও সম্প্রচারকারী দল এই টাওয়ারে এসে ঘাঁটি গাড়ে। সেই দলেই ছিলেন রয় বেটস এবং তাঁর ছেলে মাইকেল বেটস। সবাই মিলে একসঙ্গে এখানে থাকতে শুরু করলেও একসময় রয় বেটসের কর্তৃত্ব চরমে ওঠে। তিনি ঠিক করেন, এই জায়গায় একাই বসবাস করবেন। যেমন ভাবা, তেমনই কাজ। তাঁর সঙ্গে থাকা সমস্ত বাসিন্দাকে উচ্ছেদ করেন তিনি।

এরপরই মাথায় আসে অন্য মতলব। রাফস টাওয়ারের অবস্থানটা ছিল একটু অদ্ভুত জায়গায়। প্রথমত, এর অবস্থান ছিল আন্তর্জাতিক জমসীমানায়। আর এই অঞ্চলে কারও কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকে না। ধরা যাক, এই অঞ্চলের মধ্যে একটি ফাঁকা দ্বীপ আছে। তাহলে যে কেউ সেখানে এসে ঘাঁটি গাড়তেই পারেন। এছাড়াও ইংল্যান্ডেরও হাতের বাইরে এই অঞ্চলটি। সবদিক থেকেই সুবিধা পেলেন রয় বেটস। স্ত্রী আর পুত্রের সঙ্গে এই টাওয়ারকেই ঘোষণা করলেন নতুন দেশ হিসেবে। নাম দিলেন ‘প্রিন্সিপ্যালিটি অফ সিল্যান্ড’। তখন থেকে আজ অবধি বেটস পরিবারই এখানে বসবাস করছে।

১৯৭৫ সালে সিল্যান্ড নিজেদের সংবিধান প্রকাশ করে। তৈরি হয় পতাকা, প্রতীক, জাতীয় সঙ্গীত। এমনকী, এই দেশের নিজস্ব মুদ্রা, পাসপোর্টও রয়েছে। মাঝখানে বেশ কয়েকবার এই দেশটি দখল করার চেষ্টাও হয়েছিল বিপদে পড়েছিলেন রয় বেটসের ছেলে মাইকেল বেটসও। কিন্তু শেষমেশ বেটস পরিবারের হাতেই থেকে যায় দেশের মালিকানা। এখন এই দেশের জনসংখ্যা কত শুনবেন? মাত্র তিন থেকে চারজন! হাতেগোনা বাকি আরও কয়েকজন থাকলেও তাঁরা স্থায়ীভাবে থাকেন না। এখানে যেতে গেলে সঠিকভাবে পাসপোর্ট দেখিয়ে ঢুকতে হবে। সেইসঙ্গে আছে দেশটির নিজস্ব ওয়েবসাইট।

রয় বেটস এখন আর বেঁচে নেই। তাঁর জায়গায় সিল্যান্ডের দায়িত্বভার সামলাচ্ছেন ছেলে মাইকেল বেটস। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার কী জানেন? এখনও কোনও দেশ সিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। মানচিত্রে দেখা গেলেও সিল্যান্ড নিজেকেই সার্বভৌম দেশ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এটিই পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট দেশ, দাবি তাদের। কিন্তু দেশের মতো দেখতে কি! তখন খানিক অবাক হতেই হবে আপনাকে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।