ধীরুভাই আম্বানি, বাল ঠাকরেদেরও বোকা বানিয়েছিলেন প্রীতীশ নন্দী

Pritish Nandy: দোর্দণ্ডপ্রতাপ হিন্দুত্ববাদী বালাসাহেব ঠাকরে ভেবেছিলেন প্রীতীশ নন্দী হিন্দু ধর্মাবলম্বী। বালাসাহেবের আনুকূল্যে তিনি রাজ্যসভার সাংসদ হন।

Paranjoy Guha Thakurta
৫ মিনিট
ধীরুভাই আম্বানি, বাল ঠাকরেদেরও বোকা বানিয়েছিলেন প্রীতীশ নন্দী

প্রীতীশ নন্দী ছিলেন বিচিত্রকর্মা, অত্যন্ত প্রতিভাবান এবং বিতর্কিত এক ব্যক্তিত্ব। তাঁর জন্ম ভাগলপুরে। পড়াশোনা কলকাতার লা মার্টিনিয়ের স্কুলে, তারপর প্রেসিডেন্সি কলেজে। আমি লা মার্টিনিয়ের স্কুলে তাঁর সহপাঠী ছিলাম। তাঁর মা পড়াতেন লা মার্টিনিয়ের-এ। ৭৪তম জন্মদিনের প্রাক্কালে তাঁর প্রয়াণ।

প্রীতীশ নন্দী কাজ করেছেন সাহিত্য, সাংবাদিকতা সহ নানা ক্ষেত্রে। ইংরেজি ভাষার কবি হিসেবে সমাদৃত হয়েছেন দেশ জুড়ে। বিভিন্ন ভাষার কবিতা, বিশেষত বাংলা ভাষার কবিতা ইংরেজি অনুবাদ করেছেন প্রীতীশদা। প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়ার সময়ই শুরু করেছিলেন কবিতা পত্রিকা প্রকাশ, যদিও কলেজের পাঠ শেষ না করেই অগ্রসর হয়েছেন কর্মক্ষেত্রে। বিভিন্ন ভারতীয় ভাষার কবিতা তিনি অনুবাদ করেছেন এবং প্রকাশেও উদ্যোগী হয়েছেন। বাংলা, পঞ্জাবী, উর্দু এইসব ভাষার কবিতা তাঁর ইংরেজি অনুবাদে প্রকাশিত হয়েছে। ঈশোপনিষদের ভাষ্যও অনূদিত হয়েছে ইংরেজিতে। সংস্কৃত সাহিত্যের ধ্রুপদী প্রেম-প্রণয়ের কবিতাও বৃহত্তর পাঠকের জন্য তর্জমা করেছেন ইংরেজি ভাষায়। ভারতবর্ষে পশুদের অধিকার সুরক্ষিত করতে মানেকা গান্ধির সঙ্গে জোট বেঁধে গড়ে তুলেছিলেন একটি অসরকারি সংস্থা। এক্ষেত্রে তাঁদের এই উদ্যোগ বাস্তবিকই দৃষ্টান্তমূলক।

গত ২০০১ সাল থেকে ব্রতী হয়েছিলেন চলচ্চিত্র প্রযোজনায়। ‘Pritish Nandy Communications’ নামের ফিল্ম প্রযোজনা সংস্থার কর্ণধার ছিলেন তিনি। সুধীর মিশ্রর ‘হাজারোঁ খোয়াইশেঁ অ্যায়সি’ দেশ জুড়ে প্রশংসিত হয়। একই পরিচালকের ‘চামেলি’, অঞ্জন দত্তর ‘বো ব্যারাকস ফর-এভার’, সুজয় ঘোষের ‘ঝংকার বিটস্‌’ ইত্যাদি ছবিও উল্লেখের দাবি রাখে। একদিকে এইসব ছবি, অন্যদিকে সানি লিওনের মতো অভিনেত্রীকে নিয়ে ‘মস্তিজাদে’ ছবিটির প্রযোজনাও তাঁরই কীর্তি।

এর আগে প্রীতীশ নন্দী ‘The Times of India’ গোষ্ঠীর প্রকাশন অধিকর্তার (Publishing Director) গুরুভার নির্বাহ করেন ১৯৮২ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত। একইসঙ্গে তিনি ‘The Illustrated Weekly of India’-র সম্পাদনাও করেছেন। তিনি শিবসেনা দলের সমর্থনে রাজ্যসভার সাংসদও হয়েছিলেন। তাঁর দাদা আশিস নন্দী দেশজানিত চিন্তক ও লেখক। তাঁর আরেক ভাই মণীশ নন্দী।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ক্ষমতার কাছাকাছি থেকেও মস্তিষ্ককে বিক্রয়যোগ্য করে তোলেননি প্রীতীশ

Sudhir Mishra on Pritish Nandy: প্রীতীশ নন্দীর সঙ্গে আমার প্রথম আলাপ দিল্লিগামী একটা ফ্লাইটে। তখন ‘হাজারোঁ খোয়াইশেঁ অ্যায়সি’ ছবির জন্য টাকা জোগাড়ের যাবতীয় চেষ্টার পর ব্যর্থ হয়েছি।

প্রীতীশদা ছিলেন বহু গুণে গুণান্বিত। ভালো ছবি আঁকতেন। তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘Gods and Olives’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে। গত শতাব্দীর সাতের দশকে ‘Dialogue’ নামের কবিতাপত্র প্রকাশ শুরু করেন তিনি। ‘ওয়ার্ল্ড আকাডেমি অফ আর্টস অ্যান্ড কালচার’-এর পঞ্চম বিশ্ব সম্মেলনে তাঁকে ‘Poet Laureate’ আখ্যা দেওয়া হয়। তাঁর লেখা ‘Calcutta If You Must Exile Me’ অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়। ভাবলে অবাক লাগে, ‘The Independent’ নামের সংবাদপত্রের সূচনা হয় তাঁর হাত ধরে, আবার ‘Filmfare’-এর মতো প্রবল জনপ্রিয় পত্রিকারও প্রধান পরিকল্পনা তাঁর। ১৯৯৩ সালে টাইমস গ্রুপ থেকে বেরিয়ে এসে গড়ে তোলেন ‘প্রীতীশ নন্দী কমিউনিকেশনস’। কলাম লিখেছেন টাইমস ছাড়াও দৈনিক ভাস্কর, দিব্য ভাস্কর, সংবাদ প্রতিদিন, মুম্বই মিরর প্রভৃতি পত্র-পত্রিকায়। বম্বের Hotel Leela Kempinski-তে ১৯৯৬ সালে স্থাপন করেন ভারতবর্ষের প্রথম সাইবার ক্যাফে। তাঁর কর্মজীবন ছিল বিপুল বিস্তৃত এবং বহুব্যাপৃত। নিত্যনতুন ভাবনায় উজ্জীবিত প্রীতীশদা এগিয়ে গিয়েছেন অভিনব প্রকাশের অভ্যর্থনায়। টেলিভিশনের জন্যেও বহু জনপ্রিয় অনুষ্ঠান করেছেন। ‘The Pritish Nandy Show’, ‘Fiscal Fitness : The Pritish Nandy Business Show’ তাঁর সাড়া জাগানো অনুষ্ঠান। ওটিটি মাধ্যমে মুক্তি পাওয়া ‘Modern Love Mumbai’ (২০২২) সম্প্রতি তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

এই গেল প্রীতীশদার কর্মজীবনে বিশেষ কিছু অধ্যায়ের প্রসঙ্গ। সাংবাদিক হিসেবে অকুতোভয় মনে তিনি পাশে দাঁড়িয়েছেন সহকারীদের। সাংবাদিক হিসেবে তাঁর গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত প্রবল বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। নিন্দার ঝড়ও উঠেছে বিভিন্ন মহলে। তাঁর মৃত্যুর পরও অভিনেত্রী নীনা গুপ্তা তাঁকে একজন ধিকৃত এবং নিন্দিত মানুষ বলতে কসুর করেননি। নীনা গুপ্তা গত শতকের আটের দশকে প্রণয়বন্ধনে আবদ্ধ হন কিংবদন্তি ভিভিয়ান রিচার্ডসের সঙ্গে। নীনা-কন্যা মাসাবার জন্ম হয় ১৯৮৯-তে। নীনা চেয়েছিলেন একক মাতৃত্বের অধিকার। অর্থাৎ একাই তিনি বড় করবেন মাসাবাকে। নীনা গুপ্তার অনুমতি ছাড়াই প্রীতীশ নন্দী মাসাবার জন্মের শংসাপত্র জনসমক্ষে আনেন, যেখানে মাসাবার বাবা হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান এই ক্রিকেট তারকার নাম ছিল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মাটির মানুষ আমার 'ইরফান ভাই'

Memories of Irrfan: ইরফান ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করাটা একটা অভিজ্ঞতা! ইরফান সংলাপ বললেই আমাদের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যেত। মনে হত কেবল অভিনয়টাই দেখি! মনে হত প্রতিটা পদক্ষেপ থেকে শেখার কিছু রয়েছে।

১৯৮৬ সালে, ‘The Illustrated Weekly of India’-তে উড়িষ্যার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জানকীবল্লভ পট্টনায়েককে নিয়ে চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সম্পাদক প্রীতীশ নন্দী। প্রতিবেদক, কলকাতার সাংবাদিক এস.এন.এম আব্‌দি। ‘The Strange Escapades of JB Patnaik’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে রীতিমতো ঝড় ওঠে। পরবর্তীকালে ‘moneycontrol.com’-এ আব্‌দি লেখেন, জানকীবল্লভের কর্মকাণ্ড যখন উন্মোচিত হচ্ছে, সম্পাদক প্রীতীশ নন্দী অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে তাঁর পাশে থেকেছেন।

Reader’s Digest পত্রিকার প্রাক্তন সম্পাদক তথা খুশবন্ত সিংয়ের পুত্র রাহুল সিং লিখেছেন, প্রীতীশ নন্দীর বেশ কয়েকটি কাজ স্মরণীয়। তিনি নীনা-কন্যার পিতৃত্বের খবর জনপরিসরে এনেছেন। আবার ভণ্ড প্রতারক অথচ স্বঘোষিত সাধক চন্দ্রস্বামীর কুকীর্তিও ফাঁস করেছেন। রাহুলের স্পষ্ট বক্তব্য, সমীর জৈন, ধীরুভাই আম্বানি এবং বালাসাহেব ঠাকরের মতো অত্যন্ত প্রভাবশালী তিন ধুরন্ধর ব্যক্তিকে এক অর্থে বোকা বানাতে সফল হয়েছিলেন প্রীতীশ নন্দী। রাহুল সিং বিস্তারিতভাবে বলেছেন, ‘The Times of India’ গোষ্ঠীর প্রবল প্রতাপশালী সমীর জৈন তাঁকে ‘The Illustrated Weekly’ এবং ‘The Evening News’ এই দু'টি পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব দেন। পত্রিকা দুটোই বন্ধ হয়ে যায়। ধীরুভাই আম্বানি তাঁর হাতে তুলে দেন ‘The Sunday Observer’-এর দায়িত্ব। সেই সময় এই পত্রিকাটি ছিল বহুল প্রচারিত। এই পত্রিকারও ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যায়। দোর্দণ্ডপ্রতাপ হিন্দুত্ববাদী বালাসাহেব ঠাকরে ভেবেছিলেন প্রীতীশ নন্দী হিন্দু ধর্মাবলম্বী। বালাসাহেবের আনুকূল্যে তিনি রাজ্যসভার সাংসদ হন। প্রীতীশ নন্দী আসলে ছিলেন খ্রিস্টান। সেই সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর এইসব কীর্তি রীতিমতো চমকপ্রদ।

প্রীতীশদাকে নিয়ে বলা যায় আরও নানা কথা। তবে আমার মনে পড়ছে, বেশ কিছু বছর পর, গত অক্টোবরে তাঁর নারিমান পয়েন্টের অফিসে আমার সাক্ষাৎ হয় তাঁর সঙ্গে। আমি তাঁকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলি, ‘The Illustrated Weekly’-তে তিনি আমাকে যেসব প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখতে উৎসাহিত করেছেন, তা আমার চিরদিন মনে থাকবে। তাছাড়াও এই পত্রিকার জন্য জ্যোতি বসু, অশোক মিত্র প্রমুখের সাক্ষাৎকারও নিয়েছি। তবে তিনি শিবসেনার সমর্থনে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। অনেকেই জানেন, শিবসেনা-প্রধান বালাসাহেব ঠাকরে ছিলেন তীব্র মুসলমান-বিদ্বেষী। তাঁর ঘৃণা-ভাষণের পরিপ্রেক্ষিতে কোর্টের নির্দেশে তাঁর ভোটে লড়াও বন্ধ করা হয়েছিল। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ভাঙার পর, মুম্বইতে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শিবসেনার নেতৃত্বে রীতিমতো মুসলমান নিধন সংঘঠিত হয়। এ ধরনের কোনও প্রসঙ্গ কথার মাঝে উত্থাপিত হলে প্রীতীশদা আমায় বলতেন, তিনি ছিলেন একজন স্বাধীন সাংসদ। এই প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে তিনি ফিরে যেতেন তাঁর কলকাতার দিনগুলিতে। প্রেসিডেন্সি কলেজ, কাব্যচর্চা, লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ— এসব নানা কথা ঘুরে ফিরে আসত। তিনি Guest Keen Williams নামক এক বহুজাতিক সংস্থার জনসংযোগ বিভাগে কাজ করতেন। সেই সময়ে সংস্থার প্রধান ছিলেন সুখেন্দু রায়।

যাই হোক, আমার মনে হতো তাঁর বিপুল কর্মকাণ্ড নিয়ে তাঁর একটি সাক্ষাৎকার নিই। আমি কিছুটা দ্বিধান্বিত ছিলাম। প্রীতীশ বলেছিলেন, আমি ফের মুম্বই গেলে আবার দেখা হবে। আমি বুঝতে পারিনি, ক্যানসার তাঁকে গ্রাস করছে অত্যন্ত দ্রুত। কখনও ভাবতে পারিনি, তিনি এমন অকালে চিরবিদায় নেবেন। তাঁর ৭৪তম জন্মদিনের ঠিক এক সপ্তাহ আগে তিনি চিরতরে চলে গেলেন।

অনুলিখনে সুদেব সিনহা

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কালীপূজার আলোয় সোহরাইয়ের ছায়া, আদিবাসী লোকধর্মের সঙ্গে শাক্ত ঐতিহ্যের সম্পর্ক কতটা গভীর?

Tribal Folk Religion in Bengal: কার্তিক মাসের অমাবস্যায় বাংলার বহু অঞ্চলে যখন দীপাবলি ও শ্যামাপূজা উদ্‌যাপিত হয়, তখন রাঢ়বাংলা ও ছোটনাগপুর মালভূমির বিভিন্ন জনপদে কৃষিজীবন, গৃহপালিত পশু এবং প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে সোহরাই বা বাঁদনা পরব পালিত হয়।

শিকলে বাঁধা দেবী, ডাকাতদের আরাধ্যা! দক্ষিণ কলকাতার চেতলার ডাকাত কালীর ইতিহাস

Dakat Kali: দক্ষিণ কলকাতার চেতলায় রয়েছে রহস্যে মোড়া প্রাচীন ডাকাত কালীবাড়ি। লোককথা অনুযায়ী, একসময় ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে এই মন্দিরে পুজো দিত দস্যুরা। লুটের সম্পদও নিবেদন করত দেবীর চরণে। কিন্তু কেন শিকলে বাঁধা রয়েছে দেবীমূর্তি? নীলু-ভুলু ডাকাতের কাহিনি থেকে সারদা দেবীর আগমন—জানুন এই মন্দিরের ইতিহাস।

বাংলার ভূতেরা কেমন দেখতে, কোথায় থাকে, কী খায়?

Ghosts of Bengal: পাশ্চাত্যের বহু ভৌতিক আখ্যানের তুলনায় বাংলার লোককথায় ভূতেরা অনেক বেশি গৃহস্থালি জীবন, খাদ্যাভ্যাস, সামাজিক পরিচয়, শ্রেণিবিন্যাস এবং ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত। তারা কখনও মাছের প্রতি আসক্ত, কখনও গাছের ডালে আশ্রয় নেওয়া ভবঘুরে, কখনও অসমাপ্ত সংসারের স্মৃতি বহনকারী নারী, আবার কখনও ব্রাহ্মণ্য সামাজিক মর্যাদার প্রতীক।

দেশভাগের ক্ষত বুকে নিয়েই গড়ে উঠেছিল ঢাকা কালীবাড়ি, দক্ষিণ কলকাতার মন্দিরের ইতিহাস

Dhaka Kalibari: দেশভাগের পর বরিশাল থেকে কলকাতায় এসে নিজের শিকড়ের স্মৃতি ধরে রাখতে মন্দির গড়ে তুলেছিলেন ননীগোপাল চক্রবর্তী। দক্ষিণ কলকাতার প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের এই মন্দিরই আজ পরিচিত ঢাকা কালীবাড়ি নামে। মাটির প্রতিমা থেকে কষ্টিপাথরের বিগ্রহ, কালীপুজোর বিশেষ ভোগ—মন্দিরটির ইতিহাসে মিশে রয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস ও দেশভাগের স্মৃতি। কী ভাবে?

বইয়ের জন্য হাঁটতে হয় কেন?

Walk for Books 2026: প্রায় পঞ্চাশ-ষাট বছর আগে বইমেলাকে মনে করে বইয়ের জন্য একবার হেঁটেছিল বাঙালি। তারপর দীর্ঘ বিরতি পেরিয়ে আবার এই ৩১ অক্টোবর, ২০২৬-এ দেখা গেল সেই ছবি। হুড়দুড় করে ছেলেবুড়োমেয়েমদ্দ সব রাস্তায় নেমে এল—এ কী আজব খেলা রে ভাই!

শতবর্ষ পেরিয়েও ঋত্বিক ঘটক যেন আজও সমকালীন

Ritwik Ghatak: আমরা যখন ছোট ছিলাম, মানে ষাটের দশকের সেই শেষ দিকে বা সত্তরের দশকে, তিনি কত না অদ্ভুতভাবে আমাদের প্রভাবিত করতেন। যেমন একদিন আমাদের রবীন্দ্রসদনের সামনে দেখতে পেয়ে তিনি হঠাৎ বললেন, আমাকে একটা ট্যাক্সি ধরে দেবে?

কলকাতায় চালু হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল অফ ম্যাজিক অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস

West Bengal School of Magic: মুখ্যমন্ত্রী ‘পশ্চিমবঙ্গ স্কুল অফ ম্যাজিক, ইল্যুশন অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস’ স্থাপনের প্রস্তাবে অনুমোদন করেছেন। পুজোর পর উপদেষ্টা কমিটির সদস্যরা বৈঠক করবেন।

বিভূতিভূষণের উপন্যাস কেবল দৃশ্যের নয়, শব্দেরও এক জগৎ তৈরি করে

Bibhutibhushan Bandyopadhyay: বাংলা সাহিত্যে বিভূতিভূষণকে আমরা সাধারণত প্রকৃতির কবি বলেই চিনি। তাঁর বর্ণনায় নদী, মাঠ, বন, আকাশ, ঋতু আর গ্রামীণ জীবনের যে ছবি ফুটে ওঠে, তা নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তাঁর সাহিত্যকে যদি একটু অন্য দিক থেকে দেখা যায়? যদি আমরা শুধু দৃশ্যের দিকে না তাকিয়ে শোনার চেষ্টা করি?