যারা ফিতে কাটছে পারিশ্রমিক নিয়ে, বেশ করছে! শিল্পীদের সময়ের দাম আছে বইকি

Tollywood actor-writer Rahul writes: ফিতে যারা কাটে, তারা বেশ করে।

Rahul Arunodoy Banerjee
৩ মিনিট
যারা ফিতে কাটছে পারিশ্রমিক নিয়ে, বেশ করছে! শিল্পীদের সময়ের দাম আছে বইকি

উদ্বোধন শব্দটার মধ্যে যে সাত্ত্বিকতা আছে, ফিতে কাটার মধ্যে তা নেই। তা অনেক বেশি কেজো ও কর্কশ। তা আমাদের সেলেব কানের পক্ষে পীড়াদায়ক, আবার উদ্বোধনের গায়ে যে গোবিন্দভগ চালের গন্ধ, তাও যে সত্যি নয়, তা আমরা বিলক্ষণ জানি। তাই আমরা ইংরেজির আশ্রয় নিই, ’ওপেনিং’ শব্দটাই আমাদের পৃথিবীর সবচেয়ে চালু শব্দ। আর পুজো-পরবের আগে আপনি যদি কান ওপেন রেখে স্টুডিও দিয়ে হেঁটে যান, বিস্তর দরদাম শুনতে পাবেন।কেউ উচ্চস্বরে দাপটের সঙ্গে, কেউ কোনায় লুকিয়ে ফিসফিস করে। টাকার সঙ্গে আরও অনেক বোঝাপড়া করার থাকে। তেল দেবে না গাড়ি? বডি গার্ড দেবে না নিজেকেই নিজের বডির দায়িত্ব নিতে হবে? কতক্ষণ থাকতে হবে গিয়ে? ক'জনের সঙ্গে সেলফি তুলতে হবে?এইবার কী হয়, সখ্য থাকলে সবসময় অত আড়াল দরকার পড়ে না।

ঠিক এখানেই ভুল হয়েছিল ভোম্বলদার (নাম পরিবর্তিত)। অরুণাদির (নাম পরিবর্তিত) সঙ্গে অনেকদিন ধরেই অভিনয় করছেন ভোম্বলদা। বন্ধুত্ব তো হয়েইছে, অরুণার কনভেন্টে পড়া ইংরেজি। ঝকঝকে স্মার্টনেস, ভণিতাহিন ভুরু, এসবে, যাকে বলে, ভোম্বলদা একটু কুপোকাত হয়েই ছিলেন।দু'জন সাজঘরে গল্প করছে, এমন সময় ভোম্বলদার কাছে ফোন, ওপেনিং করতে হবে। বেশ করতে হবে তো করতে হবে, ভোম্বলদা অকুতোভয়ে নিজের 'রেট' বলে দিলেন। ফোন নামিয়ে দেখেন, অরুণা তার দিকে অভিমানী চোখে তাকিয়ে আছে, চোখ ছাপিয়ে আসছে স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা। ভোম্বলদার মাথায় বিলি করে দিয়ে অরুণা বলল, "Don’t do this to yourself bhombol, you are such a famous actor, you deserve much more than this, don’t sell yourself so cheaply,” বলে উদগত কান্না আটকাতে না পেরে বেরিয়ে গেলেন ঘর থেকে। ভোম্বলদার চোখ খুলে গেল।রাস্তায় দেখলেই যদিও লোকে ভুল সিরিয়ালের নাম বলে, তাও চেনে তো! এত গভীর চিন্তায় পড়ে গেলেন ভোম্বলদা, যে, লাঞ্চ স্টুডিওর মাছের ঝোলে নিজের নকল দাড়ি মেখে খেয়ে নিচ্ছিলেন, সহ-অভিনেতারা দৌড়ে এসে সামাল দেন। লাঞ্চের পর গলা-টলা খাকরে অর্গানাইজারকে ফোন। ধরুন, আগের ফোনে ভোম্বলদা ৫ টাকা চেয়েছিল, এবার ডিরেক্ট ১২ টাকা ল্যান্ড করল, বিনা কারণে। হতবাক অর্গানাইজার মুখের ওপর ফোন দিল কেটে। গায়ে সিংহের বল চলে এসেছে তখন ভোম্বলদার, একা-একাই ঘর কাঁপিয়ে ঠা ঠা করে হাসলেন খানিকক্ষণ। ঘণ্টা গেল, অর্গানাইজার ফোন করল না, দু'ঘণ্টা, তিন, চার, পাঁচ, ফোন আর এলই না।এদিকে অরুণাও কেমন এড়িয়ে এড়িয়ে যাচ্ছে, ফোনেই বেশি ব্যস্ত যেন। রাতে বাড়ির খাবার খেয়ে মাথা একটু ঠান্ডা হলো, ভাবলেন অর্গানাইজারের সঙ্গে এত দিনের সম্পর্ক, এবারেরটা নাহয় ৫ টাকাতেই করে দিলেন, পরের বার বাড়ালেই হবে। বারচারেক ফোন করলেন, পামরটা ওঠাল না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
স্টারডমের দুনিয়া ক্ষমাহীন, পল্লবীদের দুঃখ বেড়ে বেড়ে ক্যানসার হয়ে ওঠে সেখানে

We are sad generation of people with happy pictures. আমরা প্রত্যেকে আমাদের আনন্দ উদযাপন করি দুঃখকে যথাসম্ভব রেখেঢেকে।

গল্পটা এখানেই শেষ হয়ে যেতে পারত। কিন্তু তা হলো না,পরেরদিন ভোম্বলদা দেখলেন অরুণা সাজঘর থেকে হাসতে হাসতে বেরচ্ছে, সঙ্গে ওই অর্গানাইজার, অ্যাডভান্স করতে এসেছে। ভোম্বলদার সেই কান্নার শব্দ আজও প্রতি অমাবস্যায় স্টুডিও-র আনাচকানাচে শুনতে পাওয়া যায়, বড় বেদনাদায়ক।

অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করেন, শিল্পীদের এই ফিতে কাটাকে আমি কী চোখে দেখি। আমি নির্দ্বিধায় এবং সোচ্চারে জানাতে চাই, এতে আমার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। আমি অনেকদিন করি না, সেটা আমার ইচ্ছে, কিন্তু যে করে, বেশ করে। আমাদের কাজ আজ আছে, কাল নেই, কোভিডের সময় শিল্পীদের অধিকাংশর কী অবস্থা হয়েছিল, তা আমরা ভুক্তভুগীরাই শুধু জানি।আর আপনি একজন শিল্পীকে ডাকছেন, আর সে পঞ্চমীর দিন নিজের পাড়া, বন্ধু ছেড়ে আসছে যখন, তার সময়ের একটা দাম আছে বইকি। আর আপনি সেই শিল্পীকে ডেকেছেন, কারণ, সে আপনাদের মনে একটা জায়গা করতে পেরেছে। কিন্তু এটা তো একদিনে হয়নি, আপনার মঞ্চ পর্যন্ত আসার আগে যে দীর্ঘ বঞ্চনার ইতিহাস আছে, অপমানের অধ্যায় আছে, না-ঘুমোনো অজস্র রাত আছে, তার খবর কে রাখে?এবং আগামীতে সেই শিল্পী যদি নিজেকে প্রাসঙ্গিক না রাখতে পারেন, তাঁকে ভুলে যেতেও কেউ এক মুহূর্ত নেবে না। কাজেই উষ্ণ সময়কে ব্যবহার করার মধ্যে আমি অন্তত কোনও ভুল দেখি না। যদি অযোগ্য মনে হয়, ডাকবেন না, কিন্তু ডাকলে বিলক্ষণ পয়সা দেওয়াটাই দস্তুর। উপরোধের ঢেঁকি হলে আলাদা কথা।বন্ধুদের অনুরোধে অনেক কিছু করা যায়।

খইরুদ্দিন মসজিদ অমৃতসরের প্রাচীন মসজিদ।দেশভাগের পর অমৃতসরে মুসলিম ছিল না বললেই চলে। খইরুদ্দিন মসজিদও নিশ্চুপ হয়ে গেল সময়ের সঙ্গে, পাড়ার এক-দু'ঘর প্রাচীন হিন্দু পরিবার দীর্ঘশ্বাসে মিশিয়ে বলত, খইরুদ্দিনের সরগরম দিনগুলোর কথা। স্বাধীনতার প্রায় এক দশক পরে ১৯৫৬-তে অমৃতসরের ওই পাড়ার লোকে চমকে ওঠে, মুয়াজ্জিন ফিরে এসেছে, আজান দিচ্ছে, দিকে দিকে হিন্দু পরিবারে উৎসব শুরু হয় ওই অসময়, খইরুদ্দিন জেগে উঠেছে আবার। এটাও তো এক রকমের ফিতে কাটা, এর ওপর রাগ করা যায় বলুন?

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।