রবীন্দ্রনাথ থেকে নেতাজি সুভাষ, উপন্যাসের পাতায় পাতায় ধরা পড়েন এক অন্য রোদ্দুর রায়

অনির্বাণ রায় সম্পর্কে একটি বাক্যে যা বলা যায়, তা হলো: বহুজাতিক সংস্থায় কর্মরত তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিক স্তরের কনশাসনেস সায়েন্সের স্বীকৃত গবেষক ও বক্তা, নেচার অ্যাক্টিভিস্ট ও ইউটিউবার। এহেন অনির্বাণ একটি চরিত্রের ভূমিকায় অভিনয় করে, তার নাম রোদ্দুর রায়।

Surojit Sen
৫ মিনিট
রবীন্দ্রনাথ থেকে নেতাজি সুভাষ, উপন্যাসের পাতায় পাতায় ধরা পড়েন এক অন্য রোদ্দুর রায়

অনির্বাণ রায় সম্পর্কে একটি বাক্যে যা বলা যায়, তা হলো: বহুজাতিক সংস্থায় কর্মরত তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিক স্তরের কনশাসনেস সায়েন্সের স্বীকৃত গবেষক ও বক্তা, নেচার অ্যাক্টিভিস্ট ও ইউটিউবার। এহেন অনির্বাণ একটি চরিত্রের ভূমিকায় অভিনয় করে, তার নাম রোদ্দুর রায়। রোদ্দুর একটি ফিকশনাল চরিত্র।

রোদ্দুরকে আমি চিনি একজন ভয়েস অ্যানার্কিস্ট আর্টিস্ট হিসেবে। বেশ কয়েক বছর ধরে ওর শব্দ আর স্বর নিয়ে নানা রকম এক্সপেরিমেন্টাল ভিডিও দেখে বা শুনে আসছি। যেগুলো দেখে বোঝা যায়, ওর একটি নির্দিষ্ট রাজনীতি আছে, যেটাকে আমার মনে হয় অ্যানার্কিজম। রোদ্দুর অপশব্দ ব্যবহার করে গান গেয়ে এবং পারফর্ম করে সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়েছে। এক সময় রোদ্দুর ডিজে-র কাজ করেছে, সে শুধু গিটারিস্ট নয়, গায়ক এবং লেখকও । ২০১৫ সালে রোদ্দুরের একটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছিল, নাম, ‘পরম ক্যাওড়া কাব্যগ্রন্থ’। সেই বইতে ব্যাঙ্গ, খিস্তি ও নানারকম ক্যাওড়ামোর মধ্যে একটি কবিতার অংশ ‘এখনো আমার নিজের কবিতা- বই আধোঘুমে দেয় হঠাৎ হঠাৎ দেখা / এখনো কখনো মিছিলের মেঘ দেখে / মনে পড়ে কোনো পুজো বা ইদের কথা / আমিও সহিনু শতেক যাতনা কতো / সহিতে হইল হাড়গোড় ভাঙা ক্ষত / এখনো তোমার রাস্তা বাড়ির নীচে / মোর কঙ্কাল মোড়া আছে কালো পিচে'। ['কেলিয়ে গিয়েছি ফেঁসে']

রবীন্দ্রনাথের ‘সেদিন দুজনে দুলেছিনু বনে’ গানের অন্তরার লাইনটিতে ‘যেতে যেতে পথে পূর্ণিমা রাতে চাঁদ উঠেছিল গগনে'-র পরে একটি অপশব্দ বসিয়ে গানটি গেয়েছিল ইউটিউবে। সেই গান মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। সেবার তার সমর্থন ও বিরোধিতায় দ্বিধাবিভক্ত ছিল সোশ্যাল মিডিয়ার জেন-ওয়াইরা। ওই অপশব্দ সহযোগেই খোদ বিশ্বভারতীতে রবীন্দ্রনাথের ওই গানের রোদ্দুর-সংস্করণ গেয়ে বিতর্ক তৈরি করেছিল কিছু ছাত্রছাত্রী। একই সঙ্গে ওই বছরই বসন্ত উৎসবে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের পিঠে আবির দিয়ে রোদ্দুরের গানের বিতর্কিত লাইনটি লিখেছিল কিছু মেয়ে, সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এই নিয়ে বিরোধিতা চরমে গিয়েছিল সুশীল সমাজে এবং সম্ভবত সেই সময়ও সাইবার ক্রাইমে রোদ্দুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। এটা ২০২০ সালের মার্চ মাসের ঘটনা।

ইউটিউবার রোদ্দুর রায় বেশ কয়েক বছর ধরে এই কাজটা করে আসছে, এই মুহূর্তে সেটা ভারতে আর কত জন করছে আমি জানি না, আর বাংলা সাহিত্যে এই ধরনের কাজ আগে করেছেন হাংরি জেনারেশনের লেখকরা, পরে সুবিমল মিশ্র আর নবারুণ ভট্টাচার্য। প্রসঙ্গত, রোদ্দুর নিজেকে নবারুণ ভট্টাচার্যর ভাবশিষ্য বলে মনে করে। এই যে মেনস্ট্রিম কালচার বা পলিটিক্সকে অনবরত সাবভার্ট করে যাওয়া, এটার একটা সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট ফেলতে রোদ্দুর সক্ষম হয়েছে। এমনকী, তার নিজের নামের বানানটাও সে ‘দ্দূ’ লেখে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আসলে কে এই রোদ্দুর রায়, কেন এই ভূমিকায়! পরিচয় জানলে চমকে উঠতে হবে

অনির্বাণ রায় যখন থেকে রোদ্দুর রায় হয়ে উঠতে শুরু করলেন, তখনও তাঁর জনপ্রিয়তা এতটা হয়নি। রবীন্দ্রনাথের গানের 'অচলায়তন' ভাঙার মধ্য দিয়েই প্রথম আবির্ভাব ঘটে রোদ্দুর রায়ের।

আজ ফেসবুকে তার ফলোয়ারের সংখ্যা ৪ লক্ষ ৯১ হাজারের মতো‌। রোদ্দুরের কোনও কোনও পোস্টে আমি ১৫০০-র বেশি রিঅ্যাকশনও দেখেছি। ওর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা ৩ লক্ষ ২৮ হাজার। রোদ্দুরের ভিডিওগুলোর কোনও কপিরাইট থাকে না। তার মানে ও কপিলেফট আন্দোলনে বিশ্বাস করে। এই রকম একটা ভার্চুয়াল রিয়‍্যালিটি তৈরি করা সহজ নয়। সবাই যে ওর প্রশংসা করে তা নয়, অনেকেই ওকে খিস্তি করে। আমার ধারণা, ও সেটা এনজয় করে, না করলে ও এই জিনিসটা চালিয়ে যেতে পারত না, ও এক ধরনের সাদো-ম্যাসোকিস্ট প্লেজার ট্রিপে থাকে। রোদ্দুরের দর্শন হল মোক্সাবাদ, সংস্কৃত ‘মোক্ষ’ শব্দ থেকে এসেছে মোক্সা। মোক্ষর অর্থ আত্মার মুক্তি। রোদ্দুরের ভাষায়, ‘আমি বলতে চেয়েছি, মোক্সা হলো স্বাধীনতা। নাগরিক মানুষের জন্য স্বাধীনতা, প্রেম ও শান্তি। আমি একজন সন্তের জীবনযাপন করি। আমি বেশিরভাগ সময় ভাবসমাধিতে থাকি।' রোদ্দুরের দাবি, সে পোস্টমর্ডানিজম, ডিকস্ট্রাকশন ও ভারতীয় অদ্বৈতবাদের মিশ্রণ ঘটিয়েছে তার মোক্সা আর্টে। সে মনোবিজ্ঞানের ওপর একটি বই লিখেছে, নাম ‘অ্যান্ড স্টেলা টার্নস এ মম’। নৃত্যশিল্পী থাঙ্কোমণি কুট্টির সঙ্গে সে লেখক হিসেবে কাজও করেছে।

রোদ্দুরের কথায়, ‘আমি বিশ্বাস করি, শিল্পে এই ভালো আর মন্দের মাঝামাঝি কিছু জায়গা থাকবে। কিছু ফাজি লজিক থাকবে। শিল্প-সাহিত্যে আমি যখন একটা এক্সপ্রেশন নিয়ে আসছি, তখন কোনও সংজ্ঞায় আটকে থাকাটাকে আমি মানি না। সংজ্ঞা থাকা উচিত এক্সপ্রেশনের। কোনও একটা ফ্রেম না থাকলে এক্সপ্রেস করা যায় না। আমি ছোটবেলা থেকে নিজেকে ব্রডকাস্ট করার চেষ্টা করেছি, আমি কোনও মাধ্যম পাইনি, আমি ইউটিউব চ্যানেলের বাণী দেখেছি, সেটা হচ্ছে, ব্রডকাস্ট ইওরসেল্ফ। তো আমি ব্রডকাস্ট করতে শুরু করলাম, এখনও করে যাচ্ছি।'

প্রসঙ্গত রোদ্দুর ২০১২ থেকে ইউটিউবে চ্যানেলে ব্রডকাস্ট করছে। রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ, সুকুমার– এঁদেরকে সে ব্যক্তি মানুষ হিসেবে দেখে না। রোদ্দুর বলে, ‘তাঁদের আত্মার যে প্রতিফলন তাঁদের কাজে পড়েছে, সেই কাজগুলো আমাকে স্পর্শ করেছে। আমি এঁদের অসম্ভব ভক্ত। এঁদের কাজের সঙ্গে আমার আত্মাকে আমি জুড়তে পেরেছি। সেই জায়গা থেকে একটা মূল্যবোধ চলে এসেছে। সেটাকে আমি ধরার চেষ্টা করেছি‌।' ব্যক্তিগত আলাপের সূত্রে জানি, রোদ্দুর বাহুল্যবর্জিত সাধারণ জীবনযাপন করে, স্বপাক আহার করে আর নিজেকে নিয়েও ক্রমাগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যায়।

ফিকশানাল চরিত্র তৈরি করার ঐতিহ্য আমাদের বাংলায় সেই উনিশ শতক থেকে আছে। কালীপ্রসন্ন সিংহ ‘হুতোম প্যাঁচা’ নামে নকশা লিখতেন তৎকালীন বাংলা কথ্য ভাষায়, এমনটাই ধারণা ইতিহাসবেত্তাদের। সেই নকশায় শহরের মান্যগণ্যদের নাম না করে যথেচ্ছ কুৎসা করা হয়েছে। আবার যখন তিনি কালীপ্রসন্ন সিংহ, তখন তিনি সংস্কৃত পণ্ডিতদের সঙ্গে বসে মহাভারত সম্পাদনা ও অনুবাদ করছেন।

রোদ্দুরের উপন্যাস ‘মোক্সা রেনেসাঁ’ বাঙালির উনিশ শতকী নবজাগরণের একটি অদ্ভুত রসের কল্পঘটনা, যা স্ট্রিম অফ কনশাসনেসের ফর্মে লেখা। এটি উৎসর্গ করা নবারুণ ভট্টাচার্যকে আর এই উপন্যাসের ভূমিকা লিখেছে ফিল্মমেকার কিউ। এটি পড়ার অভিজ্ঞতা আমার কাছে অ্যাসিড ট্রিপের মতো। উপন্যাসের পরিচ্ছদগুলোর নাম বাংলার উনিশ শতকের রেনেসাঁর চরিত্রদের উক্তি বা লেখা থেকে। শুধু উনিশ কেন? বিশ শতকের রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জগদীশচন্দ্র এবং আরও অনেকে আছেন। কয়েকটি পরিচ্ছেদের নাম, ১. জানি বন্ধু জানি, তোমার আছে তো হাতখানি [রবীন্দ্রগানের লাইন] ২. মহাশয়, আপনার কি কুলির প্রয়োজন? [বিদ্যাসাগরের সেই বিখ্যাত প্রশ্ন] ৩. হে ভারত! ভুলিও না [বিবেকানন্দের উক্তি], ৪. দাঁড়াও পথিকবর! [মাইকেল মধুসূদনের এপিটাফের লাইন] ৫. নদী তুমি কোথা হইতে আসিয়াছ [জগদীশচন্দ্র বসুর উক্তি] ইত্যাদি। যে পরিচ্ছদের নাম, ‘কারার ওই লৌহকপাট, ভেঙে ফেল কর রে লোপাট’, সেই পরিচ্ছদে বর্তমান সমাজের অন্যায় ও দুর্নীতি দেখে ক্রুদ্ধ নজরুল গভীর রাতে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের যাবতীয় ক্রোধ উগরে দেন। এই উপন্যাসে আছেন নিবেদিতা, সারদা, রামকৃষ্ণ, নরেন, বিনোদিনী, গিরিশ, সুভাষ। যদিও এঁরা কেউ স্বনামে নেই, কিন্তু চিনতে অসুবিধে হয় না তাঁদের। উপন্যাসের সুবার্স্ট, কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে স্বগতোক্তি করেন, ‘যাক, এই বিমানটা আর বার্স্ট করল না। আরে এয়ারপোর্টটা আমার নামে! শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়ে নিজের মূর্তি দেখে ক্রোধে ফেটে পড়ে সুবার্স্ট'... ইত্যাদি।

বাঙালির নবজাগরণের আইকনদের নিয়ে এটা একটা সাইকেডেলিক জার্নি। ফ্রয়েডিয়ান ফ্যালাসের প্রতীকী ব্যবহার, টাইম ট্র‍্যাভেলের ছলে বাংলার এক ঝাঁক রেনেসাঁ ব্যক্তিত্বর সঙ্গে প্রোটাগনিস্ট গজেনের এক অলৌকিক যাত্রা। উপন্যাসটিতে এক ধরনের রিপিটেশন আছে, যে রিপিটেশন ইডিএম বা ইলেকট্রনিক ডান্স মিউজিকে আছে, কিন্তু সেই রিপিটেশন শ্রোতাকে বা এখানে পাঠককে একটা ট্রান্সে নিয়ে যায়। আর উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে পাঠক একটা শারীরিক যন্ত্রণাও অনুভব করবেন। রোদ্দুরের গান, লেখা, পারফরম্যান্স তার পাঠক বা দর্শককে স্বস্তি দেয় না। সে বিশ্বাস করে শকিংয়ে, সে মনে করে, এখন আর্টের একমাত্র কাজ শক দেওয়া।

লিখেছেন
Surojit Sen
Surojit Sen
1 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।