মণিপুরের দুর্দশার জন্য দায়ি মোদিই? যা বলছেন আরএসএসের মোহন ভাগবত...

Mohan Bhagwat on Manipur: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান বলছেন, একজন সত্যিকারের 'সেবক' অহংকার করেন না, অন্যকে আঘাত করেন না।

inscript
২ মিনিট
মণিপুরের দুর্দশার জন্য দায়ি মোদিই? যা বলছেন আরএসএসের মোহন ভাগবত...

লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগে থেকেই বিজেপি আর আরএসএসের মধ্যে যে দূরত্ব বাড়ছে তার নানা ইঙ্গিতই মিলছিল। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বিজেপির মতাদর্শিক সংগঠন হলেও শাসক হিসেবে বিজেপির ক্ষমতা বৃদ্ধি দলটিকে আরএসএসের ছাতার তলা থেকে বের করে এনেছে। নরেন্দ্র মোদির 'একনায়ক' হিসেবে উত্থান তাঁকে সঙ্ঘের থেকে অনেক দূরবর্তী করে তুলেছে। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মতপার্থক্যও বাড়ছে হু-হু করে। নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত বলছেন, মণিপুর এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শান্তির জন্য অপেক্ষা করছে এবং রাজ্যের পরিস্থিতির দিকে জরুরি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ ভারতীয় জনতা পার্টির মূল সংগঠন। আরএসএসের আদর্শই বিজেপি প্রচার করে। মণিপুর বিগত বছরে ভয়াবহ জাতিহিংসার কবলে পড়ে। নগ্ন করে হাঁটানো হয় সে রাজ্যের দুই মহিলাকে। এই হিংসা নিয়ন্ত্রণে চরম ব্যর্থ হয় রাজ্যের ক্ষমতাসীন বিজেপি। খোদ নরেন্দ্র মোদি একবারও মণিপুরে যাননি, মণিপুর নিয়ে কয়েক সেকেন্ডের 'বাণী' ছাড়া কিচ্ছু উল্লেখও করেননি। জবাবও দিয়েছে মণিপুর। এবারের লোকসভা নির্বাচনে মণিপুরের দু'টি লোকসভা আসনই বিজেপির হাতছাড়া হয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আরএসএসের তৈরি জমিতে ব্যাট করে এখন সঙ্ঘকেই লাথি! BJP-RSS সম্পর্কে ইতি?

BJP-RSS Clash: গত বেশ কয়েক বছরে নিজস্ব কাজে মোদি আরএসএসের সঙ্গে শলা-পরামর্শ করে এগিয়েছেন এমন উদাহরণও বিরল।

নাগপুরে হিন্দুত্ববাদী এই সংগঠনের কর্মী ও নেতাদের এক সমাবেশে মোহন ভাগবত বলেন, গত বছরের মে মাসে হিংসা শুরু হওয়ার আগে এই রাজ্য টানা দশ বছর ধরে শান্তিপূর্ণই ছিল। আরএসএস প্রধান বলছেন, "মনে হচ্ছিল, আগেকার বন্দুক সংস্কৃতির অবসান হয়েছে। তারপর দেখি হঠাৎ করে সেখানে যে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে বা হিংসা উস্কে দেওয়া হয়। রাজ্য এখনও সেই আগুনে পুড়ছে। কে এই দিকে মনোযোগ দেবে? এর প্রতি জরুরি মনোযোগ দেওয়া আমাদের কর্তব্য।”

গত বছরের মে মাসের শুরুতে মণিপুরে জাতিগত হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। রাজ্যের মেইতেই এবং কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে হিংসার ফলে এখনও অবধি সেখানে কমপক্ষে ২২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬০,০০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। মোহন ভাগবতের এই মন্তব্য কি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যর্থতাকেই কটাক্ষ করছে না?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদিকে যোগ্য জবাব! মেইতেই-কুকি মিলে কীভাবে বিজেপিকে উপড়ে ফেলল মণিপুর?

Manipur against BJP Lok Sabha Results 2024: গত ১ বছর ধরে যে ঘৃণা মণিপুরে আগাছার মতো বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল বিজেপি তা সমূলে তুলে ফেলেছেন নিপীড়িত সাধারণ মানুষ।

কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলছেন, “প্রধানমন্ত্রীর বিবেক বা মণিপুরের জনগণের দাবি যদি এক তৃতীয়াংশও তাঁকে ভাবাত তাহলে প্রাক্তন আরএসএস পদাধিকারী মোদিকে মণিপুরে যেতে বাধ্য করতে পারতেন।”

মোহন ভাগবত যে সরাসরি মোদিকে আক্রমণ করছেন তা স্পষ্ট হয়ে যায় তাঁর আরেকটি মন্তব্যে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান আরও বলছেন, একজন সত্যিকারের 'সেবক' অহংকার করেন না, অন্যকে আঘাত করেন না। "যে সমস্ত নিয়ম মেনে চলেই তাঁর কাজ করেন, কিন্তু সবটা থেকে তফাতেও থাকেন, যাঁর কোনও অহংকার নেই একমাত্র সেই ব্যক্তিরই নিজেকে 'সেবক' বলার অধিকার আছে।" নরেন্দ্র মোদি বরাবরই নিজেকে প্রধান সেবক বলে এসেছেন। এখানেই আরএসএসের সঙ্গে তাঁর সংঘাত। আরএসএস সংগঠনে বিশ্বাসী, মোদি নিজেকেই করে তুলেছেন অপরিহার্য। সমস্ত সিদ্ধান্ত, রাজনীতি তাঁকে ঘিরেই আবর্তিত। খোদ মোহন ভাগবত দুঃখ প্রকাশ করেছেন যে লোকসভা নির্বাচন প্রচারের সময় কোনও নীতিই মেনে চলা হয়নি। নির্বাচনকে প্রতিযোগিতা হিসাবে দেখা উচিত, যুদ্ধ নয়, বলেছেন ভাগবত।

“যে ধরনের কথা বলা হয়েছিল, যেভাবে দুই পক্ষ (ক্ষমতাসীন জোট এবং বিরোধী দল) একে অপরকে নিন্দা করেছে… যেভাবে সামাজিক বিভাজন তৈরি হচ্ছে তা নিয়ে কেউ চিন্তা করেনি… এবং কোনও কারণ ছাড়াই সঙ্ঘকে মাঝে টেনে আনা হয়েছে। এভাবে দেশ চলবে কী করে?” প্রশ্ন করেছেন ভাগবত। মোদির আগ্রাসনকে এভাবেই দেখছেন মোহন ভাগবত। আর বুঝিয়ে দিচ্ছেন, দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।