কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম মহিলা সাংসদ! আড়াআড়ি ভাঙছে তৃণমূল?

Kalyan Banerjee Vs Mahua Moitra: হোয়াটস্যাপ চ্যাটে কল্যাণ মহিলা সাংসদকে 'ভার্সাটাইল ইন্টারন্যাশনাল লেডি' বলে উল্লেখ করেছেন।

inscript
৪ মিনিট
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম মহিলা সাংসদ! আড়াআড়ি ভাঙছে তৃণমূল?

দু'জনেই তৃণমূলের দাপুটে নেতা। দু'জনেই সাংসদ। একজন লড়াকু, অন্যজন 'কু কথা'-র জন্য শিরোনামে আসেন হামেশাই। একই দলের দুই সাংসদই যুযুধান। আর এই সুযোগে মোক্ষম বোমা ফাটিয়েছেন বিজেপি নেতা অমিত মালব্য। এই দুই নেতার মধ্যে একজন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যজনের পরিচয় অমিত মালব্যর টুইটে পোস্ট করা একটি হোয়াটস্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট থেকে সহজেই অনুমেয়। ওই চ্যাটে দেখা গেছে, নিজেরই দলের সাংসদ নেত্রীকে যথেচ্ছ অপমান করছেন, চ্যালেঞ্জ করছেন কল্যাণ। জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের দফতরে তৃণমূলের এই দুই সাংসদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার সূত্র ধরেই কল্যাণকে গ্রেফতার করার কথাও বলেন মহিলা সাংসদ। অমিত মালব্য যে স্ক্রিনশটটি পোস্ট করেছেন, তাতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের আরেক সাংসদ কীর্তি আজাদের কথোপকথন দেখা যাচ্ছে। ওই হোয়াটস্যাপ চ্যাটে কল্যাণ মহিলা সাংসদকে 'ভার্সাটাইল ইন্টারন্যাশনাল লেডি' বলে উল্লেখ করেছেন।

কল্যাণ উল্লেখ করেছেন, ওই মহিলা সাংসদের কোনও 'বয়ফ্রেন্ড' তাঁর পাশে ছিল না। যাঁকে তিনি এখন অ্যারেস্ট করাতে চাইছেন সেই কল্যাণই সমর্থনে দাঁড়িয়েছিলেন ওই সাংসদের। কোথাও নামোল্লেখ করা হয়নি এই দ্বিতীয় সাংসদের, তবে খুব স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে তাঁর পরিচয়ের। চ্যাটে, উত্তেজিত কল্যাণকে শান্ত করতে আসরে নেমেছিলেন দুর্গাপুরের সাংসদ কীর্তি আজাদ। তাঁকেও একহাত নিয়েছেন কল্যাণ, সাফ বলেছেন, “আমাকে উপদেশ দিও না কীর্তি। অভ্যন্তরীণ রাজনীতি করার জন্যই তোমাকে বিজেপি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল... তোমার এমন ক্ষমতা যে ক্রিকেটের নির্বাচনে হেরে যাও তুমি! তোমার বন্ধুর হয়ে আমাকে গ্রেফতার করিয়ে দেখাও দেখি কত বড় ক্ষমতা তোমার! চিন্তা করো না, দুর্গাপুরে গিয়ে তোমার মুখোশ খুলে দেব।" তৃণমূলের সাংসদদের এই বিতর্কিত চ্যাট হাতে এসেছে বিজেপির। স্বাভাবিকভাবেই তার যোগ্য ব্যবহার করেছেন অমিত মালব্য। কিন্তু কেনই বা ওই মহিলা সাংসদ কল্যাণকে গ্রেফতার করাতে চাইলেন, কী নিয়ে ঝামেলা?

On 4th April 2024, two TMC MPs had a public spat at the headquarters of the Election Commission of India, where they had gone to submit a representation. It appears the party had instructed its MPs to gather at the Parliament office to sign the memorandum before proceeding to the…

— Amit Malviya (@amitmalviya)

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, কমিশনের দফতরে জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে সই না থাকায় প্রশ্ন তোলেন ওই মহিলা সাংসদ। কল্যাণ সাংবাআদিকদের বলেছেন, এই অভিযোগ শুনে কল্যাণ বলেছিলেন, “নাম নেই তো আমি কী করব। নির্দেশ মতো আমি কাজ করেছি।” সেই থেকেই শুরু ঝগড়া। কল্যাণের অভিযোগ, ওই মহিলা সাংসদ কর্তব্যরত বিএসএফ কর্মীদের ডেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করতে বলেন। কল্যাণ এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, "আমার মতো লোককে বলছে অ্যারেস্ট হিম! এরা কারা! আমি সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়ে আসা নেতা।” কল্যাণ আরও বলছেন, “ওই মহিলা সাংসদ আমাকে ছোটলোক বলেছে।” সেই অপমানের আঁচ কল্যাণকে কতখানি তাতিয়ে দিয়েছে তার প্রমাণ হোয়াটস্যাপ চ্যাটেই মেলে। জানা যাচ্ছে, ওই মহিলা সাংসদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমগ্র বিষয়টি জানিয়ে চিঠি লিখেছেন, দলেরই সাংসদের এমন অপমানের বিহিত চেয়েছেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বরবারই অশ্লীল মন্তব্যের জন্য শিরোনামে আসেন। কিছুকাল আগে, সিপিএমের সাংসদ পদপ্রার্থী দীপ্সিতা ধরের বিরুদ্ধেও অশালীন মন্তব্য করেছিলেন কল্যাণ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কল্যাণের দাবি অনুযায়ী ওই মহিলা সাংসদই কল্যাণকে গ্রেফতার করানোর হুমকি দেন। শুরুটা তিনিই করেন। ওই সাংসদ হোয়াটস্যাপ গ্রুপ থেকেও বেরিয়ে গেছেন। তাহলে কীসের বিহিত চাইছেন তিনি? এত জটিল কেন হলো পরিস্থিতি যে দুই দক্ষ সাংসদ নিজেরা মিটমাট না করে ফেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে গেলেন। তৃণমূলের সাংসদদের হোয়াটস্যাপ গ্রুপের চ্যাট কেই বা পাঠালেন বিজেপিকে? সত্যিই কি একটি সই নিয়ে এত ঝামেলা?

Soon after the public spat between two TMC MPs in the precincts of the Election Commission of India on 4th April 2025, the irate MP continued slandering the ‘Versatile International Lady (VIL)’…

This is the stuff legends are made of!

— Amit Malviya (@amitmalviya)

তৃণমূল অন্দরের খবর, এই গৃহযুদ্ধের নেপথ্যে আছে একটি মিষ্টির দোকান! সাংসদদের জন্য যে ক্যান্টিন রয়েছে, সেখানে দিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্কের একটি পরিচিত মিষ্টির দোকানের শাখা খুলতে চেয়ে স্পিকারকে একটি চিঠি লেখেন ওই মহিলা সাংসদ, তাতে বেশ কয়েকজন তৃণমূল সাংসদকে সই করতেও অনুরোধ করেন। বিষয়টি কানে যেতেই কল্যাণ তাতে বাধা দেন, বিষয়টি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানান এবং কাউকে ওই চিঠিতে সই না করার নির্দেশ জারি করেন। কল্যাণের বক্তব্য ছিল কোনও বেসরকারি সংস্থার দোকান খোলা বা এই জাতীয় বিষয়ে তৃণমূল উদ্যোগ নিতে পারে না। তখন থেকেই ঝামেলার শুরু।

মিষ্টির দোকান থেকে গড়িয়ে এখন সোজা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোর্টে বল। কল্যাণ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কাউকে ছেড়ে দেওয়ার পাত্র তিনি নন। এদিকে ওই মহিলা সাংসদও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন, তৃণমূলের খুব অভিজাত মুখ। তার মধ্যে কল্যাণ কীর্তি আজাদের সঙ্গেও উত্তপ্ত বাক্য মিনিময়ে অপমান করে ফেলেছেন। আর সব নথি গুছিয়ে রেখেছে বিজেপি। ওই চ্যাট থেকে অন্তত এটুকু প্রমাণ হয়, সব সাংসদের মধ্যে সদ্ভাব নেই। এই ফাটল কি দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও বাড়াচ্ছে না? কার পক্ষ নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।