গরম থেকে বাঁচতে অব্যর্থ ওষুধ সাঁতার, জেনে নিন কী কী নিয়ম মানতেই হবে?

গ্রীষ্মকাল পড়লেই গুমট আবহাওয়া এবং অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে দুর্ভোগের শিকার হয় দেশবাসী। আমাদের দেশের একাধিক প্রান্তে বছরের প্রায় ছয় থেকে সাত মাস তীব্র গরমের মধ্যে নাজেহাল হতে হয় মানুষকে। সারাদিন রোদের মধ্যে অফিস, স্কুল কিংবা কলেজ করে বাড়িতে এসেও শান্তি নেই। স্বভাবতই, এই প্রচণ্ড গরমের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য একাধিক পদ্ধতি মেনে চলে মানুষ। এক্ষেত্রে বর্তমানে 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' কিংবা অনলাইন ক্লাস চলার কারণে রোদের হাত থেকে খানিকটা মুক্তি পেয়েছে সকলে। তবে এক্ষেত্রেও বাড়িতে থাকাকালীন প্রধান ভরসা হয়ে ওঠে এসি কিংবা অন্যান্য কুলার যন্ত্র। তবে এখানেই সমস্যার শেষ নেই, বাজার যাওয়া হোক কিংবা অন্য কোনও কাজ, আমাদের বাইরে বেরোতেই হয় আর সেই সময় অনেকে মুখ পুরোপুরি ঢেকে বের হন, তো কারও সঙ্গী হয় আবার ছাতা। তবে বহু স্থানে প্রচণ্ড দাবদাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মানুষ অন্যতম পছন্দের জিনিস হিসেবে বেছে নেয় সাঁতার।

সাঁতার বা সুইমিং হলো এমন একটি অভ্যাস, যার ওপর নির্ভর করে শান্তির জগতে পাড়ি দেয় ছোট থেকে বড় সকল মানুষ। অনেক বাড়িতেই এমন একজন পাওয়া যায়, যারা ছোট বয়সে হোক কিংবা বড় বয়সে, 'শখের' বশেই সাঁতার শিখতে শুরু করে। তবে এটিকে উল্লেখযোগ্য শরীরচর্চা হিসেবে গণ্য করেন বহু চিকিৎসক থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ। এতে যেমন মন ভালো রাখতে সাহায্য করে, তেমনভাবেই প্রচণ্ড গরমের হাত থেকে মেলে শান্তি। শুধু কি তাই, সাঁতার কাটা জানলে যে কোনও বিপদের মুহূর্তে আপনি নিজেকে বাঁচাতে সক্ষম হতে পারেন। সাঁতার কাটার বিষয়ে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সাঁতারের আগে এবং পরে সঠিক খাবার গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কেও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো, সাঁতার কাটা হোক কিংবা জিম অথবা অন্য কোনও শরীরচর্চা, এর পূর্বে এবং পরবর্তী সময়ে খাওয়া-দাওয়া যদি সঠিকভাবে না হয়ে থাকে, তবে আপনার শরীরে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। ঠিক সেরকমভাবেই সাঁতার কাটার আগে এমন বেশ কিছু খাবারের তালিকা রয়েছে, যা খাওয়া শ্রেয়, অন‍্যথায় আপনার শরীরে বাসা বাঁধতে পারে একাধিক রোগ। প্রথমেই যে বিষয়টি বলে রাখা দরকার, তা হলো, আপনি যদি প্রথম দিন কোনও স্থানে সাঁতার কাটার জন্য ভর্তি হন, তাহলে সবার প্রথমে মনে রাখতে হবে যে, এর ঠিক আগের মুহূর্তে কোনওরকম খাবার খাওয়া উচিত নয়। আপনি এর ঠিক আধঘণ্টা কিংবা এক ঘণ্টা পূর্বে কোনও খাবার গ্রহণ করতেই পারেন; কিন্তু যাই-ই হয়ে যাক না কেন, খাবার খেয়েই তৎক্ষণাৎ সাঁতার কাটতে নামা একপ্রকার নিষিদ্ধ বলা চলে। এক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম না মানলে আপনার সঙ্গে ঘটে যেতে পারে যে কোনও ধরনের দুর্ঘটনা। ফলে বাড়ি থেকে বেরনোর আগে কিছু খেয়ে নিয়ে তবেই আপনি সাঁতার কাটতে যাবেন। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, সাঁতার কাটার আগে ঠিক কতটা পরিমাণ এবং কোন কোন খাবার খাওয়া উচিত?

আরও পড়ুন: গোয়ালন্দ কারি: মাঝিমাল্লার হাতে তৈরি মুরগির ঝোলের স্বাদ আজও ভোলেনি বাঙালি

এক্ষেত্রে বলা ভালো, অনেকেই এমন আছেন, যাঁরা দেশের বাড়িতে কিংবা গ্রামে কোথাও ঘুরতে গিয়ে পুকুরে সাঁতার কাটতে পছন্দ করে থাকেন। এক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় এই যে, শহরের ব্যস্ততম জীবনে আমাদের কোনওরকম শারীরিক কসরত করে ওঠা হয় না, ফলে কোনও একদিন প্রচণ্ড পরিমানে শারীরিক ধকল হলে তা একদিকে 'ক্ষতিকর' হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই প্রথমটা শুরু করুন অল্প সময় দিয়েই এবং অবশ্যই তার আগে হালকা খাবার খেতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রধানত ফল, বাদাম কিংবা দই খাওয়া যেতে পারে বলে মত স্বাস্থ্য-বিশেষজ্ঞদের। তবে এসব কিছুই অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া কখনওই উচিত নয়। সাঁতার কাটার আগে কোন কোন খাবারগুলো খাওয়া যেতে পারে, তার একটা তালিকা দিয়ে রাখা ভালো।

কলা
আপনি প্রথমদিন সাঁতার কাটতে যান কিংবা এক্ষেত্রে আপনার যত বছরই হয়ে যাক না কেন, যে কোনওদিনই সাঁতার কাটার মুহূর্তে আপনার দরকার পড়বে শক্তি; কারণ সাঁতার কাটতে গেলে যে পরিমাণ শারীরিক ধকল হয়, তার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ শক্তির দরকার পড়ে। এক্ষেত্রে সাঁতারের আগে কলা একটি উপযুক্ত খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ, কলায় থাকে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, যা আমাদের শরীরকে শক্তি সরবরাহ করতে সক্ষম হয়। ফলে বাড়ি থেকে বেরনোর আগে একটি কিংবা দু'টি কলা খেয়ে বের হওয়া যেতে পারে।

ডিম
এটা প্রায় আমাদের সকলেরই জানা যে, ডিম হলো এমন একটি খাদ্য, যাতে বহু পরিমাণে প্রোটিন থাকে; যা আমাদের শরীরে সারাদিনের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয়। যে-কোনও শরীরচর্চার আগে ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যকর বলে মত বিশেষজ্ঞদের, আর সাঁতার কাটার কিছু মুহূর্ত আগে যদি আপনি ডিম খেতে পারেন, তাহলে তা আপনাকে শক্তি প্রদান করতে সক্ষম হবে। তবে স্বাস্থ্য-বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত পরিমাণে ডিম খাওয়া কখনওই উপযুক্ত নয়। এক্ষেত্রে পরিমাণ রাখতে হবে সামান্য।

কফি
সাঁতারের পরে প্রধানত যে সমস্যাটি দেখা যায়, তা হলো ক্লান্তি। বিশেষ করে আপনি যদি প্রথম প্রথম এটি শেখেন, তবে আপনার শরীরে শক্তির ঘাটতি দেখা দিতে পারে আর তা দূর করতে প্রধানত কফি নেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে।

এ তো গেল সাঁতার কাটার আগে খাবারের তালিকা। এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, সাঁতার কাটার পর কী কী খাবার খাওয়া যেতে পারে, যাতে ক্লান্তি এবং পরিশ্রম অনেকাংশে দূর হবে? প্রথমেই বলে রাখি, সাঁতারের পর অবশ্যই আপনার খাদ্যতালিকায় প্রোটিন রাখতে হবে; এটি আপনার ক্লান্তি দূর করতে সক্ষম। এক্ষেত্রে সাঁতার কেটে বাড়ি এসে আপনি ভাত, ডাল এবং সবজি খেতে পারেন। শুনতে হয়তো অবাক লাগছে, কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি বাঙালি পরিবারে ভাত, মুসুর ডাল এবং একাধিক সবজি-মিশ্রিত তরকারি খেলে পর্যাপ্ত শারীরিক শক্তি পেয়ে থাকি আমরা। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এক্ষেত্রে প্রধান যে বিষয়টি আমাদের মাথায় রাখতে হবে, তা হলো, সাঁতার কাটার আগে কিংবা পরে অ্যালকোহল পান করা কখনওই উচিত নয়, এটি শরীরের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

More Articles

;