যে লড়াই লড়ছি, সেটাও স্বাধীনতারই লড়াই

Umar Khalid: ফলত, প্রান্তিক মানুষদের ভোটার তালিকায় আনার যে চেষ্টা, দেশের নাগরিকদের ভোট দেওয়ার অধিকার- তার একেবার মূলে গিয়ে আঘাত করা হচ্ছে।

Banojyotsna Lahiri
৩ মিনিট
যে লড়াই লড়ছি, সেটাও স্বাধীনতারই লড়াই

প্রিয়জন বিনা বিচারে জেলে বন্দি থাকলে স্বাধীনতা দিবসের মতো দিনগুলি কঠিন হয়ে যায়। হঠাৎ করে এই দিনগুলিতেই শাসক শ্রেণির লোকজন খুব স্বাধীনতার বুলি আওড়ায়। আমি দিল্লিতে থাকি। আর দিল্লিই মোটামুটি স্বাধীনতার উৎসবের প্রাণ কেন্দ্র। প্রতিবার এখান থেকেই প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা ইত্যাদি হয়। কিন্তু প্রতিদিন আমরা যেভাবে স্বাধীনতা খর্ব হতে দেখছি, বিনা বিচারে জেলে বন্দি রাখতে দেখছি, এমনকি এখন এসআইআর-এর নামে নানাভাবে যে ভোট লুট চলছে, ধীরে ধীরে গণতন্ত্রকে যে ভাবে আমরা হারিয়ে ফেলছি, সেখানে স্বাধীনতা এখন শুধু উৎসবেই সীমিত হয়ে গিয়েছে।

এখন স্বাধীনতার উদযাপন দেখলে হাসি পায়। পাশাপাশি এটাও মনে হয় সত্যি তো কত লড়াই, বলিদানের পর আমরা স্বাধীনতা পেয়েছিলাম। সেটাও তো ভুলে যাওয়া উচিত নয়। সেই লড়াইটাকেও নতুন করে মনে করার একটা জায়গা থেকেই যায়। কিন্তু আমরা এখনও যে লড়াই লড়ছি, সেটাও একদিক থেকে স্বাধীনতারই লড়াই। কাজেই স্বাধীনতার লড়াই তো চলছেই। আমাদের স্বাধীনতা দিবস তো এখনও আসেনি। আমাদের এই লড়াই চলবে।

এখন নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ভোটদানের স্বাধীনতাটুকুও কি তবে মিথ্যে ছিল? গণতন্ত্রের প্রথম দিন থেকে ভোটদানের অধিকার ছিল। সংবিধান লাগু হওয়ার পর থেকে আমাদের ভোটদানের অধিকার ছিল। এটা গণতন্ত্রের মূলগত জায়গা। গণতন্ত্র অনুযায়ী, সবার যেমন ভোট দেওয়ার অধিকার আছে তেমনই সবার নির্বাচিত হওয়ার অধিকারও আছে। সেখানে কোনোরকম ভেদাভেদ করার জায়গা নেই। আগে নির্বাচন কমিশন চেষ্টা করত, প্রান্তিক মানুষদের কীভাবে বেশি করে ভোটদানের আওতায় নিয়ে আসা যায়। সমাজের একদম প্রান্তিক যাঁরা- যাঁর কোনো স্থায়ী বাড়ি নেই বা একজন যৌনকর্মী, যাঁরা সমাজের মূল স্রোত থেকে ছিটকে গেছে, তাঁদের কীভাবে ভোটদানের আওতায় নিয়ে আসা যায় তার চেষ্টা করত নির্বাচন কমিশন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিচারের আগেই মিডিয়া যে ভাবে 'অপরাধী' বানিয়েছে উমর খলিদকে

Umar Khalid: আদালতের রায়ের অপেক্ষা না করে জনমানসে উমরকে তারা দোষী সাব্যস্ত করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে বলে মত সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সেই মোতাবেক পদক্ষেপ করার দায়িত্বে থাকা স্বাধীন নিয়ামক সংস্থা ন্যাশনাল ব্রডকাস্টিং অ্যান্ড ডিজিটাল স্ট্যান্ডার্ডস-এর।

কিন্তু এখন পরিস্থিতি এমন জায়গায় এসেছে মানুষের ভোটদানের অধিকারটুকুও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি বিরোধী দল নেতা রাহুল গান্ধী দেখালেন সিস্টেমেটিক ভাবে ভুয়ো ভোটারদের নাম তালিকায় আনা হয়েছে। শুধু তাই নয় আমরা দেখতে পেলাম— নির্বাচন কমিশনের সাহায্য নিয়ে ভুয়ো ভোটারদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে আবার এইএসআইআর-এর মাধ্যমে ন্যায্য ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। কাউকে বাংলাদেশী বলে দাবি করা হচ্ছে, কাউকে আবার ফরেন ন্যাশনাল বলা হচ্ছে। যদিও এ ব্যাপারে কোনো রকম তথ্য এখনও অবধি নির্বাচন কমিশন দিতে পারেনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছরের, তাও কেন বিনা বিচারে ৪ বছর বন্দি উমর খালিদ?

Umar Khalid: ২০১৮ সালের ১৩ অগাস্ট, সংসদ ভবন থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে অজ্ঞাত পরিচয় দুই যুবক উমরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

উমর খলিদ

ইতিমধ্যেই বিহারে এসআইআর হয়েছে, ফলে প্রায় কয়েক লক্ষ মানুষ ভোটাধিকার হারিয়েছেন। ভোটার তালিকায় প্রায় কয়েক লক্ষ মানুষের নাম নেই। সিস্টেমিকভাবে ডিসএনফ্রাঞ্চাইজমেন্ট বা ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া, এটা ভারতবর্ষে প্রথমবার হল। ফলত, প্রান্তিক মানুষদের ভোটার তালিকায় আনার চেষ্টা এবং দেশের নাগরিকদের ভোট দেওয়ার অধিকার- তার একেবার মূলে গিয়ে আঘাত করা হচ্ছে। এরপর আমরা হয়তো ধীরে ধীরে গণতন্ত্রকেই হারিয়ে ফেলব।

যেমন উমর খলিদের ঘটনার বিচার প্রক্রিয়াটিও ঝুলছে। মামলার ট্রায়াল এখনও শুরুই হয়নি। পাঁচ বছর আগে এই মামলা শুরু হয়েছিল এফআইআর ফিফটি নাইন (FIR59)- এ। শেষে চলতি বছরে ট্রায়ালের আগের ধাপ শুরু হল। উমরের উপর যে চার্জগুলি গঠিত হয়েছিল তা নিয়ে এখন নিম্ন আদালতে বাদানুবাদ চলছে। পাশাপাশি জামিনের জন্য বারবার আর্জি জানানো হয়েছে। উচ্চ আদালতে এখন রায় রিজার্ভ করা আছে, অন্য সকলের সওয়াল-জবাব হয়ে গিয়েছে।

স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের মেয়েদের বা দলিত সমাজকে স্বাধীনতার জন্য আলাদা করে লড়তে হয়নি। আমরা সবাই একসঙ্গে স্বাধীনতা পেয়েছিলাম ব্রিটিশদের থেকে। স্বাধীনতার পর সবাইকে ভোটাধিকার দেওয়া হয়েছিল। আমাদের দেশের নাগরিকদের যে শুধু ভোট দেওয়ার অধিকার আছে তা কিন্তু নয়, ভোট দেওয়ার পাশাপাশি সবারই ক্ষমতায় আসারও অধিকার আছে। অর্থাৎ, যে কেউ যেমন ভোট দিতে পারবেন, তেমনই নির্বাচিতও হতে পারবেন। যে কোনো প্রান্তিক সমাজের মানুষ হোক বা মহিলা সবার এই অধিকার আছে। তার তাত্ত্বিকভাবে কোনো বাধা নেই। কিন্তু আজ স্বাধীনতার ৭৯ বছরে আমরা দেখিছি সবথেকে বেশি হিংসার সম্মুখীন হতে হচ্ছে প্রান্তিক সমাজের মানুষদের এবং মহিলাদের। প্রতিনিয়ত তাঁদের হিংসার সম্মুখীন হতে হয়। স্বাধীনতার এত বছর পরও প্রান্তিক সমাজের হাতে ক্ষমতা পৌঁছায়নি। কাজেই এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে মনে হয়, আমরা অনেক আগে থেকেই এগিয়ে থাকার চেষ্টা করলেও, আসলে আমরা অনেকটা পিছিয়ে এসেছি।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সিজেপির কর্মসূচির আগে ৬ হাজার পুলিশ, দুর্ভেদ্য দুর্গ কনট প্লেস

Connaught Place protest: সিজেপির কর্মসূচির আগে কনট প্লেস এবং তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসের আশপাশে ৬ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?