ভাঙছে আফ্রিকা, তৈরি হচ্ছে নতুন মহাসাগর! পৃথিবীর মানচিত্র বদলে যেতে পারে যে ঘটনায়

New Ocean Forming Africa : বেশ কয়েকবছর ধরে গঠনগত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। অশান্ত হয়ে আছে গোটা এলাকা। যার প্রভাবই পড়তে শুরু করে দিয়েছে।

inscript
২ মিনিট
ভাঙছে আফ্রিকা, তৈরি হচ্ছে নতুন মহাসাগর! পৃথিবীর মানচিত্র বদলে যেতে পারে যে ঘটনায়

সাতটা মহাদেশ আর পাঁচটা মহাসাগর –পৃথিবীর মানচিত্র বলতে আমরা মোটামুটি এটাই বুঝি। তার সঙ্গেই জুড়ে আছে নদী, দেশ, রাজ্য, সেখানকার মানুষজন, জীবজগত আরও কত কি! হঠাৎ যদি চিরপরিচিত এই মানচিত্রটাই বদলে যায়? একটা অংশ আড়াআড়ি ভেঙে গিয়ে যদি পৃথিবীর নতুন কোনও চেহারা সামনে চলে আসে? বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ঠিক এই জিনিসটাই হতে চলেছে। বদলে যেতে চলেছে পৃথিবীর ম্যাপ। আর সেই সবকিছুর মূলে রয়েছে একটি জায়গা – আফ্রিকা।

পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ এই আফ্রিকা। একটা সময় এখানকার অনেক অংশই ছিল অজানা। নীল নদের তীরে নগর সভ্যতাও রয়েছে, আবার রয়েছে উত্তরে সাহারা মরুভূমিও। তিনদিক ঘিরে আছে সমুদ্র। এমন আফ্রিকা মহাদেশই নাকি ভেঙে দু’খণ্ড হয়ে যাবে! আর তার প্রক্রিয়া এখনই শুরু হয়ে গিয়েছে! আন্তর্জাতিক জার্নাল জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটারসে সম্প্রতি এনিয়ে বিশেষ গবেষণা প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সমুদ্রের তলায় ও আফ্রিকার মূল ভূখণ্ডে বেশ কয়েকবছর ধরে গঠনগত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। অশান্ত হয়ে আছে গোটা এলাকা। যার প্রভাবই পড়তে শুরু করে দিয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সিপাহি বিদ্রোহে ব্রিটিশদের নাকানিচোবানি খাইয়েছিলেন এই আফ্রিকান নারী

Sepoy Mutiny: শুধুমাত্র দলিত হওয়ার কারণে সিপাহি বিদ্রোহের উচ্চবর্ণের ইতিহাসের আড়ালে চাপা পড়ে গেছেন এই আফ্রিকান নারী।

এই পুরো কর্মকাণ্ডে বিজ্ঞানীরা বিশেষ করে নজর রেখেছেন ইথিওপিয়ার দিকে। কেন? তার জন্য ফিরে যেতে হবে ২০০৫ সালে। ইথিওপিয়ার মাউন্ট দাবাহু ওই অঞ্চলের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। ওই বছরই ভয়ংকর অগ্ন্যুৎপাত হয় ওই অঞ্চলে। কেবল অগ্ন্যুৎপাতই নয়, ভূমিকম্পও হয় সেখানে। তারপরই দেখা যায়, সেখানে বিশাল বড় আর গভীর একটি গর্ত তৈরি হয়েছে।

বাইরে থেকে দেখলে, অত্যন্ত সাধারণ একটি ফাটল। কিন্তু গবেষণার পর দেখা গেল, ওই ফাটলের ভেতরেই লুকিয়ে আছে আসল রহস্য। এই মুহূর্তে ইথিওপিয়ার ওই মরু অঞ্চল জুড়ে ৩৫ মাইল লম্বা ফাটলটি বিস্তৃত রয়েছে। যত দিন যাচ্ছে, সেটি বাড়ছে। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন, প্রতি বছর প্রায় সাত মিলিমিটার করে বাড়ছে ফাটলের দূরত্ব। বিজ্ঞানীরা এখানেই আসল জায়গায় নির্দেশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, এটা কেবল একটি অঞ্চলের ব্যাপার নয়। ইথিওপিয়া ও আফ্রিকার উত্তরের বেশকিছু জায়গায় এমন ফাটল দেখা যাচ্ছে। এর ফলে এই গোটা অঞ্চলটি দু’ভাগে ভাগ হয়ে যাচ্ছে। আফ্রিকা মহাদেশ যে দু’ভাগে ভেঙে যাচ্ছে, সেটা নিয়ে প্রায় নিশ্চিত বিজ্ঞানীরা। যদি এমনটা হয়, তাহলে সমুদ্রের জল এই দুই ভূখণ্ডের মাঝে এসে ঢুকবে। তৈরি হবে নতুন একটি সমুদ্র। বদলে যাবে পৃথিবীর মানচিত্রটাই।

অবশ্য পৃথিবীর এমন ভাঙা গড়ার খেলা চলতেই থাকে। ভূ-বিজ্ঞানীরা বারবার উল্লেখ করেছেন প্যানজিয়া আর প্যানথালাসার কথা। বলেছেন, কীভাবে একটা সমগ্র ভূখণ্ড থেকে আলাদা আলাদা মহাদেশ, দেশ তৈরি হল। সেরকমই বদলের মধ্যে দিয়ে যাবে পৃথিবী। যেখানে আফ্রিকা ভেঙে দু’টুকরো হয়ে যাবে। সেইসঙ্গে তৈরি হবে নতুন একটি সমুদ্র।

গবেষকরা ওই রিপোর্টে জানিয়েছেন, ২০০৫-এর অগ্ন্যুৎপাত আর ভূমিকম্পের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিচের টেকটনিক প্লেটও। চিড় ধরে যাওয়ায় সেই প্লেটও একটি একটু করে পরস্পরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তার জন্যই এই ‘বিচ্ছেদ’। তবে কেবল ইথিওপিয়াই নয়, লোহিত সাগর বা রেড সি-র ভেতরেও চলছে এমন টালমাটাল অবস্থা। আপাতত ওই জায়গার আশেপাশের এলাকা থেকে সবাইকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে এখনও ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। আফ্রিকা মহাদেশের সম্পূর্ণভাবে দু’ভাগ হতে এখনও কয়েক লক্ষ বছর সময় লাগবে।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?