৩০-এর পরেও বাধা নেই মাতৃত্বে, যে নিয়মগুলি মেনে চলতেই হবে

মানবশরীরে হরমোনের বৃদ্ধি এবং হ্রাস নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে মহিলাদের বয়স ৩৫ পেরনোর পর থেকেই দেহে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা কিংবা সমস্যা অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়।

Sayan Das
৩ মিনিট
৩০-এর পরেও বাধা নেই মাতৃত্বে, যে নিয়মগুলি মেনে চলতেই হবে

ভারতের বড় অংশের মহিলারা ২২-২৩-এ বিয়ে করলেও তৎক্ষণাৎ মাতৃত্বের স্বাদ অনুভব করতে চান না। কয়েকবছর সময় নিয়ে ধীরে-সুস্থে মাতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করার পথেই হাঁটে তারা। এক্ষেত্রে প্রধান যে সমস্যাটি দেখা দেয়, তা হলো মাতৃত্বের সঠিক বয়স। যদিও চিকিৎসাশাস্ত্রে মা হওয়ার জন্য কোনওরকম নির্দিষ্ট বয়সের উল্লেখ নেই, তবে কয়েকটি বিষয় নজরে রাখা প্রয়োজন।

বর্তমানে অনেকেই ৩০ পেরনোর আগেই পরিবারে নতুন সদস্য নিয়ে আসার কথা ভাবতে পারেন না। অনেকে বিয়েই করেন ৩০ পেরনোর পর, এবং তারপর সন্তানধারণের কথা চিন্তাভাবনায় নিয়ে আসেন। আবার অনেকে বিয়ের পর কিছুটা সময় দাম্পত্যজীবনকে দিতে পছন্দ করেন। কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন, শরীর সব সময় আমাদের এইসব সিদ্ধান্তের সঙ্গে যে মানিয়ে চলতে পারবে, তার কোনও মানে নেই। এক্ষেত্রে কিন্তু মানবশরীরে হরমোনের বৃদ্ধি এবং হ্রাস নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে মহিলাদের বয়স ৩৫ পেরনোর পর থেকেই দেহে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা কিংবা সমস্যা অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়।

একথা মনে রাখতে হবে, মা হওয়ার জন্য কোনও নির্দিষ্ট সময় হয় না। মন তৈরি থাকলে এবং দু'জনের সম্মতি থাকলেই মা হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া যায়। কিন্তু যদি আপনি ৩০ পেরনোর পর প্রথমবার মাতৃত্বের স্বাদ নিতে চান, তবে কয়েকটি কথা মাথায় রাখতে হবে।

প্রথমত, আসা যাক স্ত্রীরোগ চিকিৎসকদের বক্তব্যের প্রসঙ্গে। এক্ষেত্রে কিছুটা আলোকপাত প্রয়োজন। স্ত্রীরোগ চিকিৎসকদের মতে, বয়স ৩০ পেরিয়ে যাওয়ার পরমুহূর্তে মা হতে চাইলে কিছু জটিলতা দেখা দেবে। কারণ, ৩০-এর পর থেকে মহিলাদের সন্তানধারণের ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। বহু ক্ষেত্রে কোনও মহিলা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঠিক পরেই ভ্রুণ নষ্ট হয়ে যেতেও দেখা যায়। তাই আমাদের কিছু বিষয়ে সাবধান হতে হবে। মনে রাখতে হবে, মধ্য বয়সেও মা হওয়া সম্ভব। তবে তার জন্য মেনে চলতে হবে বেশ কয়েকটি নিয়ম; যাতে আমাদের শিশু সুস্থ এবং স্বাভাবিকভাবে পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করতে পারে।

কয়েকটি নিয়ম দেখে নেওয়া যাক:

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
যৌনসুখে বাধা নয় কন্ডোম, চরম মুহূর্ত দীর্ঘ করতে কী টোটকা লুকোনো নিরোধে?

একাধিক ব্যক্তির ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলছে, কন্ডোম পরে যৌনসুখ মেলে না। বিশেষ করে পুরুষদের। অথচ কিছু কন্ডোম তৈরিই হয়েছে যৌনসুখ দেওয়ার জন্য।

১) ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন

আপনি যদি ভেবে থাকেন যে, আপনার ওজনের সঙ্গে অন্তঃসত্ত্বা হওয়া কিংবা মাতৃত্বের সরাসরি কোনও সম্পর্ক রয়েছে, তাহলে তা সত্য নয়। ওজনের প্রত্যক্ষ কোনও প্রভাব অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ওপর পড়ে না। তবে মহিলাদের ক্ষেত্রে বাড়তি ওজন সর্বদাই শরীরের জন্য ডেকে আনতে পারে বহু রোগব্যাধি। বাড়তি ওজনের জন্য অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় যদি মহিলাদের শরীরে ডায়াবিটিস ও হাই প্রেশারের মতো ভয়ংকর ও দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাবা বসায়, তবে কিন্তু আপনার ভ্রুণের ক্ষতি হতে পারে। তবে আপনি যদি এই সমস্যার সম্মুখীন হন, তবে ভয় না পেয়ে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এক্ষেত্রে মা হওয়ার পরিকল্পনা যদি থাকে, তবে কয়েক মাস আগে থেকে ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন।

২) মাত্রাতিরিক্ত শরীরচর্চা করবেন না

অপরদিকে, ওজন বেশি হওয়ার কারণে অনেক মহিলাই চিন্তিত হয়ে পড়েন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ ছাড়াই নিজে থেকে ওজন ঝরাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এক্ষেত্রে ভারী শরীরচর্চা কিংবা জিমে ভারী ওজন তোলার অভ্যাস রপ্ত করতে উদ্যত হন। তবে বলে রাখা ভালো, অতিরিক্ত শরীরচর্চা গর্ভধারণের ক্ষেত্রে কিন্তু বহু সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। অতিরিক্ত শরীরচর্চা যেমন মহিলাদের ঋতুচক্রের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে, আবার এর প্রভাবে মহিলাদের প্রোজেস্টেরন হরমোনের ক্ষরণ অতিরিক্ত মাত্রায় হ্রাস পায়। সব মিলিয়ে শরীরে হরমোনের লেভেলের পরিবর্তন ঘটতে পারে, যা আপনার গর্ভধারণে সমস্যা সৃষ্টি করে।

৩) ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করুন

এই অভ্যাস বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ধূমপানের ফলে মহিলাদের ডিম্বাশয়ের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে, বহু সময় তা ডিম্বাণুর ক্ষতিও করে। ফলে আপনি যদি মাতৃত্বের পরিকল্পনা করেন, তবে এখনই ত্যাগ করুন ধূমপানের অভ্যাস। মদ্যপানও কিন্তু এক্ষেত্রে শরীরে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। এসব বিষয় মাথায় রাখতে হবে।

৪) মাতৃত্বের পূর্বে গর্ভনিয়ন্ত্রণের ওষুধ বন্ধ

৩০-এর পূর্বে অনেকেই নিয়মিত গর্ভনিয়ন্ত্রণের ওষুধ খেয়ে থাকেন। তবে তা কিন্তু আপনার মাতৃত্বের জন্য উপযোগী নয়। মনে রাখতে হবে, গর্ভনিয়ন্ত্রণের ওষুধ বন্ধ করার পরবর্তী সময়েও কিন্তু আপনার শরীরে ঋতুচক্র স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে। এক্ষেত্রে অন্তত তিন মাস সময় লাগতে পারে। ফলে পরিবার বড় করার পরিকল্পনা থাকলে কিন্তু আগে থেকেই কয়েকটি জিনিস মাথায় রাখুন। গর্ভনিয়ন্ত্রণের ওষুধ কিন্তু আপনাকে অনেক আগেই ত্যাগ করা উচিত, যাতে মাতৃত্বের সময় তা আপনার শরীরে কোনওরকম সমস্যা সৃষ্টি না করে।

৫) সঙ্গমের সময় মেনে চলা কয়েকটি পদ্ধতি

শুনতে অবাক লাগলেও সঙ্গমের পদ্ধতিও কিন্তু এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। সঙ্গম নিয়ে অনেকেই বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে থাকেন। তবে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার মুহূর্তে এসব কাজ না করাই শ্রেয়। এছাড়া কোনওরকম সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

লিখেছেন
Sayan Das
Sayan Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।