ভূস্বর্গের ভয়াবহতাকে লেন্সে ধ‍রেছেন বারবার, চেনেন এই কাশ্মীরি নারীকে?

কাশ্মীরের বাসিন্দাদের জন্য একাধিকবার সোচ্চার হয়েছেন তিনি। সরকারের মুখোশ টেনে ছিঁড়ে ফেলে সত্যের হয়ে সওয়াল করেছেন বহুবার।

Sourish Das
৬ মিনিট
ভূস্বর্গের ভয়াবহতাকে লেন্সে ধ‍রেছেন বারবার, চেনেন এই কাশ্মীরি নারীকে?

কাশ্মীরের সৌন্দর্য দেখতে এবং উপভোগ করতে কে না ভালবাসে! এত সুন্দর একটি উপত্যকায় জন্ম নেওয়া একটি শিশু তার দেখা প্রতিটি দৃশ্যের ছবি তুলতে ভালবাসে। কিন্তু সেই ভূস্বর্গের মাটিতেই সেনার শোষণ থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদীদের হামলা, সেই সব কিছুই যাঁর ক্যামেরায় উঠে এসেছে বারবার, তিনি পেলেন সাংবাদিকতার জগতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পুরস্কার। তিনি আর কেউ নন, ২৮ বছর বয়সি কাশ্মীরি মহিলা চিত্রসাংবাদিক সানা ইরশাদ মাত্তু। ফিচার ফোটোগ্রাফির জন্য সম্প্রতি ঘোষিত পুলিৎজার পুরস্কারে দানিশ সিদ্দিকী, আদনান আবির এবং অমিত দাভেলের সঙ্গে পুরস্কৃত হলেন সানা ইরশাদ মাত্তু।

কী আসলে এই পুলিৎজার পুরস্কার?

সাংবাদিকতার জগতে পুলিৎজার পুরস্কারকে সবচেয়ে বড় পুরস্কার হিসেবে গণ্য করা হয়। যাঁরা সাংবাদিকতার জগতে উল্লেখযোগ্য কোনও একটি কাজ করেন, তাঁদেরকেই এই পুলিৎজার পুরস্কার দেওয়া হয়। হাঙ্গেরি দেশের বাসিন্দা সংবাদপত্র প্রকাশক জোসেফ পুলিৎজারের নাম অনুসারে এই পুলিৎজার পুরস্কারের নাম দেওয়া হয়েছে। ১১২ বছর আগে জোসেফ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা দান করেছিলেন। তার পর থেকেই এই পুলিৎজার পুরস্কার দেওয়ার চল শুরু হয়। এই মুহূর্তে ২২টি বিভাগে পুলিৎজার পুরস্কার দেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি অন্যতম বিভাগ হল ফিচার ফোটোগ্রাফি। এই বিভাগেই এই বছর মনোনীত হয়েছেন সানা ইরশাদ। আদনান, অমিত এবং দানিশ সিদ্দিকি এই একই বিভাগে পুলিৎজার পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ভারতে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালীন গ্রহণ করা ছবির নিরিখেই এই চার জনকে মনোনীত করেছে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিৎজার পুরস্কারের বিচারকমণ্ডলী।

কে আসলে এই সানা ইরশাদ মাত্তু ?

সানা ইরশাদ ভারত-অধিকৃত কাশ্মীরের একজন চিত্রসাংবাদিক। তিনি আদতে শ্রীনগরের বাসিন্দা। শৈশব থেকেই সানা ফোটোগ্রাফি করতে পছন্দ করতেন। তাঁর চারপাশে যা ঘটছে, তা তিনি ক্যামেরায় বন্দি করে রাখতে ভালবাসতেন। কিন্তু তাঁর সাংবাদিকতার জগতে আসার পিছনে রয়েছে কিছু বিশেষ ঘটনা, যা তাঁর শৈশবকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।

শৈশব থেকেই ছবি তুলতে পছন্দ করলেও তিনি কিন্তু আদতে ছিলেন একজন বিজ্ঞানের ছাত্রী। বিজ্ঞানে স্নাতক হওয়ার পরেই সাংবাদিকতার প্রতি তাঁর আগ্রহ জন্মায়। গল্প এবং কবিতা লেখার শখ আগে থেকেই ছিল। আর ছবি তোলার নেশা তো ছিলই। তাই স্নাতক হওয়ার পরে কাশ্মীরের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর করলেন সানা। কিন্তু তাঁর মনের মধ্যে সাংবাদিকতার নেশাটা আরও বেশি করে তৈরি করে দিয়েছিল তার শৈশবের একটি ঘটনা। একটি সাক্ষাৎকারের সময় তিনি নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি সকলের সামনে আনেন।

কাশ্মীর প্রথম থেকেই ভারত এবং পাকিস্তানের দ্বন্দ্বের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থেকেছে। কাশ্মীরে কোনওদিন কেউ হত্যা এবং বিশৃঙ্খলা থেকে নিজেকে এড়িয়ে রাখতে পারে না। কিন্তু সানার জন্য হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১০ সালে। সেই বছরের ১১ জুন তারিখে টিউশন ক্লাস থেকে বাড়ি ফেরার সময় প্রকাশ্য রাস্তায় খুন হয় তার ছোট চাচাতো ভাই তুফায়েল আহমেদ মাত্তু। একটি টিয়ার গ্যাসের ক্যানিস্টার তার একেবারে পায়ের কাছে এসে ফাটে। সে কিছু বুঝতে পারার আগেই পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে তার মাথার খুলি দু'ভাগ করে দেওয়া হয়। তৎক্ষণাৎ মৃত্যু হয় ওই যুবকের। তার মৃত্যু ওই সময়ে শ্রীনগরজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের সূত্রপাত করে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
লক্ষ লক্ষ ইহুদির প্রাণ কাড়তে হিটলারের হাতিয়ার ছিল এই বিষাক্ত গ্যাস, আসলে কী এই মারণাস্ত্র?

ব্যবহারকারীর পাল্লায় পড়ে উপযোগী আবিষ্কারও একদিন বিভীষিকায় পরিণত হয়। আর দোষ হয় প্রযুক্তির, দোষ হয় বিজ্ঞানের।

সেখান থেকেই তাঁর মনে সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ বাড়তে শুরু করে। বিজ্ঞানের ছাত্রী হওয়ার কারণে স্নাতক বিজ্ঞান বিভাগ থেকে করলেও স্নাতকোত্তরের জন্য তিনি বেছে নিলেন সাংবাদিকতাকে। এরপর কাশ্মীরের ওপরে তথ্যচিত্র এবং ভিস‍্যুয়াল গল্প তৈরি করতে শুরু করেন তিনি। কাশ্মীরে বিরাজমান বিভিন্ন পরিস্থিতিতে প্রায় তিন বছর ফ্রিলান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছিলেন সানা।

জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মিডিয়া প্রকাশনা যেমন আল জাজিরা, দ্য নেশন, টাইম টিআরটি ওয়ার্ল্ড, পাকিস্তান টুডে, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এবং কারওয়ান ম্যাগাজিনে তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। এই সমস্ত ম্যাগাজিনে দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর ধরে তাঁর নিজের ক্যামেরায় তোলা একাধিক ছবি ফিচার করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়া সংস্থার চিত্রসাংবাদিক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে তিনি যুক্ত রয়েছেন।

তবে, তিনি খবরের শিরোনামে আসেন যখন ২০১৯ সালে আর্টিকেল ৩৭০ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে আল জাজিরা সেখানকার স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক একটি সংবাদ পেশ করে। বলতে গেলে, এটি একটি ফিচার ডকুমেন্টারি সিনেমা ছিল। এই ফিচার ডকুমেন্টারিতেই স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে কড়া মন্তব্য করে স্পটলাইটে আসেন সানা ইরশাদ।

এর পরে তিনি বেশ কিছু সময় কাশ্মীরওয়ালা পত্রিকার জন্য কাজ করেন। সেই সময় তার তোলা অনেক ছবি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হয়। এই মুহূর্তে তিনি রয়টার্সের জন্য কাজ করছেন একজন মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট হিসেবে। ২০২১ সালে 'ম্যাগনাম ফাউন্ডেশন ফর ফোটোগ্রাফি এবং সোশ্যাল জাস্টিস' তাকে ফেলো সম্মানে ভূষিত করে।

কীভাবে শুরু হলো এই যাত্রা?

তিনি যখন কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তরের পড়াশোনা করেছেন, সেই সময় থেকেই এভি প্রোডাকশন করা শুরু করেছিলেন সানা। তাঁর পিজি প্রজেক্টের একটি অংশ হিসেবে 'দ্য লেক টাউন' নামের একটি ডকুমেন্টারি ২০১৮ সালে মুম্বই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছিল। এটি কাশ্মীর ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছিল সেই বছর। এছাড়াও তাঁর পরিচালিত একটি ট্রমা ডকুমেন্টারি 'এ গ্রেভ ডিগার'-এর জন্য তিনি বেশ জনপ্রিয় হয়েছিলেন।

কোন ছবির জন্য পেলেন পুলিৎজার?

কাশ্মীরের আর্থসামাজিক এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সানা ইরশাদ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন। করোনাভাইরাসের প্রকোপ চলাকালীন সময়ে কাশ্মীর উপত্যকায় তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন মানুষের ছবি তুলেছেন এবং তাঁদের অবস্থার কথা শুনেছেন। কাশ্মীর উপত্যকার একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভ্যাকসিন বিতরণের ছবি তুলতে তিনি প্রায় ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত ট্রেক করেছিলেন। তারপরেই তাঁর ক্যামেরায় ধরা পড়ে সেই অসাধারণ দৃশ্যটি। এই ছবিটির জন্য আজ সারা বিশ্বে তাঁর জয়জয়কার। পুলিৎজার পুরস্কারের কমিটি থেকেও তাঁর এই কাজের প্রশংসা করা হয়েছে। যদিও, এই পুলিৎজার পুরস্কার সানা উৎসর্গ করেছেন সাংবাদিক দানিশ সিদ্দিকিকে।

অন্যান্য চিত্রসাংবাদিকদের থেকে তিনি কেন আলাদা?

প্রায় ১২ বছর হতে চললেও এখনও সেই ২০১০-এর সেই দিনের ঘটনাটি সানার মনে একইরকমভাবে সজীব। তাই তিনি মনে করেন, যখন কোনও বিষয় নৈতিকভাবে সঠিক হয় এবং মানুষগুলো সেই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যায়, তাদের পাশে তাঁর দাঁড়ানো উচিত। তিনি বলেন, যেখানে সাধারন চিত্রসাংবাদিকরা সেই পরিবারের একটি ছবি তুলে সেখান থেকে চলে যান, তিনি কিন্তু তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের সঙ্গে সময় কাটান এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি কী দেখছেন এবং সেই মানুষগুলোর ওপরে কী চলছে, তার মধ্যে একটা সূক্ষ্ম তফাৎ রয়েছে; এবং সেই বিষয়টা তিনি বিশ্বাস করেন। কখনও কখনও একটা ছবির পিছনে অনেকটা কাহিনি লুকিয়ে থাকে, তিনি সেই কাহিনিটা জেনে তাঁদের প্রতি সহানুভূতি জানানোর চেষ্টা করেন।

২০১৮ সালের ১ এপ্রিলে শ্রীনগরের এসএমএইচএস হাসপাতালের ঘটনার স্মৃতিরোমন্থন করতে গিয়ে তিনি অশ্রুসজল। সেইদিন জঙ্গি এবং ভারতীয় সেনার মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকশো সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। শ্রীনগরের ওই হাসপাতালে প্রায় কয়েকশো সাধারণ মানুষের দেহ শায়িত ছিল ওইদিন। হাসপাতালের মেঝেতে রক্তের ছাপ। সানার কথায়, "আমি এই দৃশ্যের কিছু ছবি তুলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু, নিহতদের পরিবার এবং তাদের বন্ধুরা রীতিমতো ক্ষুব্ধ ছিলেন সেই সময়। দূর থেকে দেখতে পেলাম একটি ছেলে একটি এক্স-রে প্যানেল ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি কি তার ছবি তুলতে পারি? কিন্তু ওই ছেলেটি আমাকে সরাসরি না বলে। হয়তো ভুল উপস্থাপনের জন্য ভয় পেয়েছিল ছেলেটি। আমি আর কাউকে হেনস্থা করতে চাইনি। আমি আমার ক্যামেরা নামিয়ে রাখলাম। অপারেশন থিয়েটারের সামনে গিয়ে রক্তমাখা মেঝে দেখে আমার ওইদিন আমার ভাইয়ের কথা মনে পড়ছিল। সেখানে আমি প্রায় তিন ঘণ্টা কাটিয়েছি। পরের দিন যখন আমি সেই হাসপাতালে আবার ফিরে আসি, তখনও ছেলেটি সেখানেই বসে ছিল। সে আমাকে ডাকলো। ডেকে জিজ্ঞাসা করল, 'এই ওষুধটা কীভাবে প্রয়োগ করতে হয়?' হয়তো আমার প্রতি একটা আলাদা বিশ্বাস তৈরি হয়েছিল তাঁর। তাই সেদিন ছেলেটি আমাকে ছবি তুলতে কোনও বাধা দিল না।"

কাশ্মীরে নারীর সাংবাদিকতা- বিষয়টিকে কীভাবে দেখেন সানা?

সানা ইরশাদ কখনওই লিঙ্গের ভিত্তিতে মানুষকে বিচার করার পক্ষপাতী নন। তিনি মনে করেন, প্রত্যেকে তাঁদের নিজস্ব অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি এবং বোঝার ক্ষমতা নিয়ে আসে। শুধুমাত্র লিঙ্গ দিয়ে একজনের দৃষ্টিভঙ্গি বিচার করা এবং তাঁর কাজের দক্ষতাকে বিচার করা যায় না বলেই তাঁর বক্তব্য। তিনি বলছেন, "আমি যখন কঙ্গনে ছবি তুলতে গিয়েছিলাম তখন সেখানকার স্থানীয় মহিলা আমাকে ক্যামেরা নামিয়ে রাখতে বলেছিল। আমি ক্যামেরা সেই সময় নামিয়ে রেখেছিলাম। তবে, সেখানে আরও একটি গোষ্ঠী ছিল যারা আমার কাজকে সমর্থন করে।"

তাঁর কাছে ছবি তোলা মানে শুধুমাত্র মানুষ এবং প্রকৃতির ছবি তোলা নয়। কীভাবে একটি ছবির মাধ্যমে সম্পূর্ণ ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়া যায় সেই চেষ্টাই করে থাকেন সানা। তিনি বিশ্বাস করেন যে, সাংবাদিকতার পেশায় টাকার অঙ্কটা বেশ কম। একজন সাংবাদিক হিসেবে সকলের কাছে নিজেকে নিয়ে যাওয়াও অতটা সহজ নয়। উপরন্তু, চিত্রসাংবাদিক হিসেবে আরও বড় চ্যালেঞ্জ হলো, কোনও ঘটনার সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় উপস্থিত হয়ে সঠিক ছবি তোলা। কিছু কিছু পরিস্থিতি এমন থাকে, যখন ঘটনা বুঝে ওঠার সময় থাকে না, কিন্তু তখনও ছবি তুলতে হয়।

নিস্তব্ধতা এবং তার একটি প্রতিফলিত মেজাজ সবসময় সানার ছবিতে স্পষ্ট। তিনি যা ক্যাপচার করেন, তা হয় 'বাস্তবতার টুকরো'। সাধারণ মানুষের জীবনের সাধারণ ঘটনা, সামরিক পরিবেশের মধ্যে থাকা কাশ্মীরের মানুষদের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র সানার লেন্সবন্দি হয় খুব সহজেই। তাঁর ছবিতে কাঁটাতারের অবস্থান দৃষ্টান্তমূলক। কাশ্মীরের মানুষের বন্দিত্ব নিয়ে তাঁর কাজ অবশ্যই ভাবায় মানুষকে। জম্মু-কাশ্মীরের ভয়াবহতার চিত্র বারংবার উঠে এসেছে সানা ইরশাদ মাত্তুর ক্যামেরায়। কাশ্মীরের বাসিন্দাদের জন্য একাধিকবার সোচ্চার হয়েছেন তিনি। সরকারের মুখোশ টেনে ছিঁড়ে ফেলে সত্যের হয়ে সওয়াল করেছেন বহুবার। কিন্তু, কিছু মানুষের চিন্তাধারা আটকে সেই একই জায়গায়। পুলিৎজারের মতো পুরস্কার পাওয়ার পরেও কিছু বিশেষ গোষ্ঠীর মানুষের কাছে তিনি আজকেও সমাজবিরোধী।

লিখেছেন
Sourish Das
Sourish Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ছদ্ম-বিরোধী তৈরিই কি তবে ভারতের রাজনীতিতে ক্ষমতার নতুন কৌশল?

Indian opposition politics: বিরোধীদের সরাসরি নিষিদ্ধ না করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চাপ, আইনি ফাঁকফোকর এবং সুপরিকল্পিত দল ভাঙার মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে অনুগত ‘ছদ্ম-বিরোধী’।

EXCLUSIVE: কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে ভোট না-করানো তৃণমূলের বড় ভুল, নিজেদের ভুল নিয়েও আলোচনার দরকার ছিল: কুণাল

Kunal Ghosh on Mamata Banerjee: ইনস্ক্রিপ্টে ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে তিনি একদিকে যেমন দাবি করেছেন মমতাকে ভয় পেয়েই তাঁকে বারবার নিশানা করা হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে দলের ভুলত্রুটি স্বীকার করে আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন।

EXCLUSIVE: শেষদিকে দল পরিচালনায় গ্যাপ ছিল, অভিষেকের অফিসও ঠিকঠাক ম্যানেজ করা হয়নি: কুণাল

Kunal Ghosh on Abhishek Banerjee: ইন্সক্রিপ্টের ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে অভিষেক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, শেষ পর্যায়ের দল পরিচালনায় আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অভিষেকের অফিসও সব সময় ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।

মমতা-অভিষেকের দল পরিচালনায় বিরাট গ্যাপ তৈরি হয়েছিল: ইনস্ক্রিপ্ট পডকাস্টে আর কী বললেন কুণাল?

Kunal Ghosh Interview: বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পরে প্রতীক, নাম হারিয়ে কার্যত দিশাহারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। তার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই জারি রয়েছে। যদিও দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে মমতার কাছাকাছির বৃত্ত ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়েছে। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে মুখ পুড়েছে। এই প্রেক্ষিতে আসন্ন পুরভোটে কেমন করবে তৃণমূল? ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও সম্ভাবনা আছে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী? বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে যা বললেন দলের বিধায়ক এবং অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?