২৯ টাকা দিন, হাতে হাতে নিয়ে যান ৪ লাখ; যাঁদের জন্য কল্পতরু LIC

LIC Game-Changing Scheme: নতুন এই বিমা প্রকল্পের আওতায় গ্রাহক দেবেন মাত্র ২৯ টাকা। বদলে নিয়ে যাবে ৪ লক্ষ টাকা। শুনতে অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি।

Sohini Das
৩ মিনিট
২৯ টাকা দিন, হাতে হাতে নিয়ে যান ৪ লাখ; যাঁদের জন্য কল্পতরু LIC

বিমার নাম শুনলেই অনেকে ভয় পেয়ে যান। বিমা মানেই মাসে মাসে গুনতে থাকা প্রিমিয়াম, হাজার ঝামেলা। কিন্তু যে টাকায় আমরা মোমো কিনে খাই, সেই টাকায় প্রিমিয়াম দিয়েই করা যেতে পারে দুর্দান্ত বিমা। হ্যাঁ, তেমনই একটি সুবিধা এনেছে লাইফ ইনসুয়োরেন্স কর্পোরেশন (LIC)। নতুন এই প্রকল্পের নাম রাখা হয়েছে এলআইসি আধার শিলা যোজনা। অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলা গ্রাহকদের কথা ভেবেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ঝুঁকি কম, সুবিধা বেশি। এতদিন ধরে এমন একাধিক প্রকল্প এনে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করেছে জীবনবিমা কর্পোরেশন। এবার সেই তালিকাতেই নতুন সংযোজন এলআইসি আধার শিলা যোজনা। কী সুবিধা পাওয়া যাবে নতুন এই বিমা প্রকল্পের আওতায়।

নতুন এই বিমা প্রকল্পের আওতায় গ্রাহক দেবেন মাত্র ২৯ টাকা। বদলে নিয়ে যাবে ৪ লক্ষ টাকা। শুনতে অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি। এমনই আশ্চর্য প্রকল্প নিয়ে হাজির হয়েছে এলআইসি। যা পাবেন শুধুমাত্র মেয়েরাই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
LIC: ২১ টাকা বিনিয়োগে রিটার্ন ২ লক্ষ, নিম্নবিত্তকে আশা দেখাবে এলআইসি-র এই প্রকল্প

নিম্নবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির জনসাধারণের জন্যই সম্প্রতি একটি নতুন প্রকল্প নিয়ে হাজির হয়েছে ভারতীয় জীবন বিমা নিগম।

ধরা যাক, ৩০ বছর বয়সী এক মহিলা ওই প্রকল্পের আওতায় প্রতিদিন ২৯ টাকা করে জমা দিচ্ছেন। সেই হিসেবে প্রথম বছরের শেষে তাঁর মোট জমা দাঁড়াচ্ছে ১০,৯৫৯ টাকা, যার উপর ৪.৫ শতাংশ হারে সুদ পাবেন ব্যক্তি। এর পরের বছরগুলিতে তাঁর বাৎসরিক জমা হবে ১০,৭২৩ টাকা করে। ১০ থেকে ২০ বছরের মেয়াদে এই বিমাটি করাতে পারেন যে কেউ। নির্দিষ্ট সময় পরে সেই ২৯ টাকার বদলে এলআইসি গ্রাহকের হাতে তুলে দেবে ৪ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে যদি বিমাকারীর কোনও রকম অঘটন বা মৃত্যু হয়, সেক্ষেত্রে নমিনি মূল জমা টাকার ১১০ শতাংশ কিংবা এক বছরের প্রিমিয়ামের দশ গুণ টাকা পেয়ে যাবেন। ফলে আপনার টাকা যে এলআইসি-র কাছে সুরক্ষিত থাকবেই, সে নিয়ে নিশ্চিত থাকতে পারেন।

এমনকী ওই বিমা থেকে চাইলে ধার হিসেবে টাকাও তুলতে পারবেন গ্রাহক। তবে তা করা যাবে নির্দিষ্ট একটি সময়ের পরেও। আর্থিক বা সঞ্চয়ে যারা অপটু, তাঁদের জন্য কিন্তু দুর্দান্ত একটি সুযোগ এনেছে এলআইসি। যেখানে একই সঙ্গে যেমন বিমার সুবিধা পাচ্ছেন, তেমনই পাচ্ছেন সঞ্চয়ের সুবিধাও। তার সঙ্গে প্রয়োজনে লোনও নিতে পারবেন তিনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বয়স ৯২ ছুঁইছুঁই, LIC এজেন্ট থেকে কীভাবে ভারতের বয়স্কতম ধনকুবের হয়ে উঠলেন এই ব্যক্তি?

India’s oldest billionaire : ৯২ বছরেও সজাগ নজর ব্যবসায়, লছমন দাস মিত্তলের লড়াই শুনলে অবাক হবেন আপনিও

আজকের দিনে তিরিশ টাকায় কী বা হয়। হাত ঘোরাতে না ঘোরাতে খরচ হয়ে যায় তিরিশটি টাকা। কিন্তু সেই ন্যূনতম তিরিশ টাকাই যে আপনাকে অর্থনৈতিক দিশা দেখাতে পারে, তা কি ভেবেছেন কখনও। তবে এবার তেমনই এক দুর্ধর্ষ ব্যবস্থা নিয়ে হাজির হয়েছে এলআইসি।

তবে এই আধার শিলা যোজনার কিন্তু বেশ কয়েকটি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এলআইসির তরফে জানানো রয়েছে, বেশ কয়েকটি শর্ত রয়েছে এই প্রকল্পে সঞ্চয়ের। এই প্রকল্পের আওতায় বিমাকারী ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিশ্চিত ফেরত পাবেন। এবং এই সুবিধা নিতে পারবেন শুধুমাত্র মহিলারা। সেক্ষেত্রে তাঁদের কিন্তু বৈধ আধারকার্ড থাকতেই হবে। সে কারণেই এই প্রকল্পের নাম আধার শিলা যোজনা। এখানেই শেষ নয়। বয়সের ক্ষেত্রেও বেশ কয়েকটি শর্ত রেখেছে এলআইসি। ৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী যে কোনও মহিলা এই বিমা করতে পারবেন। এই প্রকল্পটি ম্যাচিওর করার সময়ে গ্রাহকের বয়স ৭০ বছরের কম হতেই হবে। নাহলে এই বিমাটি ধার্য হবে না। দশ থেকে কুড়ি বছরের মেয়াদে টাকা রাখতে পারবেন গ্রাহকেরা। তবে প্রত্যেকের বৈধ আধারকার্ড থাকাটা কিন্তু এই প্রকল্পের জন্য ভীষণ জরুরি। এই প্রকল্পের আওতায় মোটামুটি ৭৫,০০০ টাকা থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থলগ্নি করতে পারবেন গ্রাহকেরা। প্রিমিয়াম গ্রাহক সুবিধামত মাসিক, ষান্মাসিক বা বছরের হিসেবে দিতে পারবেন।

মূলত মেয়েদের কথা ভেবেই এই প্রকল্পটি এনেছে এলআইসি কর্তৃপক্ষ। যাতে অর্থনৈতিক ভাবে সাবলম্বী হতে পারেন মেয়েরা। ৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী লগ্নিকারীদের আর্থিক সুরক্ষা দিতেই এই পরিকল্পনা। এতে অর্থনৈতিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় থাকবে বলেই আশা করছে এলআইসি।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।