ইরানে হামলা করেছিল আমেরিকাই?

Trump Iran attack: ওয়াকিবহাল বলেছে, এটি নিছক বক্তব্য নয়, আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কৌশল। নিজের সমর্থকদের চোখে আবারও ‘শক্তিশালী নেতা’ হিসেবে ফিরে আসতে চাইছেন ট্রাম্প।

inscript
২ মিনিট
ইরানে হামলা করেছিল আমেরিকাই?

বিশ্বজুড়ে আবারও উত্তেজনা বাড়ালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি স্বীকার করলেন— ইরানের উপর সাম্প্রতিক ইজরায়েলি হামলায় তিনিই ছিলেন পরিকল্পনাকারী। ৬ নভেম্বর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “ইজরায়েলই প্রথমে হামলা চালায়। হামলাটা ছিল ভয়ংকর শক্তিশালী। পুরো ঘটনাটার দায়িত্ব তখন আমার হাতেই ছিল।” প্রশ্ন হলো, কেন এখন এ কথা বলছেন ট্রাম্প?

ট্রাম্পের মন্তব্যের পরই কূটনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এতদিন ওয়াশিংটন দাবি করে আসছিল, ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত ছিল সম্পূর্ণ ইজরায়েলের নিজস্ব পদক্ষেপ, যুক্তরাষ্ট্র শুধু মিত্রদেশ হিসেবে সমর্থন জানিয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই দাবিই প্রশ্নের মুখে। তাঁর স্বীকারোক্তি ইঙ্গিত দিচ্ছে— হামলায় ছিল সরাসরি মার্কিন সম্পৃক্ততা, যা আন্তর্জাতিকভাবে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইরান হামলার প্রস্তুতি যেভাবে নিয়েছে ইজরায়েল

Intelligence Agency: ইজরায়েল ইরানে এমন ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করেছে যেগুলি মাটিতে পোঁতা থাকে এবং রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে কাজ করে। এতে অপারেটরের উপস্থিতি ছাড়াই ইরানের ভেতর থেকে বিভিন্ন স্থানে হামলা করা সম্ভব হয়েছে।

চলতি বছরের জুন মাসে ইরানের উপর ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় ইজরায়েল। নিশানায় ছিল ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা— নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরডো। হামলায় নিহত হন বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী ও সাধারণ নাগরিক। ইরান প্রতিশোধ নিতে দ্রুত পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইজরায়েলের দিকে। এর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে দাবি করেছিল, তারা কেবল ইজরায়েলের নিরাপত্তা রক্ষায় পাশে ছিল। কিন্তু সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি স্বীকার করে নিলেন যুক্তরাষ্ট্র ইজরায়েলের সঙ্গ দিয়েছে।

প্রশ্ন হলো, কেন ট্রাম্প এখন এই স্বীকারোক্তি দিচ্ছেন? বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসলে রাজনৈতিক কৌশল। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ব্যবহৃত হচ্ছে ট্রাম্পের শক্তিশালী নেতৃত্বের ইমেজ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে। ওয়াকিবহাল বলেছে, এটি নিছক বক্তব্য নয়, আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কৌশল। নিজের সমর্থকদের চোখে আবারও ‘শক্তিশালী নেতা’ হিসেবে ফিরে আসতে চাইছেন ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমে আসছে— এমন সমালোচনার জবাব দিতেই তিনি পুরনো ‘কঠোর’ অবস্থান পুনরায় সামনে আনছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ! কোন পক্ষের কতটা লাভ, ক্ষতির খতিয়ান কত?

Iran-Israel war: মনে রাখতে হবে, এই যুদ্ধে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ইজরায়েলের পক্ষে নীরব সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ ও হুথি গোষ্ঠী ইরানের পক্ষ নিয়েছে। এই ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার আবহ জারি রাখবে।

ট্রাম্পে বোঝাতে চেয়েছেন, আবারও বিশ্বমঞ্চে শক্তিশালী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে আনার ক্ষমতা তাঁরই আছে। বক্তব্যকে সামনে রেখে ট্রাম্প তাঁর সমর্থকদের কাছে ‘কঠোর ও দৃঢ় নেতা’ হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি গড়তে চাইছেন।এখন পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা অনিশ্চিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র আবার মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তবে তার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও।

তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এও বলছেন, তাঁর এই মন্তব্য শুধু মার্কিন রাজনীতির ভেতর সীমাবদ্ধ নয়; এটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ইরান ইস্যুকে ঘিরে তৈরি নতুন উত্তেজনা যদি বাড়ে, তবে তার দায় বর্তাবে মার্কিন প্রশাসনের উপরও। এই অবস্থায় ট্রাম্পের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে, শক্তির প্রদর্শনই যেন হয়ে উঠছে রাজনৈতিক অস্ত্র— আর সেটাই বিশ্ব রাজনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। তবে প্রশ্ন হলো, এই শক্তি প্রদর্শনের ফল কতটা স্থায়ী হবে, আর তার মূল্যই বা কত ভয়াবহ হতে পারে? বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে, ট্রাম্পের এই রাজনৈতিক কৌশল মধ্যপ্রাচ্যে আরও অস্থিরতা ডেকে আনে কি না।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সিজেপির কর্মসূচির আগে ৬ হাজার পুলিশ, দুর্ভেদ্য দুর্গ কনট প্লেস

Connaught Place protest: সিজেপির কর্মসূচির আগে কনট প্লেস এবং তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসের আশপাশে ৬ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?