নিন্দার মাঝে উজ্জ্বল নাম! চন্দ্রযানের সাফল্যে যে ভাবে জুড়ল যাদবপুরের নাম

ISRO’s Chandrayaan-3: চন্দ্রযান ৩-র সফট ল্যান্ডিংয়ের বিষয়টি যারা সামলাচ্ছিলেন, সেই দলেই ছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই প্রাক্তনী। বর্তমানে তাঁরা ইসরোর গবেষক।

Sohini Das
৩ মিনিট
নিন্দার মাঝে উজ্জ্বল নাম! চন্দ্রযানের সাফল্যে যে ভাবে জুড়ল যাদবপুরের নাম

চাঁদের মাটি ছুঁয়ে ফেলেছে ভারত। চাঁদে পৌঁছনোর নিরিখে চতুর্থ দেশ হলেও, চাঁদের দক্ষিণ মেরু প্রথম ছুঁয়েছে তাঁরাই। এমন গর্বের মুহূর্ত কটাই বা আসে আমজীবনে! বরং লজ্জা, অপমানের মুহূর্তদের পরিসংখ্যানই বেশি। এই যেমন কদিন আগেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল হস্টেলে ঘটে যায় ভয়ঙ্কর অপ্রিয় একটি ঘটনা। হস্টেলের তিনতলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় প্রথম বর্ষের এক পড়ুয়ার। সেই মৃত্যু ঘিরে উঠে আসে ব়্যাগিং যোগের অভিযোগ। গ্রেফতার হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ও প্রাক্তনী মিলে ১৩ জন। প্রশ্ন ওঠে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা, মান নিয়েও। আর তা অস্বাভাবিক নয় মোটেই। এর পর একের পর এক পড়ুয়ার অমূলক দাবি সেই বিতর্কে ঘি ঢালতে থাকে অনবরত। গত কয়েকদিন ধরে রাজ্য, রাজনীতি পেরিয়ে দেশের পরিমণ্ডলেও পৌঁছে গিয়েছিল সেই রেশ। বিভিন্ন মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশ্বমানের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে চন্দ্রাভিযানের খবর যেন এল একদমকা বাতাসের মতো। অনেকদিন পরে যেন গর্ব করার মতো কিছু একটা পেল দেশ। আর চন্দ্রযান ৩-র সাফল্য যেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কেও ফিরিয়ে দিল কিছুটা হৃত গৌরব।

দু'বারের ব্যর্থতার দাগ মুছে চাঁদের মাটিতে সফল ভাবে পা রেখেছে চন্দ্রযান ৩। গত ১৪ জুলাই শ্রীহরিকোটা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় চন্দ্রযান ৩-টিকে। গত ৫ অগস্ট চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছয় সেটি। অবশেষে ২৩ অগস্ট অর্থাৎ বুধবার সন্ধ্যেয় চাঁদের মাটিতে অবতরণ। ২০১৯ সালে ঠিক অবতরণ করার মুখেই ধাক্কা খেয়েছিল চন্দ্রযান ২। সফট ল্যান্ডিং না হওয়ায় চাঁদের মাটিতে আছাড় খেয়ে ভেঙেচুরে গিয়েছিল সেটি। অধরাই থেকে গিয়েছিল চাঁদ জয়। তাই এবার অবতরণ নিয়ে অতিরিক্ত সতর্ক ছিল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা তথা ইসরো। ফলে অতিরিক্ত চাপ ছিল চন্দ্রযান ৩-র সফট ল্যান্ডিংয়ের বিষয়টি যারা সামলাচ্ছিলেন, তাঁদের উপরে। জানা গেল, সেই দলেই ছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই প্রাক্তনী। বর্তমানে তাঁরা ইসরোর গবেষক। সায়ন চ্যাটার্জি ও ড. অমিতাভ গুপ্ত নামে ওই দুই গবেষক গোড়া থেকেই চন্দ্রযান ৩-র সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিশেষত মুন ল্যান্ডিং প্রজেক্টেই কাজ করেছেন তাঁরা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চাঁদের মাটি ছোঁয়ার অপেক্ষায় চন্দ্রযান-৩, ভারতের চাঁদে যাওয়ার নেপথ্যে যেসব তুখোড় মস্তিষ্ক...

Chandrayaan-3, ISRO: একদিন, দুদিন নয়, টানা চার বছর ধরে চন্দ্রযান ৩ নিয়ে পড়ে রয়েছেন অজস্র বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার। তবে সে তো একদিনের পথ নয়। প্রথম চন্দ্রযান পাঠানো থেকে এই তৃতীয় চন্দ্রযান পর্যন্ত পৌঁছনোর পথে পড়ে রয়েছে অনেক ত্য়াগ, অনেক পরিশ্রম।

কয়েক হাজার বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়ারের চার বছরের পরিশ্রমের ফসল আজকের এই সাফল্য। চন্দ্রযান ৩-র প্রতিটা বিজয় মুহূর্তের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাঁদের বহু রক্ত, ঘাম, নির্ঘুম রজনী। আর তার মধ্যেই ছিলেন ওই দুই 'যদুবংশীয়'। যাদবপুরের পড়ুয়ারা প্রায়শই নিজেদের পরিচয় সেভাবেই দিতে ভালোবাসেন। বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতার শীর্ষে পৌঁছেছেন বহু যাদবপুরের প্রাক্তনী। এ কথা কোনও ভাবেই অস্বীকার করা যায় না। এখনও মুক্তচিন্তার পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু ওই একটা ঘটনা এত বছরের গৌরবে ছিটিয়ে দিয়েছে কালি। ব়্যাগিং সংস্কৃতি যে কোনও ভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়, তা যেখানেই হোক না কেন, সেই কথায় এক বাক্যে সায় দিয়েছেন সকলে। তবু এত কিছুর মধ্যেই চন্দ্রযান ৩-র সাফল্যে যাদবপুরকে খুঁজে পাওয়া যেন এই আকালে অনেকখানি অক্সিজেন জোগাচ্ছে 'যদুবংশীয়'-দের।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চাঁদের মাটিতে ভারতীয় তেরঙার ছবি আঁকা দিয়ে শুরু, এবার কী করবে প্রজ্ঞান?

Chandrayaan-3 landing: চাঁদের মাটি ছুঁল ভারত, অথচ নিজেদের একটা দাগ রেখে যাবে না, তা আবার হয় নাকি। তাই চাঁদের মাটিতে সে এঁকে আসবে ভারতের একটি জাতীয় পতাকা ও ইসরোর লোগো।

জানা গিয়েছে, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশনের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং প্রজেক্ট কো-ইনভেস্টিগটর সায়ন। চন্দ্রযান ৩-এর ল্যান্ডার যাতে চাঁদের ভূমিতে কোনও রকম বাধা না পেয়ে পালকের মতো নেমে আসতে পারে, যাতে কোনও ভাবে ভেঙে না পড়ে চন্দ্রযান ২-এর মতো, সেটা দেখাই কাজ ছিল সায়ন ও তাঁর দলবলের। যাদবপুরের অন্য এক প্রাক্তনী অমিতাভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক। তিনিও যুক্ত ছিলেন চন্দ্রযানের অবতরণ সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে। নেমে আসার সময় ল্যান্ডারটি যাতে ঠিক মতো নড়াচড়া করে, কোনও ভাবে যাতে আচমকা স্পিড না বেড়ে যায়, তা নিশ্চিত করাই কাজ ছিল তাঁদের। বহু সময়েই চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে চাঁদের মাটিতে আছড়ে পড়তে পারে চন্দ্রযানটি, তা রুখে ল্যান্ডারটিকে ঠিক পথে রাখাই ছিল অমিতাভ ও তাঁর টিমের কাজ।

চন্দ্রযান মিশনের সবচেয়ে গুরুতর ছিল বোধহয় এই সফট ল্যান্ডিং পর্বটি। গতবার এই ধাপটিতে এসেই মুখ থুবড়ে পড়েছিল চন্দ্রযান ২। ফলে ইসরো তো বটেই, গোটা দেশেরই অতিরিক্ত প্রত্যাশা জুড়ে ছিল এই ধাপটিকে ঘিরেই। যেখানেই দুর্দান্ত কাজ করে দেখিয়েছেন সায়ন, অমিতাভ ও তাদের সংশ্লিষ্ট টিম। দেশের মুখ তো তাঁরা উজ্জ্বল করেইছেন, পাশাপাশি কলকাতা, তথা গোটা পশ্চিমবঙ্গের জন্যই এনে দিয়েছেন অতিরিক্ত সম্মান। আর পাশাপাশি তাদের হাত ধরেই সামান্য় হলেও মান ফিরেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের। আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজও কৃতিরাই বেরোন। সেই মান কোথাও ক্ষুন্ন হয়নি আজও।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?