স্কুলে যাননি কোনওদিন, তবু চিকিৎসা করতেন! মোদির প্রয়াত মা হীরাবেনের যে জীবন অজানাই

Heeraben Modi Passes Away: নরেন্দ্র মোদির মা নিজে কখনও স্কুলে যাননি, তবুও তিনি তাঁদের গ্রামের একজন ডাক্তার ছিলেন।

Madhurima Dutta
৪ মিনিট
স্কুলে যাননি কোনওদিন, তবু চিকিৎসা করতেন! মোদির প্রয়াত মা হীরাবেনের যে জীবন অজানাই

মায়েদের ভারতবর্ষ ঠিক একটাই অভিমুখে সম্মান করে। অন্যের পরিচয়ে পরিচয়, অন্যের পরিচয়ে খ্যাতি, অন্যকে গর্ভ ধরে সেই গর্ভের গর্ব অনুযায়ীই সামাজিক তুলাদণ্ডে হয় কুমাতা বা রত্নগর্ভা। রত্নের জন্ম দিতে দিতে যাদের বহু বেলাই কেটে গিয়েছে, রত্নকে পালন করতে গিয়ে যাদের পেরিয়ে গিয়েছে সমস্ত শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা বা বসন্ত, তাঁদের ঠাঁই চিরকালই নেপথ্যে। বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের মা হওয়ার গর্বে বা দায়িত্বের আড়ালে তাঁদের যাপনের কতটুকুই বা মানুষ জেনেছে, কবেই বা! সফল পুরুষের পাশে নয়, পিছনে থেকে মায়েরা একদিন চলে গেছেন বিস্মৃতির গহিনে। যেমন চলে গেলেন হিরাবেন। হিরাবেন মোদি, পরিচয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর মা। গুজরাতের ভাদনগরের ছাপোষা এক মহিলার জীবনের গভীরে গেলে, সেই বারোমাস্যাকে পড়লে এমন একজন মায়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে যিনি শুধুই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বড় করেননি, নিজের জীবনকেও লড়াইয়ের স্রোতে ভাসিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মা হিরাবেন মোদি শুক্রবার ভোরে ইউএন মেহতা ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর মা হিরাবেন মোদি শতবর্ষে পা দিয়েছিলেন চলতি বছরই। হিরাবেনের জন্ম অবশ্য পালানপুরে, মোধি-গাঞ্চ-তেলি সম্প্রদায়ে। চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জন্ম, অল্প বয়সে বাবা-মাকে হারানোর পর তার দিদার কাছেই বেড়ে ওঠেন। বাসন মাজা, তুলোর কারখানায় প্রতিদিন ৪/৫ টাকা মজুরিতে কাজ, সবই করেছেন হিরাবেন। বিয়ে হয় চা বিক্রেতা দামোদর মুলচাঁদ মোদির সঙ্গে। বিয়ের পর চলে আসেন ভাদনগরে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাই প্রহ্লাদ মোদি একবার বলেছিলেন, "আমার মায়ের বয়স তখন মাত্র ১৫ কি ১৬, বিয়ে হয়ে গিয়েছিল তাঁর। আর্থিক চাপ এবং পারিবারিক সমস্যার কারণে তিনি কখনই পড়াশোনা করার সুযোগও পাননি। তবে আমার মা চেয়েছিলেন যে তাঁর সমস্ত সন্তান শিক্ষিত হোক। পরিবারের আর্থিক অবস্থা এমন ছিল যে আমাদের কাছে ফি দেওয়ার মতো টাকাও ছিল না কিন্তু মা কখনই টাকা ধার করেননি। কিছু কাজ করে তবেই সেই টাকা চুকিয়ে দিতেন তিনি।"

ছয় সন্তানের মা হিরাবেনের তৃতীয় সন্তান নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী মোদি ভাদনগরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। জানিয়েছিলেন, তাঁদের পরিবারের কাছে স্কুলের ফি দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত টাকা ছিল না। প্রধানমন্ত্রী মোদির একটিই স্কুল ইউনিফর্ম ছিল এবং যখনই ইউনিফর্ম ছিঁড়ে যেত, হিরাবেন অন্য কোনও রঙের কাপড় দিয়ে তা রিফু করে দিতেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদির সংকটে 'পাশে আছি'! দেশকে ভালোবাসার নতুন পাঠ শেখাচ্ছেন রাহুল গান্ধী

Rahul Gandhi and Narendra Modi: মঙ্গলবার রাতে স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মা হীরাবেন মোদি।

ভাদনগরে হিরাবেন ছোট শিশু এবং মহিলাদের ঘরোয়া টোটকা দিয়ে চিকিত্সা করতেন। প্রহ্লাদ মোদি বলেছিলেন, "আমার মা অনেক দেশজ টোটকা জানতেন। মাকে সবাই দোসি মা নামেই ডাকতেন। মা নিজে কখনও স্কুলে যাননি, তবুও তিনি আমাদের গ্রামের একজন ডাক্তার ছিলেন। ১০০ বছর পার করেছেন সংগ্রাম এবং কঠোর পরিশ্রমের মধ্যে দিয়েই।"

প্রহ্লাদ মোদির কথায়, দিনে দু'বার কুয়ো থেকে জল তুলতেন, এত বয়সেও টানটান ছিল পিঠ। প্রতিদিন পুকুরপাড়েই কাপড় ধুতে যেতেন এবং পুকুরে নামা ওঠার এতগুলি সিঁড়ি পেরোতে হতো যে পা হাঁটুর সমস্যা কাবু করতে পারেনি দীর্ঘকাল। শতবর্ষ ছুঁইয়েও হিরাবেন বাইরের খাবার কোনওদিনও খাননি।"

হিরাবেনের বয়সকালের বন্ধুরা জানিয়েছেন, হিরাবেন সবসময় নিজের কাজে ব্যস্ত থাকতেন। প্রতিদিনের রুটিন কাজ এবং নিজের পরিবার- এর বাইরে তাঁর জীবন বলতে কিছুই ছিল না।

শোনা যায়, পরিবারের আর্থিক অবস্থা এককালে এমন ছিল যে সপ্তাহে পাঁচ দিন শুধু বাজরা রুটি এবং কড়ি তৈরি করা হতো। প্রহ্লাদ মোদির কথায়, "সবজি কেনার টাকা ছিল না। তখন ছাস (যাকে বাটার মিল্ক বলা হয়) তখন বিনামূল্যেই পাওয়া যেত। বাড়িতে শুধু বাজরার রুটি আর কড়ি রান্না করা হতো। আসলে নরেন্দ্র ভাই, বাড়ি ছাড়ার কয়েক বছর আগে পর্যন্ত, শুধু দুটো রুটি আর চা ছাড়া কিচ্ছু খেত না।"

দেশ এবং মোদি ভক্তরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি দিনে ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন। আর এই কাজের শক্তির অনুপ্রেরণা পেয়েছেন মা হিরাবেনের থেকেই। বরাবরই ধার্মিক মানুষ হিরাবেন মোদি। শোনা যায়, দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করার পন্থায় আস্থা ছিল তাঁর। নিজে নিরক্ষর ছিলেন ঠিকই কিন্তু স্বামী দামোদর তাঁকে ধর্মীয় বই পড়ে শোনাতেন।

মায়ের মৃত্যুতে টুইট করেছেন মোদি, লিখেছেন, "এক গৌরবময় শতাব্দী ঈশ্বরের পায়ে বিশ্রামে শুয়ে আছে," জীবনের শেষ কয়েকদিন, হিরাবেন গুজরাতের গান্ধীনগরের উপকণ্ঠে রায়সানে তাঁর আরেক ছেলে পঙ্কজ মোদির বাড়িতেই কাটিয়েছেন। এই বছরের শুরুর দিকে হিরাবেনের শততম জন্মদিনে মোদি লিখেছিলেন, "আমার মা যতটা সহজ, তিনি ততটাই অসাধারণ।" মোদিই জানিয়েছিলেন, একজন কর্তব্যপরায়ণ নাগরিক হিসাবে, হিরাবেন পঞ্চায়েত থেকে সংসদ পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। মোদি ভাইদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং আশির দশকের শুরু থেকে এই পরিবারকে চেনেন কিশোর মাকওয়ানা। ইন্ডিয়া টুডেকে তিনি জানিয়েছেন, “২০০৪ সালে হিরাবেন প্রথম বলেছিলেন যে আমার ছেলে একদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবে। সেই সময়ে, নরেন্দ্র মোদি তিন বছর ধরে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এবং তাঁর জাতীয় রাজনৈতিক মঞ্চে আসার কথা ভাবেননি কেউই। প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মোদি যখন তাঁর মায়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন, তখন হিরাবেন তাঁকে একটাই উপদেশ দিয়েছিলেন— কখনও দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়ো না।” হিরাবেন একমাত্র মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন ২০০২ সালে, যখন দ্বিতীয়বার গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন মোদি।

লিখেছেন
Madhurima Dutta
Madhurima Dutta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।