হাশিম আমলা, ভিভিএস লক্ষ্মণের সমগোত্রীয়! সর্বকালের সেরা নন বিরাট

Virat Kohli: বিরাট বিশ্বের সর্বকালের সেরাদের মধ্যে তো পড়েনই না, এমনকী পরিসংখ্যানের দিক থেকে ভারতের সেরা পাঁচজন ব্যাটারের মধ্যে পড়লেও নৈপুণ্যে তিনি গাভস্কর, সচিন, রাহুলের চেয়ে অনেক পিছিয়ে।

Pratik
১৭ মিনিট
হাশিম আমলা, ভিভিএস লক্ষ্মণের সমগোত্রীয়! সর্বকালের সেরা নন বিরাট

যদি কোনও অস্ট্রেলিয়কে জিজ্ঞেস করেন, "ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা ডন ব্র্যাডম্যানকে বাদ দিলে আপনাদের সর্বকালের সেরা টেস্ট ব্যাটার কারা?" উত্তরে মোটামুটি সকলেই যে নামগুলো বলবেন সেগুলো হলো – গ্রেগ চ্যাপেল (গড় ৫৩.৮৬), অ্যালান বর্ডার (৫০.৫৬), স্টিভ ওয় (৫১.০৬), রিকি পন্টিং (৫১.৮৫), স্টিভ স্মিথ (৫৬.৭৪)। একই প্রশ্ন ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের কাউকে করলে যে নামগুলো আসবে সেগুলোও সবার জানা – গারফিল্ড সোবার্স (৫৭.৭৮), ব্রায়ান লারা (৫২.৮৮), ভিভিয়ান রিচার্ডস (৫০.২৩)। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের তিন ডব্লিউও – এভার্টন উইকস (৫৮.৬১), ক্লাইড ওয়ালকট (৫৬.৬৮), ফ্র্যাংক ওরেল (৪৯.৪৮) – আলোচনায় আসবেন। দু-একজন হয়ত জর্জ হেডলির (৬০.৮৩) নামও করতে পারেন, তবেহেডলি মাত্র ২২ খানা টেস্ট খেলেছেন।

ইংরেজদের এই প্রশ্ন করলে তারা আধুনিক ক্রিকেটারদের মধ্যে জো রুটের নাম অবশ্যই করবেন, কারণ জো প্রায় ১৩,০০০ রান করে ফেলেছেন ইতিমধ্যেই (৫০.৮৭)। ইনিংস শুরু করার মতো শক্ত কাজ করে প্রায় সাড়ে বারো হাজার রান করেছেন এবং অধিনায়কত্ব করেছেন বলে অ্যালাস্টেয়ার কুকের নামও এসে পড়বে (৪৫.৩৫)। কিন্তু ইংরেজরা কুকের চেয়ে বেশি করে বলবেন ওয়াল্টার হ্যামন্ড (৫৮.৪৫), কেন ব্যারিংটনের (৫৮.৬৭) কথা। পাকিস্তানিদের সর্বকালের সেরা টেস্ট ব্যাটারদের নাম জিজ্ঞেস করলে অবশ্যই তারা জাভেদ মিয়াঁদাদ (৫২.৫৭), ইনজামাম-উল হক (৪৯.৬০), ইউনিস খানের (৫২.০৫) নাম করবেন। পুরনো দিনের লোকেরা হয়তো জাহির আব্বাস (৪৪.৭৯), হানিফ মহম্মদের (৪৩.৯৯) কথাও বলতে পারেন। কিন্তু প্রথম তিনজনের কীর্তি যে এই দু'জনকে ছাড়িয়ে অনেকদূর চলে গেছে তা নিয়ে বিশেষ বিতর্কের অবকাশ নেই।

এই দেশগুলোর চেয়ে অনেক পরে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে শুরু করা শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটপ্রেমীরা অনায়াসে বলবেন তাদের দেশের সর্বকালের সেরা ব্যাটারের নাম কুমার সঙ্গকারা (১২,৪০০ রান, গড় ৫৭.৪০)। তাছাড়াও বলবেন মাহেলা জয়বর্ধনের (১১,৮১৪ রান, গড় ৪৯.৮৪) কথা। অরবিন্দ ডি সিলভার নাম আসবে তাঁর ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে। তিনিই শ্রীলঙ্কার প্রথম তারকা ব্যাটার। কিন্তু সাফল্যে অনেক পিছিয়ে (৬৩৬১ রান, গড় ৪২.৯৭)। বর্ণবৈষম্যের কারণে নির্বাসনে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট ক্রিকেটে ফেরত এসেছে ১৯৯১ সালে। তাই সেদেশের দু'জন অসামান্য প্রতিভাধর ব্যাটার গ্রেম পোলক (৬০.৯৭) আর ব্যারি রিচার্ডস (৭২.৫৭) যথাক্রমে ২২ খানা আর ৪ খানা টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছেন। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটপ্রেমীরা সর্বকালের সেরা ব্যাটার বলতে জাক

কালিস (৫৫.৩৭) আর এবি ডেভিলিয়ার্সের (৫০.৬৬) নাম করবেন। অত্যন্ত অল্প বয়সে, দলের দুঃসময়ে নেতৃত্বের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে একশোর বেশি টেস্টে অধিনায়কত্ব করে সফল হয়ে, ইনিংস শুরু করার গুরুদায়িত্ব পালন করেও প্রায় দশ হাজার রান করে ফেলা গ্রেম স্মিথের (৪৮.৭০) নামও বলবেন নির্ঘাত। এঁদের পরে হাশিম আমলার (৪৬.৬৪) নামও বলতে পারেন, কারণ তিনিও প্রায় দশ হাজার রান করেছেন। কিন্তু কখনই ওই তিনজনের আগে আমলার কথা বলবেন না। ঠিক যেমন কোনও ক্যারিবিয়ান ভুলেও তাদের সর্বকালের সেরাদের পাশে বসাবেন না শিবনারায়ণ চান্দেরপলকে, যতই তিনি ৫১.৩৭ গড়ে ১১,৮৬৭ রান করুন। কারণ দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটপ্রেমীরা জানেন, ৫০ থেকে ৫৫ গড়ের ব্যাটার আর ৪৭ গড়ের ব্যাটারের জাতই আলাদা। এদের এক বন্ধনীতে রেখে আলোচনা করার কোনও মানে হয় না। আর কুড়ি-বিশের ক্রিকেটের পেটে চলে যাওয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটরসিকরা আজও বোঝেন, শুধু ধারাবাহিকতা সর্বকালের সেরাদের ক্লাবের পাস নয়। সর্বোচ্চ মানের বোলিংয়ের ঘাড়ে চেপে বসার ক্ষমতাও থাকতে হয়। সেটা চান্দেরপলের ছিল না।

বিরাট কোহলির অবসরগ্রহণ নিয়ে লেখায় তিন-তিনটে অনুচ্ছেদ জুড়ে এই আলোচনা কেন? কারণ এই মুহূর্তে কোনও ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীকে ভারতের সর্বকালের টেস্ট ব্যাটারদের নাম বলতে বললে সুনীল গাভস্কর (৫১.১৪) আর সচিন তেন্ডুলকরের (৫৩.৭৮) সঙ্গে বিরাট কোহলির (৪৬.৮৫) নামই বলবেন, রাহুল দ্রাবিড়ের (৫২.৩১) নাম বলবেন না। এমনকী সোশ্যাল মিডিয়ায় অসংখ্য মানুষকে দেখা যাচ্ছে বিরাটকেই ভারতের সর্বকালের সেরা বলে দিতে। অবশ্য এ আর নতুন কী? তাঁকে তো কবেই গোটা খেলাটার GOAT (গ্রেটেস্ট অফ অল টাইম) আখ্যা দেওয়া হয়ে গিয়েছিল। অথচ ভারতীয়দের মধ্যে টেস্টে মোট রান (১৩,২৮৮) এবং গড়ের দিক থেকে রাহুল ঠিক সচিনের (১৫,৯২১) পরেই। এমনকী গড়ের দিক থেকে বীরেন্দ্র শেহবাগও (৪৯.৩৪) কোহলির চেয়ে এগিয়ে। কিন্তু ৪৭ গড়ের ব্যাটার আর পঞ্চাশের উপরে গড় যে ব্যাটারদের, তারা যে কোনওভাবেই তুলনীয় নয় – সেকথা বললে এখন কেবল ক্রিকেটভক্তরা নয়, প্রাজ্ঞ ধারাভাষ্যকার, ক্রিকেট সাংবাদিক এবং প্রাক্তন ক্রিকেটাররাও মানবেন না। কথাটা অন্য দেশের ক্রিকেটারদের সম্পর্কে বললে মানতে পারেন, চাইলে ও-কথার সপক্ষে চাট্টি যুক্তিও জুগিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু এদেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে বললে, বিশেষত বিরাটকে নিয়ে বললে তো গাভস্কর, তেন্ডুলকরও মানবেন না। গাভস্কর তো ইদানীং এত মহান হয়েছেন (বা এত নীচে নেমেছেন) যে ধারাভাষ্যে ঋষভ পন্থের কঠোর সমালোচনা করে পরে আবার সেই সমালোচনাকে ব্যঙ্গ করে তৈরি বিজ্ঞাপনে ঋষভের সঙ্গে মুখও দেখাচ্ছেন।

অতএব বিশেষজ্ঞ এবং ভক্তদের বিরাটপুজোর প্যান্ডেল থেকে বেরিয়ে এসে তিনি টেস্ট ক্রিকেটে সর্বকালের সেরাদের মধ্যে ঠিক কোথায় পড়েন তা নিয়ে একটা নির্মোহ আলোচনা করার চেষ্টা চালাচ্ছি। তার সূচনা পরিসংখ্যান দিয়েই করতে হতো কারণ, ফুটবল বা হকির চেয়ে ক্রিকেটে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের সাফল্য-ব্যর্থতা অনেক বেশি পরিমাপযোগ্য এবং একজন ব্যাটারের সাফল্য পরিমাপ করার জন্য রান আর গড়কে গুরুত্ব দেওয়া আদ্যিকাল থেকে চলে আসছে। তবে কোনও সন্দেহ নেই, আজকাল ক্রিকেটালোচনায় যে পরিসংখ্যানসর্বস্বতা এসে পড়েছে তা পরিহার্য। ক্রিকেট সম্প্রচার প্রযুক্তির প্রভূত উন্নতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহজলভ্যতায় আজকাল এমন অনেক পরিসংখ্যান নিয়ে আলোচনা চলে যা শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের 'গোঁসাইবাগানের ভূত' গল্পের অঙ্কের মাস্টার করালীবাবুর জন্যে মনোরঞ্জক হতে পারে, কিন্তু খেলাটা সম্পর্কে কোনও সত্য উদ্ঘাটন করে না। তাছাড়া খেলাটা খেলে মানুষ, তার মানবিক সুবিধা-অসুবিধা, সুস্থতা-অসুস্থতা সমেত; খেলা হয় বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে। এসবের যে প্রভাব খেলার উপর পড়ে, তা অতিক্রম করে মানবিক প্রয়াসের সাফল্য-ব্যর্থতাই ক্রিকেটকে মনোমুগ্ধকর করে তোলে। তার সব কিছু পরিসংখ্যানে ধরা পড়া অসম্ভব। নেভিল কার্ডাসের কথা অনুযায়ী স্কোরবোর্ড গাধা। তা যদি না-ও হয়, স্কোরবোর্ড যে সর্বজ্ঞ নয় তা মানতেই হবে। সুতরাং পরিসংখ্যান পেরিয়েও বিরাটের অবদান নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন।

সংখ্যাতীত

সমস্যা হলো, সেটা করতে গেলে বিরাটকে বিরাট তো দেখাবেই না, উলটে আরও সাধারণ দেখাবে। কারণ সর্বকালের সেরা যেসব নামের সঙ্গে তাঁর তুলনা করা হয় (যাঁদের নিয়ে প্রথম তিনটে অনুচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে), তাঁদের আমলের তুলনায় বিরাটের আমলে টেস্ট ক্রিকেট যে অনেক সহজ হয়ে গেছে তা অস্বীকার করা শক্ত। কথাটা কেবল আমিই বলছি এমন নয়। হর্ষ ভোগলে ২০২২ সালে ‘দ্য ফাইনাল ওয়ার্ড’ নামে এক পডকাস্টে কথাটা সবিস্তারে বলেছিলেন এবং সেজন্যে বিস্তর ট্রোলিংয়ের শিকার হয়েছিলেন। প্রসঙ্গটা ছিল তার আগের ৭-৮ বছরে টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের আধিপত্য। তিনি যা বলেছিলেন তার বাংলা করলে এরকম দাঁড়ায়,

আমি চাই না কেউ মনে করুক একটা দারুণ রেকর্ডের মধ্যে আমি ছিদ্রান্বেষণ করছি। কিন্তু মন দিয়ে রেকর্ডটা দেখলে আপনি দেখবেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় আমরা জিতিনি, নিউজিল্যান্ডে জিতিনি, ২০১৮ সালে ইংল্যান্ডে ৪-১ হেরেছিলাম। ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নম্বর হওয়ার জন্য এটাই সবচেয়ে সহজ সময়। ৪-০ ফলে অ্যাশেজ জিতলেও এই অস্ট্রেলিয়া অতীতের অস্ট্রেলিয়া দলগুলোর মতো নয়। ইংল্যান্ডের অবস্থা বেশ খারাপ। দক্ষিণ আফ্রিকা দলটা নির্বাসন থেকে ফিরে আসার পরে সম্ভবত সবচেয়ে দুর্বল এখন। আমি জানি এটা বিতর্কিত মন্তব্য হয়ে যাচ্ছে। ওদের বোলিং এখনও ওদের দেশে দারুণ। কিন্তু এই দলটা কালিস, আমলা, ডেভিলিয়ার্স, ফ্যাফ, গ্রেম স্মিথের সেই দল নয়। এই দক্ষিণ আফ্রিকাকে ভারতের দক্ষিণ আফ্রিকায় হারাতে পারা উচিত ছিল।

এই লেখায় আমরা যখন অধিনায়ক বিরাটকে নিয়ে আলোচনা করব, তখন হর্ষের এই উক্তির কাছে আবার ফিরতে হবে। কিন্তু আপাতত এখানে তিনি যা বলেছেন তাকে বিরাটের ব্যাটিং বিচারে কাজে লাগালে কী পাব? বুঝতে পারব যে, বিরাটের খেলোয়াড় জীবনের বেশিরভাগ সময় জুড়ে যেসব বোলিং আক্রমণের মোকাবিলা তাঁকে করতে হয়েছে, সেগুলো ক্রিকেটের ইতিহাসে কোথাও জায়গা করে নেওয়ার মতো নয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কোথায় হলো ভুল? কেন ১০ ম্যাচ জিতেও ফাইনালে হার বিরাট-রোহিত-শামিদের?

Australia Wins World Cup 2023 : অতিরিক্ত শিশিরের কারণে একেবারেই ধ্বসে গেল ভারতীয় বোলিং। স্পিনারদের হাতে বল ঘুরল না, ফাস্ট বোলাররা গতি তুলতে পারলেন না।

অতীতে টেস্ট ক্রিকেটে প্রায় সব দলেই অন্তত একজন সত্যিকারের ফাস্ট বোলার থাকতেন। ‘সত্যিকারের’ বলতে যে বোলারের গতিই মূল শক্তি, স্পিড গানের যুগে বলতে হবে – ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটারের বেশি। গাভস্করের আমলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের তেমন ৪-৫ জন ছিলেন – অ্যান্ডি রবার্টস, জোয়েল গার্নার, কলিন ক্রফট, মাইকেল হোল্ডিং, ম্যালকম মার্শাল। দম ফেলার ফুরসত পাওয়া যেত না। অস্ট্রেলিয়ার ছিল ডেনিস লিলি আর জেফ থমসনের জুটি, সঙ্গী হিসাবে লেন প্যাসকোর মতো কেউ কেউ জুটে যেতেন। ইংল্যান্ডের ছিলেন বব উইলিস, পাকিস্তানের ইমরান খান। নিউজিল্যান্ডের রিচার্ড হেডলি তো একাই একশো। সচিনের আমলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছিল কার্টলি অ্যামব্রোস আর কোর্টনি ওয়ালশের জোড়া ফলা। সঙ্গে কখনও ইয়ান বিশপ, কখনও প্যাট্রিক প্যাটারসন, কখনও উইনস্টন

বেঞ্জামিন বা কেনেথ বেঞ্জামিন, কখনও আবার সেই বার্বাডোজের বিভীষিকা ফ্র্যাংকলিন রোজ। পাকিস্তানের সঙ্গে রাজনৈতিক কারণে বিরাটের একটাও টেস্ট খেলা হলো না, সচিনও অল্পই খেলেছেন। কিন্তু যখন খেলেছেন তখন পাকিস্তানের হয়ে বল করেছেন ওয়াসিম আক্রম-ওয়াকার ইউনিস, শোয়েব আখতার। সচিনের ক্রিকেটজীবনের শুরুর দিকে অস্ট্রেলিয়ার জোরে বোলার ছিলেন মার্ভ হিউজ, ক্রেগ ম্যাকডারমট, মার্ক হুইটনিরা। পরে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে তাঁদের বোলিং আক্রমণ। নেতৃত্বে গ্লেন ম্যাকগ্রা, যিনি ঠিক ‘ফাস্ট’ বোলার নন, কিন্তু নিখুঁত লাইন লেংথ এবং সুইং আর সিমের ব্যবহারে ক্রিকেট ইতিহাসে অনন্য। গতি জোগাতে তাঁর পাশে এসে যান ব্রেট লি। তাছাড়াও ছিলেন জেসন গিলেসপি। পল রিফেল, মাইকেল কাসপ্রোউইচ, ড্যামিয়েন ফ্লেমিংরা আসা যাওয়া করেছেন। একমাত্র ইংল্যান্ডেই সে যুগে ডমিনিক কর্ক আর অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ ছাড়া সত্যিকারের জোরে বোলার আসেনি, কিন্তু নিউজিল্যান্ড পেয়েছিল শেন বন্ডকে। গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো সচিনের আমলে অ্যালান ডোনাল্ডের নেতৃত্বে এসে পড়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার জোরে বোলাররা – ব্রেট শুলজ, ব্রায়ান ম্যাকমিলান, গতি কম হলেও প্রায় ম্যাকগ্রার মতো নিখুঁত ফ্যানি ডেভিলিয়ার্স, লান্স ক্লুজনার, শন পোলক; পরের প্রজন্মে মাখায়া এনতিনি, ডেল স্টেইন, মর্নি মর্কেল।

বিরাট খেললেন কাদের?

সারা পৃথিবীতে ক্রিকেট যে হারে বেড়েছে তাতে জোরে বোলারদের পক্ষে গতি ধরে রাখা যে শক্ত তা বলাই বাহুল্য। বিরাটের ক্রিকেটজীবনে গোটা বিশ্বে ১৪৫+ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতিতে বল করা বোলার হাতে গোনা। একমাত্র ২০১৩-১৪ সাল নাগাদ মিচেল জনসনের সেই গতি ছিল, পরের দিকে ইংল্যান্ডের জোফ্রা আর্চার আর মার্ক উডের। কিন্তু আর্চার ভারতের বিরুদ্ধে মাত্র দুটো টেস্ট খেলেছেন, উড খেলেছেন চারটে। বিরাটের সময়ের বিশ্বসেরা বোলার বলতে দক্ষিণ আফ্রিকার কাগিসো রাবাদা, ইংল্যান্ডের সুইং শিল্পীদ্বয় জেমস অ্যান্ডারসন আর স্টুয়ার্ট ব্রড, অস্ট্রেলিয়ার ত্রয়ী মিচেল স্টার্ক-জশ হেজলউড-প্যাট কামিন্স। রাবাদা, স্টার্ক আর কামিন্স নিজেদের সেরা দিনে নতুন বলে ১৪০-১৪৫ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতিতে বল করেন। বল পুরনো হয়ে গেলে, পিচ বোলিং সহায়ক না হলে স্টার্ককে ভীষণই নিরামিষ দেখায়। এতটাই, যে ২০১৪ সালে শেন ওয়ার্ন বিরক্ত হয়ে মন্তব্য করেছিলেন – স্টার্কের শরীরী ভাষা এবং পারফরম্যান্স ‘সফট’। ২০২২ সালে তো বলে দিয়েছিলেন স্টার্ককে দল থেকে বাদ দেওয়া উচিত। কামিন্স তেমন নন, কিন্তু তিনিও কদাচিৎ ব্যাটারকে স্রেফ গতিতে পরাস্ত করেন। হেজলউডের তো গতি অস্ত্রই নয়। তিনি খানিকটা ম্যাকগ্রার মতো, মূলত লাইন লেংথ আর বাউন্স ব্যবহার করে সুইং আর সিমের উপর নির্ভর করেন।

ব্রড আর অ্যান্ডারসন যখন তরুণ ছিলেন তখন রাবাদা বা স্টার্কের মতো গতিতেই বল করতেন, কিন্তু বিরাটের কেরিয়ার যত এগিয়েছে তত ওঁদের বয়স বেড়েছে এবং গতি কমেছে। ওঁরা মূলত সুইং শিল্পী। তাতেই বিরাটকে বিস্তর নাকানি চোবানি খাইয়েছেন। সেই কারণেই ইংল্যান্ডে ১৭ খানা টেস্ট খেলে বিরাটের গড় মাত্র ৩৩.২১ (১০৪৯ রান, শতরান ২, অর্ধশতরান ৫)। সুইং বোলিং নির্ভর আরেকটা দেশ হলো নিউজিল্যান্ড, যাদের দলে টিম সাউদি আর ট্রেন্ট বোল্টের মতো বোলার ছিলেন এবং যারা বিরাটের যুগের অন্যতম সেরা টেস্ট দলও বটে। সেই নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বিরাট খেলেছেন মাত্র চারটে টেস্ট, গড় ৩৬। নিজের দেশে বা ইংল্যান্ডে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালেও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিরাটের রেকর্ড বলার মতো নয়। সাউদি-বোল্টের দেশের বিরুদ্ধে মোট চোদ্দখানা টেস্ট খেলে এক হাজার রানও করে উঠতে পারেননি, গড় মাত্র ৩৮.৩৬।

তবু তো বেশ কিছু বিশ্বমানের সুইং বোলারকে খেলতে হয়েছে, যে ঝামেলায় বিরাটকে একেবারেই পড়তে হয়নি, তা হলো বছরের পর বছর উঁচু মানের স্পিনারদের খেলা। সচিন, লারা, পন্টিং, কালিসদের যুগের মতো শেন ওয়ার্ন, মুথাইয়া মুরলীধরন, মুস্তাক আহমেদ, সাকলিন মুস্তাকদের মানের স্পিনার আজ একজনও নেই। নাথান লায়ন বড়জোর প্রয়াত ডেরেক আন্ডারউডের মানের। ঘরের মাঠে একটা সিরিজে গ্রেম সোয়ান আর মন্টি পানেসরের বিরুদ্ধে গোটা ভারতীয় ব্যাটিং লাইন-আপ ল্যাজেগোবরে হয়েছিল সেই ২০১২-১৩ মরশুমে, বিরাটও হয়েছিলেন। ওই দু'জনের কেরিয়ার লম্বা হলে আলাদা কথা ছিল। কিন্তু সোয়ান দ্রুত অবসর নিয়ে নেন আর পানেসর নাইট ক্লাবে অত্যধিক পান করে ফেলে কেলেঙ্কারি বাধিয়ে ইংল্যান্ড দল থেকে বিতাড়িত হন, ফিরতে পারেননি। বিরাটের ক্রিকেটজীবনে পাকিস্তানের হয়ে অন্তত দু'জন বিশ্বমানের স্পিনার টেস্ট ক্রিকেট খেলেছেন – সঈদ আজমল আর ইয়াসির শাহ। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে বিরাটের খেলা হয়নি। কেরিয়ারের শেষদিকে ভারতের মাটিতে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের আনকোরা স্পিনারদের খেলতে গিয়েই বিরাটের কী হাল হয়েছে আমরা দেখেছি। বিরাটভক্তরা অবশ্য এর মধ্যেও তাঁর মহানতা খুঁজে বার করেন। তিনি নাকি অধিনায়ক হিসাবে জিততে চান বলে ভীষণ স্পিন সহায়ক পিচ বানাতে বলতেন, তাই তত রান করতে পারেননি। একই কারণে নাকি তাঁর সমসাময়িক রোহিত শর্মা, অজিঙ্ক রাহানে, চেতেশ্বর পূজারাও দেশের মাঠে স্পিনের বিরুদ্ধে সুবিধা করতে পারেননি। এর চেয়ে হাস্যকর যুক্তি কিছু হতে পারে না। তার কারণ অনেকগুলো।প্রথমত, ভারতে চিরকালই স্পিন সহায়ক পিচ হয়। এরকম পিচে খেলেই ভারতীয় ব্যাটাররা বড় হন। তাই সচিন, গাভস্কর, রাহুলের মতো সর্বকালের সেরাদের কথা ছেড়ে দিন; নভজ্যোৎ সিং সিধুর মতো সাধারণ ব্যাটারও দেশের মাঠে স্পিনারদের বিরুদ্ধে ঝুড়ি ঝুড়ি রান করতেন। ওয়ার্ন এখানে এসে সুবিধা করতে পারেননি, মুরলীরও ভারতের মাটিতে গড় ৪৫.৪৫, যেখানে তাঁর গোটা কেরিয়ারে গড় ২২.৭২। অথচ ওঁদের দলের বিরুদ্ধে ভারতের কুম্বলে, হরভজন সিং প্রমুখ কিন্তু দিব্যি উইকেট নিয়ে গেছেন। শেহবাগও স্পিনারদের ত্রাস ছিলেন, মহম্মদ আজহারউদ্দিন বা ভিভিএস লক্ষ্মণ ব্যাট করলে তো স্পিন বোলিং একটা করার যোগ্য কাজ বলেই মনে হতো না। সুতরাং স্বীকার করে নেওয়া ভালো যে বিরাট এবং তাঁর প্রজন্মের অন্য ভারতীয় ব্যাটাররা স্পিনটা ভালো খেলতে পারেন না।

দ্বিতীয়ত, স্পিনের বিরুদ্ধে ব্যর্থতা সত্ত্বেও দেশের মাটিতে বিরাট কিন্তু অনেক রান করেছেন। চোদ্দটা শতরানসহ ৫৫ টেস্টে ৪৩৩৬ রান, গড় ৫৫.৫৮। এই রানগুলো কোন ধরনের পিচে হয়েছিল তাহলে?

তৃতীয়ত, যদি বলা হয় বিরাটের অধিনায়কত্বে এমন ঘূর্ণি পিচ বানানো হতো যা ভারতে অভূতপূর্ব এবং তাতে যে কোনও স্পিনার বল করলেই খেলা শক্ত হতো, তাহলে মানতে হবে যে ৬৮ টেস্টে অধিনায়কত্ব করে ৪০ খানা জিতে নেওয়ার যে রেকর্ড, তাতে পিচের অবদান বিরাটের অধিনায়কত্বের চেয়ে বেশি। উপরন্তু, রবিচন্দ্রন অশ্বিন আর রবীন্দ্র জাদেজার কৃতিত্বও তাহলে যতখানি বলা হয় ততখানি নয়। যে কোনও দু'জন স্পিনারই ওই ম্যাচগুলো জিতিয়ে দিতে পারতেন। বিরাটভক্তরা এ যুক্তি মানবেন কি?

বিরাটের অধিনায়কত্ব এবং তাঁর উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনায় যাওয়ার আগে ব্যাটিং নিয়ে কথাবার্তা শেষ করে নেওয়া যাক। এই যে দেখা গেল সত্যিকারের ফাস্ট বোলার এবং উচ্চমানের স্পিনারদের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও বিরাট শেষ করলেন ৪৭ গড়ে, তা থেকে কী কী প্রমাণ হয় ভাবি।

১

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিশ্বকাপ নয়, গলি ক্রিকেটেই লুকিয়ে দেশের প্রাণভোমরা

Gully Cricket : রাহুল দ্রাবিড় এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, উইকেট কিপিং করতে গিয়ে তাঁর ব্যাটিংয়ে সুবিধে হয়েছে

তিনি বিশ্বের সর্বকালের সেরাদের মধ্যে তো পড়েনই না, এমনকী পরিসংখ্যানের দিক থেকে ভারতের সেরা পাঁচজন ব্যাটারের মধ্যে পড়লেও নৈপুণ্যে তিনি গাভস্কর, সচিন, রাহুলের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। বরং লক্ষ্মণের সঙ্গে তাঁর তুলনা করা যায়। দু'জনেই অস্ট্রেলিয়ায় সফল আর লক্ষ্মণও কোনওদিন ইংল্যান্ডের মাটিতে সুবিধা করতে পারেননি। বিরাটের ওখানকার রেকর্ডটা তবু ভদ্রস্থ দেখায় ২০১৮ সালের দ্বিতীয় সফরটার জন্য। ইংল্যান্ড সফরকে যে কোনও ব্যাটারের জাত চেনানোর পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হয়। সেখানে বিরাটের চেয়ে এমনকী দিলীপ বেঙ্গসরকর আর সৌরভ গাঙ্গুলিও বেশি সফল।

তবে শুধু সেকথা নয়। গাভস্কর গোটা ক্রিকেটজীবনে কত হারা ম্যাচ বাঁচিয়ে দিয়েছেন তার হিসাব করাই শক্ত। তা বাদে ১৯৭৬ সালে পোর্ট অফ স্পেনে চতুর্থ ইনিংসে ৪০৩ রান তাড়া করার সময়ে তাঁর ম্যাচ জেতানো শতরান বিপক্ষ বোলিং আর পরিস্থিতির বিচারে মহাকাব্যিক। তেমনই অবিশ্বাস্য ১৯৭৯ সালে লন্ডনের ওভালে চতুর্থ ইনিংসে ৪৩৮ তাড়া করতে নেমে ২২১ রান, যা ভারতকে এক অভাবনীয় জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছিল। এমনকী গাভস্করের জীবনের শেষ টেস্ট ইনিংসকে বলা হয় ঘূর্ণি উইকেটে উচ্চমানের স্পিনের বিরুদ্ধে ব্যাটিংয়ের টিউটোরিয়াল। ওই মানের কোনও ইনিংস বিরাটের ব্যাট থেকে এসেছে কি?

১৯৯৮ সালে চিপকে সিরিজের প্রথম টেস্টেই সচিনের ওয়ার্নকে দমিয়ে দেওয়া ১৫৫, ওই মাঠেই পরের বছর চতুর্থ ইনিংসে আক্রম-ওয়াকার-সাকলিন সমৃদ্ধ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৩৬ – এসব ছিল অতিমানবিক ইনিংস। কারণ ব্যাটার একক লড়াই লড়ছিলেন। তেমন ইনিংসই বা বিরাট খেললেন কবে? পাকিস্তান ম্যাচটা তো তাও জেতাতে পারেননি সচিন। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে চিপকের ঘূর্ণি উইকেটে সোয়ান-পানেসর জুটির বিরুদ্ধে চতুর্থ ইনিংসে শতরান করে সে কাজও করে দিয়েছিলেন। ২০০৪ সালে সিডনিতে তাঁর অপরাজিত ২৪১ রানও ভোলার নয়। ওই ইনিংস যে ঋষিপ্রতিম সংযমের দৃষ্টান্ত, সেকথা বারবার বলা হয়। যা আমরা খেয়াল করি না তা হলো, কতগুলো স্কোরিং শট তূণে থাকলে অফসাইডে ড্রাইভ করা প্রায় বন্ধ করে দিয়েও অতগুলো রান করা যায়। বিরাটের হাতে যদি অতরকম শট থাকত, তাহলে শেষ পাঁচ বছরে সাফল্যের লেখচিত্র এভাবে নামত না।

হাসিম আমলা

দুই লিটল মাস্টারের তবু অনেক ভক্ত আছে, বিস্তর লেখালিখি হয় ওঁদের নিয়ে। কিন্তু দ্রাবিড়? জীবনের প্রথম টেস্ট সিরিজ ইংল্যান্ডে, দলে তখন ডামাডোল। লর্ডসে অভিষেকেই ৯৫ চাপা পড়ে গিয়েছিল সৌরভের ঝলমলে শতরানের পাশে। কিন্তু নিজের নবম টেস্টেই সব গাছ ছাড়িয়ে ওঠে তাঁর মাথা। জোহানেসবার্গে ডোনাল্ড, পোলক, ম্যাকমিলান, ক্লুজনারের বোলিংয়ে ১৪৮ আর ৮১ করেন। ২০০২ সালে হেডিংলিতে সবুজ পিচে মেঘলা দিনে ১৪৮ তো প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করে জেতার অসামান্য কাহিনি। এমনকী জীবনের শেষ ইংল্যান্ড সফরেও, যখন গোটা দলের ব্যাটিং ব্যর্থ, দ্রাবিড় চারটে টেস্টে তিনটে শতরান করে গেছেন। আর এই রত্নখচিত মুকুটের কোহ-ই-নূর অবশ্যই ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ইডেন টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসের ১৮০। বিরাট কোন বিচারে এঁর চেয়ে বড় ব্যাটার?

২

বিরাট নিজের প্রজন্মেরও এক নম্বর ব্যাটার নন। স্মিথ আর রুট তো বটেই, কেন উইলিয়ামসনের (১০৫ টেস্টে ৯,২৭৬ রান; গড় ৫৪.৮৮, শতরান ৩৩) সঙ্গেও টেস্টে তাঁর তুলনা চলে না।

৩

নিঃসংশয়ে বিরাট নিজের প্রজন্মের সেরা ভারতীয় টেস্ট ব্যাটার। ব্যাট হাতে তাঁর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব অস্ট্রেলিয়ার মাঠে রীতিমতো মস্তানি। ২০১৪-১৫ মরশুমে চার টেস্টে চারটে শতরান অবিস্মরণীয়। অ্যাডিলেডে দুই ইনিংসেই শতরানও অসাধারণ কীর্তি। পরবর্তীকালেও অস্ট্রেলিয়ায় তাঁর সেরা খেলা বেরিয়ে এসেছে। ও-দেশে সাতখানা শতরান, নিজের কেরিয়ারের গড়ের চেয়ে বেশি গড়ে রান করা যে কোনও ব্যাটারের পক্ষে গর্বের। তিরিশটা শতরান করেছেন, ভারতীয়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দ্বিশতরানও করেছেন। এ তো চাট্টিখানি কথা নয়। পরিসংখ্যানের বাইরে চলে গেলে অবশ্য বলতে হয় যে, গত শতকের তুলনায় এই শতকে অস্ট্রেলিয়ার পিচগুলোর চরিত্র বদলেছে অনেক। তাতে রান করা সহজ হয়েছে। ১৯৯১-৯২ সফরে ভারত যে পিচগুলোতে খেলেছিল তার প্রচণ্ড গতি এবং বাউন্স আজও টের পাওয়া যায় ইউটিউব খুললে। তার সঙ্গে গত ১০-১৫ বছরের পিচগুলোর তফাত বোঝা কঠিন নয়। এই তফাত হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায় ড্রপ-ইন পিচ ব্যবহার শুরু হওয়ার পর থেকে। ভারতের এবারের অস্ট্রেলিয়া সফরে পার্থের অপটাস স্টেডিয়ামের পিচ বরং নয়ের দশকের ওয়াকা (Western Australia Cricket Association) মাঠের পিচের কাছাকাছি আচরণ করেছে। এখানে একটা ছোট্ট পরিসংখ্যান হয়তো অপ্রাসঙ্গিক হবে না। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আজ পর্যন্ত মাত্র চারটে ত্রিশতরান হয়েছে। প্রথমটা এসেছিল ১৯৬৬ সালে মেলবোর্নে বব কাউপারের ব্যাট থেকে। বাকি তিনটেই এই শতাব্দীতে। প্রথমে ২০০৩ সালে ম্যাথু হেডেন পার্থে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ৩৮০ করেন, তারপর ২০১২ সালে ভারতের বিরুদ্ধে অ্যাডিলেডে মাইকেল ক্লার্ক করেন অপরাজিত ৩২৯ আর ২০১৯ সালে সিডনিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ডেভিড ওয়ার্নার অপরাজিত ছিলেন ৩৩৫ রানে।

অধিনায়কত্ব ও উত্তরাধিকার

হর্ষ ভোগলের যে মন্তব্যের কথা উল্লেখ করেছিলাম গোড়ার দিকে, তার কাছে ফিরে যাওয়া যাক। মহেন্দ্র সিং ধোনি আর বিরাটের আমলে ভারতীয় দলের কোচ, টিম ডিরেক্টর ইত্যাদি পদে থাকা রবি শাস্ত্রী যাই-ই বলে থাকুন, ঘটনা হলো বিরাটের আমলে ভারতের টেস্ট দলের বিদেশে সাফল্য মোটেই ঈর্ষণীয় নয়। হর্ষ একেবারে সত্যি কথা বলেছিলেন। বিরাটের আমলে ভারত নিউজিল্যান্ডকে নিউজিল্যান্ডে হারাতে পারেনি, দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে দুর্বল দলটাকে সামনে পেয়েও দু'বারের চেষ্টায় একবারও সিরিজ জিততে পারেনি। গর্ব করার মতো সাফল্য বলতে পরপর দু'বার অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ জেতা। তার মধ্যে ২০২০-২১ মরশুমে কিন্তু প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে লজ্জাজনকভাবে ৩৬ রানে অল আউট হয়ে গিয়েছিল বিরাটের ভারত। দ্বিতীয় টেস্ট থেকে তিনি ছিলেন না। মেলবোর্নে লড়াকু শতরান করেন অস্থায়ী অধিনায়ক রাহানে, ভারত জেতে। তারপর সিডনির তৃতীয় টেস্টে হনুমা বিহারী আর অশ্বিন শেষদিনে অত্যাশ্চর্য ব্যাটিং করে ম্যাচ বাঁচিয়ে দেন। ব্রিসবেনে চতুর্থ টেস্ট জিতে ভারত সিরিজ পকেটস্থ করে। এই জয়ের কৃতিত্বও অধিনায়ক বিরাটের হলে আইআইটি, আইআইএম তৈরির কৃতিত্ব ইংরেজদের।

আমাদের আজকাল তথ্যের প্রতি প্রবল অনীহা আর নাটকীয়তার প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ। তাই বিরাটের অবসর ঘোষণার পর থেকেই প্রচুর লেখালিখি হচ্ছে ২০২১ সালের লর্ডস টেস্ট নিয়ে। সেখানে চতুর্থ ইনিংসে ৬০ ওভার মতো বল করার সুযোগ পেয়ে ভারত ইংল্যান্ডকে ৫১.৫ ওভারেই অল আউট করে ম্যাচ জিতে নেয়। শোনা গিয়েছিল, বিরাট ইংল্যান্ডের ইনিংস শুরুর আগে দলের সবাইকে বলেছেন ‘এই ৬০ ওভার যেন ওদের জন্যে নরক হয়ে দাঁড়ায়’। তারপর ওই জয়। সুতরাং বলা হচ্ছে – ওই আগ্রাসনই ভারতীয় ক্রিকেটকে বিরাটের দান, ওই তাঁর উত্তরাধিকার। যা বলা হচ্ছে না, তা হলো, ওই সিরিজটাও কিন্তু ভারত জেতেনি। ঠিক পরের টেস্টেই প্রথম ইনিংসে ভারত ৭৮ রানে অল আউট হয়ে যায়, বিরাট নিজে করেন সাত। আগ্রাসনের ‘আ’ দেখা যায়নি। ম্যাচটা ইনিংসে হারতে হয়।

ভারত ২-১ এগিয়ে থাকা অবস্থায় সিরিজের শেষ টেস্ট খেলাই হয়নি অদ্ভুত কারণে। শাস্ত্রী আর বিরাট কোভিডজনিত বায়ো বাবল ভেঙে এক বইপ্রকাশ অনুষ্ঠানে চলে গিয়েছিলেন। তারপর দেখা যায় শাস্ত্রী, ফিল্ডিং কোচ শ্রীধর, বোলিং কোচ ভরত অরুণ কোভিড পজিটিভ। ফলে ভারত আর শেষ টেস্ট খেলতে চায়নি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের অবশ্য অভিযোগ – তার কয়েকদিন পরেই আইপিএল ফের চালু হওয়ার কথা ছিল। ভারতীয় ক্রিকেটাররা তার জন্য সুস্থ থাকতেই টেস্ট খেলতে চাননি। না হয় সেকথা আমরা বিশ্বাস করলাম না। কিন্তু যে বিরাট টেস্ট অন্তপ্রাণ ছিলেন বলে লেখালিখি চলছে, তিনি কোন আক্কেলে বায়ো বাবল ভেঙে অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন ঠিক শেষ টেস্টের আগে? এ প্রশ্ন এতদিন কেউ তোলেননি, আর তুলেই বা কী হবে? যাই হোক, ওই পঞ্চম টেস্ট খেলা হয় পরের বছর জুলাইয়ে। ততদিনে বিরাটের টেস্ট অধিনায়কত্ব চলে গেছে। সে ম্যাচে ভারত হারে, সুতরাং সিরিজের ফল হয় ২-২। তার আগের সফরে, অর্থাৎ ২০১৮ সালে, বিরাট প্রায় ছ'শো রান করলেও সিরিজটা কিন্তু ৪-১ ব্যবধানে হারতে হয়েছিল।

একথা ঠিক যে বিরাটের নেতৃত্বে ভারতকে ভারতে কেউ হারাতে পারেনি। কিন্তু সে এমন কিছু চোখ কপালে তোলার মতো ব্যাপার নয়। ভারত সম্পর্কে চিরকালই বলা হতো – দেশে বাঘ বিদেশে বেড়াল। গতবছর নিউজিল্যান্ডের কাছে ৩-০ হারার আগে ভারত ঘরের মাঠে শেষ সিরিজ হেরেছিল ২০১২-১৩ মরশুমে ইংল্যান্ডের কাছে। তার আগে ২০০৪-০৫ মরশুমে অ্যাডাম গিলক্রিস্ট-পন্টিংয়ের অস্ট্রেলিয়ার কাছে। তার আগের সিরিজ হার ছিল ১৯৯৯-২০০০ মরশুমে, হ্যানসি ক্রোনিয়ের দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে। অর্থাৎ আড়াই দশকে মোটে চারটে সিরিজ হার। আর গত শতকের ইতিহাস?

অস্ট্রেলিয়া হলো টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল। সেই অস্ট্রেলিয়া ২০০৪-০৫ মরশুমের ওই জয়ের আগে ভারতে শেষ জিতেছিল ১৯৬৯-৭০ সালে। ইংল্যান্ডের আগের সিরিজ জয় ছিল ১৯৮৪-৮৫ মরশুমে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এদেশে এসে শেষবার সিরিজ জিতেছে ১৯৮৩-৮৪ মরশুমে। শ্রীলঙ্কা আজ পর্যন্ত জেতেনি, নিউজিল্যান্ড তো গতবছরই প্রথম জিতল। তারা শেষবার এদেশে একটা টেস্ট ম্যাচই জিতেছিল সেই ১৯৮৮ সালে, তাও ১৯৬৯ সালের পর। এমনকী পাকিস্তান, যাদের সঙ্গে আমাদের আবহাওয়া এবং পিচের চরিত্র সবচেয়ে বেশি মেলে, তারাও ১৯৫২-৫৩ থেকে ২০০৭-০৮ পর্যন্ত ভারত সফরে এসে সিরিজ জিততে পেরেছিল মাত্র একবার – ১৯৮৬-৮৭ মরশুমে।

ভিভিএস লক্ষ্মণ

অন্যদিকে ভারতের বিদেশ সফরের দিকে তাকালে দেখা যাবে, ইংল্যান্ডই একমাত্র দেশ যেখানে ভারত মাঝেমধ্যেই সিরিজ জিতেছে। অধিনায়ক হিসাবে অজিত ওয়াড়েকর জিতেছেন (১৯৭১), কপিল জিতেছেন (১৯৮৬), দ্রাবিড় জিতেছেন (২০০৭)। বিরাট পারেননি। এমনকী নিউজিল্যান্ডেও ভারত মনসুর আলি খান পতৌদি (১৯৬৭-৬৮) আর ধোনির আমলে (২০০৮-০৯) সিরিজ জিতেছিল। বিরাটের আমলে পারেনি।

ভারতকে জোরে বোলারদের দলে পরিণত করা বিরাটের উত্তরাধিকার বলে গণ্য করা হচ্ছে। যেন আটের দশকে ইমরান পাকিস্তানের জন্য যা করেছিলেন, বিরাট তাই করেছেন। অর্থাৎ ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে খুঁজে খুঁজে আবিষ্কার করেছেন বুমরা, মহম্মদ শামি, মহম্মদ সিরাজ, উমেশ যাদব, ভুবনেশ্বর কুমার প্রমুখকে। অথচ ঘটনা তা নয়, হওয়া সম্ভবও ছিল না। কারণ ভারতীয় দল সারাবছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে বছর পঁচিশেক হয়ে গেল। তার উপর আছে আইপিএল। ফলে বিরাটের মতো শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটারের ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার সুযোগই হয় না। কী করে জানবেন কোথায় কোন ভালো জোরে বোলার আছে? ওই কৃতিত্ব যদি কাউকে দিতে হয় তো দিতে হবে এই পর্বে যাঁরা নির্বাচক ছিলেন তাঁদের। বস্তুত ভারতে জোরে বোলারের সংখ্যা এবং গুণমান বাড়ার একটা ইতিহাস আছে। সেই ইতিহাসের সুবিধাই অধিনায়ক বিরাট পেয়েছেন। একসময় বেদিকে নতুন বলে বল করতে হতো, এমনকী গাভস্করও করেছেন দু-একবার। সেখান থেকে বুমরা-শামিতে পৌঁছনো বিরাট নামক কোনও জাদুকরের ইন্দ্রজাল নয়। জিনিয়াস কপিল; তাঁর পিছু পিছু মধ্যমেধার চেতন শর্মা, মনোজ প্রভাকর; তারপর সত্যিকারের গতিময় জাভাগাল শ্রীনাথের সঙ্গে মূলত সুইং বোলার ভেঙ্কটেশ প্রসাদ; অতঃপর জাহির খান, আশিস নেহরা, ইরফান পাঠান, শান্তাকুমারণ শ্রীশান্ত, আর পি সিং; রঞ্জি ট্রফিতে সবুজ পিচ, ন্যাশনাল ক্রিকেট আকাডেমির যত্ন – এত কিছু পেরিয়ে আজকের জোরে বোলাররা এসেছেন। বস্তুত বিরাট অধিনায়ক হওয়ার আগেই এসে পড়েছিলেন ইশান্ত শর্মা, উমেশ, ভুবনেশ্বর, বুমরা, শামি। এঁদের মধ্যে একমাত্র বুমরার টেস্ট অভিষেকই বিরাটের অধিনায়কত্বে।

তারপর যে জোরে বোলাররা এসেছেন তাঁরা কেউ কিন্তু এখনও ভরসা জাগানোর জায়গায় পৌঁছতে পারেননি। টানা দু-তিনটে সিরিজই খেলে উঠতে পারেন না ফিটনেসের সমস্যায়। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, আকাশ দীপ, হর্ষিত রানাদের উপরে পরবর্তী টিম ম্যানেজমেন্টের ভরসা এত কম যে পরপর ৪-৫ খানা টেস্টে সুযোগ দেয় না। অস্ট্রেলিয়া সফরে মেলবোর্নে অবস্থা এমন দাঁড়াল যে অধিনায়ক পারলে বুমরাকে দিয়েই সবক'টা ওভার করিয়ে নেন। তাঁকে নিজমুখে বলতে হলো – আর পারছি না। শেষ টেস্টে খেলতেই পারলেন না। তাহলে কীরকম পেস ব্যাটারির উত্তরাধিকার অধিনায়ক বিরাটের? উত্তরাধিকার তো তাই, যা একজনের প্রস্থানের পরেও রয়ে যায়।

সুতরাং প্রচারের ঢক্কানিনাদ আর আবেগের বাষ্প সরালে যা দেখতে পাচ্ছি, তা হলো বিরাট টেস্ট ব্যাটার হিসাবে সর্বকালের সেরাদের দলে পড়েন না। পড়েন আমলা, লক্ষ্মণদের দলে। এই দলে ঢুকে পড়াও কম বড় কথা নয়। অবশ্য আমলার খাতায় একটা ত্রিশতরান আছে, লক্ষ্মণের এমন একখানা ২৮১ আছে যার জন্যে তাঁর নাম ক্রিকেটের ইতিহাসে অক্ষয়। বিরাটের সেসব নেই। অধিনায়ক হিসাবে পরিসংখ্যানগতভাবে অবশ্যই তিনি ভারতের সেরা, কিন্তু তা ভারতীয় ক্রিকেটের উন্নতির ধারাবাহিকতাতেই। শ্রীকান্তের পর থেকে যাঁরা ভারতের দীর্ঘমেয়াদি টেস্ট অধিনায়ক হয়েছেন তাঁদের সাফল্যের হার ক্রমশ বেড়েছে। আজহার অতীতের সকলের চেয়ে বেশি সফল, সৌরভ আজহারের চেয়ে বেশি সফল, ধোনি সৌরভের চেয়ে বেশি সফল, বিরাট ধোনির চেয়ে বেশি সফল। আর বিরাটের উত্তরাধিকার কী– সে প্রশ্ন আপাতত উত্তরকালের জন্যে তুলে রাখাই ভালো।

লিখেছেন
Pratik
Pratik
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নারী টেস্টে এত অনীহা কেন, লর্ডসের ইতিহাসও বদলাবে না সেই ছবি?

Women’s Test Cricket: লর্ডসে ভারতের নারী ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয় নারী টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বদলানোর সুযোগ এনে দিয়েছে? এত সাফল্য ও জনপ্রিয়তার পরও কেন এই ফরম্যাটে নিয়মিত ম্যাচ নেই?

শিব-পরশুরামের যুদ্ধবিদ্যা কালারিপায়াট্টু থেকেই জন্ম কুংফুর!

Kalaripayattu Indian Martial Art: ভারতীয় পৌরাণিক ঐতিহ্যে কালারিপায়াট্টুকে স্রেফ যুদ্ধের কৌশল হিসেবে দেখা হয়নি, বরং এটিকে মানব শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রাণশক্তিকে জাগিয়ে তোলার এক মহান সাধনা বলে মনে করা হয়।

দু'হাজার বছর পুরনো ‘আত্য পাত্যা’: এই খেলাই শিখিয়েছিল যুদ্ধের কৌশল!

Atya Patya Traditional Indian Game: আনুমানিক ১০০ থেকে ৩০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত প্রাচীন তামিল সাঙ্গম সাহিত্য ‘নাটতৃণৈ’-তে এই খেলার প্রথম লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়। অতএব, এই খেলার বয়স প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি। সেখানে বলা আছে, প্রাচীন চোল রাজবংশের সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগে নিজেদের ক্ষিপ্রতা, দ্রুত দৌড়ানোর ক্ষমতা আর শরীরকে এক নিমেষে বাঁকানোর চপলতা বাড়াতে এই খেলায় মেতে উঠত।

১৬ বছর পর ফের ভারতের পথে ললিত মোদী

Lalit Modi return to India: দীর্ঘ সময় পর দিল্লির আপিল ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আর্থিক অনিয়মের বড় অভিযোগ ও জরিমানা বাতিল করে দেওয়ার পরেই এই আলোচনার সূত্রপাত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ললিত মোদী নিজেই স্পষ্ট করেছেন, সমস্ত বড়সড় আইনি জটিলতা কাটার পর ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭-এর শুরুতেই ফের তিনি ভারতে পা রাখতে চলেছেন।

গোলের আড়ালে ঘৃণার খেলা: ২০২৬ বিশ্বকাপে ট্রাম্প, ফিফা আর ফুটবলের পরাজয়

Trump FIFA World Cup: এই বিশ্বকাপ শুধুই একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; মাঠের লড়াই ছাপিয়ে তা হয়ে উঠেছে ভূ-রাজনীতি, বর্ণবিদ্বেষ এবং বাণিজ্যিক আধিপত্যের এক জটিল ময়দান।

একটা রাজপুত্তুর যার মুকুট হারিয়ে গিয়েছে

Lionel Messi Retirement: তিনটে ফাইনালের বোঝা। একে একে ছেড়ে যায় সহযোদ্ধারা। রক্তাক্ত মাসচেরানো চলে যান, কুন আগুয়েরোর অসুখ... তবু লিও পড়ে থাকে, আমরা পড়ে থাকি আর কিছুদিন। বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে প্রয়োজন ছিল একজন স্ক্যালোনির, তিনি সেটুকু সেতু নির্মাণের দায়িত্ব নিলেন। আমরা অপেক্ষা করলাম লুসাইলে। আমরা তো কবেই হেরে গিয়েছিলাম, সৌদি আরব শুধু চিনিয়ে দিয়েছিল আশপাশটা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: যেভাবে ১৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় পরিণত হল ফুটবল

FIFA Revenue 2026: 'কুইন্টেট প্রাইভেট ব্যাংক'-এর সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের অনুঘটক হওয়ার চেয়ে বিশ্বকাপ আসলে একটি শক্তিশালী স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক উদ্দীপক হিসেবেই বেশি কাজ করে। ফিফা, সম্প্রচারকারী সংস্থা, স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড এবং আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) ক্ষেত্রগুলি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করলেও, কোম্পানির শেয়ারের দামে সেই ইতিবাচক প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে রাখা বেশ কঠিন।

যখন ইউরোপে নারীরা গৃহবন্দি, তখন অসমে মেয়েরা খেলছিলেন ধোপখেল

Dhop Khel Assam: আহোম রাজাদের রাজপ্রাসাদ থেকে বিহুর মেঠো মাঠ—অসমের মাটিতে একসময় গমগম করত ধোপখেলের আওয়াজ। ফুটবল, কাবাডি আর দূরন্ত নিশানার এই অদ্ভুত রোমাঞ্চকর খেলাটি শুধু পুরুষদের বীরত্ব প্রমাণের লড়াই ছিল না; যখন ইউরোপে নারীদের জীবন ছিল চার দেওয়ালে বন্দি, তখন অসমে মেয়েরাও মাঠে নেমে মেতে উঠতেন ধোপখেলে।