‘ভোট চুরি’ স্লোগানেই বিহারে উল্টো ফাঁদে কংগ্রেস?

Congress Failed in Bihar 2025: তাদের মতে, ভোট চুরি নিয়ে এত জোর দেওয়ায় মূল ইস্যুগুলিই আড়ালে চলে গিয়েছে। তবুও রাহুল এবং কংগ্রেস নেতৃত্ব এই সতর্কবার্তা গুরুত্ব দেননি।

inscript
২ মিনিট
‘ভোট চুরি’ স্লোগানেই বিহারে উল্টো ফাঁদে কংগ্রেস?

বিহারের ২০২৫ সালের নির্বাচনের ফল কংগ্রেসের জন্য এক কথায় বিপর্যয়। ৬১টি আসনে লড়েও তারা পেয়েছে মাত্র ৬টি, স্ট্রাইক রেট মাত্র ৯.৮%। এত বড় ধাক্কা কংগ্রেসকে আবার নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে, কোথায় ভুল হলো? কেন দলের ভেতরকার সতর্কবার্তা গুরুত্ব পেল না?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কংগ্রেসের এই পতন হঠাৎ হয়নি; মাসের পর মাস ধরে দলের ভেতরে যে সতর্ক সংকেত উঠছিল, তা উপেক্ষা করাই আজকের এই ভরাডুবির কারণ। নির্বাচনের ঠিক আগেই রাহুল গান্ধী ‘ভোট চুরি’কে কেন্দ্র করে স্লোগান তুলেছিলেন। বিহারের সর্বত্র তিনি দাবি করেছিলেন, “এই নির্বাচন ন্যায্য হবে না, ভোট চুরি হবেই।” কিন্তু দলের একাধিক সংগঠক আগে থেকেই সতর্ক করেছিলেন, এই আক্রমণাত্মক বক্তব্য ভোটের প্রচারে সাড়া ফেলছে না, বরং উল্টো প্রতিক্রিয়া তৈরির ঝুঁকি বাড়ছে। তাদের মতে, ভোট চুরি নিয়ে এত জোর দেওয়ায় মূল ইস্যুগুলিই আড়ালে চলে গিয়েছে। তবুও রাহুল এবং কংগ্রেস নেতৃত্ব এই সতর্কবার্তা গুরুত্ব দেননি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিহারে শূন্য জন সুরজ! প্রশান্ত কিশোরের অঙ্ক কেন মিলল না?

Prashant Kishor’s Magic Failed in Bihar: বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোরের দল আলোচনায় ছিল, প্রচারেও এগিয়ে ছিল; কিন্তু ভোটাররা তাদের বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প মনে করেননি।

বিহারে রাহুলের দু'সপ্তাহের ভোটার অধিকার যাত্রা কংগ্রেসের পক্ষে সমর্থন জোগাবে— এমন আশা ছিল নেতৃত্বের। ভিড় ছিল, উত্তেজনাও ছিল, কিন্তু মাঠের সংগঠন ছিল দুর্বল; মানুষের অংশগ্রহণ ভোটের বাক্স অবধি যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এখন বলছেন, ফল খারাপ হওয়ায়; বিজেপির হাতে ‘ভোট চুরি’ বাক্যটাই উল্টো অস্ত্র হয়ে গিয়েছে, এই আশঙ্কা আগেই ছিল।

আরজেডি (Rashtriya Janata Dal)-কংগ্রেস জোটে আসন ভাগাভাগির সময় থেকেই অস্বস্তি ছিল। তেজস্বী যাদবকে মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে সামনে আনার জন্য চাপ দিলেও কংগ্রেস তাতে রাজি হয়নি। দলের ভেতর থেকে এখন এমন কথাও সামনে আসছে যে অত্যন্ত পিছিয়ে থাকা শ্রেণি (EBC)-কে লক্ষ্য করে আলাদা ম্যানিফেস্টো বানানো হয়েছিল, কিন্তু তা বাস্তবের সঙ্গে খাপ খায়নি। কংগ্রেস নেতৃত্ব ভেবেছিল উচ্চবর্ণ ও EBC-দের যৌথ সমর্থন পাওয়া যাবে কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতা ছিল অন্য।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিহারে ভরাডুবির মধ্যেও যেভাবে ভেসে রইল বামেরা

Bihar Election Analysis: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, ভোটার তালিকা সংশোধন (Special Intensive Revision) এবং জোটের অন্যান্য দলের নির্বাচনী কৌশল তাদের ক্ষতি করেছে।

কংগ্রেসের বিহারের সংগঠন দীর্ঘদিন ধরেই দুর্বল, এই অভিযোগ আগেও ছিল। কিন্তু এবারে সেই দুর্বলতা প্রকট হয়ে উঠেছে। অনেক ব্লক স্তরের নেতা অভিযোগ করেছেন, যোগ্য কর্মীরা টিকিট পাননি। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও স্থানীয়দের বক্তব্য শোনা হয়নি, উপর মহলের নির্দেশ বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষ্ণ আল্লাভারুর অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে, যার কারণে RJD-র মতো বড় সঙ্গীর সঙ্গে সমন্বয় দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

নির্বাচনের আগের দিন রাহুল বলেন— “ভোট চুরি হয়েছে, প্রমাণ দেব।” কিন্তু দলের অনেক নেতাই এই ভাষণের সঙ্গে একমত ছিলেন না। তাঁদের মত, কৌশলগতভাবে আরও নমনীয় ও বাস্তবভিত্তিক প্রচার দরকার ছিল; প্রয়োজন ছিল স্থানীয় ইস্যু, মুখ্যমন্ত্রীপ্রার্থী নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান, এবং শক্তিশালী গ্রাউন্ড-মেকানিজম। রাহুলের বিদেশ সফর ও তাঁর অনুপস্থিতিতে বিহারের কৌশল তৈরিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

রাহুল-সোনিয়া-মল্লিকার্জুন খড়্গে নেতৃত্ব জানিয়েছেন, ফলাফল পর্যালোচনা করা হবে। তবে বিহারে কংগ্রেস এই মুহূর্তে শুধু রাজনৈতিক নয়, সংগঠনতান্ত্রিক সংকটও প্রকট। ২০২৬ সালের যে সব বড় নির্বাচন সামনে (অসম, ওড়িশা, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ) সেই সব জায়গায় দলের পুনর্গঠন কীভাবে সম্ভব, সেটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

বিহার নির্বাচনে কংগ্রেস যে ধাক্কা খেল, এতে পুরো দলের নীতিগত ও কৌশলগত দুর্বলতাও সামনে এল। দলের নিজের নেতারা যে সতর্কতা জানিয়েছিলেন, যদি তা গুরুত্ব পেত তাহলে চিত্র হয়ত কিছুটা আলাদা হতে পারত।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।