আয়ু কমছে ভারতীয়দের! প্রতিদিন কত কদম হাঁটলেই কমতে পারে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা?

Heart Attack: ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে একটি ভুল ধারণাও রয়েছে যে, সারাদিনে গৃহস্থালির কাজের মাধ্যমে যথেষ্ট শারীরিক খাটাখাটনি হয়ে যায় তাঁদের।

inscript
৩ মিনিট
আয়ু কমছে ভারতীয়দের! প্রতিদিন কত কদম হাঁটলেই কমতে পারে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা?

ভারতীয়দের শারীরিক কর্মক্ষমতা ক্রমেই কমছে। নানা রোগের ডিপো হয়ে উঠছে শরীর, আর তা কোনও বয়সের তোয়াক্কা না করেই। কেন এমন? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানাচ্ছে, সারাদিন দেহকে যদি ন্যূনতম খাটানো না হয় তাহলে তা রোগের আঁতুড়ঘর হয়ে উঠতে বাধ্য। প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি থেকে ভারী শারীরিক কার্যকলাপের বা ওয়ার্কআউট প্রয়োজন। আর ৫০ শতাংশেরও বেশি ভারতীয় এই ন্যূনতম শারীরিক কার্যকলাপটুকুও করেন না।

শারীরিক কার্যকলাপ মানেই যে জিমে গিয়ে প্রবল খাটাখাটনি করতে হবে এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। শরীর সম্পর্কে আসলে সচেতনতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। খুব সহজেই চাইলে রোজ একটু একটু করে শরীরকে কায়িক পরিশ্রমের দিকে নিয়ে যাওয়া যায়। সম্প্রতি প্রসপেক্টিভার অ্যাসোসিয়েশন অব ডেইলি স্টেপস উইথ কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ: সার্কুলেশন জার্নালে একটি গবেষণা প্রকাশ পেয়েছে। ওই গবেষণার সমীক্ষা বলছে, ৬০ বছরের বেশি বয়সীরা প্রতিদিন যদি গড়ে ৬,০০০-৯,০০০ কদম হাঁটেন তাহলে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। গবেষকরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য ৪২টি দেশের ২০,০০০ জনেরও বেশি মানুষেরর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, যারা প্রতিদিন ২,০০০ কদম হাঁটেন তাদের তুলনায়, যারা প্রতিদিন ৬,০০০ থেকে ৯,০০০ কদম হাঁটেন তাদের হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোক সহ কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে যায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বুকে চাপ দিয়েই বাঁচানো যেতে পারে হার্ট অ্যাটাকের রোগীকে! জানেন সঠিক পদ্ধতি?

Cardiac Arrest CPR: সিপিআর করার প্রক্রিয়াটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পরে বেঁচে থাকার সম্ভাবনাকে দ্বিগুণ, এমনকী তিনগুণও বাড়াতে পারে।

অবসর গ্রহণের পরে শারীরিক কার্যকলাপ হ্রাসের জন্য দায়ী ভারতেরই সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ধারণা। কাজের জায়গায় যাওয়ার সময় হাঁটা এবং কর্মক্ষেত্রে হাঁটা কর্মরত ভারতীয়দের মধ্যে শারীরিক কার্যকলাপের এক নিয়মিত অংশ যা অবসর গ্রহণের পরে হঠাৎ কমে যায়। এই বদল শরীরে গুরুতর প্রভাব ফেলে। অন্যান্য বিনোদনমূলক শারীরিক কার্যকলাপ দিয়ে শরীরকে সচল রাখা তাই ভীষণ দরকার৷ অবসরের পরে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, উদ্দেশ্যহীনতা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির দিকে নিয়ে যায় মানুষকে। অতএব, শরীরকে সচল না রাখলে তখন মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে, প্রধানত হার্টের ক্ষেত্রে তা ব্যাপক ক্ষতি ঘটাতে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রাতদিন সমানে জিম করেন, হার্ট সুস্থ আছে তো? নিজের অজান্তেই যে বিপদ ডেকে আনছেন

Excessive Workout Heart Affect : দৌড়লে শরীর সুস্থ থাকে, ভালো থাকে। সচল থাকে। কিন্তু সেই জিম আর দৌড়, ম্যারাথন যখন প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়ায়?

বেশিরভাগ ভারতীয় পরিবাররেই সংসারের দায়িত্ব এখনও মহিলাদের উপরেই পড়ে। যার ফলে নিজেদের জন্য সময় বের করে শারীরিক কার্যকলাপে নিযুক্ত হওয়া এক প্রকার অসম্ভব, যদিও মহিলাদের খুব বেশি করে স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে একটি ভুল ধারণাও রয়েছে যে, সারাদিনে গৃহস্থালির কাজের মাধ্যমে যথেষ্ট শারীরিক খাটাখাটনি হয়ে যায় তাঁদের। তবে হ্যাঁ, কিছুক্ষেত্রে যদি স্মার্ট ওয়াচে বা অন্য কোনও যন্ত্রে রোজের 'স্টেপ' মাপা যায় তাহলে দৈনন্দিন কার্যকলাপ নজরে রাখতে সুবিধা হয়।

দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতায় প্রাপ্তবয়স্কদেরও সাহায্য করতে পারে এই 'স্টেপ' মাপা। ভারতে করোনারি আর্টারি ডিজিজ (CAD), ডায়াবেটিস এবং কার্ডিওভাসকুলার রোগের কারণে মৃত্যুর হার অত্যন্ত বেশি। তাই এই জাতীয় রোগ যাদের রয়েছে অবশ্যই রোজ কত কদম হাঁটা উচিত সেই লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত। স্বাস্থ্যের অবনতি রোধ করতে রোজ হাঁটা ধীরে ধীরে কাজ করতে পারে। গবেষণা বলছে, কার্ডিওভাসকুলার রোগ অল্প বয়স্কদের তুলনায় বৃদ্ধদের মধ্যে অনেক বেশি শক্তিশালী। সিভিডি আসলে বার্ধক্যজনিত রোগই এবং প্রায়ই দেখা যায় পর্যাপ্ত বয়স না হওয়া পর্যন্ত এই রোগ ঘটে না। গবেষণা বলছে, স্ট্রোক, হার্ট ফেইলিওর, বা হার্ট অ্যাটাক অল্পবয়সীদের মধ্যে ঘটলেও তা এখনও সবচেয়ে বেশি বয়স্কদের ক্ষেত্রেই। আর শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা কার্ডিওভাসকুলার রোগের নানা সমস্যাকে সামলাতে পারে, যেমন উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিস। এই অবস্থাগুলি কার্ডিওভাসকুলার রোগের প্রাথমিক প্রতিরোধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং রোজ নির্দিষ্ট পরিমাণ হাঁটা কোনওভাবেই বাদ দেওয়া যাবে না, দেহ যত কাজের মধ্যে থাকবে, পরিশ্রমের মধ্যে থাকবে, ততই কমবে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।