'মাসের সেই বিশেষ দিন' আর নয়! জানেন, টিভিতে প্রথম কবে ব্যবহৃত হয় 'পিরিয়ড' শব্দটি?

Period Advertisement: ১৯৭২ সাল পর্যন্ত, প্যাড এবং ট্যাম্পুন নিয়ে টিভিতে বিজ্ঞাপন দেওয়া যেত না।

Madhurima Dutta
২ মিনিট
'মাসের সেই বিশেষ দিন' আর নয়! জানেন, টিভিতে প্রথম কবে ব্যবহৃত হয় 'পিরিয়ড' শব্দটি?

মাসের সেই দিনগুলো, মেয়েদের সেই বিশেষ দিনগুলো- এই বিশেষ বিশেষ দিন আসলে কোনওভাবেই যে ‘বিশেষ’ নয় তা মহিলামাত্রই জানেন। দৌড়ঝাঁপ, অফিস, স্কুল, বাড়ির কাজ, দিনভর বাইরে টহল, মেজাজ খারাপ, ব্যথায় কুঁকড়ে যাওয়া, শরীর তুলতে না পারা, অবিরত রক্তক্ষয় আর যাই হোক কখনই ‘বিশেষ’ হতে পারে না। তবু, ছিঃ ছিঃ ওসব 'নাপাক' কথা মুখেও আনতে নেই। ছোটবেলায় দেখা স্যানিটারি ন্যাপকিনের বিজ্ঞাপন দেখে প্রশ্ন জাগলে মায়েরা কী বলবেন, কীভাবে বলবেন ভেবেই সারা! সহজ স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বিষয়কে নিয়ে তাই আজও লজ্জা। তবে বিগত বেশ কয়েক বছরে এই 'ট্যাবু' ভেঙেছে। শহরাঞ্চলে বিশেষ করে, সহজে নিজের 'পিরিয়ড' বলতে আটকায় না, মেয়েদেরকেও না, ছেলেদেরকেও না। মাসের বিশেষ দিন বলে ঘুরিয়ে নাক দেখানোর পথে হাঁটেন না সচেতন মানুষরা। যা পিরিয়ডস, তাকে পিরিয়ডস বলাই কাম্য। টেলিভিশন, বিজ্ঞাপনও তাই আদ্যিকালের রাখঢাক থেকে সরে এসেছে। মিডিয়ার ইতিহাসে প্রথম কবে ব্যবহৃত হলো ‘পিরিয়ড শব্দটি? ১৯৮৫ সালে সম্ভবত প্রথম এই শব্দটি সরাসরি ব্যবহৃত হয়।

আমেরিকান এক ট্যাম্পুন তৈরি সংস্থার বিজ্ঞাপনে 'পিরিয়ড' শব্দটি ব্যবহৃত হয়। “পরিচ্ছন্ন বোধ করা আরও আরামদায়ক। এটি পিরিয়ড সম্পর্কে আপনার অনুভূতি সত্যিই বদলে দিতে পারে,” আমেরিকান ট্যাম্পুন নির্মাণকারী সংস্থা ট্যামপ্যাক্স প্রথম তাদের বিজ্ঞাপনে এই শব্দটি নিয়ে আসে। সাল ১৯৮৫। সেই মুহূর্তে প্রথম আমেরিকান টেলিভিশনে এবং সম্ভবত বিশ্বেও 'পিরিয়ড' শব্দটি প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে উচ্চারিত হয়। অভিনেত্রী কোর্টনি কক্স ট্যামপ্যাক্স বিজ্ঞাপনে বিশ্বের প্রথম মহিলা হিসেবে টেলিভিশনে 'পিরিয়ড' শব্দটি উচ্চারণ করেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ঋতুমতী কন্যারা ব্রাত্য, কীভাবে নির্বাচন করা হয় কুমারী পুজোর বালিকাদের?

Mahashtami Kumari Puja: যে সংস্কৃতিতে হাজার বছর ধরে একটি মেয়ের সম্মান নির্ধারণ করা হয় ‘কুমারীত্ব’ আর ‘পুত্রসন্তান উৎপাদনের’ মাধ্যমে, সে সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন থাকেই।

সারা বিশ্বের 'মাসের সেই সময়', 'ক্রিমসন ওয়েভ' মার্কা ট্যাবুর মুখে সপাটে থাপ্পড় ছিল এই বিজ্ঞাপন। ১৯৭২ সাল পর্যন্ত, প্যাড এবং ট্যাম্পুন নিয়ে টিভিতে বিজ্ঞাপন দেওয়া যেত না। যখন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়, তখন যে বিজ্ঞাপনগুলি তৈরি করা হলো, তাতেও প্রবল রাখঢাক! রক্তের পরিবর্তে, লাল রঙের জায়গায় নীল তরল ব্যবহার করা হলো। প্রকাশ্যে শব্দটির ব্যবহার নিয়ে এখনও এত চুপিসাড়। স্বাভাবিকভাবেই ১৯৮৫ নাগাদও তা মোটেই সহজ ছিল না। ২০২৩-এও কালো প্লাস্টিকে মুড়ে গোপন নিষিদ্ধ স্যানিটারি ন্যাপকিন দোকানদার তুলে দেন ক্রেতার হাতে। বাড়ির বড়দের সামনে, পুরুষদের সামনে একথা বললে, ধরণী এখনও দ্বিধা হয়! আকাশে ঝড় ওঠে, মাটি কাঁপে। সোশ্যাল মিডিয়াতে খাপ বসে। অথচ আশির দশকের মাঝামাঝি সময়কালে, অর্থাৎ বিজ্ঞাপনটি প্রচারিত হওয়ার পর থেকে আমরা অনেকটাই পথ এগিয়ে এসেছি।

তবু পিরিয়ড সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনা এখনও স্কুলে করা যায় না। শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও বাধে! যদিও বেশ কিছু ইউটিউব শো এবং সিনেমায় সহজ কথাটি সহজভাবেই বলা হয়েছে। আরও ব্যাপকভাবে এই বিষয়টিকে সহজ করে তুলতে সিরিয়াল থেকে শুরু করে সিনেমা, বহু জায়গায় মায়েদের বদলে প্রথা ভেঙে বাবাদেরও দেখানো হচ্ছে মেয়ের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করতে।

লিখেছেন
Madhurima Dutta
Madhurima Dutta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।