কবে থেকে বদলাবে পরিস্থিতি? কেন এই অকাল বর্ষার আমেজ কলকাতায়?

Monsoon in Bengal : এলোপাথাড়ি ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে আকাশভাঙা বৃষ্টি, কেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হল বাংলা?

inscript
২ মিনিট
কবে থেকে বদলাবে পরিস্থিতি? কেন এই অকাল বর্ষার আমেজ কলকাতায়?

পঞ্জিকা মতে গ্রীষ্মকাল পড়ার অনেক আগে থেকেই গরমের দাপটে নাজেহাল হয়েছিল কলকাতাবাসী। মাথার ওপর বনবন করে ঘুরছিল পাখা, কোথাও কোথাও আবার এসি ছাড়া থাকা দায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তারপর দুম করেই বদলে গেল পরিস্থিতি। কোথায় গরম, কোথায়ই বা রোদ্দুর, রাতারাতি বদলে যাওয়া এই ছবিটাই এখন কলকাতা সহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলির রোজনামচা। গত বৃহস্পতিবার থেকে আকাশের এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বসন্তেই নেমেছে অকাল বর্ষণ। স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় নতুন করে ফিরেছে চটজলদি চলে যাওয়া শীত শীত আমেজটা। কিন্তু কেন হঠাৎ করে এমন পরিস্থিতি হল? পূর্বাভাসে কী বলেছিলেন আবহাওয়াবিদরা?

আজকাল অবশ্য আবহাওয়া নিয়ম মেনে পরিবর্তিত হয় না। কলকাতায় এখন সারা বছরই বর্ষাকাল। আরও সহজ করে বলতে গেলে, সারা বছরই নিম্নচাপ। এই নিম্নচাপ শব্দটার সঙ্গে এখন সবাই কম বেশি পরিচিত। বিনা নোটিশেই আগমন যার। দুম করে পরিচিত পরিস্থিতির বদল ঘটে, ঝমঝম করে বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া, ঠিক যেমনটা হচ্ছে শেষ কয়েকদিন ধরে। বসন্তে অকাল বর্ষণ শুরু হওয়ার ইঙ্গিত অবশ্য কিছুদিন আগেই দিয়েছিল আবহাওয়াবিদরা। চৈত্রের শুরুতে কালবৈশাখির দেখা মিলল সেই ইঙ্গিত মেনেই। বৃহস্পতিবার থেকে আকাশের ছবিটা আস্তে আস্তে বদলাতে শুরুবকরে, তাপমাত্রাও কমতে থাকে। অবশেষে পূর্বভাস মিলিয়ে রবিবার থেকে শুরু হয় এলোপাথাড়ি ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে আকাশভাঙা বৃষ্টি। ভিজে স্নান করে যায় মহানগর। সেই ভিজে যাওয়া পরিস্থিতি এখনও বদলায়নি। মাঝেমাঝে ঝিলিক মেরে খানিক রোদ উঁকি দিলেও, পরক্ষণেই মুখ ভার করে বসছে আকাশ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ধেয়ে আসছে ভয়ংকর সৌরঝড়! কতটা বিপদের মুখে পড়তে চলেছে মানব সভ্যতা?

Solar Storm Equinox Coming : ভয়ংকর সৌরঝড় নাকি ধেয়ে আসতে চলেছে। আর তার কবলে পড়তে পারে পৃথিবীও।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই কলকাতায় যে বজ্রবিদ্যুৎ সহ তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়েছে তার সঙ্গে বইছে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াও। শুধু কলকাতা নয় পার্শ্ববর্তী জেলা শহরগুলোতেও একই ছবি। শনিবার দুপুরের পর থেকেই আকাশের মুখ ভার ছিল কলকাতা ও শহরতলির। তার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় লাগাতার বৃষ্টি। পুরুলিয়া ঝাড়গ্রাম সহ বাংলার পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক জেলার বিভিন্ন শহরের ছবিটাও প্রায় একই। তুমুল বৃষ্টি সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। যদিও এটাকে আবহাওয়া সূত্র তরফে প্রাথমিকভাবে কালবৈশাখী বলেই চিহ্নিত করা হয়েছিল।

আবহবিদরা জানিয়েছেন, আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনার জন্য দায়ী অক্ষরেখার অবস্থান। নিম্নচাপ অক্ষরেখার ওপর ঘুর্ণাবর্তের অবস্থানের জন্যই গোটা বাংলা জুড়ে এই অকাল বর্ষার পরিবেশ। এমনিতেই ১৬ মার্চ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত এমন আবহাওয়ার পূর্বাভাস আগেই দিয়েছিল আলিপুর হাওয়া অফিস। বর্তমান পরিস্থিতিতে অবশ্য বল হচ্ছে আরও দিন দুয়েক চলবে এই অবস্থা। এর মধ্যে আবার উত্তরের সিকিমের কিছু জায়গার পাশাপাশি দার্জিলিংয়ের সান্দাকফুতেও ব্যাপক তুষারপাত হয়। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিতে এই আবহাওয়া চলতে পারে ২১ মার্চ বুধবার পর্যন্ত। ২৩ মার্চ বৃহস্পতিবার থেকে আবহাওয়া উন্নতির কথা বলা হয়েছে। তবে সেদিনও কোনও কোনও জায়গায় হাল্কা বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস আবহাওয়া দফতরের।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।

নেপাল বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণ দেবে কে?

Climate Justice for nepal: ২৬ অগাস্ট লাংটাং লিরুং-এর হিমবাহ ধসে নেপালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়—নিহত ১,৩৪৪, নিখোঁজ ৪,৮৮৭। পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৪-৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডে আছে মাত্র ৮২২ মিলিয়ন ডলার।নেপালের দাবি, চিন-ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায় আছে। জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক কাঠগড়ায়।

নেপালের হড়পা বান থেকে বেঁচে ফিরলেন যাঁরা, তাঁদের চোখে ২৬ অগাস্ট

Nepal flash floods 2026: ২৬ অগাস্ট, ২০২৬-এ নেপালের হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও কিছু মানুষ বেঁচে ফিরেছেন। কেউ এক কাপ চায়ের বিরতির জন্য, কেউ গাড়ির একটা রিভার্স গিয়ারের কারণে, কেউ ডালপালা ছড়ানো একটা আমগাছ আঁকড়ে ধরে, আবার কেউ কেবল ১৫ সেকেন্ডের দৌড়ে ছিনিয়ে এনেছেন নিজের শ্বাস। মৃত্যু খুব কাছ থেকে অনুভব করে ফেরা সেই মানুষগুলির অভিজ্ঞতায় রইল রাসুয়া আর নুয়াকোটের সেই সকালের কথা।

হিমালয়ের বরফ গলছে দ্বিগুণ হারে, নেপালের বিপর্যয়ের বিজ্ঞান কী বলছে?

Nepal Flood 2026: বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছিলেন, ৪৫০০ থেকে ৬০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে থাকা হিমবাহ অঞ্চলের অন্তত ৭৮ শতাংশ উচ্চতা-নির্ভর উষ্ণায়নের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাঁচ মাস পর সেই সতর্কবাণীই যেন সত্যি হয়ে উঠল নেপালের উপত্যকায়।

ছয় দশকে কতটা সফল ভারত-নেপাল গান্ডাকচুক্তি?

Gandak dam history: নেপালের হিমবাহ থেকে পাথর ধসের পর জল নেমেছে ত্রিশূলী-কালীগণ্ডক হয়ে বিহারে। বাল্মীকিনগর বাঁধের ৩৬টি গেট খুলে প্রাণ বাঁচল বহু মানুষের। কিন্তু, ১৯৫৯ সালের গান্ডাক চুক্তি কি সত্যিই নেপাল ভারত দুই দেশের ‘সমন্বিত স্বার্থ’ রক্ষা করল? নেপালের তরাইয়ে জল মেলে না, ক্ষতিপূরণ মেলে না কৃষকদের। ৬০ বছরের পুরনো বাঁধ প্রকল্পকে নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

নেপালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি বিপন্ন মহিলারাই, ঝুঁকিতে ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন

Nepal Flash Floods: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে প্রায় ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন ঝুঁকিতে। বন্যার পর তাঁদের সামনে কী কী স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, খাদ্য ও জীবিকার সংকট তৈরি হয়েছে? রাষ্ট্রপুঞ্জের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, নারীদের সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ জরুরি?