যৌন সংসর্গ থেকে সংক্রমণ? মাঙ্কি পক্স নিয়ে নতুন যে তথ্যে তোলপাড় বিশ্ব

পুরুষ ছাড়া মহিলারাও কিন্তু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন।

Piya Saha
৩ মিনিট
যৌন সংসর্গ থেকে সংক্রমণ? মাঙ্কি পক্স নিয়ে নতুন যে তথ্যে তোলপাড় বিশ্ব

মাঙ্কি পক্সের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে গোটা বিশ্বে। দ্রুত বেড়ে চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-র দেওয়া শেষ আপডেট অনুযায়ী, বিশ্বে ১০০টিরও বেশি নিশ্চিত কেস ধরা পড়েছে মাঙ্কি পক্সের। অনেকের শরীরে এই রোগের বেশ কিছু লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে, তাই সন্দেহ করা হচ্ছে, আরও বাড়বে আক্রান্তের সংখ্যা। ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের কারণে চিন্তা বেড়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-রও। গত সপ্তাহে শুক্রবার জরুরি বৈঠক ডেকে সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন হু-র কর্মকর্তারা।

জল ফোসকা, জ্বর, গা-হাত-পায়ে ব্যথার মতো উপসর্গগুলো প্রধানত এই রোগ চিহ্নিত করার উপায়। ভারতে এখনও পর্যন্ত কেউ মাঙ্কি পক্সে আক্রান্ত না হলেও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে অ্যাডভাইসারি জারি করা হয়েছে। এতে কী বলা হয়েছে, দেখে নেওয়া যাক এক নজরে।

১) ইউরোপ থেকে যারা দেশে আসছেন তাঁদের শরীরে র‍্যাশজাতীয় কোনও কিছু নজরে পড়লে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।

২) সংক্রামক ব্যাধির মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কোভিডের পর আবার বিশ্বজুড়ে হু হু করে ছড়াচ্ছে বিরল ভাইরাস! কতটা ভয়ংকর এই অসুখ?

মাঙ্কি পক্সের সংক্রমণ রুখতে খুব সম্ভবত কনটেনমেন্ট স্ট্র্যাটেজি অবলম্বন করতে হবে না, কোভিডের ক্ষেত্রে যা আবশ্যক ছিল।

৩) কোনও ব্যক্তির দেহে উপসর্গ প্রকাশ পেলে দেহের নমুনা সংগ্রহ করে চিহ্নিতকরণের জন্য তা পাঠাতে হবে পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজিতে।

৪) মাঙ্কি পক্স শনাক্ত হলে ওই ব্যক্তি ২১ দিন ধরে যাঁদের সংস্পর্শে এসেছেন, তাঁদের ওপর নজরদারি চালাতে হবে।

রোগ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য ইতিমধ্যেই আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করেছে তামিলনাড়ু সরকার। পশ্চিমবঙ্গেও জেলাশাসকদের বাড়তি নজরদারির কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

মাঙ্কি পক্স কতখানি ভয়ের আমাদের দেশের জন্য?

এই প্রসঙ্গে চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী জানিয়েছেন, "এই মুহূর্তে আমাদের দেশের মানুষদের বিরাট কিছু আতঙ্কের কারণ আছে তেমন নয়। এই রোগ মূলত আফ্রিকার ক্যামেরুন, কঙ্গো ইত্যাদি দেশে প্রায় ৭০ বছর ধরেই রয়েছে এই রোগটি। ১৯৭০ সালে কঙ্গোতে প্রথম মানবদেহে এই রোগ ধরা পড়ার পর থেকে প্রভূত সংখ্যায় আফ্রিকার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এই রোগে। কিন্তু আফ্রিকার বাইরে এর আগে খুব বেশি মানুষ মাঙ্কি পক্সে আক্রান্ত হননি। তবে এই মুহূর্তে চিন্তার কারণ হলো, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া,আমেরিকার বিভিন্ন জায়গায় যাঁরা এখনও পর্যন্ত এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের কারও আফ্রিকা ভ্রমণের ইতিহাস নেই।এটিই চিন্তা বাড়িয়েছে।" উল্লেখ্য, ইউরোপে প্রথম মাঙ্কি পক্সের সংক্রমণ ধরা পড়ে ৭ মে তারিখে। আক্রান্ত ব্যক্তি নাইজেরিয়া থেকে ফিরেছিলেন। কিন্তু আক্রান্তদের মধ্যে অনেকেরই কোনও ভ্রমণ-ইতিহাস নেই। তাই ঠিক কী কারণে ছড়িয়ে পড়েছে এই রোগ, তা নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন।

তবে তিনি আরও বলেছেন, "যৌন সম্পর্কের সময়, কিংবা আক্রান্ত ব্যক্তির বিছানা ব্যবহার করলেও সুস্থ মানুষের শরীরে এই ভাইরাস প্রবেশ করে। আবার মুখোমুখি কথা বলার সময় হাঁচি-কাশির মাধ্যমেও ছড়াতে পারে এই রোগ। শরীরে জল ফোসকা, জ্বরের এবং লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়ার পাশাপাশি পিঠে মারাত্মক ব্যথা হয় এই রোগের কারণে।" কিন্তু মাঙ্কি পক্স স্মল পক্সের তুলনায় কম মারাত্মক, একথা চিকিৎসকদের সকলেই স্বীকার করে নিয়েছেন। তবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলেই মত চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামীর। এক্ষেত্রে তিনি জানিয়েছেন, কোভিডের বিধিনিষেধগুলো পালন করলেই এই রোগের সংক্রমণ থেকেও বাঁচা সম্ভব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-র সতর্কবার্তা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-র তরফে জানানো হয়েছে যে, আগামী দিনে সংক্রমণের সংখ্যা বাড়তে পারে। তাই এখন থেকেই সচেতনভাবে নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে। যে সমস্ত দেশে সংক্রমণ ধরা পড়েনি, সেই দেশগুলোতেও সচেতন থাকা প্রয়োজন। হু-র স্বাস্থ্যকর্তাদের মতে, এখনও পর্যন্ত যে ব্যক্তিদের শরীরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে, তাঁরা সকলেই যৌন সংসর্গে রয়েছেন। এঁদের মধ্যে বেশিরভাগই পুরুষ এবং সমকামী ও উভকামী সম্পর্কে লিপ্ত তাঁরা। তাই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন হু। আগামী সপ্তাহেও এই নিয়ে ফের বৈঠক রয়েছে এই সংস্থার। আন্তর্জাতিক এই সংস্থার আধিকারিক এবং আক্রান্ত দেশের বহু স্বাস্থ্যকর্মী সমকামী সম্পর্কে থাকা পুরুষদের সচেতন থাকতে বলেছেন। তবে পুরুষ ছাড়া মহিলারাও কিন্তু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। যেহেতু এটি একটি সংক্রামক ব্যাধি, তাই আক্রান্ত ব্যক্তির বা অন্যদের থেকে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে।

এই প্রসঙ্গে চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী জানিয়েছেন, এই রোগের জন্য আফ্রিকা দেশে ভ্যাকসিন এবং অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ ব্যবহার করা হয়। কোভিডের ক্ষেত্রে তা ছিল না, তাই চিকিৎসকদের খানিক বেগ পেতে হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, মাঙ্কি পক্সের কিন্তু নির্দিষ্ট কোনও ভ্যাকসিন নেই। এক্ষেত্রে স্মল পক্সের ভ্যাকসিন ব্যবহার করে ৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সাফল্য এসেছে। ব্রিটেনের সরকারের তরফে স্বাস্থ্যকর্মীদের ইতিমধ্যেই এই ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। তবে এখনই যে ভারতে চিন্তাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, তা জানিয়েছেন চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী। এছাড়া পক্সের মতোই এক-দেড় মাসের মধ্যে মানুষ সুস্থ হয়ে ওঠে এই রোগ থেকে। তাই এখনই চিন্তার প্রয়োজন নেই।

লিখেছেন
Piya Saha
Piya Saha
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

করোনা সেরে গেলেও পিছু ছাড়ছে না ক্লান্তি! লং কোভিড নিয়ে নতুন গবেষণায় কী জানা গেল?

Long COVID: করোনা সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়ার পরেও অনেকের শরীরে থেকে যাচ্ছে ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট ও স্মৃতিশক্তির সমস্যা। লং কোভিড নিয়ে নতুন মার্কিন গবেষণায় দেখা গেল, তিন বছরে প্রায় অর্ধেক রোগীর উপসর্গ কমেছে এবং এক-চতুর্থাংশ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন। কিন্তু কোন ধরনের উপসর্গ থাকলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি? কী বলছে গবেষণা?

কলকাতা বন্দরে উদ্ধার সাড়ে ১৩ কোটি টাকার ই-সিগারেট, শরীরের কী কী ক্ষতি করে এই ইলেকট্রনিক সিগারেট?

E-Cigarette Side Effects: কলকাতা বন্দরে প্রায় ৫৫ হাজার ই-সিগারেট উদ্ধার করেছে রাজস্ব গোয়েন্দা দফতর (DRI)। উদ্ধার হওয়া পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩.৫ কোটি টাকা। ভারতে নিষিদ্ধ এই ইলেকট্রনিক সিগারেট শরীরের কী কী ক্ষতি করতে পারে?

ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় DT-109 কতটা কার্যকর হতে পারে?

Fatty liver: ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় DT-109 কতটা কার্যকর? অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণ করে কীভাবে এই পরীক্ষাধীন ওষুধ লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে? প্রাণীর শরীরে আশাব্যঞ্জক ফল মিললেও মানুষের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা কি প্রমাণিত হয়েছে? ভবিষ্যতে কি গুরুতর ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় নতুন দিশা দেখাতে পারবে DT-109?

ইউক্রেনকে বিসর্জন দিয়ে পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প?

Trump Putin relationship: ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠতা বর্তমান বিশ্বরাজনীতির জটিল সমীকরণকে নতুন করে নির্ধারণ করতে পারে?

বাংলার স্বাস্থ‍্যরক্ষায় সরকারি স্বাস্থ্যব‍্যবস্থা সংহত হওয়া জরুরি: অভিজিৎ চৌধুরী

Abhijit Chowdhury Interview: তিনি বাঙালির ‘লিভারের ডাক্তারবাবু’ বলেই সমধিক পরিচিত। দীর্ঘদিন সরকারি ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। অবসরের পরেও জড়িয়ে রয়েছেন চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে। সোনারপুরে গড়ে তুলেছেন ‘লিভার ফাউন্ডেশন’। সহযোদ্ধাদের সঙ্গে মিলে তাঁর পরবর্তী স্টেশন ‘স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়’।

হঠাৎ হৃদযন্ত্র বন্ধ হলে কী করবেন? নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর জেনে নিন CPR-এর জরুরি নিয়ম

How to perform CPR: ধরুন, হঠাৎ কেউ জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন। ডাকলেও সাড়া দিচ্ছেন না, স্বাভাবিকভাবে শ্বাসও নিচ্ছেন না। এমন অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার সময় নেই। তাহলে, কী করবেন তখন?

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।