কনকনে শীতেও গায়ে সামান্য হাফহাতা জামা, রাহুল গান্ধীর কি ঠাণ্ডা লাগে না? কী বলছেন বিজ্ঞানীরা?

Rahul Gandhi Bharat Jodo Yatra : যেখানে সবাই মোটা জ্যাকেট, চাদর পরে আছেন, সেখানে প্রবল শীতেও কী করে এমন হাফহাতা জামা পরে আছেন রাহুল?

Aritra Som
৩ মিনিট
কনকনে শীতেও গায়ে সামান্য হাফহাতা জামা, রাহুল গান্ধীর কি ঠাণ্ডা লাগে না? কী বলছেন বিজ্ঞানীরা?

এই মুহূর্তে গুজরাত ভোট, নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপির ভিড়ে ফের খবরের শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছে জাতীয় কংগ্রেস। আর সেইসঙ্গে তাদের মুখ হিসেবে ফের উঠে এসেছেন রাহুল গান্ধী। সৌজন্যে, ভারত জোড়ো যাত্রা। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে, বিভিন্ন রাস্তায় কংগ্রেসের এই মিছিল ইতিমধ্যেই ভাইরাল। বিভিন্ন প্রান্তে মানুষজন এই মুছিলে হাঁটছেন। সেলেব্রিটি থেকে সাধারণ মানুষ, প্রত্যেকে এই ভারত জোড়ো যাত্রায় যোগ দিয়েছেন।

সেই যাত্রারই পুরোভাগে রয়েছেন রাহুল গান্ধী। এক গাল কাঁচাপাকা দাড়ি, সাদা জামা পরিহিত তাঁর ছবিটির সঙ্গে ইতিমধ্যেই অনেকে পরিচিত হয়ে গিয়েছেন। তবে আজকের এই লেখা রাজনৈতিক কোনও বিশ্লেষণ নয়। একটু অন্য আঙ্গিকে, বিজ্ঞানের হাত ধরে ভারত জোড়ো যাত্রার ছবিগুলোর দিকে একবার তাকানো যাক। আর সেখানে রাহুল গান্ধীর লুক সামনে এলে একটা প্রশ্ন মাথায় আসতে বাধ্য। এই আলোচনাও সেই প্রশ্নটি নিয়েই।

এই মুহূর্তে উত্তর ভারতে চলছে শীতের দাপট। দিল্লিতেও শীতের কামড় ভালোই পড়েছে। তার মধ্যেও রাহুল গান্ধীর ছবিটির কোনও বদল নেই। সেই সাদা হাফহাতা শার্ট, সামান্য প্যান্ট আর জুতো। যেখানে অন্যান্য মানুষরা মোটা জ্যাকেট, চাদর, থার্মাল পোশাক পরে আছেন। তাহলে এই প্রবল শীতেও কী করে এমন হাফহাতা জামা পরে দিন কাটাচ্ছেন রাহুল গান্ধী? বীরভূমিতে বাবা রাজীব গান্ধীকে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়ার সময়ও গায়ে সেই সাদা জামা। আচ্ছা, রাহুল গান্ধীর কি শীত করে না? নাকি অতিমানব?

অবশ্য বিজ্ঞানীরা বলছেন, রাহুল গান্ধী একাই নন। পৃথিবীতে অনেকেই এমন আছেন, যাঁদের শীত করে না। তাঁদের শরীরে কখনও আসে না ‘শীতকাল’। একটি আমেরিকান জার্নালে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, গোটা বিশ্বে ১৫০ কোটি মানুষের ক্ষেত্রে এমন কেস দেখা গিয়েছে। এদের মধ্যেই অন্যতম রাহুল গান্ধী। একদিকে ঠাণ্ডা পড়লেই জবুথুবু হয়ে বসে পড়ছেন অনেকে, আর তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে এঁরা বহাল তবিয়তে সামান্য কাপড় পরেই কাটিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু কেন?

গবেষকরা বলছেন, এর জন্য দায়ী বিজ্ঞান এবং মানবদেহের জিন। মানুষের শরীরের স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে বেশকিছু বিশেষ নার্ভ রিসেপ্টর রয়েছে। এই রিসেপ্টরগুলোর জন্যই আমরা বুঝতে পারি গ্রীষ্ম-বর্ষা-শীত। জলবায়ু পরিবর্তন হলে এই রিসেপ্টরই মস্তিস্ককে বিশেষ বার্তা দেয়। সেভাবেই আমরা বুঝতে পারি, গ্রীষ্মকাল এল। কিংবা, খুব শীত করছে, এবার লেপ-তোষক বের করতে হবে। ২০২১-এর একটি গবেষণা বলছে। এই বিশেষ নার্ভ রিসেপ্টরেই জেনেটিক মিউটেশন ঘটেছে। মানে, সেই জিনে বিশেষ কিছু রদবদল হচ্ছে। ফলে তাপমাত্রার অনুভূতিও সেভাবে হচ্ছে না।

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, আমাদের অস্থি পেশিতে এক ধরণের বিশেষ প্রোটিন রয়েছে। জীববিজ্ঞানের পরিভাষায় এর নাম এ-অ্যাসিটিন-৩ না আলফা অ্যাসিটিন ৩। মানুষের অস্থি পেশিও মূলত দুই ধরণের হয়। এক ধরণের পেশি যার কর্মক্ষমতা তুলনামূলক কম। অন্য প্রকারের ক্ষমতা এর তুলনায় একটু বেশি। এই দুই ধরণের পেশির সৌজন্যেই তৈরি আমাদের অস্থি পেশি। বিজ্ঞানীরা বলেন, এই দুই ধরণের অস্থি পেশির উপস্থিত থাকাই খুব ভালো। কারণ, মানুষের হাঁটাচলা, দৌড়নো, খেলাধুলা ইত্যাদি সবকিছুর জন্যই এই পেশি গুরুত্বপূর্ণ। তারই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এই এ-অ্যাসিটিন-৩ প্রোটিন।

এই বিশেষ প্রোটিনটিরই অভাব দেখা যাচ্ছে কারও কারও শরীরে। দুই ধরণের পেশির জন্য স্নায়ুর রিসেপ্টরগুলিও ঠিকঠাক কাজ করে। উষ্ণতা বজায় রাখে শরীরে। তাই গ্রীষ্ম হোক বা প্রবল শীত – সবেতেই সাড়া দেয় এই প্রোটিন। সেই উদ্দীপনা রিসেপ্টরের মাধ্যমে পৌঁছে যায় মস্তিস্কে। সেখান থেকে মানুষ ঋতু পরিবর্তন বুঝতে পারে। কিন্তু এই নির্দিষ্ট প্রোটিনের অভাবের জন্যই একটা অংশের মানুষ শীত বা গরম সেভাবে অনুভব করতে পারেন না। আখেরে কোনও ক্ষতি হয় না। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলেন, খুব বেশি দৌড়ঝাঁপের ক্ষেত্রে হয়তো একটু সমস্যা দেখা দিতে পারে। রাহুল গান্ধী কি সেই গোত্রেরই একজন? জোরালো সন্দেহ বিশেষজ্ঞদের।

লিখেছেন
Aritra Som
Aritra Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?